ফুটবল বিশ্বের পার্লামেন্ট – গঠন, ক্ষমতা, ভোটিং প্রক্রিয়া ও ইতিহাস (২০২৫ আপডেট)
ফিফা কংগ্রেস ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা। ২১১টি সদস্য দেশ মিলে এখানে ভোট দেয় – কে প্রেসিডেন্ট হবে, বিশ্বকাপ কোথায় হবে, ফুটবলের নিয়ম কী হবে। কীভাবে এই কংগ্রেস কাজ করে? ভোটিং সিস্টেম কেমন? ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস সিদ্ধান্তগুলো কী কী? জানুন বিস্তারিত। ফিফা কংগ্রেস: ফুটবল বিশ্বের পার্লামেন্ট – গঠন, ক্ষমতা, ভোটিং প্রক্রিয়া ও ইতিহাস (২০২৫ আপডেট)বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
ফুটবল বিশ্ব কে চালায়? ফিফা প্রেসিডেন্ট? ফিফার নির্বাহী কমিটি? না। ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব আছে ফিফা কংগ্রেসের (FIFA Congress) হাতে। এটাই ফুটবলের পার্লামেন্ট। এখানে বসে ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা – আলোচনা করে, ভোট দেয়, সিদ্ধান্ত নেয়।
কংগ্রেস ছাড়া ফিফার বড় কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, বিশ্বকাপ আয়োজক নির্ধারণ, ফিফার সংবিধান পরিবর্তন, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি – সবকিছু চূড়ান্ত হয় এই কংগ্রেসে।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো:
-
ফিফা কংগ্রেস কী ও কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
-
কংগ্রেসের গঠন ও সদস্যরা কারা
-
কতবার বসে কংগ্রেস?
-
ভোটিং প্রক্রিয়া কেমন?
-
ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস সিদ্ধান্তগুলো
-
কোন দেশ সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে?
চলুন, ফুটবল পার্লামেন্টের দরজা খুলি।
১. ফিফা কংগ্রেস কী? – সংজ্ঞা ও গুরুত্ব
ফিফা কংগ্রেস হল ফিফার সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। এটিকে ফুটবল বিশ্বের সংসদ বা পার্লামেন্ট বলতে পারেন। এখানে ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
১.১ কংগ্রেসের কাজ ও ক্ষমতা
| কাজ | বর্ণনা |
|---|---|
| প্রেসিডেন্ট নির্বাচন | ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা (প্রতি ৪ বছর অন্তর) |
| নির্বাহী কমিটি গঠন | ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদের নির্বাচন |
| সংবিধান পরিবর্তন | ফিফার Statutes (সংবিধান) সংশোধন বা পরিবর্তন |
| সদস্য গ্রহণ/বহিষ্কার | নতুন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সদস্যপদ দেওয়া বা কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করা |
| বিশ্বকাপ আয়োজক নির্ধারণ | (আগে কংগ্রেস ভোট দিত, এখন ফিফা কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয় – তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কংগ্রেস অনুমোদন করে) |
| আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন | ফিফার বাজেট ও অডিট রিপোর্ট অনুমোদন |
| নিয়ম ও রেগুলেশন প্রণয়ন | ফুটবলের খেলার নিয়ম নয় (সেটা IFAB করে), কিন্তু ফিফার অভ্যন্তরীণ নিয়ম |
১.২ কেন কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ কোনো সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া আইনগতভাবে বৈধ নয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হোক বা সংবিধান পরিবর্তন – সবকিছুর চূড়ান্ত অনুমোদন কংগ্রেসের হাতে। এটি ফিফাকে গণতান্ত্রিক করে তোলে – কারণ ছোট দেশগুলোরও বড় দেশের সমান ভোট আছে (এক দেশ, এক ভোট)।
২. কংগ্রেসের গঠন – কারা অংশ নেয়?
২.১ সদস্যরা
-
২১১টি ফিফা সদস্য অ্যাসোসিয়েশন – প্রতিটি দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন (যেমন: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন, ইংলিশ এফএ)
-
প্রতিটি সদস্যের প্রতিনিধি দল – সাধারণত ফেডারেশনের সভাপতি ও জেনারেল সেক্রেটারি
-
ফিফা প্রেসিডেন্ট – কংগ্রেসের সভাপতিত্ব করেন
-
ফিফা কাউন্সিলের সদস্যরা (নির্বাহী কমিটি)
-
কনফেডারেশন প্রতিনিধিরা (এএফসি, ক্যাফ, কনকাকাফ, কনমেবল, ওএফসি, উয়েফা)
২.২ ভোটিং অধিকার
-
প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের একটি করে ভোট আছে – দেশ বড় বা ছোট – সবার সমান (এক দেশ, এক ভোট)
-
কোন দেশেরই ভেটো ক্ষমতা নেই (চলতি বিষয়ে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা)
-
জরুরি বা সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন
২.৩ পর্যবেক্ষক ও অতিথি
-
ফিফা কংগ্রেসে সংবাদমাধ্যম ও বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নিতে পারেন (কিন্তু ভোট নয়)
-
কখনো কখনো রাষ্ট্রপ্রধান বা মন্ত্রীরাও বক্তৃতা দেন
৩. কতবার ও কোথায় বসে কংগ্রেস?
৩.১ বার্ষিক কংগ্রেস
ফিফার সংবিধান অনুযায়ী প্রতি বছর অন্তত একবার কংগ্রেস বসে। সাধারণত এটি ফেব্রুয়ারি-মে মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
৩.২ বিশেষ কংগ্রেস (Extraordinary Congress)
জরুরি প্রয়োজনে ফিফা বিশেষ কংগ্রেস ডাকতে পারে। উদাহরণ:
-
২০১৬ সালের বিশেষ কংগ্রেস – সেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য
-
২০২০ সালের ভার্চুয়াল কংগ্রেস – কোভিড-১৯ মহামারির কারণে (প্রথমবার অনলাইনে)
৩.৩ আয়োজনের স্থান
কংগ্রেস সাধারণত ফিফার সদর দপ্তর জুরিখে বসে। কিন্তু কখনো কখনো সদস্য দেশগুলোতে বসে – বিশেষ করে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোতে বা কোনো বড় কংগ্রেসের জন্য।
-
২০১৬: জুরিখ (বিশেষ কংগ্রেস) ও মেক্সিকো সিটি
-
২০১৮: মস্কো (রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে)
-
২০২২: দোহা (কাতার বিশ্বকাপের আগে)
-
২০২৩: কিগালি (রুয়ান্ডা) – ইনফ্যান্টিনোর তৃতীয় মেয়াদ নির্বাচন
-
২০২৪: ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) – প্রথমবার থাইল্যান্ডে
৪. ভোটিং প্রক্রিয়া – কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস?
৪.১ সাধারণ ভোটিং Majority Voting
সাধারণ বিষয়ে (যেমন: বাজেট অনুমোদন, প্রস্তাব পাস) সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫০%+১ ভোট) যথেষ্ট।
৪.২ সংবিধান পরিবর্তন – ২/৩ Majority
ফিফার সংবিধান (Statutes) পরিবর্তন করতে চাইলে ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অর্থাৎ ২১১টি ভোটের মধ্যে কমপক্ষে ১৪১টি ভোট প্রয়োজন।
৪.৩ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন – প্রথম রাউন্ডে ২/৩, দ্বিতীয় রাউন্ডে সরল সংখ্যাগরিষ্ঠ
-
প্রথম রাউন্ডে – ২/৩ ভোট প্রয়োজন
-
কোনো প্রার্থী না পেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে – সরল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫০%+১)
৪.৪ ভোট পদ্ধতি
-
খোলা ভোট (প্রতিনিধিরা হাত তোলেন) – বিতর্কহীন বিষয়ে
-
গোপন ব্যালট (পেপার ব্যালট) – প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বা বিতর্কিত বিষয়ে
ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম এখন চালু হয়েছে – দ্রুত ও স্বচ্ছ।
৫. ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিফা কংগ্রেস
৫.১ ১৯০৪ – প্রথম ফিফা কংগ্রেস (প্যারিস)
ঐতিহাসিক প্রথম কংগ্রেস। ফিফা প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭টি দেশ উপস্থিত ছিল (ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড)। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় – ফিফার সংবিধান গ্রহণ ও প্রথম প্রেসিডেন্ট রবার্ট গেরিন নির্বাচিত।
৫.২ ১৯৩০ – বিশ্বকাপ চালুর সিদ্ধান্ত (বার্সেলোনা)
১৯২৯ সালে কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় – প্রথম বিশ্বকাপ ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে। কয়েকটি দেশ আয়োজকের জন্য আবেদন করে – উরুগুয়ে বেছে নেওয়া হয়।
৫.৩ ১৯৭৪ – জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত (ফ্রাঙ্কফুর্ট)
হ্যাভেলাঞ্জে ফিফার বাণিজ্যিক যুগের সূচনা করেন। তিনি স্পনসরশিপ ও টিভি স্বত্বের মাধ্যমে ফিফার আয় বাড়ান।
৫.৪ ১৯৯৮ – সেপ ব্লাটার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত (প্যারিস)
ব্লাটার ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট হন – পরে দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়ান। এই কংগ্রেসে তিনি লেনার্ট জোহানসনকে হারান (১১১-৮০ ভোটে)।
৫.৫ ২০১১ – বিশ্বকাপ ২০২২ কাতারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কংগ্রেস (জুরিখ)
বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া। তবে কংগ্রেস সিদ্ধান্ত সমর্থন করে (বিরোধিতা করলেও বদলায়নি)।
৫.৬ ২০১৬ – বিশেষ কংগ্রেস (জুরিখ) – ইনফ্যান্টিনো প্রেসিডেন্ট
দুর্নীতি কেলেঙ্কারির পর ব্লাটার পদত্যাগ করেন। এই কংগ্রেসে ইনফ্যান্টিনো দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটি ফিফার ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট।
৫.৭ ২০২৩ – কিগালি কংগ্রেস (রুয়ান্ডা)
ইনফ্যান্টিনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন (২০২৭ পর্যন্ত)। কিছু সদস্য প্রতিবাদ জানালেও অধিকাংশ সমর্থন দেন।
৬. কনফেডারেশন ও ভোটের রাজনীতি
ফিফার অধীনে ৬টি কনফেডারেশন আছে:
| কনফেডারেশন | অঞ্চল | সদস্য সংখ্যা | প্রভাব (ভোট) |
|---|---|---|---|
| উয়েফা (UEFA) | ইউরোপ | ৫৫ | সবচেয়ে বেশি (প্রায় ২৬% ভোট) |
| ক্যাফ (CAF) | আফ্রিকা | ৫৪ | দ্বিতীয় সর্বোচ্চ |
| এএফসি (AFC) | এশিয়া | ৪৭ | তৃতীয় |
| কনকাকাফ (CONCACAF) | উত্তর ও মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান | ৩৫ | চতুর্থ |
| কনমেবল (CONMEBOL) | দক্ষিণ আমেরিকা | ১০ | ছোট কিন্তু প্রভাবশালী |
| ওএফসি (OFC) | ওশেনিয়া | ১১ | সবচেয়ে ছোট |
৬.১ ভোটের রাজনীতি – কোন কনফেডারেশন সবচেয়ে শক্তিশালী?
আইনগতভাবে সব সদস্যের এক ভোট। কিন্তু বাস্তবে উয়েফার ৫৫টি ভোট আছে (সবচেয়ে বেশি)। ক্যাফের ৫৪টি – প্রায় সমান। আফ্রিকা ও এশিয়া মিলিয়ে ফিফার বেশিরভাগ ভোট তাদের হাতে। তাই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বা বড় সিদ্ধান্ত নিতে হলে আফ্রিকা ও এশিয়ার সমর্থন প্রয়োজন।
ইনফ্যান্টিনো এই অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প দিয়ে সমর্থন পেয়েছেন (ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম)।
৭. প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া – ধাপে ধাপে
ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কংগ্রেসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। নিচে প্রক্রিয়া দেওয়া হলো:
ধাপ ১: মনোনয়ন
প্রার্থীকে ফিফার সদস্য দেশ কর্তৃক মনোনীত হতে হবে (অন্তত ৫টি দেশের সমর্থন প্রয়োজন)।
ধাপ ২: নৈতিকতা পরীক্ষা
ফিফার নৈতিকতা কমিটি প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করে (অপরাধমূলক রেকর্ড, দুর্নীতির অভিযোগ ইত্যাদি)।
ধাপ ৩: প্রচারণা
প্রার্থীরা কংগ্রেসের আগে প্রচারণা চালান – সদস্য দেশগুলোর সাথে সাক্ষাৎ, প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি।
ধাপ ৪: নির্বাচন (ভোট)
-
প্রতিটি সদস্যের প্রতিনিধি ভোট দেন
-
প্রথম রাউন্ড: প্রার্থীকে ২/৩ ভোট পেতে হবে
-
কোনো প্রার্থী না পেলে দ্বিতীয় রাউন্ড: সরল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫০%+১)
ধাপ ৫: শপথ গ্রহণ
নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসেই শপথ নেন।
উদাহরণ – ২০১৬ নির্বাচন:
-
প্রথম রাউন্ড: ইনফ্যান্টিনো ৮৮ ভোট (প্রয়োজন ১৪০) – কেউ পায়নি
-
দ্বিতীয় রাউন্ড: ইনফ্যান্টিনো ১১৫ ভোট, শেখ সালমান ৮৮ ভোট, বাকিরা কম – ইনফ্যান্টিনো জয়ী
৮. ফিফা কংগ্রেস বনাম ফিফা কাউন্সিল (পূর্বে নির্বাহী কমিটি) – পার্থক্য কী?
অনেকে কংগ্রেস ও কাউন্সিলকে গুলিয়ে ফেলেন। পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | ফিফা কংগ্রেস | ফিফা কাউন্সিল (FIFA Council) |
|---|---|---|
| কার্যকারিতা | সর্বোচ্চ আইনসভা (পার্লামেন্ট) | নির্বাহী বোর্ড (মন্ত্রিসভা) |
| সদস্য সংখ্যা | ২১১টি দেশের প্রতিনিধি | ৩৭ জন (প্রেসিডেন্ট + ভাইস প্রেসিডেন্ট + কনফেডারেশন প্রতিনিধি) |
| কতবার বসে | বছরে অন্তত ১ বার | বছরে অন্তত ২ বার |
| ক্ষমতা | সংবিধান পরিবর্তন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন | দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত, বিশ্বকাপ আয়োজক বাছাই |
| নির্বাচন | – | কংগ্রেস এই সদস্যদের নির্বাচিত করে |
সহজ ভাষায়:
-
কংগ্রেস – সংসদ (সব সদস্য)
-
কাউন্সিল – মন্ত্রিসভা (নির্বাচিত প্রতিনিধি)
৯. কংগ্রেসের এজেন্ডা – সাধারণত কী আলোচনা হয়?
প্রতি কংগ্রেসের একটি এজেন্ডা থাকে। নিচে সাধারণ বিষয়গুলো:
-
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য – ফিফা প্রেসিডেন্ট গত বছরের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন
-
আর্থিক প্রতিবেদন – ফিফার আয়-ব্য�়, বাজেট অনুমোদন
-
অডিট ও কনফর্মিটি রিপোর্ট – স্বাধীন নিরীক্ষকের প্রতিবেদন
-
সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব – কোনো সদস্য সংবিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলে ভোট হয়
-
নির্বাচন (প্রেসিডেন্ট বা কাউন্সিল সদস্য) – মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচন
-
ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ আয়োজকের অগ্রগতি – পরবর্তী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি উপস্থাপন
-
নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি – কোনো নতুন ফেডারেশন সদস্য হতে চাইলে
-
বিভিন্ন রেজুলেশন – ফুটবল উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ইত্যাদি
১০. ভবিষ্যৎ – ডিজিটাল কংগ্রেস ও সংস্কার
১০.১ ভার্চুয়াল কংগ্রেস
কোভিড-১৯ ফিফাকে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল কংগ্রেস করতে বাধ্য করে (২০২০)। এখন ফিফার সংবিধানে অনলাইন কংগ্রেসের অনুমোদন আছে। কিন্তু ভোটিং এখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে হয়।
১০.২ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন – ফিফা কংগ্রেস পুরনো ধাঁচের। ছোট দেশগুলোর ভোটের দাম বড় দেশের মতো। ফলে কখনো কখনো অদক্ষ সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এক দেশ এক ভোট নীতি পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব (ছোট দেশগুলো কখনো সমর্থন করবে না)।
উপসংহার (Conclusion)
ফিফা কংগ্রেস ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ফোরাম। ২১১টি দেশের প্রতিনিধিরা এখানে বসে সিদ্ধান্ত নেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সংবিধান পরিবর্তন, বাজেট অনুমোদন – সবকিছু চূড়ান্ত হয় এখানেই।
অবশ্যই এখানেও রাজনীতি আছে, কৌশল আছে, লবিং আছে। ছোট দেশগুলো তাদের ভোটের মাধ্যমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বড় দেশগুলো (ইংল্যান্ড, জার্মানি, ব্রাজিল) সব সময় যা চায় তা হয় না – কারণ তাদের এক ভোট, বাকি ২১০টির মতো।
তবুও ফুটবল বিশ্ব কংগ্রেসকে ছাড়া চলতে পারে না। এটি ফিফাকে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাখার ভিত্তি।
২০২৫ সালের কংগ্রেস ব্যাংককে হবে। সেখানেও নেওয়া হবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত – ক্লাব বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ, ২০২৭ মহিলা বিশ্বকাপের আয়োজক নির্ধারণ ইত্যাদি। অপেক্ষা করতে হবে।
আরো পড়ুন
- পার্ট-টাইম ফ্রিল্যান্সিং করে Income বাড়ানোর উপায়
- গ্রাফিক ডিজাইনে মাসে ১ লাখ টাকা Income করার কৌশল
- সেলফ-পাবলিশড ই-বুক বিক্রি করে আয় Income
- TikTok ফটো এডিটিং টিপস সেরা স্টাইল
- TikTok এর গোপন কৌশল নতুন ভিডিও শেয়ারিং
(FAQ)
১. ফিফা কংগ্রেসে কারা ভোট দিতে পারে?
ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন। প্রতিটি দেশের ভোট সমান (এক দেশ, এক ভোট)।
২. ফিফা কংগ্রেস কতবার বসে?
বছরে অন্তত একবার। জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ কংগ্রেস ডাকা যেতে পারে।
৩. কংগ্রেস ও কাউন্সিলের মধ্যে পার্থক্য কী?
কংগ্রেস = পার্লামেন্ট (সব সদস্য) – আইন প্রণয়ন করে।
কাউন্সিল = নির্বাহী বোর্ড (নির্বাচিত ৩৭ সদস্য) – দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেয়।
৪. কোন দেশের ভেটো ক্ষমতা আছে?
কোনো দেশের ভেটো নেই। সব সমান।
৫. ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য কত ভোট প্রয়োজন?
প্রথম রাউন্ডে ২/৩ ভোট (প্রায় ১৪১ ভোট)। দ্বিতীয় রাউন্ডে সরল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫০%+১)।
৬. সবচেয়ে বিতর্কিত কংগ্রেস কোনটি?
১৯৯৮ সালের কংগ্রেস (ব্লাটার বনাম জোহানসন), ২০১১ সালের কংগ্রেস (কাতার বিশ্বকাপ বিতর্কের পর) ও ২০১৬ সালের বিশেষ কংগ্রেস (দুর্নীতি কেলেঙ্কারির পর)।
৭. সাধারণ সদস্যরা কী কংগ্রেসের প্রস্তাব দিতে পারে?
হ্যাঁ। যেকোনো সদস্য সংস্থা প্রস্তাব দিতে পারে। প্রস্তাব পাস হলে সংবিধান পরিবর্তন বা নতুন নিয়ম তৈরি হয়।
৮. বাংলাদেশের ফিফা কংগ্রেসে ভোট দেওয়ার অধিকার আছে কি?
হ্যাঁ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ফিফার সদস্য। তারা প্রতি কংগ্রেসে প্রতিনিধি পাঠায় ও ভোট দেয়।
তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠা | ১৯০৪, প্রথম কংগ্রেস প্যারিসে |
| সদস্য সংখ্যা | ২১১ (বর্তমান) |
| ভোটিং সিস্টেম | এক দেশ, এক ভোট |
| কংগ্রেসের ফ্রিকোয়েন্সি | বছর至少 ১ বার |
| সিদ্ধান্তের প্রকার | সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫০%+১) বা ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (গুরুত্বপূর্ণ বিষয়) |
| পরবর্তী কংগ্রেস (২০২৫) | ব্যাংকক, থাইল্যান্ড |
| সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত | ১৯২৯ – প্রথম বিশ্বকাপ চালু, ২০১৬ – ইনফ্যান্টিনো প্রেসিডেন্ট |
| সবচেয়ে বেশি সদস্যের কনফেডারেশন | উয়েফা (৫৫) |