FIFA বিশ্বকাপের পেনাল্টি শুটআউটের ইতিহাস: সবচেয়ে স্মরণীয়, হৃদয়বিদারক ও বিতর্কিত মুহূর্ত (১৯৮২-২০২২)
🔹 মেটা ডিসক্রিপশন**
পেনাল্টি শুটআউট – ফুটবলের সবচেয়ে নার্ভ-র্যাকিং মুহূর্ত। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কয়েক ডজন পেনাল্টি শুটআউট হয়েছে। ১৯৮২ পশ্চিম জার্মানি vs ফ্রান্স, ১৯৯৪ রবার্তো বাজ্জোর মিস, ২০০৬ জিদানের শেষ ম্যাচ, ২০২২ আর্জেন্টিনার স্বপ্নপূরণ। সবচেয়ে স্মরণীয় পেনাল্টি শুটআউটগুলোর গল্প, পরিসংখ্যান ও রেকর্ড। FIFA বিশ্বকাপের পেনাল্টি শুটআউটের ইতিহাস: সবচেয়ে স্মরণীয়, হৃদয়বিদারক ও বিতর্কিত মুহূর্ত (১৯৮২-২০২২)বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
ফুটবলের সবচেয়ে নার্ভ-র্যাকিং, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক, সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত – পেনাল্টি শুটআউট। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে যখন ম্যাচ ড্র হয়, তখন দুই দল ১২ গজ দূর থেকে একটি বল ও একজন গোলকিপারের সামনে দাঁড়ায়। কোন দলের স্নায়ু বেশি শক্ত, কোন গোলকিপার বড় হয়ে ওঠেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৮২ সালে প্রথম পেনাল্টি শুটআউট চালু হয় (সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানি vs ফ্রান্স)। তারপর থেকে প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউট দেখেছে বিশ্ব।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো:
-
বিশ্বকাপের ইতিহাসের সব পেনাল্টি শুটআউটের তালিকা
-
সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো (ভালো ও খারাপ)
-
কোন দল সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি জিতেছে/হারিয়েছে
-
কোন গোলকিপার সবচেয়ে বেশি সেভ করেছেন
-
বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্ত
চলুন, শুরু করা যাক – টিশ্যু নিয়ে বসুন।
১. বিশ্বকাপের পেনাল্টি শুটআউটের সম্পূর্ণ তালিকা (১৯৮২-২০২২)
নিচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব পেনাল্টি শুটআউট এর তালিকা দেওয়া হলো:
| বছর | পর্ব | দল ১ | স্কোর (পেনাল্টি) | দল ২ | বিজয়ী | |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১৯৮২ | সেমিফাইনাল | পশ্চিম জার্মানি | ৩-৩ (৫-৪) | ফ্রান্স | পশ্চিম জার্মানি | |
| ১৯৮২ | তৃতীয় স্থান | পোল্যান্ড | ৩-২ (নেই? আসলে পোল্যান্ড তৃতীয় স্থান পেয়েছিল ফ্রান্সকে হারিয়ে – কিন্তু পেনাল্টি ছাড়া) | – | – | |
| ১৯৮৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | ফ্রান্স | ১-১ (৪-৩) | ব্রাজিল | ফ্রান্স | |
| ১৯৮৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | বেলজিয়াম | ১-১ (৫-৪) | স্পেন | বেলজিয়াম | |
| ১৯৯০ | রাউন্ড অফ ১৬ | আয়ারল্যান্ড | ০-০ (৫-৪) | রোমানিয়া | আয়ারল্যান্ড | |
| ১৯৯০ | কোয়ার্টার ফাইনাল | আর্জেন্টিনা | ০-০ (৩-২) | যুগোস্লাভিয়া | আর্জেন্টিনা | |
| ১৯৯০ | সেমিফাইনাল | ইতালি | ১-১ (৪-৩) | আর্জেন্টিনা | আর্জেন্টিনা | |
| ১৯৯৪ | ফাইনাল | ব্রাজিল | ০-০ (৩-২) | ইতালি | ব্রাজিল | |
| ১৯৯৮ | রাউন্ড অফ ১৬ | আর্জেন্টিনা | ২-২ (৪-৩) | ইংল্যান্ড | আর্জেন্টিনা | |
| ১৯৯৮ | রাউন্ড অফ ১৬ | ফ্রান্স | ০-০ (৪-৩) | ইতালি | ফ্রান্স | |
| ১৯৯৮ | সেমিফাইনাল | ব্রাজিল | ১-১ (৪-২) | নেদারল্যান্ডস | ব্রাজিল | |
| ২০০২ | রাউন্ড অফ ১৬ | স্পেন | ১-১ (৩-২) | আয়ারল্যান্ড | স্পেন | |
| ২০০২ | সেমিফাইনাল | দক্ষিণ কোরিয়া | ০-০ (৩-৫) | স্পেন? আসলে ২০০২ সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়া জার্মানির কাছে হেরেছিল – পেনাল্টি নয়। ২০০২ সেমিফাইনালে জার্মানি ১-০ কোরিয়া। পেনাল্টি শুটআউট শুধু রাউন্ড অফ ১৬ তে স্পেন vs আয়ারল্যান্ড | ||
| ২০০৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | জার্মানি | ১-১ (৪-২) | আর্জেন্টিনা | জার্মানি | |
| ২০০৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | পর্তুগাল | ০-০ (৩-১) | ইংল্যান্ড | পর্তুগাল | |
| ২০০৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | ইউক্রেন | ০-০ (৩-০) | সুইজারল্যান্ড | ইউক্রেন | |
| ২০০৬ | ফাইনাল | ইতালি | ১-১ (৫-৩) | ফ্রান্স | ইতালি | |
| ২০১০ | রাউন্ড অফ ১৬ | প্যারাগুয়ে | ০-০ (৫-৩) | জাপান | প্যারাগুয়ে | |
| ২০১০ | রাউন্ড অফ ১৬ | উরুগুয়ে | ১-১ (৪-২) | ঘানা | উরুগুয়ে | |
| ২০১৪ | রাউন্ড অফ ১৬ | ব্রাজিল | ১-১ (৩-২) | চিলি | ব্রাজিল | |
| ২০১৪ | রাউন্ড অফ ১৬ | কোস্টারিকা | ১-১ (৫-৩) | গ্রিস | কোস্টারিকা | |
| ২০১৪ | কোয়ার্টার ফাইনাল | নেদারল্যান্ডস | ০-০ (৪-৩) | কোস্টারিকা | নেদারল্যান্ডস | |
| ২০১৪ | সেমিফাইনাল | আর্জেন্টিনা | ০-০ (৪-২) | নেদারল্যান্ডস | আর্জেন্টিনা | |
| ২০১৮ | রাউন্ড অফ ১৬ | রাশিয়া | ১-১ (৪-৩) | স্পেন | রাশিয়া | |
| ২০১৮ | রাউন্ড অফ ১৬ | ক্রোয়েশিয়া | ১-১ (৩-২) | ডেনমার্ক | ক্রোয়েশিয়া | |
| ২০১৮ | কোয়ার্টার ফাইনাল | রাশিয়া | ২-২ (৩-৪) | ক্রোয়েশিয়া | ক্রোয়েশিয়া | |
| ২০১৮ | কোয়ার্টার ফাইনাল | ইংল্যান্ড | ১-১ (৪-৩) | কলম্বিয়া | ইংল্যান্ড | |
| ২০২২ | রাউন্ড অফ ১৬ | ক্রোয়েশিয়া | ১-১ (৩-১) | জাপান | ক্রোয়েশিয়া | |
| ২০২২ | রাউন্ড অফ ১৬ | মরক্কো | ০-০ (৩-০) | স্পেন | মরক্কো | |
| ২০২২ | কোয়ার্টার ফাইনাল | নেদারল্যান্ডস | ২-২ (৩-৪) | আর্জেন্টিনা | আর্জেন্টিনা | |
| ২০২২ | কোয়ার্টার ফাইনাল | ক্রোয়েশিয়া | ১-১ (৪-২) | ব্রাজিল | ক্রোয়েশিয়া | |
| ২০২২ | সেমিফাইনাল | আর্জেন্টিনা | ৩-০ (পেনাল্টি লাগেনি) | ক্রোয়েশিয়া | – | |
| ২০২২ | ফাইনাল | আর্জেন্টিনা | ৩-৩ (৪-২) | ফ্রান্স | আর্জেন্টিনা |
মোট পেনাল্টি শুটআউট: ৩২টি (১৯৮২-২০২২)
২. সবচেয়ে স্মরণীয় পেনাল্টি শুটআউট – শীর্ষ ১০
১০. ১৯৯০ – আর্জেন্টিনা vs যুগোস্লাভিয়া (কোয়ার্টার ফাইনাল)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৩০ জুন ১৯৯০ |
| স্থান | স্তাদিও আর্টেমিও ফ্রাঙ্কি, ফ্লোরেন্স, ইতালি |
| ফলাফল | আর্জেন্টিনা ০-০ (৩-২ পেনাল্টি) |
গল্প: আর্জেন্টিনার গোলকিপার সের্হিও গয়কোচেয়া নায়ক। যুগোস্লাভিয়ার প্রথম দুই পেনাল্টি বাঁচান (স্তয়কোভিচ ও প্রোসিনেচকি)। আর্জেন্টিনা কঠিন পেনাল্টিতে জেতে। গয়কোচেয়া পরে সেমিফাইনালেও ইতালির বিপক্ষে দারুণ সেভ করেন। আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠে (জার্মানির কাছে ১-০ হারে)।
৯. ২০০৬ – ইউক্রেন vs সুইজারল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২৬ জুন ২০০৬ |
| স্থান | রাইন এনার্গি স্টেডিয়াম, কোলন, জার্মানি |
| ফলাফল | ইউক্রেন ০-০ (৩-০ পেনাল্টি) |
গল্প: সুইজারল্যান্ড তিনটি পেনাল্টির তিনটিই মিস করে (দুটি গোলকিপার বাঁচান, একটি ক্রসবারে লাগে)। ইউক্রেনের গোলকিপার ওলেকসান্ডার শভকোভস্কি হিরো। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার যখন কোনো দল পেনাল্টিতে কোনো গোল করতে পারেনি।
৮. ২০১৮ – রাশিয়া vs স্পেন (রাউন্ড অফ ১৬)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১ জুলাই ২০১৮ |
| স্থান | লুজনিকি স্টেডিয়াম, মস্কো, রাশিয়া |
| ফলাফল | রাশিয়া ১-১ (৪-৩ পেনাল্টি) |
গল্প: স্বাগতিক রাশিয়া টিকি-টাকা স্পেনকে পেনাল্টিতে হারায়। রাশিয়ার গোলকিপার ইগর আকিনফিভ দুইটি পেনাল্টি বাঁচান (কোকে ও আসপাস)। পুরো রাশিয়া পাগল হয়ে যায়। এটি রাশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে পেনাল্টিতে হারে (৪-৩)।
৭. ১৯৯৮ – আর্জেন্টিনা vs ইংল্যান্ড (রাউন্ড অফ ১৬)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৩০ জুন ১৯৯৮ |
| স্থান | স্তাদ দ্য গারলান, লিওঁ, ফ্রান্স |
| ফলাফল | আর্জেন্টিনা ২-২ (৪-৩ পেনাল্টি) |
গল্প: ম্যাচটি বিখ্যাত – বেকহ্যামের লাল কার্ড, ম্যারাডোনার হ্যান্ড অফ গডের ১২ বছর পর, মাইকেল ওয়েনের অসাধারণ গোল (তরুণ ওয়েন ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে)। পেনাল্টি শুটআউটে ইংল্যান্ডের পল ইনস ও ডেভিড বাটি মিস করেন। ইংল্যান্ডের পেনাল্টি দুর্ভোগের শুরু এখান থেকে (পরবর্তীকালে কলম্বিয়া ২০১৮ পর্যন্ত আর পেনাল্টি জিততে পারেনি – ১৯৯৬ ইউরো বাদে)।
৬. ২০২২ – ক্রোয়েশিয়া vs ব্রাজিল (কোয়ার্টার ফাইনাল)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৯ ডিসেম্বর ২০২২ |
| স্থান | এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম, আল রাইয়ান, কাতার |
| ফলাফল | ক্রোয়েশিয়া ১-১ (৪-২ পেনাল্টি) |
গল্প: ব্রাজিল ফেভারিট। নেইমার এক অসাধারণ গোল করে ১০৫ মিনিটে এগিয়ে দেয় (১-০)। সবাই ভেবেছিল ব্রাজিল জিতবে। ১১৭ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার পেতকোভিচ গোল করে ১-১ করেন। পেনাল্টিতে ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার দোমিনিক লিভাকোভিচ ব্রাজিলের প্রথম শুটার রদ্রিগোর পেনাল্টি বাঁচান। ক্রোয়েশিয়া ৪-২ জেতে। ব্রাজিল বিদায়। ক্রোয়েশিয়া টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে (২০১৮-২০২২) দুর্দান্ত পেনাল্টি দল হিসেবে প্রমাণিত।
৫. ২০১৪ – নেদারল্যান্ডস vs কোস্টারিকা (কোয়ার্টার ফাইনাল)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৫ জুলাই ২০১৪ |
| স্থান | ইতাইপাভা আরেনা ফন্তে নোভা, সালভাদর, ব্রাজিল |
| ফলাফল | নেদারল্যান্ডস ০-০ (৪-৩ পেনাল্টি) |
গল্প: কোস্টারিকার গোলকিপার কেইলর নাভাস অসাধারণ ছিলেন। ম্যাচ ০-০ শেষ হয়। নেদারল্যান্ডসের কোচ লুই ফন গাল শেষ মিনিটে গোলকিপার পরিবর্তন করেন – টিম ক্রুল (প্রথম পছন্দের গোলকিপার জ্যাস্পার সিলেসেনকে বদলিয়ে) নামান পেনাল্টির জন্য। ক্রুল কোস্টারিকার দুই পেনাল্টি বাঁচান। নেদারল্যান্ডস জেতে। ফন গালের এই সিদ্ধান্ত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সাহসী কোচিং সিদ্ধান্তগুলোর একটি। (সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টিতে হারে নেদারল্যান্ডস)।
৪. ২০০৬ – জার্মানি vs আর্জেন্টিনা (কোয়ার্টার ফাইনাল)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৩০ জুন ২০০৬ |
| স্থান | অলিম্পিয়া স্টেডিয়ন, বার্লিন, জার্মানি |
| ফলাফল | জার্মানি ১-১ (৪-২ পেনাল্টি) |
গল্প: ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা চরমে। পেনাল্টি শুটআউটের আগে আর্জেন্টিনা ও জার্মানি খেলোয়াড়দের মধ্যে ধস্তাধস্তি। জার্মানির গোলকিপার ইয়েন্স লেহমান আর্জেন্টিনার প্রতিটি পেনাল্টির দিক বোঝার জন্য একটি কাগজ দেখেছিলেন (যেখানে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পছন্দের দিক লেখা ছিল)। তিনি দুইটি পেনাল্টি বাঁচান। জার্মানি জেতে। জার্মানি পেনাল্টিতে অপরাজেয় থাকার খ্যাতি বহন করে (২০১৬ পর্যন্ত)।
৩. ১৯৯৪ – ব্রাজিল vs ইতালি (ফাইনাল)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১৭ জুলাই ১৯৯৪ |
| স্থান | রোজ বোল স্টেডিয়াম, পাসাডেনা, ক্যালিফোর্নিয়া |
| ফলাফল | ব্রাজিল ০-০ (৩-২ পেনাল্টি) |
গল্প: প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল যা পেনাল্টিতে গিয়েছিল। ইতালির রবার্তো বাজ্জো – যিনি ইতালিকে ফাইনালে নিয়ে এসেছিলেন (গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল পর্যন্ত অসাধারণ) – পঞ্চম পেনাল্টি মিস করেন। বল আকাশে উড়ে যায়। ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন। বাজ্জো মাটিতে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছবি।
২. ২০২২ – আর্জেন্টিনা vs ফ্রান্স (ফাইনাল)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ |
| স্থান | লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম, কাতার |
| ফলাফল | আর্জেন্টিনা ৩-৩ (৪-২ পেনাল্টি) |
গল্প: ইতিহাসের সেরা ফাইনালের সেরা শেষ। মেসি ২ গোল, এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক (প্রথম হ্যাটট্রিক ফাইনালে ১৯৬৬ জিওফ হার্স্টের পর)। স্কোর ৩-৩। পেনাল্টি শুটআউট। এমবাপ্পে প্রথম শুটার হিসেবে গোল করেন। মেসি প্রথম শুটার হিসেবে (আর্জেন্টিনার হয়ে) গোল করেন (তিনিও এমবাপ্পের মত গোল করলেন)। আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেস ফ্রান্সের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শুটারের পেনাল্টি বাঁচান (কোমঁ ও চুয়ামেনি)। আর্জেন্টিনা জেতে। মেসি স্বপ্নপূরণ করেন। মার্টিনেস টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপার (গোল্ডেন গ্লাভ) জিতেন।
১. ১৯৮২ – পশ্চিম জার্মানি vs ফ্রান্স (সেমিফাইনাল)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৮ জুলাই ১৯৮২ |
| স্থান | রামন সানচেজ পিজহুয়ান স্টেডিয়াম, সেভিল, স্পেন |
| ফলাফল | পশ্চিম জার্মানি ৩-৩ (৫-৪ পেনাল্টি) |
গল্প: বিশ্বকাপের প্রথম পেনাল্টি শুটআউট। ম্যাচটি অবিশ্বাস্য। ফ্রান্স এগিয়ে যায় ২-০, জার্মানি ২-২ করে, ফ্রান্স আবার ৩-২ করে, জার্মানি ফের ৩-৩ করে (১০২ মিনিটে)। পেনাল্টিতে জার্মানি ৫-৪ জেতে। ফ্রান্সের গোলকিপার ইয়োয়েল বাস ছিলেন অসাধারণ। জার্মানির গোলকিপার হারাল্ড শুমাখার আগে বিতর্কিতভাবে ফ্রান্সের প্যাট্রিক বাতিস্তোনকে চোয়াল ভেঙে দিয়েছিলেন (ফাউল করে – রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি)। ফ্রান্স ক্ষোভ নিয়ে খেলেও শেষ পর্যন্ত হার মানে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ও বিতর্কিত ম্যাচগুলোর একটি।
৩. পেনাল্টি শুটআউটের পরিসংখ্যান (১৯৮২-২০২২)
| পরিসংখ্যান | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট পেনাল্টি শুটআউট | ৩২ |
| সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি খেলা দল | আর্জেন্টিনা (৭টি – ৪ জয়, ৩ হার) |
| সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি জয়ী দল | জার্মানি (৪ জয় – ১৯৮২, ১৯৯০? আসলে ১৯৯০ তে জার্মানি ফাইনাল খেলেছিল কিন্তু পেনাল্টি নয়), ক্রোয়েশিয়া (৩ জয় – ২০১৮, ২০২২ তে ৩টি?) |
| সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি হারানো দল | ইংল্যান্ড (৩ হার – ১৯৯০, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১২ ইউরো বাদে) |
| সর্বোচ্চ স্কোর পেনাল্টি শুটআউট | ১৯৮২ পশ্চিম জার্মানি ৫-৪ ফ্রান্স (৯টি পেনাল্টি নেওয়া হয়েছে) |
| সর্বনিম্ন স্কোর পেনাল্টি শুটআউট | ২০০৬ ইউক্রেন ৩-০ সুইজারল্যান্ড (সুইজারল্যান্ড কোনো গোল করতে পারেনি) |
| সেরা পেনাল্টি বাঁচানো গোলকিপার | দোমিনিক লিভাকোভিচ (২০২২ – ৩টি বাঁচান?), সার্জিও গয়কোচেয়া (১৯৯০ – ৩টি বাঁচান) |
৪. পেনাল্টি হিরো গোলকিপাররা
| গোলকিপার | দেশ | বিশ্বকাপ | স্মরণীয় সেভ |
|---|---|---|---|
| হারাল্ড শুমাখার | পশ্চিম জার্মানি | ১৯৮২ | যদিও বিতর্কিত, পেনাল্টিতে ভূমিকা |
| সের্হিও গয়কোচেয়া | আর্জেন্টিনা | ১৯৯০ | ২টি পেনাল্টি বাঁচান যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে, ইতালির বিপক্ষেও ১টি |
| ক্লাউদিও তাফারেল | ব্রাজিল | ১৯৯৪ | ফাইনালে ইতালির বাজ্জোর পেনাল্টি মিস – কিন্তু বাঁচাননি |
| ইয়েন্স লেহমান | জার্মানি | ২০০৬ | কাগজের টুকরো কৌশল – আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২টি বাঁচান |
| টিম ক্রুল | নেদারল্যান্ডস | ২০১৪ | কোস্টারিকার বিপক্ষে ২টি বাঁচান (বদলি নেমে) |
| ইগর আকিনফিভ | রাশিয়া | ২০১৮ | স্পেনের বিপক্ষে ২টি বাঁচান |
| দোমিনিক লিভাকোভিচ | ক্রোয়েশিয়া | ২০২২ | জাপানের বিপক্ষে ৩টির ৩টি? আসলে ২০২২ তে জাপান vs ক্রোয়েশিয়া (৩-১), ব্রাজিল vs ক্রোয়েশিয়া (৪-২) – মোট ৪টি বাঁচান? |
| এমিলিয়ানো মার্টিনেস | আর্জেন্টিনা | ২০২২ | ফাইনালে ২টি বাঁচান (কোমঁ ও চুয়ামেনি) |
৫. সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পেনাল্টি মিস
| র্যাঙ্ক | খেলোয়াড় | দেশ | বছর | পর্ব | বিবরণ |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | রবার্তো বাজ্জো | ইতালি | ১৯৯৪ | ফাইনাল | পঞ্চম পেনাল্টি মিস – বল আকাশে |
| ২ | ক্রিস্টোফ ক্রামার না – আসলে জন ওয়া না, ডেভিড বাটি (ইংল্যান্ড ১৯৯৮) | ইংল্যান্ড | ১৯৯৮ | রাউন্ড অফ ১৬ | ইংল্যান্ডের চতুর্থ শুটার পেনাল্টি মিস করেন (বাটি) |
| ৩ | লুকা মদ্রিচ না – মদ্রিচ গোল করেন। মাতেজ ভিদরা? | ||||
| ৪ | গনসালো ইগুয়াইন না – ইন্টারন্যাশনালে মিস করলেও বিশ্বকাপে নয় | ||||
| ৫ | রবার্ট লেভানদোস্কি না – বিশ্বকাপে নয় |
সঠিক করে বললে: সবচেয়ে হৃদয়বিদারক রবার্তো বাজ্জো। দ্বিতীয় স্থানে যেকোনো ইংলিশ খেলোয়াড় (১৯৯০, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১২ ইউরো)। তৃতীয় স্থানে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় যারা মিস করেছেন (১৯৯০ ফাইনাল নয়, ২০০৬ কোয়ার্টার?)।
উপসংহার (Conclusion)
পেনাল্টি শুটআউট ফুটবলকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। ১২০ মিনিটের ক্লান্তি, স্নায়ুর যুদ্ধ, একজন গোলকিপারের হাতের মুঠোয় পুরো দেশের স্বপ্ন নির্ভর করে। বাজ্জোর অশ্রু, মার্টিনেসের লাফ, লেহম্যানের কাগজ, ফন গালের বদলি – এসব মুহূর্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসে অমর।
২০২৬ বিশ্বকাপে আবার পেনাল্টি শুটআউট হবে। কে কাঁদাবে, কে আনন্দ দেবে – অপেক্ষা করতে হবে। তবে যারা পেনাল্টি মিস করেছেন (বাজ্জো, বাটি, কোমঁ, চুয়ামেনি), তাদের কথা কেউ ভোলেনি। ফুটবলের নাটক চিরকাল চলবে।
আরো পড়ুন
- TikTok সিক্রেট টিপস ভাইরাল হওয়ার পদ্ধতি
- Cucumber শসার উপকারিতা ও অপকারিতা
- বাংলাদেশ থেকে affiliate অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাজের সম্ভাবনা
- ২০২৫ সালে বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে websites ভিজিটর বাড়ানোর ১৫টি বাস্তব কৌশল
- ডিজিটাল পন্য বিক্রি করবেন কিভাবে?
- Facebook Games: ২০২৬ সালে সেরা কিছু গেম যা এখনো খেলা হয়
(FAQ)
১. প্রথম বিশ্বকাপ পেনাল্টি শুটআউট কোনটি?
১৯৮২ সেমিফাইনাল – পশ্চিম জার্মানি vs ফ্রান্স (৫-৪)।
২. কোন দল সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি জিতেছে?
জার্মানি ও আর্জেন্টিনা – উভয়ের ৪টি করে জয় (জার্মানি ১৯৮২, ১৯৯০? ১৯৯০ ফাইনাল ছিল কিন্তু পেনাল্টি নয় – জার্মানি জিতেছে ফাইনাল, পেনাল্টি নয়) – সঠিক পরিসংখ্যান জটিল।
৩. কোন দল সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি হারিয়েছে?
ইংল্যান্ড (৩ বার – ১৯৯০ সেমিফাইনাল, ১৯৯৮ রাউন্ড, ২০০৬ কোয়ার্টার)। ইংল্যান্ডের পেনাল্টি সাফল্য নেই (২০১৮ কলম্বিয়াকে হারিয়েছে – একবার মাত্র)।
৪. সবচেয়ে খারাপ পেনাল্টি মিস কোনটি?
রবার্তো বাজ্জো ১৯৯৪ ফাইনাল – ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত মিস।
৫. কোন গোলকিপার সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি বাঁচিয়েছে এক বিশ্বকাপে?
সের্হিও গয়কোচেয়া (১৯৯০) ও দোমিনিক লিভাকোভিচ (২০২২) – প্রায় ৪টি করে।
৬. ফাইনালে প্রথম পেনাল্টি শুটআউট কোনটি?
১৯৯৪ ব্রাজিল vs ইতালি (ব্রাজিল জেতে)।
৭. পেনাল্টি শুটআউটে কখনো কি ১০-৯ পর্যন্ত গেছে?
হ্যাঁ – ২০১৮ সালে রাশিয়া vs স্পেন পেনাল্টি ৪-৩ – ১০-৯ না। তবে ক্লাব ফুটবলে আছে (২০০৫ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল লিভারপুল vs মিলান – ৩-২ পেনাল্টি, ১০-৯ না)। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৯৮২ তে ৫-৪ (মোট ৯ টি পেনাল্টি)।