FIFA World Cup 2026 Group I: France, Senegal, Iraq, Norway – পূর্ণ সূচি, বাংলাদেশ সময় ও বিশ্লেষণ
Group I-তে ২০২২ রানার্স-আপ ফ্রান্স, ২০০২ সালের অঘটনকারী সেনেগাল, FIFA World Cup 2026 Group I: France, Senegal, Iraq, Norway – পূর্ণ সূচি, বাংলাদেশ সময় ও বিশ্লেষণ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাক ও Haaland-এর নরওয়ে – সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
FIFA World Cup 2026-এর Group I হচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে তারকাবহুল ও নাটকীয় গ্রুপগুলোর একটি। এখানে আছে ২০১৮ চ্যাম্পিয়ন ও ২০২২ রানার্স-আপ ফ্রান্স – যাদের স্কোয়াডে Mbappé, Dembélé, Olisé, Saliba-র মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়রা আছেন । আছে সেনেগাল – যারা ২০০২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল এবং সেই অঘটনের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায় । আছে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাক – যাদের দলে আছে ইংলিশ ফুটবলের Ali Al-Hamadi ও Manchester United-এর সাবেক তরুণ Zidane Iqbal । আর আছে নরওয়ে – যারা ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে এবং তাদের সাথে আছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গোলমেশিন Erling Haaland ।
এই গ্রুপে ফ্রান্স সবার বড় ফেবারিট, কিন্তু নরওয়ের Haaland একাই যেকোনো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন । সেনেগাল আফ্রিকার সবচেয়ে সংগঠিত দল – তাদের ডিফেন্সে Koulibaly ও গোলে Mendy আছেন । ইরাক আন্ডারডগ কিন্তু তাদের ফাইটিং স্পিরিট প্রশ্নাতীত।
এই গ্রুপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন স্টেডিয়ামে – নিউ জার্সির MetLife Stadium, ফিলাডেলফিয়ার Lincoln Financial Field, বোস্টনের Gillette Stadium ও টরন্টোর BMO Field ।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো – Group I-র প্রতিটি ম্যাচের বিস্তারিত সূচি, বাংলাদেশ সময়, হেড টু হেড রেকর্ড, তারকা খেলোয়াড়দের ফর্ম, আর কোন দল নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
গ্রুপ I-র দলসমূহ – এক নজরে পরিচিতি
| দল | FIFA র্যাঙ্কিং | বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ | সেরা সাফল্য | কোচ | তারকা খেলোয়াড় |
|---|---|---|---|---|---|
| France | ২য় | ১৭তম | চ্যাম্পিয়ন (১৯৯৮, ২০১৮) | Didier Deschamps | Kylian Mbappé, Ousmane Dembélé, William Saliba |
| Senegal | ২১তম | ৪র্থ | কোয়ার্টার ফাইনাল (২০০২) | Pape Thiaw | Sadio Mané, Kalidou Koulibaly, Édouard Mendy |
| Norway | ২২তম | ৪র্থ | গ্রুপ পর্ব (১৯৩৮, ১৯৯৪, ১৯৯৮) | Ståle Solbakken | Erling Haaland, Martin Ødegaard |
| Iraq | ৭৬তম | ২য় | গ্রুপ পর্ব (১৯৮৬) | Graham Arnold | Ali Al-Hamadi, Jalal Hassan, Zidane Iqbal |
বিশেষ তথ্য:
-
ফ্রান্স টানা ২টি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে – ২০১৮ জিতেছে, ২০২২ হেরেছে। এবার তৃতীয়বারের চেষ্টা ।
-
সেনেগাল ২০০২ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকে ফ্রান্সকে ১-০ তে হারিয়ে সবার নজর কেড়েছিল। সেই ম্যাচের স্কোয়াডের সদস্য Pape Thiaw এখন সেনেগালের কোচ ।
-
নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে – ২৮ বছর পর। Erling Haaland ও Martin Ødegaard-র এই ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ শেষ পর্যন্ত বড় মঞ্চে এসেছে ।
-
ইরাক ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে – ৪০ বছর পর। অস্ট্রেলিয়ান কোচ Graham Arnold ইরাককে ইতিহাস গড়ানোর মিশন দিয়েছেন 。
গ্রুপ I-র পূর্ণাঙ্গ সূচি (FIFA World Cup 2026 Group I Schedule)
নিচে Group I-র সব ম্যাচের সময়সূচি দেওয়া হলো। সময় দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সময় ও স্থানীয় সময় দুইভাবেই 。
ম্যাচ ১: France vs Senegal
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১৬ জুন ২০২৬ (বাংলাদেশে ১৭ জুন) |
| স্থানীয় সময় | বিকেল ৩:০০টা (ET) / রাত ৭:০০টা (GMT) |
| বাংলাদেশ সময় | ১৭ জুন, ভোর ১:০০টা |
| ভেন্যু | MetLife Stadium, East Rutherford, New Jersey, USA |
| ধারণক্ষমতা | ৮২,৫০০ |
| ম্যাচের গুরুত্ব | ২০০২ সালের প্রতিশোধ – গ্রুপের সবচেয়ে বড় লড়াই |
২০০২ সালের কথা মনে আছে? বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সেনেগাল তখনকার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ তে হারিয়েছিল । ২৪ বছর পর আবার দেখা হচ্ছে দুই দলের। সেনেগালের কোচ Pape Thiaw নিজেও ২০০২ সালের সেই স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন । এই ম্যাচে ফ্রান্স প্রতিশোধ নিতে চায়, আর সেনেগাল প্রমাণ করতে চায় ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
ম্যাচ ২: Iraq vs Norway
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১৬ জুন ২০২৬ (বাংলাদেশে ১৭ জুন) |
| স্থানীয় সময় | সন্ধ্যা ৭:০০টা (ET) |
| বাংলাদেশ সময় | ১৭ জুন, সকাল ৫:০০টা |
| ভেন্যু | Gillette Stadium, Foxborough, Massachusetts, USA |
| ধারণক্ষমতা | ৬৫,৮৭৮ |
| ম্যাচের গুরুত্ব | Haaland-র বিশ্বকাপ অভিষেক – নরওয়ের প্রথম ম্যাচ ২৮ বছর পর |
Erling Haaland-এর জন্য এটি স্বপ্নের মুহূর্ত। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম ম্যাচ । নরওয়ের বিপক্ষে ইরাকের চাপ অনেক – তারা ৪০ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে। এই ম্যাচে Haaland-কে থামাতে পারলে ইরাকের অঘটন ঘটানোর সুযোগ আছে।
ম্যাচ ৩: France vs Iraq
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২২ জুন ২০২৬ (বাংলাদেশে ২৩ জুন) |
| স্থানীয় সময় | সন্ধ্যা ৭:০০টা (ET) |
| বাংলাদেশ সময় | ২৩ জুন, সকাল ৫:০০টা |
| ভেন্যু | Lincoln Financial Field, Philadelphia, Pennsylvania, USA |
| ধারণক্ষমতা | ৬৯,৭৯৬ |
| ম্যাচের গুরুত্ব | ফ্রান্সের নকআউট নিশ্চিত করার লড়াই |
ফ্রান্সের জন্য এটি তুলনামূলক সহজ ম্যাচ। কিন্তু ইরাক তাদের ফাইটিং স্পিরিট দিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইরাকি অধিনায়ক Jalal Hassan (১০০ ক্যাপ) এই ম্যাচে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ।
ম্যাচ ৪: Senegal vs Norway
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২৩ জুন ২০২৬ (বাংলাদেশে ২৪ জুন) |
| স্থানীয় সময় | সকাল ৯:০০টা (ET) |
| বাংলাদেশ সময় | ২৪ জুন, রাত ৭:০০টা |
| ভেন্যু | MetLife Stadium, East Rutherford, New Jersey, USA |
| ধারণক্ষমতা | ৮২,৫০০ |
| ম্যাচের গুরুত্ব | দ্বিতীয় স্থানের লড়াই – নকআউটের টিকিটের জন্য দুর্দান্ত লড়াই** |
সেনেগাল ও নরওয়ে – এই দুটি দল সম্ভবত দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়বে। Haaland বনাম Koulibaly – এই লড়াই দেখার মতো হবে। সেনেগালের ডিফেন্সের নেতা Koulibaly Haaland-কে থামাতে পারবেন কিনা – সেটাই হবে ম্যাচের মূল বিষয় ।
ম্যাচ ৫: Norway vs France
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২৭ জুন ২০২৬ (বাংলাদেশে ২৮ জুন) |
| স্থানীয় সময় | সন্ধ্যা ৭:০০টা (ET) |
| বাংলাদেশ সময় | ২৮ জুন, সকাল ৫:০০টা |
| ভেন্যু | Gillette Stadium, Foxborough, Massachusetts, USA |
| ধারণক্ষমতা | ৬৫,৮৭৮ |
| ম্যাচের গুরুত্ব | Mbappé vs Haaland – বিশ্বসেরা দুই তারকার লড়াই |
গ্রুপ I-র সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ এটি। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে Kylian Mbappé ও Erling Haaland । ফ্রান্স হয়তো নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে, কিন্তু এই ম্যাচে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে।
ম্যাচ ৬: Senegal vs Iraq
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২৭ জুন ২০২৬ (বাংলাদেশে ২৮ জুন) |
| স্থানীয় সময় | সন্ধ্যা ৭:০০টা (ET) |
| বাংলাদেশ সময় | ২৮ জুন, সকাল ৫:০০টা |
| ভেন্যু | BMO Field, Toronto, Canada |
| ধারণক্ষমতা | ৪৫,০০০ |
| ম্যাচের গুরুত্ব | নকআউটের শেষ টিকিটের লড়াই |
নরওয়ে-ফ্রান্স ম্যাচের একই সময়ে এই ম্যাচ হবে। সেনেগাল ও ইরাকের মধ্যে সম্ভবত শেষ নকআউট টিকিটের লড়াই হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচ দেখার গাইড
Group I-র ম্যাচগুলো বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ভোর ১টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পড়ছে।
| সিরিয়াল | বাংলাদেশ সময় | ম্যাচ | সুবিধা/অসুবিধা |
|---|---|---|---|
| ১ | ১৭ জুন, ভোর ১:০০টা | France vs Senegal | ভোররাতে – Mbappé বনাম Mané |
| ২ | ১৭ জুন, সকাল ৫:০০টা | Iraq vs Norway | সকালের সময় – Haaland-এর অভিষেক |
| ৩ | ২৩ জুন, সকাল ৫:০০টা | France vs Iraq | সকালের সময় – অফিসের আগে |
| ৪ | ২৪ জুন, রাত ৭:০০টা | Norway vs Senegal | সন্ধ্যার সময় – দারুণ স্লট |
| ৫ | ২৮ জুন, সকাল ৫:০০টা | Norway vs France | সকালের সময় – Mbappé vs Haaland |
| ৬ | ২৮ জুন, সকাল ৫:০০টা | Senegal vs Iraq | একই সময়ে দুটি ম্যাচ |
টিপস:
-
ফ্রান্স vs সেনেগাল (১৭ জুন ভোর ১টা) – ২০০২ সালের প্রতিশোধের ম্যাচ। ঘুম ভেঙে বসে পড়ুন।
-
নরওয়ে vs ফ্রান্স (২৮ জুন সকাল ৫টা) – Mbappé vs Haaland! বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলোর একটি। অ্যালার্ম সেট করে রাখুন।
-
নরওয়ে vs সেনেগাল (২৪ জুন রাত ৭টা) – সন্ধ্যার সময় – বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সময়।
-
২৮ জুন সকাল ৫টায় দুটি ম্যাচ একসঙ্গে – একটি টিভিতে ফ্রান্স-নরওয়ে, অন্যটি মোবাইলে সেনেগাল-ইরাক দেখতে পারেন।
ফ্রান্স (France) – Mbappé-র নেতৃত্বে তৃতীয় ফাইনালের পথে
কোচ: Didier Deschamps (২০১২ থেকে দায়িত্বে)
অধিনায়ক: Kylian Mbappé
স্টার খেলোয়াড়: Kylian Mbappé, Ousmane Dembélé, Michael Olisé, William Saliba
ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ইতিহাস:
ফ্রান্স ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দেশ:
-
১৯৯৮ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন (ঘরের মাঠে – ব্রাজিলকে ৩-০ তে হারিয়ে)
-
২০১৮ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন (ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ তে হারিয়ে)
-
২০২২ বিশ্বকাপ রানার্স-আপ (আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরেছিল – Mbappé হ্যাটট্রিক করেও জিততে পারেনি)
-
মোট ১৭তম বিশ্বকাপ খেলছে
Deschamps-র অধীনে ফ্রান্স টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার সুযোগ পাচ্ছে – ২০১৮ (জয়), ২০২২ (হার), ২০২৬ (?) ।
কোয়ালিফাইং পারফরম্যান্স:
ফ্রান্স ইউরোপীয় কোয়ালিফাইং গ্রুপ D-তে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে । তারা জিব্রাল্টার, গ্রিস ও নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে হারিয়েছে।
ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের ফর্ম চমৎকার:
-
কলম্বিয়াকে ৩-১ তে হারিয়েছে
-
ব্রাজিলকে ২-১ তে হারিয়েছে
-
উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ৩-১ তে হারিয়েছে
তবে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ তে হেরেছে – যা তাদের দুর্বলতা দেখিয়েছে 。
ফ্রান্সের শক্তি:
-
Kylian Mbappé: ২৭ বছর বয়সী এই সুপারস্টার ফ্রান্সের অধিনায়ক ও আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু । Real Madrid-এ চলে গেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন – ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে। ফ্রান্সের হয়ে ৫৬ গোল (Olivier Giroud-এর ৫৭ গোলের রেকর্ডের মাত্র ১ গোল পিছনে) । উরুর ইনজুরি নিয়ে উদ্বেগ আছে, কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ফিট হয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে 。
-
Ousmane Dembélé: ২০২৫-২৬ মৌসুমে PSG-র হয়ে ৩৫টি গোল করেছেন ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন । তার স্পিড ও ড্রিবলিং প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের জন্য nightmare।
-
Michael Olisé, Bradley Barcola, Rayan Cherki, Désiré Doué: Bayern Munich, PSG ও Manchester City-তে খেলা এই চারজন ফরাসি আক্রমণভাগকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বানিয়েছে । ফ্রান্সের অ্যাটাকিং ডেপথ অন্যান্য দল শুধু স্বপ্নেই দেখতে পারে।
-
William Saliba: Arsenal-র এই ২৬ বছর বয়সী ডিফেন্ডার বিশ্বের সেরা সেন্টার ব্যাকদের একজন। তার নেতৃত্বে ডিফেন্স অনেক শক্ত ।
-
গভীর স্কোয়াড: Real Madrid-এর Eduardo Camavinga-ও দলে জায়গা পাননি – ফ্রান্সের স্কোয়াডের গভীরতা কল্পনা করুন ।
-
ডিডিয়ের দেশাম্পস (কোচ): ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। ২০১৮ বিশ্বকাপ জেতানো, ২০২২-এ ফাইনালে নিয়ে যাওয়া। তিনি জানেন কীভাবে বড় টুর্নামেন্ট খেলতে হয়।
N’Golo Kanté-র প্রত্যাবর্তন:
৩৫ বছর বয়সী N’Golo Kanté কে Deschamps আবার দলে ডেকেছেন – মিডফিল্ডকে শক্তিশালী করার জন্য 。এটি নির্দেশ করে যে ফ্রান্সের মিডফিল্ডে কিছু সমস্যা আছে – Kanté-র বয়স ৩৫, তিনি আর আগের মতো নন।
ফ্রান্সের দুর্বলতা:
-
মিডফিল্ডে গভীরতার অভাব – কেনই বা Deschamps ৩৫ বছর বয়সী Kanté-কে ডাকলেন
-
Mbappé নির্ভরশীলতা – তাকে বাইরে রাখতে পারলে ফ্রান্সের আক্রমণ ভোঁতা হয়ে যায়
-
কখনও কখনও বড় ম্যাচে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ে
গ্রুপ পর্বের সম্ভাব্য ফলাফল:
-
France vs Senegal: জয় (২-১) – কঠিন ম্যাচ
-
France vs Iraq: জয় (৩-০)
-
France vs Norway: জয় অথবা ড্র (২-১ / ১-১)
বিশেষজ্ঞদের মত: ফ্রান্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রধান দাবিদার। Opta ও Apex Football-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্স সবচেয়ে শক্তিশালী দল ।
নরওয়ে (Norway) – Haaland-র স্বপ্ন পূরণের সময়
কোচ: Ståle Solbakken (২০২০ থেকে দায়িত্বে)
অধিনায়ক: Martin Ødegaard
স্টার খেলোয়াড়: Erling Haaland, Martin Ødegaard, Alexander Sørloth, Antonio Nusa
নরওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাস:
নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে – ২৮ বছর পর । তাদের মোট ৪র্থ বিশ্বকাপ (১৯৩৮, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০২৬)। সেরা সাফল্য গ্রুপ পর্ব – কখনো নকআউটে যেতে পারেনি।
কীভাবে বিশ্বকাপে এলো?
নরওয়ে ইউরোপীয় কোয়ালিফাইংয়ে ১৫ গোলের ব্যবধানে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে । তাদের দলে আছে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়, কিন্তু সেই ১৫ গোলের ফারাক? অনেকটাই একার কৃতিত্ব।
Erling Haaland – নরওয়ের ভগবান:
Erling Haaland ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গোলমেশিন। তার পরিসংখ্যান চোখ ধাঁধানো :
-
৪৯ ম্যাচে ৫৫ গোল জাতীয় দলের হয়ে
-
ইউরোপীয় কোয়ালিফাইংয়ে ৮ ম্যাচে ১৬ গোল – যা অন্য কোনো খেলোয়াড়ের দ্বিগুণের বেশি
-
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন Harry Kane, Memphis Depay ও Marko Arnautović – প্রত্যেকে মাত্র ৮ গোল করে
Haaland নিজে বলেন: “জাতীয় দলে আমার বড় লক্ষ্য ছিল নরওয়েকে বিশ্বকাপ ও ইউরোতে নিয়ে যাওয়া। এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমার ওপর অনেক চাপ আছে – কিন্তু আমি সেই চাপ পছন্দ করি ।”
নরওয়ের অন্যান্য তারকা:
-
Martin Ødegaard: ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আর্সেনালের অধিনায়ক ছিলেন (২০২৫ পর্যন্ত)। Haaland-কে বল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর। দলের ক্যাপ্টেন।
-
Alexander Sørloth: ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার ২০২৩-২৪ মৌসুমে La Liga-তে ২৩ গোল করেছিলেন। Haaland-এর সাথে দ্বিতীয় আক্রমণ ভরসা।
-
Antonio Nusa: ২২ বছর বয়সী এই উইঙ্গার টটেনহ্যামে দারুণ করছেন। নরওয়ের ভবিষ্যৎ তারকা।
-
গোল্ডেন জেনারেশন: নরওয়ের এই দলটিকে ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ বলা হয় – এবং শেষ পর্যন্ত তারা বড় মঞ্চে এসেছে ।
নরওয়ের শক্তি:
-
Erling Haaland: একটি নাম যথেষ্ট। তিনি যেকোনো ডিফেন্সের জন্য nightmare.
-
উচ্চ স্কোরিং: কোয়ালিফাইংয়ে ১৫ গোলের ব্যবধান – আক্রমণে দুরন্ত।
-
প্রেরণা: ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে – পুরো দেশের সমর্থন তাদের পাশে।
-
নতুন মুখ: Haaland, Ødegaard, Nusa – সবার জন্যই এটি প্রথম বিশ্বকাপ 。
নরওয়ের দুর্বলতা:
-
ডিফেন্স শক্তিশালী নয় – বড় দলের বিপক্ষে গোল খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি
-
Haaland-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা – তাকে বাইরে রাখতে পারলে নরওয়ে থমকে যায়
-
বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নেই – দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে
গ্রুপ পর্বের সম্ভাব্য ফলাফল:
-
Norway vs Iraq: জয় (২-০)
-
Norway vs Senegal: জয় অথবা ড্র (১-১ / ২-১)
-
Norway vs France: হার অথবা ড্র (১-২ / ১-১)
বিশেষজ্ঞদের মত: নরওয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানের শক্ত দাবিদার। Apex Football অনুযায়ী, Haaland একা হাতে নরওয়েকে নকআউটে নিয়ে যেতে পারে ।
সেনেগাল (Senegal) – ‘টেরাঙ্গা লায়ন্সের’ প্রতিশোধ
কোচ: Pape Thiaw (২০২৪ থেকে দায়িত্বে)
অধিনায়ক: Kalidou Koulibaly
স্টার খেলোয়াড়: Sadio Mané, Kalidou Koulibaly, Édouard Mendy, Nicolas Jackson
সেনেগালের বিশ্বকাপ ইতিহাস:
সেনেগাল ৪র্থ বিশ্বকাপ খেলছে (২০০২, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)। তাদের সেরা সাফল্য ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল।
২০০২ সালের সেই ইতিহাস: বিশ্বকাপে সেনেগালের অভিষেক। তারা উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ তে হারায় । তারপর তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে (তুরস্কের কাছে ১-০ তে হেরেছিল)।
সেই স্কোয়াডের সদস্য Pape Thiaw এখন সেনেগালের কোচ । তিনি নিজে সেই ম্যাচ খেলেছিলেন – এখন তিনি নিজের খেলোয়াড়দের সেই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করতে চান।
কোয়ালিফাইং পারফরম্যান্স:
সেনেগাল আফ্রিকান কোয়ালিফাইং গ্রুপ B-তে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। ১০ ম্যাচে মাত্র ৩ গোল খেয়েছে । ডিফেন্সি দারুণ শক্ত ছিল।
২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসে সেনেগাল ফাইনাল খেলেছিল। মরক্কোর কাছে ৩-০ তে হেরেছিল (পরে মরক্কোকে ডিফল্ট জয় দেওয়া হয়) 。
সেনেগালের শক্তি:
-
Kalidou Koulibaly: ৩৫ বছর বয়সী এই ডিফেন্স লিজেন্ড এখনও দলের স্তম্ভ। Al-Hilal-এ খেলেন। তার নেতৃত্বে ডিফেন্স প্রায় অটুট ।
-
Édouard Mendy: গোলরক্ষক। Al-Ahli ক্লাবে খেলেন। তার উপস্থিতি ডিফেন্সকে আত্মবিশ্বাস দেয় 。
-
Sadio Mané: ৩৪ বছর বয়সী এই লিজেন্ড এখনও দলে আছেন । সৌদি আরবে খেলেন। সেনেগালের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। যদিও তিনি আর আগের মতো নেই, তার অভিজ্ঞতা ও মানসিকতা দলের জন্য অমূল্য।
-
Nicolas Jackson: Bayern Munich-এ লোনে Chelsea থেকে। তিনি বিশ্বকাপে ব্রেকআউট তারকা হতে পারেন। তার গতি ও গোল করার ক্ষমতা ফ্রান্সের ডিফেন্সকে কাঁপাতে পারে 。
-
Pape Matar Sarr: টটেনহ্যামের এই মিডফিল্ডার দলের মিডফিল্ডে এনার্জি যোগান। Deschamps তাকে ফ্রান্সের বিপক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় মনে করছেন ।
-
ডিফেন্সি সংগঠন: সেনেগালের ডিফেন্সি সবচেয়ে শক্তিশালী। কৌশলী কোচ পাপ থিয়াউ দলকে রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা শিখিয়েছেন 。
সেনেগালের দুর্বলতা:
-
প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩-২ তে হেরেছে – ডিফেন্সে কিছু ফাঁক আছে
-
আক্রমণে সাদিও মানের ওপর নির্ভরশীলতা – তিনি আর ২০২২-এর মানে নেই
-
ফ্রান্সের বিপক্ষে ইতিহাসের বোঝা – প্রতিশোধ নিতে চায় ফ্রান্স
গ্রুপ পর্বের সম্ভাব্য ফলাফল:
-
Senegal vs France: হার অথবা ড্র (১-২ / ১-১)
-
Senegal vs Norway: ড্র অথবা জয় (১-১ / ১-০)
-
Senegal vs Iraq: জয় (২-০)
বিশেষজ্ঞদের মত: সেনেগাল গ্রুপের তৃতীয় স্থানের দাবিদার। কিন্তু তাদের ডিফেন্স ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগলে নরওয়েকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় হতে পারে ।
ইরাক (Iraq) – ৪০ বছর পর বিশ্বকাপ, ইতিহাস গড়ার মিশন
কোচ: Graham Arnold (অস্ট্রেলিয়ান কোচ, ২০২৪ থেকে দায়িত্বে)
অধিনায়ক: Jalal Hassan (১০০ ক্যাপ)
স্টার খেলোয়াড়: Ali Al-Hamadi (Ipswich Town), Zidane Iqbal (Utrecht), Aymen Hussein
ইরাকের বিশ্বকাপ ইতিহাস:
ইরাক ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে – ৪০ বছর পর । তাদের মোট ২য় বিশ্বকাপ – ১৯৮৬ সালে একবার খেলেছিল।
১৯৮৬ সালের সেই অভিজ্ঞতা: ইরাক তখন ব্রাজিল, স্পেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাথে এক গ্রুপে পড়েছিল। তারা ৩ ম্যাচে ৩ হার – ব্রাজিলের কাছে ২-১ তে লড়াই করেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদায়।
কীভাবে বিশ্বকাপে এলো?
ইরাক এশিয়ান কোয়ালিফাইংয়ে সৌদি আরব, জর্ডান ও প্যালেস্টাইনের মতো দলকে পেছনে ফেলে টিকিট নিশ্চিত করে। কোয়ালিফাইং প্লে-অফে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান কোচ Graham Arnold ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলকে ঘুরিয়ে দেন ।
ইরাকের ২৬ সদস্যের স্কোয়াড :
গোলরক্ষক:
-
Jalal Hassan (Al-Zawraa) – অধিনায়ক, ১০০ ক্যাপ, দলের অভিজ্ঞতম
-
Fahad Talib (Al-Talaba)
-
Ahmed Basil (Al-Shorta)
ডিফেন্ডার:
-
Hussein Ali (Pogoń Szczecin – পোল্যান্ড)
-
Rebin Sulaka (Port – এফসি পোর্ট পর্তুগাল)
-
Merchas Doski (Viktoria Plzeň – চেক রিপাবলিক)
-
Zaid Tahseen (Pakhtakor – উজবেকিস্তান)
-
Frans Putros (Persib – ইন্দোনেশিয়া)
-
৬ জন অন্যান্য
মিডফিল্ডার:
-
Zidane Iqbal (Utrecht) – Manchester United-এর সাবেক তরুণ, ইরাকি বংশোদ্ভূত। ইরাকের সবচেয়ে বড় নাম।
-
Ahmed Qasem (Nashville SC) – সুইডেন থেকে দেশ বদল করে ইরাক বেছে নিয়েছেন ।
-
Amir Al-Ammari (Cracovia – পোল্যান্ড)
-
Kevin Yakob (AGF – ডেনমার্ক)
-
Marko Farji (Venezia – ইতালি)
ফরোয়ার্ড:
-
Ali Al-Hamadi (Ipswich Town) – ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে। ইরাকের সবচেয়ে বড় আক্রমণ ভরসা ।
-
Aymen Hussein – ইরাকের হয়ে কোয়ালিফাইংয়ে ৬ গোল করেছেন ।
-
Mohanad Ali, Ali Youssef
ইরাকের শক্তি:
-
Zidane Iqbal: ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার Manchester United-এর একাডেমির পণ্য। Utrecht-এ ভালো করছেন। ইরাকের মিডফিল্ডের মস্তিষ্ক ।
-
Jalal Hassan (অধিনায়ক): ১০০ ক্যাপের এই ভেটেরান ইরাকের রক্ষণের শেষ ঠেকা। তার অভিজ্ঞতা অমূল্য 。
-
Ali Al-Hamadi: ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের Ipswich Town-এ খেলে। ফিজিক্যাল স্ট্রাইকার – শারীরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই।
-
গ্রাহাম আর্নল্ড (কোচ): অস্ট্রেলিয়ান কোচ ২০২২-এ অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ১৬-তে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সেই অভিজ্ঞতা ইরাককে দিতে চান ।
-
দেশ বদল করা খেলোয়াড়: ইরাক দলে আছে সুইডেন থেকে আসা Ahmed Qasem ও ইরাকি বংশোদ্ভূত Zidane Iqbal – দলের মান বাড়িয়েছে ।
ইরাকের দুর্বলতা:
-
ফিফা র্যাঙ্কিং ৭৬ – গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল
-
বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নেই – ৪০ বছর পর খেলছে
-
অধিকাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের টপ লিগে খেলে না
-
Haaland, Mbappé, Mané-র মতো তারকাদের থামানো কঠিন
গ্রুপ পর্বের সম্ভাব্য ফলাফল:
-
Iraq vs Norway: হার (০-২)
-
Iraq vs France: হার (০-৩)
-
Iraq vs Senegal: ড্র অথবা হার (০-০ / ০-১)
বিশেষজ্ঞদের মত: ইরাক গ্রুপের তলানিতে থাকবে । তাদের লক্ষ্য হবে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করা। সেনেগালের বিপক্ষে ড্র করলে সেটাই বড় সাফল্য হবে।
হেড টু হেড রেকর্ড – কে কার বিপক্ষে কেমন?
France vs Senegal
| ম্যাচ | বছর | প্রতিযোগিতা | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| Senegal vs France | ২০০২ | বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্ব | Senegal ১-০ France |
সারমর্ম: ২০০২ সালের সেই ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন। ফ্রান্স তখন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, সেনেগাল তখন বিশ্বকাপে অভিষিক্ত। সেনেগাল ১-০ তে জিতেছিল । ২৪ বছর পর আবার দেখা – এবার ফ্রান্স প্রতিশোধ নিতে চায়।
France vs Iraq
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ববর্তী কোনো ম্যাচ নেই | এটি প্রথমবার মুখোমুখি হবে |
France vs Norway
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ববর্তী কোনো ম্যাচ নেই | এটি প্রথমবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে |
প্রীতি ম্যাচে কিছুবার দেখা হয়েছে – নরওয়ে কখনো ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি।
Norway vs Senegal
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ববর্তী কোনো ম্যাচ নেই | এটি প্রথমবার মুখোমুখি হবে |
Norway vs Iraq
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ববর্তী কোনো ম্যাচ নেই | এটি প্রথমবার মুখোমুখি হবে |
Senegal vs Iraq
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ববর্তী কোনো ম্যাচ নেই | এটি প্রথমবার মুখোমুখি হবে |
পয়েন্ট ৯: গ্রুপ I-র ভেন্যু – চারটি স্টেডিয়াম
| স্টেডিয়াম | শহর | ধারণক্ষমতা | ম্যাচ |
|---|---|---|---|
| MetLife Stadium | East Rutherford, New Jersey | ৮২,৫০০ | France vs Senegal, Senegal vs Norway |
| Gillette Stadium | Foxborough, Massachusetts (Boston) | ৬৫,৮৭৮ | Iraq vs Norway, Norway vs France |
| Lincoln Financial Field | Philadelphia, Pennsylvania | ৬৯,৭৯৬ | France vs Iraq |
| BMO Field | Toronto, Canada | ৪৫,০০০ | Senegal vs Iraq |
সব স্টেডিয়ামই উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে – মানে বাংলাদেশ সময়ের জন্য ভোর ও সকালের ম্যাচ।
গ্রুপ I থেকে কারা নকআউটে যাবে? – পূর্বাভাস ও বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস :
| অবস্থান | দল | Apex Football পূর্বাভাস | কারণ |
|---|---|---|---|
| ১ম | France | ১ম | সবচেয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড। Mbappé, Dembélé, Olisé – আক্রমণ ভয়ঙ্কর |
| ২য় | Norway | ২য় | Haaland একাই নরওয়েকে নকআউটে নিয়ে যেতে পারে |
| ৩য় | Senegal | ৩য় | ডিফেন্স শক্ত, কিন্তু আক্রমণে মানের অভাব |
| ৪র্থ | Iraq | ৪র্থ | ৪০ বছর পর ফিরছে, অভিজ্ঞতার অভাবে পিছিয়ে |
কেন এই পূর্বাভাস?
-
ফ্রান্স গ্রুপের সবচেয়ে বড় ফেবারিট। Mbappé বিশ্বের অন্যতম সেরা। Dembélé চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী ফর্মে আছেন। ডিফেন্সে Saliba ও আক্রমণে গভীরতা – অন্য দলগুলো তাদের চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৮৫%+ ।
-
নরওয়ে দ্বিতীয় স্থানের শক্ত দাবিদার। Haaland কোয়ালিফাইংয়ে ১৬ গোল করেছেন – বিশ্বকাপের মঞ্চেও তিনি থামার নাম করবেন না। কিন্তু তাদের ডিফেন্স ফ্রান্সের বিপক্ষে সমস্যায় পড়তে পারে। সেনেগালের বিপক্ষে জিততে পারলে নকআউট নিশ্চিত 。
-
সেনেগাল তৃতীয় স্থানের দাবিদার। তাদের ডিফেন্স খুব শক্ত – Koulibaly ও Mendy দিয়ে তৈরি। কিন্তু আক্রমণে Sadio Mané আর ২০২২ সালের মতো নেই – Nicolas Jackson ফর্মে আছে কিনা সেটাই নির্ধারণ করবে। নরওয়ের বিপক্ষে ড্র করলে সেরা থার্ড-প্লেসের সুযোগ থাকবে।
-
ইরাক তলানিতে থাকবে। কিন্তু তারা ৪০ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে – নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পেয়েছে। Haaland ও Mbappé-র বিপক্ষে খেলা তাদের জন্য বড় শিক্ষা হবে।
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় কথা:
Apex Football-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্রুপ I সবচেয়ে বেশি তারকা খেলোয়াড়ের গ্রুপ – Mbappé, Haaland, Mané, Dembélé, Olisé, Saliba, Koulibaly – বিশ্বকাপের অন্য কোনো গ্রুপে এত তারকা নেই 。
সারসংক্ষেপ (Conclusion)
FIFA World Cup 2026-এর Group I হলো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে তারকাবহুল গ্রুপ। ফ্রান্স ফেবারিট – Mbappé-র নেতৃত্বে তারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে চায়। নরওয়ে ফিরছে ২৮ বছর পর – Haaland একাই যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য nightmare। সেনেগাল ২০০২ সালের অঘটনের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায় – তাদের ডিফেন্স ও অভিজ্ঞতা অনেক। ইরাক ৪০ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে – তাদের জন্য অংশগ্রহণই বড় অর্জন।
মূল টেকঅ্যাওয়ে:
-
সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ: France vs Senegal (১৭ জুন ভোর ১টায়) – ২০০২ সালের প্রতিশোধ
-
তারকা লড়াই: Norway vs France (২৮ জুন সকাল ৫টায়) – Mbappé vs Haaland
-
বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য সেরা সময়: Norway vs Senegal (২৪ জুন রাত ৭টায়) – সন্ধ্যার সময়
-
নকআউট সম্ভাবনা: ফ্রান্স ৯০%+, নরওয়ে ৭৫%, সেনেগাল ৫৫%, ইরাক ১৫%
-
সবচেয়ে বড় তারকা মিলন: Group I-তে Mbappé (France), Haaland (Norway), Mané (Senegal) – তিন মহাতারকা এক মঞ্চে!
বাংলাদেশি ফ্যানদের জন্য টিপস:
-
Mbappé ফ্যান হলে ফ্রান্সের সব ম্যাচ দেখুন – ভোর ১টা ও সকাল ৫টায় অ্যালার্ম সেট করুন।
-
Haaland ফ্যান হলে নরওয়ের ম্যাচগুলো দেখুন – বিশেষ করে ২৮ জুন সকাল ৫টার ফ্রান্স ম্যাচ।
-
২৪ জুন রাত ৭টার Norway vs Senegal ম্যাচটি পারফেক্ট সময়ে – সন্ধ্যার পর বসে আরামে দেখুন।
আরো পড়ুন
- পার্ট-টাইম ফ্রিল্যান্সিং করে Income বাড়ানোর উপায়
- গ্রাফিক ডিজাইনে মাসে ১ লাখ টাকা Income করার কৌশল
- সেলফ-পাবলিশড ই-বুক বিক্রি করে আয় Income
- TikTok ফটো এডিটিং টিপস সেরা স্টাইল
- TikTok এর গোপন কৌশল নতুন ভিডিও শেয়ারিং
- NID Correction Online Rejection Reasons & How to Appeal Successfully
FAQ
প্রশ্ন ১: Group I-র সবচেয়ে বড় ফেবারিট কে?
উত্তর: ফ্রান্স। Mbappé, Dembélé, Saliba – স্কোয়াডের মান সবচেয়ে ভালো ।
প্রশ্ন ২: নরওয়ের বিশ্বকাপে ফেরার গল্প কী?
উত্তর: ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার খেলছে। Haaland কোয়ালিফাইংয়ে ১৬ গোল করে দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যান ।
প্রশ্ন ৩: সেনেগাল ২০০২ সালে কী করেছিল?
উত্তর: বিশ্বকাপে অভিষেকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ তে হারিয়েছিল ।
প্রশ্ন ৪: ইরাক শেষবার কবে বিশ্বকাপ খেলেছিল?
উত্তর: ১৯৮৬ সালে – ৪০ বছর আগে ।
প্রশ্ন ৫: ফ্রান্সের অধিনায়ক কে?
উত্তর: Kylian Mbappé ।
প্রশ্ন ৬: Haaland-এর বিশ্বকাপ অভিষেক কবে?
উত্তর: ১৭ জুন, সকাল ৫টায় – Iraq vs Norway ম্যাচে ।
প্রশ্ন ৭: Group I-র সবচেয়ে বড় ম্যাচ কোনটি?
উত্তর: France vs Senegal (১৭ জুন) – ২০০২ সালের প্রতিশোধ। আর Norway vs France (২৮ জুন) – Mbappé vs Haaland।
প্রশ্ন ৮: বাংলাদেশ সময় সবচেয়ে সুবিধাজনক কোন ম্যাচটি?
উত্তর: Norway vs Senegal (২৪ জুন, রাত ৭:০০টা) – সন্ধ্যার সময় – পারফেক্ট!
ট্যাগসমূহ (Tags)
FIFA World Cup 2026, Group I Schedule, France World Cup 2026, Norway World Cup 2026, Senegal World Cup 2026, Iraq World Cup 2026, Bangladesh Time World Cup, Kylian Mbappé, Erling Haaland, Sadio Mané, World Cup 2026 Group Analysis, France vs Senegal 2002