Diego Maradona and FIFA: স্বর্গ থেকে নরকে – উত্থান, পতন ও অনন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প (২০২৬ আপডেট)
ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফুটবলের দেবতা। ফিফার সবচেয়ে প্রিয় ও সবচেয়ে বিতর্কিত সন্তান। ১৯৮৬ সালের হ্যান্ড অফ গড থেকে ১৯৯৪ সালের এফেড্রিন কেলেঙ্কারি, ফিফার সাথে তার সম্পর্ক ছিল উত্থান-পতনের এক অপেরা। কেন ফিফা তাকে ভালোবাসতো? কেন তাকে শাস্তি দিয়েছে? জানুন ফুটবলের সবচেয়ে রঙিন চরিত্রের ফিফা জীবনের সম্পূর্ণ ইতিহাস।
ভূমিকা (Introduction)
ফুটবলের ইতিহাসে কিছু নাম আছে যা কেবল খেলোয়াড় নয় – তারা কিংবদন্তি, তারা মিথ, তারা দেবতা। ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা সেই তালিকার একেবারে শীর্ষে। একজন মানুষ যিনি একা হাতে ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। একজন মানুষ যিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুইটি গোল করেছিলেন – একটি হাত দিয়ে (হ্যান্ড অফ গড), অন্যটি ফুটবল ইতিহাসের সেরা গোল (গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি)।
কিন্তু ম্যারাডোনা ও ফিফার সম্পর্ক ছিল উত্থান-পতনের এক অপেরা। ফিফা তাকে ভালোবাসতো – কারণ তিনি ছিলেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আবার ফিফা তাকে শাস্তিও দিয়েছে – ডোপিং, ড্রাগ কেলেঙ্কারি, বিতর্কিত মন্তব্য – সবকিছুর জন্য।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো:
-
১৯৮৬ সালের হ্যান্ড অফ গড – কেন ফিফা নীরব ছিল?
-
১৯৯০ সালের ফাইনালে কান্না – ফিফার সাথে সম্পর্ক কোথায় গিয়ে ঠেকেছিল?
-
১৯৯৪ সালের এফেড্রিন কেলেঙ্কারি – ফিফা কেন তাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করেছিল?
-
২০১০-২০১৮ সালের কোচিং ক্যারিয়ার – ফিফার সাথে পুনর্মিলন
-
ম্যারাডোনার মৃত্যু ও ফিফার শ্রদ্ধা
চলুন, শুরু করা যাক – ফুটবলের দেবতার ফিফা জীবনের গল্প।
১. ১৯৮৬: হ্যান্ড অফ গড ও ফিফার নীরবতা
১.১ কী হয়েছিল?
১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আস্তেকা। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল – আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর এই ম্যাচ ছিল রাজনৈতিক, আবেগীয় ও ঐতিহাসিক।
ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ম্যারাডোনা ইংলিশ গোলকিপার পিটার শিলটনের সাথে এয়ার চ্যালেঞ্জে যান। তিনি বাঁ হাত দিয়ে বলকে জালে ঢুকিয়ে দেন। রেফারি গোল দেন – দেখেননি হাতের ব্যবহার।
ম্যারাডোনা পরে সাংবাদিকদের বলেন:
“This was a little with the head of Maradona and a little with the hand of God.”
এটাই ইতিহাসের “হ্যান্ড অফ গড”।
১.২ ফিফার প্রতিক্রিয়া
ফিফা কী করেছিল? কিছুই না। রেফারির সিদ্ধান্ত অটুট ছিল। সেবার ভিএআর ছিল না, গোললাইন টেকনোলজি ছিল না। ফিফা নিয়ম অনুযায়ী রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
তবে, ফিফা পরে ম্যারাডোনাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করে – যেখানে তিনি হ্যান্ড অফ গডের ৪ মিনিট পর ফুটবল ইতিহাসের সেরা গোলটি করেছিলেন। সেই গোলের জন্য তিনি বিশ্বকাপের সেরা পুরস্কার (গোল্ডেন বল) জিতেন।
ফিফার নীরবতা কেন? ফিফা নিজের স্বার্থ দেখেছিল – ম্যারাডোনা ছিলেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় তারকা। তাকে শাস্তি দিলে বিশ্বকাপের দর্শক আগ্রহ কমে যেত। তাই ফিফা চুপ থাকলো।
এই ঘটনাটি ফিফা-ম্যারাডোনা সম্পর্কের জটিলতা দেখিয়ে দেয়: ম্যারাডোনা যত বড় আইন ভঙ্গ করুক না কেন, তিনি ফিফার জন্য ব্যবসা।
১.৩ ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয়
হ্যান্ড অফ গড বিতর্কের পর ম্যারাডোনা একাই মাঠে ছিলেন দানব। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১, সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-০, ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ হারিয়ে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন।
ম্যারাডোনা জিতলেন গোল্ডেন বল (টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়)। ফিফা তাকে পুরস্কার দিল। এটাই ছিল ফিফা-ম্যারাডোনা সম্পর্কের শীর্ষ বিন্দু।
২. ১৯৯০: কান্নার বিশ্বকাপ ও ফিফার ‘অদৃশ্য হাত’
২.১ ফাইনালে হার
১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির মুখোমুখি। ম্যারাডোনা পুরো টুর্নামেন্টে ইনজুরিতে ভুগছিলেন। তার পারফরম্যান্স ১৯৮৬ সালের মতো ছিল না।
ফাইনালের ৮৫তম মিনিটে রেফারি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি বিতর্কিত পেনাল্টি দেন। জার্মানির আন্দ্রেয়াস ব্রেমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন। স্কোর ১-০ জার্মানির পক্ষে।
ম্যারাডোনা কাঁদলেন। পুরো বিশ্ব তাকে কাঁদতে দেখলো। ফাইনাল শেষে তিনি ফিফা প্রেসিডেন্ট জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের হাত থেকে রানার-আপের মেডেল নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফিফা কর্তাদের সাথে তার সম্পর্ক টানটান হতে থাকে।
২.২ ফিফার সাথে সম্পর্কের অবনতি
১৯৯০ সালের পর ম্যারাডোনা ফিফার সমালোচনা শুরু করেন। তার বক্তব্য ছিল:
“FIFA is a mafia that only cares about money.”
ফিফা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, কিন্তু পরে সেপ ব্লাটার ও অন্যান্য ফিফা কর্তারা ম্যারাডোনাকে ‘বিশৃঙ্খল’ ও ‘অশিক্ষিত’ বলে বর্ণনা করেন।
ম্যারাডোনা নিজেও মাদকাসক্তিতে জর্জরিত ছিলেন। ১৯৯১ সালে ইতালিতে কোকেন ব্যবহারের দায়ে তাকে ১৫ মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয় (ক্লাব পর্যায়ে)। ফিফা কিন্তু তার বিরুদ্ধে কিছু করেনি – কারণ নিষেধাজ্ঞাটি ছিল ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের (FIGC), ফিফার নয়।
৩. ১৯৯৪: এফেড্রিন কেলেঙ্কারি ও ফিফার আঘাত
৩.১ কী হয়েছিল?
১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ। ম্যারাডোনার শেষ বিশ্বকাপ। তিনি শুরুর দিকে দারুণ খেলেছিলেন – গ্রিসের বিপক্ষে গোল করে ক্যামেরার সামনে চিৎকার করে উদযাপন করেছিলেন।
কিন্তু গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচের পর (নাইজেরিয়ার বিপক্ষে) তার ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসে। তার শরীরে এফেড্রিন পাওয়া যায় – একটি নিষিদ্ধ উত্তেজক।
৩.২ ফিফার শাস্তি
ফিফা তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নেয় – ম্যারাডোনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করা হবে। আর্জেন্টিনা দলকে তারা ছাড়াই খেলতে হয়। তারা শেষ পর্যন্ত রাউন্ড অফ ১৬-এ রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়।
ম্যারাডোনা পরে দাবি করেন – ফিফা ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন:
“FIFA wanted me out. They couldn’t stand me anymore.”
ফিফা অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য ছিল – ডোপ টেস্ট স্পষ্ট ছিল, নিয়ম মেনে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এটি ছিল ফিফা-ম্যারাডোনা সম্পর্কের নিচু বিন্দু। ফিফা তাকে পরিত্যাগ করলো। আর ম্যারাডোনা ফিফাকে চিরকালের শত্রু মনে করতে লাগলেন।
৩.৩ ম্যারাডোনার পতন
১৯৯৪ সালের পর ম্যারাডোনার ক্যারিয়ার আর কখনো আগের জায়গায় ফিরে আসেনি। তিনি খেলা ছেড়ে দেন, মাদক ও মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েন, স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন। ফিফার সাথে তার সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে যায়।
৪. ২০০০-২০১০: ফিফা কিংবদন্তি পুরস্কার ও আংশিক পুনর্মিলন
৪.১ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়
২০০০ সালে ফিফা “শতাব্দীর সেরা ফুটবলার” নির্বাচন করে। ফিফা একটি ইন্টারনেট ভোটের আয়োজন করে, যেখানে ম্যারাডোনা জয়ী হন (৫৩.৬% ভোট)। কিন্তু ফিফা সিদ্ধান্ত নেয় পেলেকে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়া হবে – তাদের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি ও ফিফা ম্যাগাজিনের ভোটে পেলে জয়ী হয়েছিলেন।
ম্যারাডোনা ক্ষুব্ধ হন। তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। বলা হয়, তিনি ফিফা সদর দপ্তর থেকে চলে যান যখন বুঝতে পারেন যে তিনি একক বিজয়ী নন।
৪.২ ২০০৬ বিশ্বকাপে ফিরে আসা
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা ফিরে আসেন – এবার দর্শক হিসেবে। ফিফা তাকে স্বাগত জানায়। সাবেক প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার তাকে ফিফার অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানান।
ম্যারাডোনা আর ফিফার মধ্যে ঠান্ডা সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা প্রকাশ্যে একে অপরের সমালোচনা করত না, কিন্তু বন্ধুও ছিল না।
৫. ২০১০-২০১৮: আর্জেন্টিনা কোচ ও ফিফার নতুন অধ্যায়
৫.১ ২০১০ বিশ্বকাপ কোচ
২০১০ সালে ম্যারাডোনা দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে ফিরে আসেন। ফিফার সাথে তার সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিক ছিল – তিনি নিয়ম মেনে খেলেন, ফিফার মিডিয়া ইভেন্টে যোগ দেন, প্রেস কনফারেন্স করেন।
কিন্তু আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ ব্যবধানে হারে। ম্যারাডোনা পরে দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
৫.২ ফিফার প্রতিক্রিয়া
ফিফা ম্যারাডোনাকে কোচ হিসেবে সম্মান দেখিয়েছে। কোনো বিতর্ক হয়নি। ব্লাটার ও পরে ইনফ্যান্টিনো তাকে ফিফার ইভেন্টে আমন্ত্রণ জানাতেন।
এটি ছিল একটি পুনর্মিলনের সময়কাল। ম্যারাডোনা বয়সে বড় হয়েছিলেন, উত্তেজনা কম ছিল। ফিফাও শিখেছিল ম্যারাডোনাকে সম্মান করতে।
৬. ২০২০: মৃত্যু ও ফিফার বিদায়
৬.১ পবিত্র মৃত্যু
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর। ডিয়েগো ম্যারাডোনা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুয়েনোস আইরেসের কাছে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। ফুটবল বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে গেল।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো সঙ্গে সঙ্গেই বিবৃতি দেন:
“Today we say goodbye to the eternal genius, the extraordinary Diego Armando Maradona. He took Argentine football to the top of the world. He was a hero to millions of fans. FIFA is mourning the loss of our beloved legend. We will be forever grateful to him.”
ফিফার পতাকা জুরিখের সদর দপ্তরে অর্ধনমিত রাখা হয়।
৬.২ ফিফার শ্রদ্ধা
-
২০২২ বিশ্বকাপ: কাতার বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্টেডিয়ামে তার ছবি দেখানো হয়।
-
The Best FIFA Awards 2020: ম্যারাডোনাকে বিশেষ ট্রিবিউট দেওয়া হয়।
ম্যারাডোনার মৃত্যু ফিফা ও প্রাক্তন দুশমনের মধ্যে চিরস্থায়ী শান্তি এনে দেয়।
৭. ম্যারাডোনা & ফিফা: একটি জটিল উত্তরাধিকার
| সময়কাল | সম্পর্কের অবস্থা | প্রধান ঘটনা |
|---|---|---|
| ১৯৮৬-১৯৯০ | প্রেম-ঘৃণা | হ্যান্ড অফ গড (ফিফা নীরব), গোল্ডেন বল জয় |
| ১৯৯০-১৯৯৪ | টানটান | ১৯৯০ ফাইনালের কান্না, ফিফার সমালোচনা |
| ১৯৯৪ | বিচ্ছেদ | এফেড্রিন কেলেঙ্কারি → বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার |
| ২০০০-২০১০ | ঠান্ডা যুদ্ধ | ফিফা শতাব্দীর সেরা পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক |
| ২০১০-২০১৮ | পুনর্মিলন | আর্জেন্টিনা কোচ (নিয়ম মেনে খেলা) |
| ২০২০ | অনন্ত শান্তি | মৃত্যু ও ফিফার শ্রদ্ধা |
ম্যারাডোনা ও ফিফার সম্পর্ক ছিল অপেরার মতো – উত্থান, পতন, বিচ্ছেদ ও শেষে পুনর্মিলন। ফিফা তাকে ব্যবহার করেছে, তাকে শাস্তি দিয়েছে, আবার শেষ পর্যন্ত তাকে সম্মান জানিয়েছে।
ম্যারাডোনা ফিফাকে কখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করেননি। ২০১৫ সালের দুর্নীতি কেলেঙ্কারির সময় তিনি বলেছিলেন:
“I told you so. FIFA is a den of corruption.”
তা সত্ত্বেও, ফিফা তার মৃত্যুতে তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ ম্যারাডোনা ফুটবলকে যা দিয়েছেন – ফিফা তাকে কখনো পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারেনি।
উপসংহার (Conclusion)
ডিয়েগো ম্যারাডোনা ছিলেন ফুটবলের বিদ্রোহী দেবতা। ফিফা ছিল সেই সংস্থা যা তাকে ভালোবেসেছে, ঘৃণা করেছে, শাস্তি দিয়েছে ও শেষ পর্যন্ত শ্রদ্ধা জানিয়েছে। তারা সম্পর্কের সব পর্ব পার করেছে – রোমান্টিক শুরুর হ্যান্ড অফ গড থেকে শুরু করে ট্র্যাজিক বিচ্ছেদের এফেড্রিন কেলেঙ্কারি পর্যন্ত।
ম্যারাডোনা ছাড়া ফুটবল কল্পনা করা কঠিন। ফিফা ছাড়া ম্যারাডোনার গল্প অসম্পূর্ণ। এই দুই প্রতিপক্ষের সম্পর্ক ফুটবলকে বানিয়েছে রঙিন, বিতর্কিত ও অনন্য।
ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফ্যান্টিনো যেমন বলেছেন:
“We will miss you, Diego. But your legacy will live forever in every goal, every dribble, and every heart that beats for football.”
ম্যারাডোনা ফিফার জন্য ব্যবসা, প্রতিপক্ষ, অবশেষে কিংবদন্তি। কিন্তু ফুটবলের জন্য – তিনি চিরকালের দেবতা।
আরো পড়ুন
- Tapmad: বাংলাদেশের সেরা স্পোর্টস স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম – দাম, বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার পদ্ধতি
- bd cricket: বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাস, অর্জন, তারকা খেলোয়াড় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
- ban v aus: বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্পূর্ণ ইতিহাস ও পরিসংখ্যান
- FIFA এর কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা: ফুটবল বিশ্বের প্রশাসনিক পিরামিড – কারা চালায় এই বিশাল সংস্থা? (২০২৫ আপডেট)
- ফ্রিল্যান্সিং কি?
(FAQ)
১. হ্যান্ড অফ গডের পর ফিফা কেন ম্যারাডোনাকে শাস্তি দেয়নি?
সেবার ভিএআর ছিল না। রেফারি ঘটনাটি দেখেননি, তাই গোল দেওয়া হয়। ফিফা নিয়ম অনুযায়ী রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এছাড়া, ফিফা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় তারকাকে শাস্তি দিতে চায়নি।
২. ১৯৯৪ সালে কেন ফিফা ম্যারাডোনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করেছিল?
তার ডোপ টেস্টে এফেড্রিন (Ephedrine) পাওয়া গিয়েছিল – এটি একটি নিষিদ্ধ উত্তেজক পদার্থ। ফিফার ডোপিং নিয়ম অনুযায়ী এটিই যথেষ্ট শাস্তি ছিল।
৩. ম্যারাডোনা কখনো ফিফার সাথে সম্পূর্ণ পুনর্মিলন করেছিল?
সম্পূর্ণ না – তবে ২০১০-এর দশকে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল। তিনি ফিফার ইভেন্টে অংশ নিতেন, কিন্তু পুরনো ক্ষত কখনো পুরোপুরি শুকায়নি।
৪. ম্যারাডোনার মৃত্যুতে ফিফার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফ্যান্টিনো গভীর শোক প্রকাশ করেন। ফিফার পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ২০২২ বিশ্বকাপে তাকে বিশেষ ট্রিবিউট দেওয়া হয়।
৫. ম্যারাডোনা ও পেলেকে নিয়ে ফিফার শতাব্দীর সেরা পুরস্কার বিতর্কটি কী?
২০০০ সালে ফিফা “শতাব্দীর সেরা ফুটবলার” নির্বাচন করে। অনলাইন ভোটে ম্যারাডোনা জিতলেও ফিফা পেলেকে যৌথ বিজয়ী ঘোষণা করে। ম্যারাডোনা পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান।
তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ফিফার সাথে সম্পর্কের চরম উত্থান | ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয় ও গোল্ডেন বল |
| ফিফার সাথে সম্পর্কের চরম পতন | ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে ডোপিং কেলেঙ্কারিতে বহিষ্কার |
| ফিফার সাথে পুনর্মিলন | ২০১০-২০১৮ (আর্জেন্টিনা কোচ ও ফিফা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ) |
| বিতর্কের মূল কারণ | হ্যান্ড অফ গড, ফিফার দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনা, ডোপিং |
| ফিফার শ্রদ্ধা | ২০২২ বিশ্বকাপে ট্রিবিউট, অর্ধনমিত পতাকা, প্রেসিডেন্টের বিবৃতি |
| ম্যারাডোনার উত্তরাধিকার | ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা, ফিফার সবচেয়ে বিতর্কিত সন্তান |