FIFA প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: ১৯০৪ সালের প্যারিস মিটিং – যেখানে জন্ম নিল বিশ্ব ফুটবলের মস্তিষ্ক
২১ মে ১৯০৪, প্যারিসের একটি সাধারণ অফিসে মাত্র ৭টি দেশ একত্রিত হয়ে গড়ে ফেলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া সংস্থা FIFA। জানুন সেই ঐতিহাসিক মিটিংয়ের বিস্তারিত গল্প – কারা এসেছিলেন, কী আলোচনা হলো, কেন ইংল্যান্ড যোগ দিতে চায়নি, FIFA প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: ১৯০৪ সালের প্যারিস মিটিং – যেখানে জন্ম নিল বিশ্ব ফুটবলের মস্তিষ্ক এবং কীভাবে ফুটবল পেল তার বিশ্ব সরকার।
ভূমিকা (Introduction)
আপনি কি কখনো ভেবেছেন – পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটি আজ যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তার শুরুটা কীভাবে হলো? কোন জায়গায়, কোন দিন, কোন মানুষগুলো বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন – ‘আজ থেকে ফুটবলের একটি বিশ্ব সংস্থা থাকবে’?
তারিখটা ছিল ২১ মে ১৯০৪। স্থানটা – ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। ফরাসি ফুটবল সংস্থার সদর দপ্তরের একটি সাধারণ কক্ষ। সেদিকে সাতটি দেশের প্রতিনিধি এসেছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ জানতেন না যে তারা ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লিখে যাচ্ছেন। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি যে ১২০ বছর পরে সেই ছোট উদ্যোগটি ২১১টি দেশের ফুটবলকে এক ছাদের নিচে আনবে।
এই আর্টিকেলে আমরা সময়ের যাত্রা করব। ফিরে যাব ১৯০৪ সালের সেই দিনটিতে। দেখব – কেন দরকার হয়েছিল ফিফার? কারা ছিলেন সেই সাত দেশ? কী আলোচনা হলো? কে লিখলেন প্রথম সংবিধান? কেন ইংল্যান্ড প্রথমে ‘না’ বলেছিল? আর কীভাবে ফিফা একসময় ফুটবল দুনিয়ার ‘বস’ হয়ে উঠল?
চলুন, ইতিহাসের পাতায় উল্টে ফেলি।
১. ১৯০৪ সালের আগে ফুটবল কেমন ছিল?
ফিফা জন্মের আগের দৃশ্যটা একটু দেখে নেওয়া যাক। ২০ শতকের শুরুতে ফুটবল ইংল্যান্ডে ইতিমধ্যেই পাগলামির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। সেখানে ১৮৬৩ সালে গঠিত হয়েছিল The Football Association (The FA) – বিশ্বের প্রথম ফুটবল সংস্থা। ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে নিয়মিত লিগ হতো, এফএ কাপ হতো, স্টেডিয়ামে স্টেডিয়ামে উপচে পড়া দর্শক।
ইংল্যান্ডের এই সাফল্য তখন ইউরোপের অন্যান্য দেশকেও উদ্বুদ্ধ করেছিল। নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড – সর্বত্র ফুটবল ছড়িয়ে পড়ছিল। ক্লাব তৈরি হচ্ছিল, লিগ শুরু হচ্ছিল।
কিন্তু সমস্যা ছিল – কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থা ছিল না। ফলে:
-
নিয়ম নিয়ে গোলযোগ: ইংল্যান্ডের অফসাইড নিয়ম ছিল অন্যরকম। ফ্রান্সে আরেকরকম। দুই দেশ ম্যাচ খেলতে গেলে প্রথমেই ঝগড়া শুরু হতো – কिस নিয়মে খেলবে?
-
আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনিশ্চয়তা: কখন কোন দেশের সাথে ম্যাচ হবে, সেটার কোনো নির্ধারিত কাঠামো ছিল না। দেশগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো ম্যাচ আয়োজন করত।
-
পেশাদার বনাম অপেশাদার বিতর্ক: ইংল্যান্ড ইতিমধ্যে পেশাদার ফুটবল চালু করেছিল। কিন্তু মহাদেশীয় ইউরোপের অনেক দেশ তখনও অপেশাদার ফুটবলে বিশ্বাসী। এই নিয়ে টানাপড়েন চলছিল।
-
বিবাদ মীমাংসার কেউ নেই: কোন দেশের দল আরেক দেশের মাঠে খেলতে গিয়ে যদি কোন বিতর্ক সৃষ্টি হতো, তাহলে সেটা মিটানোর কেউ ছিল না।
ফরাসি ফুটবলের অন্যতম পথিকৃৎ রবার্ট গেরিন (Robert Guérin) এই সমস্যাগুলো খুব ভালোভাবে বুঝতেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন – একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার, যেখানে সব দেশ মিলে ফুটবল পরিচালনা করবে। তারই প্রচেষ্টায় ডাকা হয় সেই ঐতিহাসিক সভা।
২. প্যারিস মিটিং – ২১ মে ১৯০৪
কোথায় হলো?
সভাটি হয়েছিল ফ্রান্সের প্যারিসের রু সেন্ট-অনোর (Rue Saint-Honoré) নামক রাস্তার ২২৯ নম্বর বাড়িতে। এটি ছিল ফরাসি ফুটবল সংস্থার কার্যালয়। সেই সময় ‘ফরাসি ফুটবল সংস্থা’র নাম ছিল Union des Sociétés Françaises de Sports Athlétiques (USFSA)।
একটি সাধারণ অফিস রুম। মাঝখানে একটি বড় টেবিল। চারপাশে চেয়ার। সেদিকেই বসেছিলেন ইউরোপের সাতটি দেশের প্রতিনিধিরা।
কারা উপস্থিত ছিলেন?
মোট সাতটি দেশের প্রতিনিধি সেদিন অংশ নিয়েছিলেন:
| দেশ | প্রতিনিধি (প্রধান ব্যক্তি) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ফ্রান্স | রবার্ট গেরিন | সভার আহ্বায়ক ও মূল সংগঠক |
| বেলজিয়াম | লুই মুলিংহাউসেন | বেলজিয়ান ফুটবলের অন্যতম কর্ণধার |
| ডেনমার্ক | লুডভিগ সিলো | কোপেনহেগেনের প্রতিনিধি |
| নেদারল্যান্ডস | কার্ল আন্তন ভিলেম হির্শমান | ডাচ ফুটবলের পথিকৃৎ |
| স্পেন | কার্লোস পাদ্রোস | স্পেন তখনো ফুটবলে খুব সক্রিয় ছিল না, কিন্তু প্রতিনিধি পাঠায় |
| সুইডেন | সিগফ্রিড এডস্ট্রোম | সুইডিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি |
| সুইজারল্যান্ড | আলবার্ট হর্নি | জেনেভা থেকে আগত |
ইংরেজি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (The FA)-কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ ইংল্যান্ড মনে করত – ফুটবল তাদের আবিষ্কার, তাই তাদেরই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। অন্য কোন সংস্থার মাথা নত করতে তারা রাজি ছিল না।
জার্মানিকেও আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তারাও আসেনি।
সভায় কী কী আলোচনা হলো?
সভাটি চলে প্রায় ঘণ্টা তিনেক। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
১. একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন গঠন – যার নাম হবে Fédération Internationale de Football Association (FIFA)।
২. শুধুমাত্র এই সংস্থার সদস্যরাই আন্তর্জাতিক ম্যাচ স্বীকৃতি পাবে – অর্থাৎ ফিফা অনুমোদন ছাড়া কোন ম্যাচ হবে না।
৩. খেলার নিয়ম হবে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তৈরি নিয়ম – বিতর্ক এড়াতে প্রস্তাব দেওয়া হয়, আপাতত ইংল্যান্ডের নিয়মেই খেলা হবে।
৪. শুধুমাত্র জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সদস্য হতে পারবে – ক্লাব বা ব্যক্তি নয়।
৫. প্রতি বছর ফিফার কংগ্রেস (সাধারণ সভা) বসবে।
৬. প্রথম ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন – নির্বাচিত হন রবার্ট গেরিন।
সভা শেষে সবাই স্বাক্ষর করেন। ফিফার যাত্রা শুরু হয়।
৩. ফিফার প্রথম প্রেসিডেন্ট – রবার্ট গেরিন (Robert Guérin)
রবার্ট গেরিন ফ্রান্সের একজন সাংবাদিক ও ফুটবল সংগঠক ছিলেন। তিনি ফরাসি ক্রীড়া পত্রিকা ‘ল’অটো’ (L’Auto) – যেটি পরবর্তীকালে বিখ্যাত ‘লেকিপ’ (L’Équipe) পত্রিকায় রূপ নেয় – সেখানে ফুটবল নিয়ে লিখতেন।
গেরিন শুধু সংগঠকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি বুঝেছিলেন যে ফুটবলকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হলে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা জরুরি। তার কল্পনা ছাড়া ফিফার জন্ম হতো না।
তিনি ফিফার প্রথম প্রেসিডেন্ট হন ১৯০৪ সালে। কিন্তু তার প্রেসিডেন্ট জীবন ছিল মাত্র ২ বছর (১৯০৪–১৯০৬)। ১৯০৬ সালে ইংল্যান্ড ফিফাতে যোগ দিলে, ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। ইংল্যান্ড চায় তারাই ফুটবল নিয়ন্ত্রণ করবে – ফলে গেরিনকে সরে দাঁড়াতে হয়।
তা সত্ত্বেও, ইতিহাস তাকে ফিফার প্রথম স্থপতি হিসেবেই স্মরণ করে।
৪. কেন ইংল্যান্ড প্রথমে ‘না’ বলেছিল?
ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস গর্বের। ১৮৬৩ সালে তারা গঠন করে বিশ্বের প্রথম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তারা তৈরি করে Laws of the Game – ফুটবলের লিখিত নিয়ম। তারা আবিষ্কার করে এফএ কাপ, লিগ সিস্টেম।
স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ড মনে করত – ফুটবল ইংরেজি সম্পত্তি। অন্য কেউ এসে তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটা তাদের কাছে অমর্যাদার মতো মনে হয়েছিল।
১৯০৪ সালে যখন রবার্ট গেরিন তাদের প্যারিস মিটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান, ইংলিশ এফএ কড়া ভাষায় জানিয়ে দেয় – “আমরা কোনো বিদেশি সংস্থার অধীনে যাব না। আমাদের নিয়মই বিশ্বের সেরা নিয়ম।”
কিন্তু ১৯০৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি বদলায়। ইংল্যান্ড বুঝতে পারে – ফিফা ছাড়া আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ইউরোপের অন্য দেশগুলো ফিফার অধীনে ম্যাচ আয়োজন করছে, আর ইংল্যান্ড বাইরে পড়ে আছে। ফলে তারা ১৯০৫ সালে ফিফার সদস্যপদ নেয়।
তবে ইংল্যান্ড ফিফা ছেড়েও দিয়েছিল একবার – ১৯২৮ সালে। কারণ ফিফা অপেশাদার খেলোয়াড়দের নিয়ে তাদের সঙ্গে মতবিরোধ করেছিল। ইংল্যান্ড ফিরে আসে ১৯৪৬ সালে।
মজার ব্যাপার হলো, ফিফা প্রতিষ্ঠার সময় যারা ‘না’ বলেছিল, তারাই এখন ফিফার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একটি।
৫. ফিফার প্রথম সংবিধান ও নিয়ম
সেদিন ২১ মে রাতেই একটি খসড়া সংবিধান তৈরি করা হয়। এটি ছিল ফিফার প্রথম Statutes (সংবিধান)। সেই সংবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল ছিল:
| আর্টিকেল নং | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| ১ | সংস্থার নাম হবে Fédération Internationale de Football Association (FIFA) |
| ২ | সদর দপ্তর হবে প্যারিসে (পরবর্তীতে জুরিখে সরানো হয়) |
| ৩ | শুধু জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সদস্য হতে পারবে |
| ৪ | সদস্যদের ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম মেনে চলতে হবে |
| ৫ | আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বীকৃতি দেবে ফিফা |
| ৬ | বছরে অন্তত একবার কংগ্রেস বসবে |
প্রথম সংবিধান লেখা হয় ফরাসি ভাষায়। আজও ফিফার অফিসিয়াল ভাষা ফরাসি, ইংরেজি, জার্মান, স্প্যানিশ – কিন্তু প্রথম ও প্রধান ভাষা ফরাসি।
এই সংবিধান একদম কাঁচা ছিল। পরবর্তী ১২০ বছরে ফিফার সংবিধান শতবার পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু মূল ভিত্তি তখনই তৈরি হয়েছিল – ফুটবল বিশ্বের একটি সংস্থার অধীনে থাকবে।
৬. শুরু থেকে আজ – ফিফার যাত্রার মাইলফলক
ফিফার যাত্রা সহজ ছিল না। প্রথম দিকে এর তেমন প্রভাব ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বড় হতে থাকে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক দেওয়া হলো:
| বছর | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯০৪ | ফিফা প্রতিষ্ঠিত, সদস্য ৭ |
| ১৯০৫ | ইংল্যান্ড ফিফাতে যোগ দেয় |
| ১৯০৮ | ফুটবল প্রথম অলিম্পিক গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয় (ফিফার সমর্থনে) |
| ১৯১২ | সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ২১ |
| ১৯৩০ | প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ উরুগুয়েতে |
| ১৯৫০ | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বকাপ আবার শুরু |
| ১৯৭৪ | জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জে প্রেসিডেন্ট হন, ফিফার বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু |
| ১৯৯১ | প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ চীনে |
| ১৯৯৮ | সেপ ব্লাটার প্রেসিডেন্ট হন, ফিফার আয় বেড়ে যায় |
| ২০১৫ | দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, ব্লাটার পদত্যাগ |
| ২০১৬ | জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো প্রেসিডেন্ট হন |
| ২০২২ | কাতারে বিশ্বকাপ, ফিফা আরও শক্তিশালী |
একসময় ইউরোপের ছোট একটি ক্লাবের মতো ছিল ফিফা। আজ এটি বহুজাতিক কর্পোরেশনের চেয়েও বড় ও শক্তিশালী।
৭. সেই প্যারিস অফিসের আজকের অবস্থা
যেখানে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল – প্যারিসের রু সেন্ট-অনোর ২২৯ নম্বর – সেই বিল্ডিংটি আজও আছে। তবে এটি এখন একটি সাধারণ দোকানঘর। সেখানে কোনো ফলক (plaque) নেই, নেই কোনো স্মারক। শুধু ফরাসি ফুটবল ইতিহাসবিদরাই জানেন – এইখানেই ইতিহাস গড়া হয়েছিল।
ফিফার সদর দপ্তর পরে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সরিয়ে নেওয়া হয়। জুরিখের হিটজিগ (Hitzig) ও ইম গুজ (Im Guus) এলাকায় ফিফার দারুণ আধুনিক ক্যাম্পাস। সেখানে আছে ফিফা মিউজিয়াম, বিশ্ব ফুটবলের সব অর্জন সংরক্ষিত আছে।
তবে ফিফার জন্মস্থান প্যারিস – এই সত্যটি ফুটবল ইতিহাসের একটি গর্বের বিষয়।
৮. ফিফা প্রতিষ্ঠা থেকে আজ যা শিখতে পারি
ফিফার জন্মগল্প আমাদের শিক্ষা দেয়:
-
ছোট শুরু বড় হওয়ার বাধা নয়: সাতটি দেশ দিয়ে শুরু। আজ ২১১ দেশ।
-
সঠিক সময়ে সঠিক উদ্যোগ: রবার্ট গেরিন সঠিক সময়েই এই উদ্যোগ নেন।
-
দৃষ্টিভঙ্গির শক্তি: একসাথে কাজ করলে বিশাল কিছু সম্ভব।
-
বিতর্ক আসবেই, তবু চলতে হয়: ফিফা দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুটবলের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে।
ফিফা শুধু একটি সংস্থা নয় – এটি ফুটবলপ্রেমীদের একতার প্রতীক।
উপসংহার (Conclusion)
২১ মে ১৯০৪। প্যারিসের একটি সাধারণ অফিস কক্ষ। সাতটি দেশের কয়েকজন মানুষ। কেউ জানতেন না, তারা ইতিহাস লিখছেন। ফিফার সেই শুরু – যেখানে শুধু স্বপ্ন আর ইচ্ছে ছিল – আজ তা দাঁড়িয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া সংস্থায়।
ফিফার এই জন্মগল্প শুধু তারিখ আর নামের তালিকা নয়। এটি একটি অনুপ্রেরণার গল্প। একটি ছোট বীজ থেকেই একদিন বটবৃক্ষ হয়।
আজ ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে গেলে, ফিফার লোগো দেখলে, মনে রাখবেন – এটি শুরু হয়েছিল একদিন, সাতজন মানুষ, একটি ছোট ঘরে। ফুটবলের জন্য তাদের ভালোবাসা আজ বিশ্বের বিলিয়ন মানুষের আবেগে রূপ নিয়েছে।
আরো পড়ুন
- পার্ট-টাইম ফ্রিল্যান্সিং করে Income বাড়ানোর উপায়
- গ্রাফিক ডিজাইনে মাসে ১ লাখ টাকা Income করার কৌশল
- সেলফ-পাবলিশড ই-বুক বিক্রি করে আয় Income
- TikTok ফটো এডিটিং টিপস সেরা স্টাইল
- TikTok এর গোপন কৌশল নতুন ভিডিও শেয়ারিং
- NID Correction Online vs Offline – Which One Should You Choose? (Complete 3000+ Word Comparison)
(FAQ)
১. ফিফা প্রতিষ্ঠার ঠিক কত বছর হলো ২০২৫ সালে?
২০২৫ সালে ফিফার ১২১ বছর পূর্ণ হবে। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯০৪ সালের ২১ মে।
২. ফিফার প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
ফ্রান্সের রবার্ট গেরিন ছিলেন ফিফার প্রথম প্রেসিডেন্ট (১৯০৪–১৯০৬)।
৩. ফিফা প্রতিষ্ঠার সময় কতটি দেশ সদস্য ছিল?
মাত্র ৭টি দেশ সদস্য ছিল: ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড।
৪. ইংল্যান্ড কেন প্রথমে ফিফাতে যোগ দেয়নি?
ইংল্যান্ড মনে করত ফুটবল তাদের সম্পত্তি এবং তারা অন্য কোনো সংস্থার অধীনে যেতে চায়নি। পরে ১৯০৫ সালে যোগ দেয়।
৫. ফিফার প্রথম সংবিধান কোন ভাষায় লেখা হয়েছিল?
ফরাসি ভাষায় লেখা হয়েছিল। এখনো ফিফার প্রথম ভাষা ফরাসি।
৬. ফিফা কেন প্যারিস থেকে জুরিখে সরানো হয়েছিল?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সুইজারল্যান্ড নিরপেক্ষ দেশ থাকায় এবং ফিফা পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক পরিবেশ বেশি উপযোগী হওয়ায় ১৯৩২ সালে সদর দপ্তর জুরিখে সরানো হয়।
৭. ১৯০৪ সালের সেই প্যারিসের অফিসটি আজ কী আছে?
অফিসটি আজ সাধারণ একটি দোকান। সেখানে কোনো স্মারক ফলক নেই। তবে ফুটবল ইতিহাসবিদরা জায়গাটি চিহ্নিত করেছেন।
📊তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২১ মে ১৯০৪ |
| স্থান | প্যারিস, ফ্রান্স (রু সেন্ট-অনোর ২২৯) |
| প্রতিষ্ঠাতা দেশ | ৭টি (ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড) |
| প্রথম প্রেসিডেন্ট | রবার্ট গেরিন (ফ্রান্স) |
| প্রথম সংবিধানের ভাষা | ফরাসি |
| বর্তমান সদর দপ্তর | জুরিখ, সুইজারল্যান্ড |
| বর্তমান সদস্য | ২১১ দেশ |