জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো: ফিফা প্রেসিডেন্টের জীবনী, ক্ষমতা, বেতন, বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (২০২৫ আপডেট)
ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো কে? কীভাবে তিনি সুইজারল্যান্ডের একজন সাধারণ আইনজীবী থেকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হয়ে উঠলেন? তার বেতন কত? কেন তিনি বিতর্কিত? ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সংস্থার সংস্কার – সব কিছু জানুন। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি কে? লিওনেল মেসি? কিলিয়ান এমবাপ্পে? নেই। আসল ক্ষমতা যার হাতে – তিনি হচ্ছেন জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো (Gianni Infantino)। ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রকের চেয়ারম্যান। তিনি সিদ্ধান্ত নেন বিশ্বকাপ কোথায় হবে, কবে হবে, কারা খেলবে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন ফুটবলের নিয়ম কেমন হবে।
কিন্তু এই মানুষটি কে? কীভাবে একজন সুইজারল্যান্ডের আইনজীবী হয়ে গেলেন ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি? তার বেতন কত? কেন তিনি বিতর্কিত? ফিফাকে দুর্নীতি থেকে বাঁচাতে তিনি কী করছেন?
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো ইনফ্যান্টিনোর জীবনী, কর্মজীবন, অর্জন, বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
চলুন, শুরু করা যাক।
১. জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো কে? – প্রাথমিক জীবন ও পরিচয়
১.১ ব্যক্তিগত তথ্য
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| পুরো নাম | জোভান্নি ভিঞ্চেনৎসো ইনফ্যান্টিনো (Giovanni Vincenzo Infantino) |
| জন্ম | ২৩ মার্চ ১৯৭০, ব্রিগ, সুইজারল্যান্ড |
| বয়স | ৫৫ বছর (২০২৫ সাল পর্যন্ত) |
| জাতীয়তা | সুইজারল্যান্ডীয় (পাশাপাশি ইতালীয় বংশোদ্ভূত – তার বাবা-মা ইতালির ক্যালাব্রিয়া থেকে সুইজারল্যান্ডে অভিবাসী হয়েছিলেন) |
| শিক্ষা | ফ্রিবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে মাস্টার্স |
| পেশা | আইনজীবী, ফুটবল প্রশাসক |
| বর্তমান অবস্থান | ফিফার ৯ম প্রেসিডেন্ট (২০১৬ সাল থেকে) |
| পূর্ববর্তী অবস্থান | উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি (২০০৯-২০১৬) |
১.২ ছেলেবেলা ও শিক্ষা
জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো জন্মগ্রহণ করেন সুইজারল্যান্ডের ব্রিগ শহরে। তার বাবা-মা ছিলেন ইতালীয় অভিবাসী – তারা দক্ষিণ ইতালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চল থেকে কাজের সন্ধানে সুইজারল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই ইনফ্যান্টিনো ফুটবল পাগল ছিলেন। তিনি স্থানীয় ক্লাব ব্রিগের হয়ে খেলেছেন (তবে পেশাদার স্তরে নয়, বরং অপেশাদার স্তরে)। তিনি বলেন – “আমি ফুটবল ভালোবাসি না, আমি ফুটবল নিয়ে বাঁচি।”
তিনি ফ্রিবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আইন পাস করার পর তিনি ফুটবল প্রশাসনে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২. ফুটবল প্রশাসনে উত্থান
২.১ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্পোর্টস স্টাডিজ (CIES)
১৯৯৬ সালে তিনি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্পোর্টস স্টাডিজে (CIES) কাজ শুরু করেন। এটি ছিল ফুটবল ও খেলাধুলার আইন নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র। সেখানে তিনি ৪ বছর কাজ করেন।
২.২ উয়েফায় যোগদান (২০০০)
২০০০ সালে তিনি উয়েফায় (UEFA – ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা) যোগ দেন। প্রথমে তিনি বিভিন্ন আইনি ও নিয়ন্ত্রক বিভাগে কাজ করেন।
২.৩ উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি (২০০৯-২০১৬)
২০০৯ সালে তিনি উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি নিযুক্ত হন – এটি উয়েফার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। প্রেসিডেন্ট মিশেল প্লাতিনির অধীনে তিনি কাজ করেন। এই সময়ে তিনি:
-
ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (FFP) নিয়ম চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন
-
ইউরো ২০১২, ২০১৬ আয়োজনে কাজ করেন
-
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখেন
২০১৫ সালের ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারির পর ফিফার প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার পদত্যাগ করেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রয়োজন হয়। ইনফ্যান্টিনো তখন সিদ্ধান্ত নেন – তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
৩. ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০১৬
৩.১ প্রার্থীরা
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিফার বিশেষ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীরা ছিলেন:
-
জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো (সুইজারল্যান্ড) – উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি
-
শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা (বাহরাইন) – এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি
-
প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইন (জর্ডান) – ফিফা ভাইস প্রেসিডেন্ট
-
জেরোম শাম্পাইন (ফ্রান্স) – ফিফার সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি
৩.২ নির্বাচনের ফলাফল
প্রথম রাউন্ডে কোনো প্রার্থী ২/৩ ভোট পাননি। দ্বিতীয় রাউন্ডে ইনফ্যান্টিনো ১১৫ ভোট পান – শেখ সালমান পান ৮৮ ভোট, প্রিন্স আলী পান ৪ ভোট, শাম্পাইন ২ ভোট বাদ পড়েছিলেন। ইনফ্যান্টিনো ফিফার ৯ম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তিনি বলেছিলেন – “আমি ফিফাকে নতুন করে গড়তে এসেছি। ফুটবলকে ফিরিয়ে আনতে চাই।”
৩.৩ দ্বিতীয় মেয়াদ (২০১৯) ও তৃতীয় মেয়াদ (২০২৩)
২০১৯ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন (২০২৩ পর্যন্ত)। ২০২৩ সালের মার্চে রুয়ান্ডার কিগালিতে ফিফা কংগ্রেসে তিনি তৃতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন (২০২৭ পর্যন্ত)। ফিফার সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১২ বছর (৩ মেয়াদ) থাকতে পারেন। ইনফ্যান্টিনো ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকবেন।
৪. ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রধান উদ্যোগ ও সাফল্য
ইনফ্যান্টিনো দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন:
৪.১ বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ (৪৮ দল)
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন – ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ৪৮ দল অংশ নেবে (পূর্বে ৩২ দল)।
-
কারণ: আরও দেশকে বিশ্বকাপের স্বাদ দেওয়া, আরও আয়
-
সমালোচনা: টুর্নামেন্টের মান কমে যাবে বলে অনেকে মনে করেন
-
ফরম্যাট: ১২টি গ্রুপ (৪ দল নয় – ৩ দল করে, তারপর নকআউট)
৪.২ ক্লাব বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ (৩২ দল)
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে (যুক্তরাষ্ট্রে)।
-
বর্তমানে ক্লাব বিশ্বকাপে ৭ দল ছিল (প্রত্যেক মহাদেশের চ্যাম্পিয়ন)
-
নতুন ফরম্যাটে ৩২ দল – ইউরোপ থেকে ১২ দল, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ৬ দল, এশিয়া/আফ্রিকা/কনকাকাফ/ওশেনিয়া থেকে বাকি ১৪ দল
-
সমালোচনা: খেলোয়াড়দের ওপর চাপ বাড়ছে (ইতিমধ্যে বেশি ম্যাচ খেলে)
৪.৩ ফাইন্যান্সিয়াল রিফর্ম ও স্বচ্ছতা
ফিফা দুর্নীতির কেলেঙ্কারির পর ইনফ্যান্টিনো স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দেন:
-
ফিফার আর্থিক প্রতিবেদন এখন পাবলিক
-
প্রেসিডেন্টের বেতন প্রকাশ করা হয় (নিচে দেখুন)
-
স্বাধীন নৈতিকতা কমিটি গঠন
৪.৪ নারী ফুটবলের উন্নয়ন
ইনফ্যান্টিনো মহিলা বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বাড়িয়েছেন:
-
২০১৯ মহিলা বিশ্বকাপ: $৩০ মিলিয়ন
-
২০২৩ মহিলা বিশ্বকাপ: $১১০ মিলিয়ন (পুরুষ বিশ্বকাপের প্রাইজমানির সাথে সমতা না আনলেও বাড়ানো হয়েছে)
-
পরিকল্পনা: ২০২৭ সালের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা বিশ্বকাপের প্রাইজমানি সমান করার
৪.৫ প্রযুক্তির উন্নয়ন
-
VAR (Video Assistant Referee) আরও উন্নত করা (সেমি-অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি)
-
গোললাইন টেকনোলজি বাধ্যতামূলক করা
-
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা (ফিফা+)
৪.৬ ফিফার আয় বাড়ানো
ইনফ্যান্টিনোর নেতৃত্বে ফিফার আয় ব্যাপক বেড়েছে:
-
২০১৪ চক্রে আয়: $৫.৭ বিলিয়ন
-
২০১৮ চক্রে আয়: $৬.৪ বিলিয়ন
-
২০২২ চক্রে আয়: $৭.৫ বিলিয়ন (প্রত্যাশিত)
-
২০২৬ চক্রে আয়: $১১ বিলিয়ন (৪৮ দলের বিশ্বকাপের কারণে)
৫. জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনোর বেতন ও সম্পদ
ইনফ্যান্টিনোর বেতন নিয়ে অনেক জল্পনা আছে। ফিফা তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্টের বেতন প্রকাশ করে।
৫.১ বার্ষিক বেতন
| বছর | বেতন (আনুমানিক) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২০১৬ | $১.২ মিলিয়ন | দায়িত্ব নেওয়ার বছর |
| ২০১৮ | $২.১ মিলিয়ন | বোনাসসহ |
| ২০২২ | $২.৬ মিলিয়ন | ফিফার আয় বাড়ায় বেতনও বেড়েছে |
| ২০২৪ | প্রায় $৩ মিলিয়ন | বোনাস ও সুবিধা সহ |
(সঠিক পরিসংখ্যান ফিফা প্রকাশ করে না – বিভিন্ন সূত্র থেকে সংকলিত)
৫.২ মোট সম্পদ (নেট ওয়ার্থ)
ইনফ্যান্টিনোর মোট সম্পদ অনুমিত $১০-১৫ মিলিয়ন। এটি ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার বেতন, পূর্ববর্তী চাকরি ও বিনিয়োগ থেকে এসেছে।
তবে তার পূর্বসূরি সেপ ব্লাটারের মতো তিনি অভিযোগের মুখে পড়েননি (ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বড় কোনো বিতর্ক নেই)।
৬. বিতর্ক ও সমালোচনা
ইনফ্যান্টিনো অনেক বিতর্কেরও সম্মুখীন হয়েছেন।
৬.১ কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্ক
২০২২ বিশ্বকাপ কাতারে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার আগের ফিফা কমিটির (ব্লাটারের সময়) করা হলেও তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে:
-
নির্মাণশ্রমিকদের মৃত্যু (কয়েক হাজার – বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য)
-
মানবাধিকার লঙ্ঘন (এলজিবিটিকিউ অধিকার, নারী অধিকার)
-
গ্রীষ্মের গরম থেকে টুর্নামেন্ট শীতকালে সরানো
ইনফ্যান্টিনোর প্রতিক্রিয়া: তিনি বলেছেন – “বিশ্বকাপ সবাইকে একত্রিত করে। কাতারে পরিবর্তন এসেছে। আমরা গর্বিত।” এই বক্তব্যে তীব্র সমালোচিত হন।
৬.২ সুইজারল্যান্ডের প্রসিকিউটরের সাথে সাক্ষাৎ (ক্রিমিনাল কেস)
২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডের প্রসিকিউটর মাইকেল লাউবারের সাথে ইনফ্যান্টিনোর গোপন সাক্ষাৎ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ছিল – তিনি প্রসিকিউটরকে ফিফার দুর্নীতি তদন্তে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন। ইনফ্যান্টিনো দাবি করেন – এটি ছিল বৈঠক (অনিয়মিত হলেও প্রমাণিত নয়)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আনা হয়নি (২০২৫ সাল পর্যন্ত)।
৬.৩ সৌদি আরব ও অ্যারামকো স্পনসরশিপ
ফিফা সৌদি আরবের তেল কোম্পানি অ্যারামকোর সাথে বিশাল স্পনসরশিপ চুক্তি করেছে। সমালোচকরা বলেন – ফিফা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশের সাথে ব্যবসা করছে। ইনফ্যান্টিনো বলেন – “এটি ফুটবলের জন্য ভালো, কারণ তহবিল বাড়ে।”
৬.৪ বিশ্বকাপ প্রতি দুই বছর আয়োজনের প্রস্তাব (২০২১)
ইনফ্যান্টিনো ২০২১ সালে প্রস্তাব দেন – বিশ্বকাপ প্রতি দুই বছর অন্তর করবেন? উয়েফা ও দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশন তীব্র বিরোধিতা করে। ফ্যানরাও বিরোধী ছিলেন। প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়।
৬.৫ অতিরিক্ত বেতন ও বোনাস বিতর্ক
ফিফার কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন – ইনফ্যান্টিনো নিজের বেতন অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়েছেন। ফিফা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
৭. ইনফ্যান্টিনোর কিছু উল্লেখযোগ্য বক্তব্য
-
“ফুটবল সকলের জন্য। ফিফা সব দেশের জন্য কাজ করে।” (২০১৬, নির্বাচিত হওয়ার পর)
-
“কাতার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ হবে। যারা সমালোচনা করে, তারা কাতারের উন্নয়ন দেখে না।” (২০২২, বিশ্বকাপ শুরুর আগে)
-
“আমি ফিফাকে স্বচ্ছ ও ন্যায্য করতে এসেছি। দুর্নীতির যুগ শেষ।” (২০১৬)
-
“মহিলা ফুটবলকে আমরা সমান করব। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রাইজমানি সমান হবে।” (২০২৩)
-
“যারা ফুটবলকে রাজনীতির হাতিয়ার করে, তারা থামুক। ফুটবল খেলা থাকুক, বিনোদন থাকুক।” (২০২২, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে)
৮. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা – ইনফ্যান্টিনোর এজেন্ডা (২০২৫-২০২৭)
ইনফ্যান্টিনোর তৃতীয় মেয়াদ ২০২৭ পর্যন্ত। এই সময়ে তার পরিকল্পনা:
৮.১ ২০২৬ বিশ্বকাপ সফল করা
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো যৌথ আয়োজক। ৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপ। ফিফার কাছে বিশাল চ্যালেঞ্জ – লজিস্টিক, নিরাপত্তা, ভ্রমণ ব্যবস্থা।
৮.২ ২০২৭ মহিলা বিশ্বকাপ প্রস্তুতি
আয়োজক এখনো নির্ধারিত হয়নি (ব্রাজিল আগ্রহী, জার্মানি-নেদারল্যান্ডস-বেলজিয়াম যৌথ আয়োজক হতে পারে)। প্রাইজমানি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।
৮.৩ নতুন ক্লাব বিশ্বকাপ (২০২৫)
২০২৫ সালের জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। এটি সফল হলে আরও নিয়মিত করতে চান ইনফ্যান্টিনো।
৮.৪ ফিফার ডিজিটাল সম্প্রসারণ
-
ফিফা+ (স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম) আরও বড় করা
-
ফুটবল গেম (ভিডিও গেম) – ইএ স্পোর্টস এফসি থেকে আলাদা ফিফা গেম আনার পরিকল্পনা
৮.৫ ফুটবলের বিশ্বায়ন
আফ্রিকা ও এশিয়ায় ফুটবল উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো। ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দলের মধ্যে ৯টি হবে আফ্রিকা থেকে (পূর্বে ৫টি), ৮টি এশিয়া থেকে (পূর্বে ৪.৫টি) – এটি তার কূটনৈতিক সাফল্য।
৯. ইনফ্যান্টিনো বনাম ব্লাটার – তুলনা
| বিষয় | সেপ ব্লাটার (১৯৯৮-২০১৫) | জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো (২০১৬-বর্তমান) |
|---|---|---|
| পটভূমি | সুইজারল্যান্ডীয়, ফিফার অভ্যন্তরীণ | সুইজারল্যান্ডীয়, উয়েফার অভ্যন্তরীণ |
| দায়িত্ব নেওয়ার সময় ফিফার অবস্থা | আর্থিকভাবে মজবুত, দুর্নীতির অভিযোগ কম | সম্পূর্ণ দুর্নীতির মধ্যে নিমজ্জিত (২০১৫) |
| বড় সিদ্ধান্ত | বিশ্বকাপ রাশিয়া ও কাতারে দেন | বিশ্বকাপ ৪৮ দলে নিয়ে যান, ক্লাব বিশ্বকাপ বড় করেন |
| দুর্নীতি | অভিযুক্ত ও নিষিদ্ধ | তদন্ত হয়েছে কিন্তু প্রমাণিত হয়নি |
| জনপ্রিয়তা | কিছু দেশে জনপ্রিয়, ইউরোপে কম | উন্নয়নশীল দেশে জনপ্রিয়, ইউরোপে সমালোচিত |
| বেতন (শেষ পর্যায়ে) | প্রায় $৩ মিলিয়ন | প্রায় $২.৬ মিলিয়ন (সুবিধা বাদে) |
উপসংহার (Conclusion)
জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো একজন সফল ফুটবল প্রশাসক। তিনি ফিফাকে ২০১৫ সালের দুর্নীতির অন্ধকার থেকে তুলে এনেছেন। ফিফার আয় বাড়িয়েছেন, বিশ্বকাপকে আরও বড় করেছেন, নারী ফুটবল ও উন্নয়নশীল দেশের ফুটবলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।
কিন্তু তিনি বিতর্কের উর্ধ্বে নন। কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন থেকে শুরু করে সুইজারল্যান্ডের প্রসিকিউটরের সাথে গোপনে সাক্ষাৎ, নিজের বেতন বৃদ্ধি – সব মিলিয়ে তিনি সমালোচিত।
তবুও ফুটবলের ইতিহাসে তিনি এখন অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি। আগামী ৫-১০ বছর ফুটবল যেভাবে পরিবর্তিত হবে – তাতে তার হাত থাকবে।
ইনফ্যান্টিনো মনে করেন – “আমি ফুটবলকে বাঁচাতে এসেছি।” ভবিষ্যৎ বলবে তিনি সফল হবেন কিনা।
আরো পড়ুন
- অনলাইন লোন সার্ভিস দিয়ে ইনকাম Incomeকরুন
- এফিলিয়েট Affiliate এবং ব্লগিং মার্কেটিং এর জন্যে কাজের ১০টি টুলস
- কিভাবে মাত্র ৫ মিনিটে logo লোগো তৈরি করবেন? ফ্রি লোগো ডিজাইন
- ফাইন্যান্স ও বিজনেস ব্লগ লিখে ইনকাম Income করুন
- স্ক্রিল Skrill– অর্থ লেনদেনের সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি
(FAQ)
১. জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো কবে ফিফা প্রেসিডেন্ট হন?
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে তিনি ফিফার ৯ম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
২. ইনফ্যান্টিনোর বেতন কত?
বার্ষিক প্রায় $২.৬ মিলিয়ন (২০২২ সালের তথ্য)। বোনাস ও সুবিধা আলাদা।
৩. তিনি কি ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন?
না, তিনি অপেশাদার স্তরে সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় ক্লাব ব্রিগের হয়ে খেলেছেন – পেশাদার নন।
৪. তিনি কয়টি ভাষা বলেন?
তিনি ৬টি ভাষায় কথা বলতে পারেন: ইতালীয়, ফরাসি, জার্মান, ইংরেজি, স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ।
৫. ইনফ্যান্টিনোর সবচেয়ে বড় সমালোচনা কী?
কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি নীরব ছিলেন (কিংবা কাতারের পক্ষে সওয়াল করেছেন) – এটি সবচেয়ে বড় সমালোচনা।
৬. তিনি কত মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকবেন?
সর্বোচ্চ ১২ বছর (৩ মেয়াদ × ৪ বছর)। তিনি ২০১৬-২০২৩ পর্যন্ত ২ মেয়াদ শেষ করেছেন, তৃতীয় মেয়াদ ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।
৭. ফিফা কি এখন দুর্নীতিমুক্ত?
বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন – ফিফা আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছ, তবে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত বলা যাবে না। উন্নতির জায়গা আছে।
তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পুরো নাম | জোভান্নি ভিঞ্চেনৎসো ইনফ্যান্টিনো |
| জন্ম তারিখ | ২৩ মার্চ ১৯৭০ |
| জন্মস্থান | ব্রিগ, সুইজারল্যান্ড |
| শিক্ষা | আইনে মাস্টার্স, ফ্রিবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | আইনজীবী, ফুটবল প্রশাসক |
| ফিফা প্রেসিডেন্ট পদপ্রাপ্তি | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ |
| মেয়াদ | ২০১৬-২০২৩ (দুই মেয়াদ), ২০২৩-২০২৭ (তৃতীয় মেয়াদ) |
| পূর্ববর্তী পদ | উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি (২০০৯-২০১৬) |
| বার্ষিক বেতন | প্রায় $২.৬ মিলিয়ন |
| মোট সম্পদ | প্রায় $১০-১৫ মিলিয়ন |
| ভাষা দক্ষতা | ৬টি ভাষা |
| বড় সিদ্ধান্ত | বিশ্বকাপ ৪৮ দল, ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপ |