FIFA বিশ্বকাপ থেকে কত আয় করে? ৮.৯বিলিয়নথেকে১৩ বিলিয়ন – সম্পূর্ণ আয় ও ব্যয় বিশ্লেষণ (২০২৬ আপডেট)
FIFA বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট নয় – এটি একটি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা আয় করছে প্রায় ১৩বিলিয়ন!টিভিস্বত্ব৩.৯ বিলিয়ন, স্পনসরশিপ ১.৮বিলিয়ন,টিকেটওহসপিটালিটি৩ বিলিয়নের বেশি – কীভাবে এই বিশাল অঙ্কের টাকা আসে? প্রাইজমানি ৮৭১মিলিয়নথেকেক্লাববেনিফিট৩৫৫ মিলিয়ন – টাকা কোথায় যায়? জানুন ফুটবলের এই দৈত্যের আয়-ব্যয়ের সম্পূর্ণ হিসাব।
ভূমিকা (Introduction)
বিশ্বকাপ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট। সুপার বোল নয়, অলিম্পিক নয় – বিশ্বকাপ। ২০২৬ সালে এই টুর্নামেন্ট আরও বড় হয়েছে। ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ, ৩৯ দিন, ৩টি দেশ – যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আর এই বিশাল আয়োজনের পেছনে আছে একটি বিশাল অর্থনৈতিক মেশিন – FIFA।
ফিফা শুধু ফুটবল পরিচালনা করে না – এটি একটি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা চালায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ চক্রে (২০২৩-২০২৬) ফিফা মোট আয় করবে প্রায় ১৩বিলিয়ন∗∗[citation:9]।এরমধ্যেশুধুবিশ্বকাপথেকেইআসবেপ্রায়∗∗৮.৯ বিলিয়ন ।
কিন্তু এই বিশাল অঙ্কের টাকা আসে কোথা থেকে? টিভি স্বত্ব? স্পনসরশিপ? টিকেট বিক্রি? আর এই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় যায়? প্রাইজমানি? ক্লাব বেনিফিট? নাকি ফিফার নিজস্ব খরচে?
এই আর্টিকেলে আমরা ফিফার আয়ের প্রতিটি উৎস ও ব্যয়ের প্রতিটি খাত বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করব – ধাপে ধাপে, টাকার অঙ্ক সহ।
চলুন, শুরু করা যাক – ফুটবলের বিলিয়ন ডলার সাম্রাজ্যের গল্প।
১. ফিফা বিশ্বকাপের আয় – ২০২৬ সালের রেকর্ড ভাঙা হিসাব
১.১ এক নজরে ফিফার আয় (২০২৬ বিশ্বকাপ চক্র)
ফিফা ২০২৩-২০২৬ চক্রে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় $১৩ বিলিয়ন । এই চক্রের প্রধান ইভেন্ট হলো ২০২৬ বিশ্বকাপ। নিচে আয়ের উৎসভিত্তিক বণ্টন দেওয়া হলো:
| আয়ের উৎস | পরিমাণ (বিলিয়ন ডলার) | শতাংশ |
|---|---|---|
| টেলিভিশন স্বত্ব (Broadcasting Rights) | $৩.৯২৫ | ~৪৪% |
| টিকেট ও হসপিটালিটি | $৩.০১৭ | ~৩৪% |
| স্পনসরশিপ ও মার্কেটিং | $১.৭৮৬ | ~২০% |
| লাইসেন্সিং | $০.১১১ | ~১% |
| অন্যান্য | $০.০৭২ | ~১% |
| মোট (শুধু বিশ্বকাপ) | $৮.৯১১ | ১০০% |
| মোট (পুরো চক্র) | ~$১৩.০ | – |
১.২ ২০২২ বিশ্বকাপের সাথে তুলনা
২০২৬ বিশ্বকাপের আয় ২০২২ সালের তুলনায় ব্যাপক বেড়েছে। কারণ দল বেড়েছে (৩২ থেকে ৪৮), ম্যাচ বেড়েছে (৬৪ থেকে ১০৪), আর টিকেট ও হসপিটালিটির দাম বেড়েছে।
| সূচক | ২০২২ বিশ্বকাপ (কাতার) | ২০২৬ বিশ্বকাপ (যুক্তরাষ্ট্র/কানাডা/মেক্সিকো) | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| মোট আয় | $৫.৮ বিলিয়ন | $৮.৯ বিলিয়ন | +৫৪% |
| টিভি স্বত্ব | ~$২.৯ বিলিয়ন | $৩.৯২৫ বিলিয়ন | +৩৫% |
| স্পনসরশিপ | ~$০.৯ বিলিয়ন | $১.৭৮৬ বিলিয়ন | +৯৮% |
| টিকেট ও হসপিটালিটি | ~$০.৯ বিলিয়ন | $৩.০১৭ বিলিয়ন | +২৩৫% |
আকর্ষণীয় তথ্য: ফিফা ২০২২ বিশ্বকাপে তাদের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা $১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছিল । ২০২৬ সালে সেই রেকর্ড আবার ভাঙার সম্ভাবনা আছে।
১.৩ কেন আয় এত বাড়ছে?
| কারণ | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট সম্প্রসারণ | ৩২ থেকে ৪৮ দল – ম্যাচ সংখ্যা বেড়েছে ৬৪ থেকে ১০৪ |
| টিকেটের দাম বৃদ্ধি | সবচেয়ে সস্তা গ্রুপ পর্বের টিকেট প্রায় $৭০০ থেকে শুরু |
| সেকেন্ডারি টিকেট মার্কেট | ফিফা অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের ১৫% ফি নেয় (ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই) |
| ভিআইপি হসপিটালিটি | কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের জন্য প্রিমিয়াম প্যাকেজের দাম রেকর্ড উচ্চতায় |
| স্পনসরশিপ বেড়েছে | অ্যারামকো, বেটানো সহ নতুন স্পনসর যুক্ত হয়েছে |
২. টেলিভিশন স্বত্ব – আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস
টেলিভিশন স্বত্ব ফিফার আয়ের সবচেয়ে বড় একক উৎস – প্রায় $৩.৯২৫ বিলিয়ন , যা মোট আয়ের প্রায় ৪৪%।
২.১ টিভি স্বত্বের বর্তমান চিত্র
২০২৬ বিশ্বকাপের টিভি স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে:
| সূচক | ২০২২ বিশ্বকাপ | ২০২৬ বিশ্বকাপ | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| টিভি স্বত্ব আয় | ~$২.৯ বিলিয়ন | $৩.৯২৫ বিলিয়ন | +৩৫% |
| ব্রডকাস্ট ডিলের সংখ্যা | ৪৯৫টি | ৪৪৩টি | -১১% |
| প্রতি ম্যাচ স্বত্বের মূল্য | ভিত্তি বছর | -১৯% | কমেছে |
কেন ব্রডকাস্ট ডিল কমেছে?
২০২৬ বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার সময় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বড় বাজারের দর্শকদের জন্য ম্যাচগুলো মাঝরাতে বা খুব ভোরে শুরু হচ্ছে। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ৯০% ম্যাচ রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে । এশিয়ায় ব্রডকাস্ট ডিলের সংখ্যা ২১% কমেছে ।
তবে ফিফা মোট আয় বাড়িয়েছে কারণ তারা কম সংখ্যক চুক্তি কিন্তু প্রতিটি চুক্তির মূল্য অনেক বেশি করে নিয়েছে ।
২.২ প্রধান সম্প্রচারকারী সংস্থা
| অঞ্চল | সম্প্রচারকারী | মন্তব্য |
|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | Fox (ইংরেজি), Telemundo (স্প্যানিশ) | – |
| ভারত ও উপমহাদেশ | Zee Entertainment | $৩০-৩৫ মিলিয়নে ৮ বছরের স্বত্ব কিনেছে |
| বিশ্বব্যাপী | বিভিন্ন আঞ্চলিক সম্প্রচারকারী | ৪৪৩টি ডিল |
২.৩ জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ
Caretta Research-এর বিশ্লেষক Evangelos Vrysellas বলেন:
*“Even though FIFA is set for record-breaking total revenue in 2026, the international broadcast landscape is becoming increasingly difficult. Media rights now represent a smaller portion of the overall revenue pie, with the value of each individual match dropping by 19%. The combination of middle-of-the-night kick-offs for major global markets and rising production expenses has discouraged many potential bidders.”*
অর্থাৎ ফিফার মোট আয় বাড়লেও সম্প্রচার বাজার দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সময় অঞ্চলের সমস্যা ও বেড়ে যাওয়া প্রযোজনা খরচের কারণে অনেক ক্রেতা সরে যাচ্ছে।
৩. স্পনসরশিপ – দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়ের উৎস
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পনসরশিপ থেকে ফিফার আয় হবে প্রায় $১.৭৮৬ বিলিয়ন – যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ।
৩.১ ফিফার স্পনসরশিপের স্তরবিন্যাস
| স্তর | নাম | সংখ্যা | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| টায়ার ১ | FIFA পার্টনারস | ৭টি | অ্যাডিডাস, কোকা-কোলা, ভিসা, অ্যারামকো, লেনোভো, হুন্ডাই, কাতার এয়ারওয়েজ |
| টায়ার ২ | বিশ্বকাপ স্পনসর | ৬টি | ব্যাংক অফ আমেরিকা, লে’স, ভারাইজন, ম্যাকডোনাল্ডস, মেংনিউ, ডাভ |
| টায়ার ৩ | টুর্নামেন্ট সাপোর্টার | অসংখ্য | Betano , PIF, DoorDash, Diageo, The Home Depot |
উল্লেখযোগ্য তথ্য: Betano ২০২২ ও ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্পনসর হিসেবে ফিরেছে। এটিই প্রথম স্পোর্টস বেটিং কোম্পানি যারা ফিফার সাথে টানা তৃতীয় বারের মতো চুক্তি করেছে ।
৩.২ স্পনসরশিপ আয়ের বৃদ্ধি
| স্পনসর | চুক্তির ধরন | আনুমানিক মূল্য |
|---|---|---|
| অ্যারামকো (সৌদি আরব) | FIFA পার্টনার | $৪০০+ মিলিয়ন (চক্রে) |
| ভিসা | FIFA পার্টনার | ~$২০০-২৫০ মিলিয়ন (চক্রে) |
| অ্যাডিডাস | FIFA পার্টনার | ~$২০০-২৫০ মিলিয়ন (চক্রে) |
স্পনসরশিপ আয় দ্বিগুণ হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সৌদি আরবের তেল কোম্পানি অ্যারামকোর চুক্তি ।
৪. টিকেট ও হসপিটালিটি – সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত
টিকেট ও হসপিটালিটি ফিফার আয়ের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই খাত থেকে আয় হবে প্রায় $৩.০১৭ বিলিয়ন – যা ২০২২ সালের তুলনায় ২৩৫% বেশি।
৪.১ টিকেটের মূল্য
২০২৬ বিশ্বকাপের টিকেটের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে :
| ম্যাচের ধরন | সর্বনিম্ন মূল্য | সর্বোচ্চ মূল্য |
|---|---|---|
| গ্রুপ পর্ব (সাধারণ আসন) | ~$৭০০ | $১,৫০০ পর্যন্ত |
| ফাইনাল (ক্যাটাগরি ১) | – | $১০,০০০+ |
৪.২ সেকেন্ডারি টিকেট মার্কেট – ফিফার নতুন আয়ের ফাঁদ
২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা অফিসিয়াল টিকেট রিসেল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এটি ফিফার জন্য একটি অভিনব আয়ের উৎস:
-
ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই ১৫% করে ফি নেয় ফিফা
-
মানে, ১,০০০মূল্যেরটিকেটপুনর্বিক্রয়হলেফিফাপায়৩০০
-
১০৪ ম্যাচের টিকেটের বিশাল পরিমাণের জন্য এটি বিশাল আয়ের খাত
৪.৩ হোটেল মূল্য বৃদ্ধি
টিকেটের দামের সাথে সাথে আয়োজক শহরগুলোতে হোটেলের মূল্যও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে:
| সূচক | আগে | বিশ্বকাপের সময় | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| প্রতি রাতের গড় হোটেল ভাড়া | $২২৭ | $৪৮০ | +১১২% |
নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অধ্যাপক রিচার্ড শিহানের অনুমান অনুযায়ী, ফিফা শুধু টিকেট ও ভিআইপি আসন থেকেই $৭ বিলিয়নের বেশি আয় করতে পারে ।
৫. ফিফার ব্যয় ও প্রাইজমানি বণ্টন
আয় যেমন বিশাল, ব্যয়ও ততটাই বিশাল। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা মোট ব্যয় করছে প্রায় $৮৭১ মিলিয়ন শুধু অংশগ্রহণকারী দল ও ক্লাবগুলোর জন্য ।
৫.১ পারফরম্যান্স ভিত্তিক প্রাইজমানি ($৬৫৫ মিলিয়ন)
| অর্জন | প্রাইজমানি (মিলিয়ন ডলার) |
|---|---|
| গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ (১৬ দল) | $৯ (প্রতি দল) |
| রাউন্ড অফ ৩২ থেকে বাদ (১৬ দল) | $১১ (প্রতি দল) |
| রাউন্ড অফ ১৬ থেকে বাদ (৮ দল) | $১৫ (প্রতি দল) |
| কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ (৪ দল) | $১৯ (প্রতি দল) |
| চতুর্থ স্থান | $২৭ |
| তৃতীয় স্থান | $২৯ |
| রানার-আপ | $৩৩ |
| চ্যাম্পিয়ন | $৫০ |
৫.২ প্রস্তুতি ও কোয়ালিফিকেশন অনুদান (প্রতি দল)
| অনুদানের ধরন | পরিমাণ (মিলিয়ন ডলার) |
|---|---|
| কোয়ালিফিকেশন অনুদান | $১০ |
| প্রস্তুতি অনুদান | $২.৫ |
| ন্যূনতম নিশ্চিত অর্থ (প্রতি দল) | $১২.৫ |
মজার ব্যাপার হলো – এই ১২.৫মিলিয়নপ্রাইজমানির∗∗উপরে∗∗যোগহয়না।বরংদলযতদূরএগোয়,প্রাইজমানিরমধ্যেএইঅর্থঅন্তর্ভুক্তথাকে[citation:6]।যেমন:গ্রুপপর্বথেকেবাদপড়াদলপায়৯ মিলিয়ন প্রাইজমানি + ২.৫মিলিয়নপ্রস্তুতিঅনুদান+১০ মিলিয়ন কোয়ালিফিকেশন অনুদানের অংশ – মোট $১২.৫ মিলিয়ন নিশ্চিত।
৫.৩ ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম ($৩৫৫ মিলিয়ন)
ফিফা ক্লাবগুলোকেও ক্ষতিপূরণ দেয় – কারণ খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ক্লাব থেকে সময় নেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রামের বাজেট $৩৫৫ মিলিয়ন – যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭০% বেশি ।
| খাত | বরাদ্দ (মিলিয়ন ডলার) |
|---|---|
| বিশ্বকাপ ফাইনাল টুর্নামেন্ট | $২৫০ |
| বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব | $১০০ |
| প্রশাসনিক ও অন্যান্য | $৫ |
প্রতি খেলোয়াড়ের জন্য ক্লাব পাবে:
-
ফাইনাল টুর্নামেন্টের জন্য প্রতিদিন $৫,০০০ (ন্যূনতম)
-
বাছাই পর্বের ম্যাচে ডাকলে প্রতি ম্যাচে $২,৩৬২
আনুমানিক মোট আয় (ক্লাবভেদে):
-
গ্রুপ পর্বে বাদ পড়া দলের একজন খেলোয়াড়ের জন্য ক্লাব পাবে ~$১৬০,০০০
-
ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া দলের একজন খেলোয়াড়ের জন্য ক্লাব পাবে ~$২৮৫,০০০
২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় পাঠানো ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
ম্যানচেস্টার সিটি – ১৯ জন
-
বায়ার্ন মিউনিখ – ১৮ জন
-
আর্সেনাল – ১৬ জন
-
প্যারি সাঁ জার্মেই – ১৬ জন
৬. অর্থনৈতিক প্রভাব – শুধু ফিফা নয়, পুরো অর্থনীতি বদলে যায়
২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু ফিফার আয় বাড়ায় না – এটি আয়োজক দেশ ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বিশাল প্রভাব ফেলে।
৬.১ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব
| সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| মোট অর্থনৈতিক আউটপুট | $৮০.১ বিলিয়ন |
| জিডিপিতে প্রত্যক্ষ অবদান | $৪০.৯ বিলিয়ন |
| পর্যটক আগমন | ৬.৫ মিলিয়ন |
| পর্যটক ব্যয় | ১৪বিলিয়ন(গড়েপ্রতিদিন৪১৬ করে ১২ দিন) |
| চাকরি সৃষ্টি | ৮২৪,০০০ ফুল-টাইম চাকরি (বৈশ্বিক) |
| যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি | ১৮৫,০০০ |
| অতিরিক্ত কর রাজস্ব | $৯.৪ বিলিয়ন |
৬.২ সমালোচনা – আসলেই কি এত প্রভাব পড়বে?
অর্থনীতিবিদরা এই বড় অঙ্কের হিসাব নিয়ে সন্দিহান। College of the Holy Cross-এর স্পোর্টস ইকোনমিক্স অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন বলেন:
“The economic impact for the US ‘is likely to be a fraction of what is being advertised,’ citing accumulating hosting costs and thousands of unsold tickets in the weeks before kick-off.”
অর্থাৎ প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব বিজ্ঞাপিত অঙ্কের একটি ভগ্নাংশ হতে পারে। আয়োজনের খরচ বেড়ে যাওয়া ও সময়মতো টিকেট না বিক্রি হওয়ার কারণে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৭. ফিফা কীভাবে টাকা ব্যবহার করে?
ফিফার আয় শুধু প্রাইজমানি ও ক্লাব বেনিফিটে যায় না। বড় অংশ যায় ফিফার নিজস্ব পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পে।
৭.১ ফিফার রিজার্ভ ফান্ড
-
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর ফিফার রিজার্ভ ছিল: $৩.৯ বিলিয়ন
-
২০২৫ সালের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে: $২.৭ বিলিয়ন
-
কারণ: উন্নয়ন প্রকল্প ও খরচ বেড়েছে
-
লক্ষ্য: প্রতি চক্রে প্রায় $১০০ মিলিয়ন উদ্বৃত্ত রাখা
৭.২ টাকার ব্যবহার
ফিফার অর্জিত টাকা মূলত পাঁচটি খাতে খরচ হয়:
| খাত | বর্ণনা |
|---|---|
| প্রাইজমানি ও দলীয় সহায়তা | $৮৭১ মিলিয়ন (২০২৬ বিশ্বকাপ) |
| ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম | $৩৫৫ মিলিয়ন |
| ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম | $৫ বিলিয়ন (৪ বছরে) – ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে |
| FIFA ফাউন্ডেশন | সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প |
| প্রশাসনিক খরচ | ফিফার নিজস্ব পরিচালনা ব্যয় |
উপসংহার (Conclusion)
FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ইভেন্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফাকে এনে দিচ্ছে প্রায় **১৩বিলিয়ন∗∗আয়[citation:9]।টিভিস্বত্বথেকে৩.৯ বিলিয়ন , স্পনসরশিপ থেকে ১.৮বিলিয়ন[citation:4],টিকেটওহসপিটালিটিথেকে৩ বিলিয়নের বেশি – এই বিশাল অঙ্কের টাকা ফুটবল উন্নয়নে, প্রাইজমানিতে, ক্লাব বেনিফিটে ও ফিফার পরিচালনায় খরচ হয়।
মূল পয়েন্টগুলো:
-
টিভি স্বত্ব এখনো সবচেয়ে বড় উৎস ($৩.৯ বিলিয়ন), কিন্তু এর শেয়ার কমছে। সময় অঞ্চলের সমস্যার কারণে ব্রডকাস্ট ডিলের সংখ্যা কমেছে ১১% ।
-
টিকেট ও হসপিটালিটি সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত – আয় বেড়েছে ২৩৫% । সেকেন্ডারি মার্কেটে ফি নেওয়া ফিফার নতুন কৌশল ।
-
স্পনসরশিপ দ্বিগুণ হয়েছে – অ্যারামকোর মতো বড় চুক্তির জন্য ।
-
ব্যয়ও বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে – প্রাইজমানি ৮৭১মিলিয়ন[citation:6],ক্লাববেনিফিট৩৫৫ মিলিয়ন ।
-
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব $৮০ বিলিয়নের বেশি – তবে বিশেষজ্ঞরা এই হিসাব নিয়ে সন্দিহান ।
সমালোচকরা বলেন – ফিফা খুব লোভী, টিকেটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে । ফিফার জবাব – সব টাকা ফুটবল উন্নয়নে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশন, নারী ফুটবল, যুব ফুটবল – সবখানেই ফিরে যাচ্ছে এই টাকা।
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে দেখা যাবে – ফিফা কি আবারও রেকর্ড ভাঙবে? নাকি সময় অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার কারণে এই ব্যবসা টেকসই হবে না? ইতিহাস বলবে।
তবে একটি সত্য অমোঘ – বিশ্বকাপ এখন শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতা নয় – এটি একটি বিলিয়ন ডলারের শো।
আরো পড়ুন
- অনলাইন লোন সার্ভিস দিয়ে ইনকাম Incomeকরুন
- এফিলিয়েট Affiliate এবং ব্লগিং মার্কেটিং এর জন্যে কাজের ১০টি টুলস
- কিভাবে মাত্র ৫ মিনিটে logo লোগো তৈরি করবেন? ফ্রি লোগো ডিজাইন
- ফাইন্যান্স ও বিজনেস ব্লগ লিখে ইনকাম Income করুন
- স্ক্রিল Skrill– অর্থ লেনদেনের সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি
(FAQ)
১. ফিফা বিশ্বকাপ থেকে মোট কত আয় করে?
২০২৬ বিশ্বকাপ চক্রে (২০২৩-২০২৬) ফিফা মোট আয় করবে প্রায় ১৩বিলিয়ন∗∗[citation:9]।এরমধ্যেশুধুবিশ্বকাপথেকেইআসবে∗∗৮.৯ বিলিয়ন ।
২. ফিফার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস কী?
টেলিভিশন স্বত্ব – $৩.৯২৫ বিলিয়ন , যা মোট আয়ের প্রায় ৪৪%।
৩. ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন কত টাকা পাবে?
চ্যাম্পিয়ন দল পাবে $৫০ মিলিয়ন ডলার ।
৪. ফিফার প্রাইজমানি কত?
২০২৬ বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি **৮৭১মিলিয়ন∗∗[citation:1][citation:6]–যা২০২২সালের৪৪০ মিলিয়ন থেকে প্রায় দ্বিগুণ।
৫. ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম কী?
এটি একটি প্রোগ্রাম যার মাধ্যমে ফিফা ক্লাবগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয় – কারণ খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ক্লাব থেকে সময় নেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাজেট $৩৫৫ মিলিয়ন – ২০২২ সালের তুলনায় ৭০% বেশি।
৬. ফিফার টিকেট থেকে কত আয় হয়?
২০২৬ বিশ্বকাপে টিকেট ও হসপিটালিটি থেকে আয় হবে প্রায় $৩.০১৭ বিলিয়ন – যা ২০২২ সালের তুলনায় ২৩৫% বেশি।
৭. ফিফা কেন এত টাকা আয় করে?
ফিফা অলাভজনক সংস্থা (non-profit) হলেও তারা বিলিয়ন ডলার আয় করে – কারণ এই টাকা ফুটবল উন্নয়নে, প্রাইজমানিতে, ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামে ও FIFA ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজসেবায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ২০২৬ চক্রের মোট আয় | ~$১৩ বিলিয়ন |
| শুধু বিশ্বকাপ আয় | $৮.৯১১ বিলিয়ন |
| টিভি স্বত্ব | $৩.৯২৫ বিলিয়ন |
| টিকেট ও হসপিটালিটি | $৩.০১৭ বিলিয়ন |
| স্পনসরশিপ | $১.৭৮৬ বিলিয়ন |
| মোট প্রাইজমানি | $৮৭১ মিলিয়ন |
| চ্যাম্পিয়নের প্রাইজমানি | $৫০ মিলিয়ন |
| ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম | $৩৫৫ মিলিয়ন |
| প্রতি দল ন্যূনতম নিশ্চিত অর্থ | $১২.৫ মিলিয়ন |