Site icon এসো ইনকাম করি

বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা ১০ অঘটন: আন্ডারডগ দলগুলোর অবিশ্বাস্য জয় ও ইতিহাসের বড় চমক

বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা ১০ অঘটন

বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা ১০ অঘটন: আন্ডারডগ দলগুলোর অবিশ্বাস্য জয় ও ইতিহাসের বড় চমক

FIFA বিশ্বকাপের ইতিহাসে কিছু ম্যাচ আছে যাবিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা ১০ অঘটন: আন্ডারডগ দলগুলোর অবিশ্বাস্য জয় ও ইতিহাসের বড় চমক কেউ ভাবেনি। আন্ডারডগ দলগুলো কীভাবে ফেভারিটদের হারিয়েছে? যুক্তরাষ্ট্র ইংল্যান্ডকে হারানো, উত্তর কোরিয়া ইতালিকে হারানো, ক্যামেরুন আর্জেন্টিনাকে হারানো – বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন ও চমকগুলোর গল্প। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।

 ভূমিকা (Introduction)

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনার জয় নয়। বিশ্বকাপ মানেই অঘটন। সেই ম্যাচগুলো যেখানে কোনো ছোট দেশ, কোনো আন্ডারডগ দল, কোনো নাম না জানা খেলোয়াড় হঠাৎ করে বিশ্বের সেরা দলকে হারিয়ে দেয়। পুরো বিশ্ব তখন অবাক হয়ে যায়। সংবাদপত্রের বড় হেডলাইন হয় – “চমক!” “অঘটন!”

এই আর্টিকেলে আমরা ঘুরে দেখব বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা ১০ অঘটন। যেখানে জিতবে বলেই কেউ ভাবেনি – সেখানে আন্ডারডগ দল ইতিহাস লিখে ফেলেছে।

চলুন, শুরু করি সবচেয়ে বড় চমকগুলো দিয়ে।

 র্যাঙ্কিংয়ের মানদণ্ড

মানদণ্ড ওজন (%)
প্রতিপক্ষের শক্তি ও ফেভারিট অবস্থান ৩০%
ব্যবধান ও ম্যাচের প্রেক্ষাপট ২৫%
ঐতিহাসিক প্রভাব ও স্মরণীয়তা ২৫%
ম্যাচের উত্তেজনা ও গোলের সংখ্যা ২০%

১০. ১৯৯০ – ক্যামেরুন vs আর্জেন্টিনা (উদ্বোধনী ম্যাচের চমক)

The Indomitable Lions Roar

তথ্য বিবরণ
তারিখ ৮ জুন ১৯৯০
স্থান সান সিরো স্টেডিয়াম, মিলান, ইতালি
ফলাফল ক্যামেরুন ১-০ আর্জেন্টিনা
গোলদাতা ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িক (৬৭ মিনিট)

গল্প:

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। প্রতিপক্ষ – ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দিয়েগো ম্যারাডোনা তখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। অপরপক্ষে ক্যামেরুন – আফ্রিকার একটি দল যাদের সম্পর্কে খুব কমই জানত।

সবাই ভেবেছিল আর্জেন্টিনা সহজেই জিতবে। কিন্তু ক্যামেরুন খেললো হার্ড ট্যাকলিং ফুটবল। দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখল (কানা-বিয়িক ও একোকে)। ৯ জন খেলোয়াড় নিয়েও তারা ম্যারাডোনাকে আটকে রাখল। ৬৭ মিনিটে ওমাম-বিয়িক হেডে গোল করে ক্যামেরুনকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয় ক্যামেরুন।

এই জয় আফ্রিকার ফুটবলের জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ক্যামেরুন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল (ইংল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল, ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও)।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
আফ্রিকার প্রথম বড় চমক + ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নকে হারানো + ৯ জন নিয়ে জয়।

৯. ১৯৬৬ – উত্তর কোরিয়া vs ইতালি (রেড ডেভিলসের আক্রমণ)

The Red Devils Stun Italy

তথ্য বিবরণ
তারিখ ১৯ জুলাই ১৯৬৬
স্থান অ্যারেসবারো স্টেডিয়াম, মিডলসব্রো, ইংল্যান্ড
ফলাফল উত্তর কোরিয়া ১-০ ইতালি
গোলদাতা পাক দো-ইক (৪২ মিনিট)

গল্প:

১৯৬৬ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়া ছিল সম্পূর্ণ অচেনা দল। তারা কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি খুব বেশি পেত না। তাদের প্রথম ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে ৩-০ হেরেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে চিলির সাথে ১-১ ড্র করেছিল। গ্রুপ থেকে বেরুতে হলে তাদের ইতালিকে হারাতে হতো।

ইতালি ছিল দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী। সবাই ভেবেছিল ইতালি জিতবে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া খেললো প্রাণ খুলে। ৪২ মিনিটে পাক দো-ইক দারুণ এক গোল করেন। ইতালি চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি। উত্তর কোরিয়া ইতিহাস গড়ে ফেলে।

এই জয়ের পর উত্তর কোরিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের মুখোমুখি হয়। তারা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় (২৫ মিনিটের মধ্যে)। তারপর ইউসেবিও ৪ গোল করে পর্তুগালকে ৫-৩ ব্যবধানে জিতিয়ে নেন। তা না হলে গল্পটা আরও বড় হতো।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
সবচেয়ে অচেনা দলের সবচেয়ে বড় দলকে হারানো + কোল্ড ওয়ার রাজনীতির প্রভাব।

৮. ২০১৪ – কোস্টারিকা vs উরুগুয়ে, ইতালি, ইংল্যান্ড – পুরো গ্রুপের চমক

The Miracle of the Group of Death

তথ্য বিবরণ
তারিখ ১৪ জুন – ২৪ জুন ২০১৪
স্থান ব্রাজিলের বিভিন্ন স্টেডিয়াম
ফলাফল কোস্টারিকা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন – উরুগুয়ে, ইতালি, ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে

গল্প:

২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ ডি ছিল “গ্রুপ অফ ডেথ”। তিন বিশ্বকাপ জয়ী দল এক গ্রুপে: উরুগুয়ে (২ বার), ইতালি (৪ বার), ইংল্যান্ড (১ বার)। আর কোস্টারিকা – একটি ছোট মধ্য আমেরিকার দেশ, যারা খুব বেশি বড় কিছু করেনি।

সবাই ভেবেছিল কোস্টারিকা গ্রুপ থেকে বেরুতেই পারবে না। কিন্তু কী ঘটল?

কোস্টারিকা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে (পেনাল্টিতে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে)।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
একক ম্যাচ নয় – পুরো গ্রুপ পর্বে তিনটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে টেক্কা দেওয়া + ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গ্রুপ পর্বের চমক।

৭. ২০০২ – সেনেগাল vs ফ্রান্স (ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে)

The Lions of Teranga

তথ্য বিবরণ
তারিখ ৩১ মে ২০০২
স্থান সিউল ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেডিয়াম, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া
ফলাফল সেনেগাল ১-০ ফ্রান্স
গোলদাতা পাপা বৌবা দিওপ (৩০ মিনিট)

গল্প:

২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। ফ্রান্স ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। তাদের দলে ছিল জিদান, হেনরি, ত্রেজেগে, ভিয়েরা, দেসাই – বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা।

সেনেগাল – তাদের প্রথম বিশ্বকাপ। আফ্রিকা থেকে এসেছে। তাদের অধিকাংশ খেলোয়াড় ফ্রান্সের লিগে খেলত। তবে কেউ তাদের ফেভারিট মনে করেনি।

৩০ মিনিটে পাপা বৌবা দিওপ গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন। ফ্রান্স জিদানকে পেতে পারেনি (ইনজুরি)। সেনেগাল ১-০ জেতে। ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে (এক পয়েন্ট নিয়ে)।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
ডিফেন্ডিং ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নকে হারানো + আফ্রিকার আরেক বড় চমক + ফ্রান্সের পতনের শুরু।

৬. ১৯৫০ – যুক্তরাষ্ট্র vs ইংল্যান্ড (ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন?)

The Miracle on Grass

তথ্য বিবরণ
তারিখ ২৯ জুন ১৯৫০
স্থান এস্তাদিও ইন্ডিপেন্ডেন্সিয়া, বেলো হরিজোন্টে, ব্রাজিল
ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ১-০ ইংল্যান্ড
গোলদাতা জো গায়েটজেন্স (৩৮ মিনিট)

গল্প:

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ড ফুটবলের জন্মদাতা। তারা ১৯৫০ সালে ফিফাতে ফিরে এসে প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে। সবাই ভেবেছিল ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতবে। তাদের দলে ছিল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় – স্ট্যানলি ম্যাথিউজ, টম ফিনি ইত্যাদি।

যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলে কিছুই করেনি। আসলে তারা ফুটবলকে ভালোবাসেও না তখন। তাদের দলে ছিল অপেশাদার খেলোয়াড়, পোস্টম্যান, স্কুল শিক্ষক, এমনকি একজন হাইতি থেকে আসা খেলোয়াড় (জো গায়েটজেন্স)।

ম্যাচের ৩৮ মিনিটে গায়েটজেন্স গোল করে বসেন। ইংল্যান্ডের গোলকিপার বার্ট উইলিয়ামস বল ফেল করে দেন। ১-০ ব্যবধানেই জিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

ইংল্যান্ডের সংবাদপত্র ভেবেছিল প্রিন্টিং মিসটেক। তারা হেডলাইন দিয়েছিল “যুক্তরাষ্ট্র ১-০ ইংল্যান্ড” কিন্তু ভিতরে লিখেছিল ইংল্যান্ড ১০-০ জিতেছে। ভুল বুঝতে সময় লাগে।

কেন এটি শীর্ষ পর্যায়ে?
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন (যে কোন তালিকায় শীর্ষে) – অপেশাদার দল পেশাদার ইংল্যান্ডকে হারাল। আজও ইংল্যান্ড ভুলতে পারেনি।

৫. ১৯৯৮ – ক্রোয়েশিয়া vs জার্মানি (নবাগতের ওল্ড পাওয়ারকে হারানো)

The Vatreni Announce Themselves

তথ্য বিবরণ
তারিখ ৪ জুলাই ১৯৯৮
স্থান স্তাদ দ্য গারলান, লিওঁ, ফ্রান্স
ফলাফল ক্রোয়েশিয়া ৩-০ জার্মানি
গোলদাতা রবার্ট ইয়ারনি, গোরান ভ্লাওভিচ, ডাভোর শুকের

গল্প:

১৯৯৮ সালের ক্রোয়েশিয়া ছিল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা (স্বাধীন দেশ হিসেবে)। জার্মানি ছিল তিনবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ও ডিফেন্ডিং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন।

কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হলো। জার্মানি ফেভারিট। কিন্তু ক্রোয়েশিয়া ঝড় তুলল। প্রথমে ইয়ারনি, তারপর ভ্লাওভিচ, শেষে ডাভোর শুকের – ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল জার্মানিকে।

ক্রোয়েশিয়া সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হারে (২-১, তুরামের দুই গোল), কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
প্রথম বিশ্বকাপেই জার্মানিকে ৩-০ হারানো + ক্রোয়েশিয়ার স্বর্ণালী প্রজন্মের আবির্ভাব।

৪. ২০২২ – সৌদি আরব vs আর্জেন্টিনা (মেসির স্বপ্ন ভাঙার শুরু)

The Saudis Shock the World

তথ্য বিবরণ
তারিখ ২২ নভেম্বর ২০২২
স্থান লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম, লুসাইল, কাতার
ফলাফল সৌদি আরব ২-১ আর্জেন্টিনা
গোলদাতা সালেহ আল-শেহরি (৪৮ মিনিট), সালেম আল-দাউসারি (৫৩ মিনিট)

গল্প:

২০২২ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে আর্জেন্টিনা ফেভারিট। মেসি তার শেষ বিশ্বকাপে স্বপ্ন দেখছেন। আর্জেন্টিনা টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিল (বিশ্ব রেকর্ডের কাছাকাছি)।

প্রথম ম্যাচে সৌদি আরব। সবাই ভেবেছিল আর্জেন্টিনা ৫-০, ৬-০ করবে। মেসি পেনাল্টি থেকে ১০ মিনিটে গোল করে এগিয়ে দেয় (১-০)। তারপর প্রথম হাফ শেষ।

দ্বিতীয় হাফে কী হলো! ৪৮ মিনিটে আল-শেহরি গোল করে সমতা আনে (১-১)। ৫৩ মিনিটে আল-দাউসারি অসাধারণ এক গোল করে সৌদিকে এগিয়ে দেয় (২-১)। আর্জেন্টিনা চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি। আর্জেন্টিনা ১-২ হেরে যায়।

এই হারের পর আর্জেন্টিনা মেক্সিকোকে হারিয়ে, পোল্যান্ডকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় এবং অবশেষে বিশ্বকাপ জেতে। কিন্তু সৌদি আরব সেই ম্যাচ ইতিহাসে লেখা থাকে।

কেন এটি সেরা ৫-তে?
৩৬ ম্যাচ অপরাজিত দলকে হারানো + আরব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাফল্য + মেসির বিশ্বকাপ শুরুটা প্রায় শেষ করে দিয়েছিল।

৩. ১৯৭৪ – পূর্ব জার্মানি vs পশ্চিম জার্মানি (ঠান্ডা যুদ্ধের মাঠ)

The Cold War Derby

তথ্য বিবরণ
তারিখ ২২ জুন ১৯৭৪
স্থান ফক্সপার্ক স্টেডিয়াম, হামবুর্গ, পশ্চিম জার্মানি
ফলাফল পূর্ব জার্মানি ১-০ পশ্চিম জার্মানি
গোলদাতা ইয়ার্গেন স্পারওয়াসার (৭৭ মিনিট)

গল্প:

১৯৭৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব। পশ্চিম জার্মানি ছিল আয়োজক ও ফেভারিট। পূর্ব জার্মানি ছিল কমিউনিস্ট ব্লকের দেশ। দুই জার্মানির মধ্যে বিভাজন ছিল রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত।

পশ্চিম জার্মানি ফেভারিট। পূর্ব জার্মানি আন্ডারডগ। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে স্পারওয়াসার গোল করে পূর্ব জার্মানিকে ১-০ ব্যবধানে জিতিয়ে দেন।

পশ্চিম জার্মানি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতে (ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ২-১)। কিন্তু এই হার তাদের জন্য লজ্জার ছিল।

কেন এটি সেরা ৩-তে?
রাজনীতির প্রভাব + দুই জার্মানির বিভক্তি + আন্ডারডগের জয়।

২. ১৯৬৬ – পর্তুগাল vs ব্রাজিল (ইউসেবিওর পেলের ব্রাজিলকে হারানো)

Eusébio’s Portugal Stuns Brazil

তথ্য বিবরণ
তারিখ ১৯ জুলাই ১৯৬৬
স্থান গুডিসন পার্ক, লিভারপুল, ইংল্যান্ড
ফলাফল পর্তুগাল ৩-১ ব্রাজিল
গোলদাতা ইউসেবিও (২), আন্তোনিও সিমোয়েস (১); রিলদো ব্রাজিলের হয়ে (১)

গল্প:

ব্রাজিল ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন (১৯৬২ সালে জিতেছিল)। পেলে তখন শীর্ষে। পর্তুগাল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলছে। ইউসেবিও তখন ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়।

গ্রুপ পর্বে ম্যাচ। ব্রাজিল চাপ দিয়ে শুরু করলেও পর্তুগাল দারুণ প্রতিরোধ গড়ে। ইউসেবিও দুই গোল করলেন। ব্রাজিল ১-৩ হেরে গেল। এটি ব্রাজিলের ১৯৫৮ সালের পর প্রথম হারের স্বাদ। বর্তমান চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে (শেষে তৃতীয় স্থান অর্জন করে)।

কেন এটি সেরা ২-তে?
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারানো + ইউসেবিওর বিশ্ব দরবারে অভিষেক + পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা সাফল্যের ভিত্তি।

১. ২০১৮ – রাশিয়া vs স্পেন (পেনাল্টি রোমাঞ্চ)

The Russian Winter Shocks Spain

তথ্য বিবরণ
তারিখ ১ জুলাই ২০১৮
স্থান লুজনিকি স্টেডিয়াম, মস্কো, রাশিয়া
ফলাফল রাশিয়া ১-১ স্পেন (অ.স.), পেনাল্টিতে রাশিয়া ৪-৩ জয়ী
গোলদাতা স্পেন – সের্গেই ইগনাশেভিচ (ওগ গোল ১১ মিনিট); রাশিয়া – আরতিয়োম জিউবা (৪১ মিনিট, পেনাল্টি)

গল্প:

২০১৮ বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ১৬। স্পেন ছিল ফেভারিট। তাদের দলে ছিল ইনিয়েস্তা, রামোস, পিকে, বুস্কেটস, ইস্কো – টিকি-টাকা ফুটবলের বিস্তারকারী দল। রাশিয়া আয়োজক হলেও ফুটবলের মান নিয়ে সন্দেহ ছিল।

ম্যাচের ১১ মিনিটেই রাশিয়ার খেলোয়াড় ইগনাশেভিচ আত্মঘাতী গোল করে বসেন (স্পেন ১-০)। ৪১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জিউবা গোল করে সমতা আনেন (১-১)। অতিরিক্ত সময় ১২০ মিনিটেও কোন গোল নেই। পেনাল্টি শুটআউট।

স্পেনের তৃতীয় শুটার কোকে মিস করেন। রাশিয়ার গোলকি‌পার আকিনফিভ দারুণ সেভ করেন (কোকের বল) ও শেষ শুটার বাইপারেও সেভ করেন (যুগ্মভাবে)। রাশিয়া ৪-৩ পেনাল্টি জেতে। স্পেন বিদায়।

কেন এটি নং ১?
স্পেনের টিকি-টাকা ফুটবলের সমাপ্তি + স্বাগতিকের স্বপ্মযাত্রা + রাশিয়ার কোয়ার্টার ফাইনাল (সর্বকালের সেরা সাফল্য) + পুরো বিশ্ব অবাক। স্পেনের ১১০৯ পাসের পরও তারা জিততে পারেনি। ফুটবল জিতেছে বুকি ও আত্মা।

সংক্ষিপ্ত সারণি – সেরা ১০ অঘটন

র্যাঙ্ক বছর আন্ডারডগ ফেভারিট ফলাফল স্মরণীয় কারণ
১০ ১৯৯০ ক্যামেরুন আর্জেন্টিনা ১-০ আফ্রিকার প্রথম বড় চমক
১৯৬৬ উত্তর কোরিয়া ইতালি ১-০ অচেনা দলের ইতালি হারানো
২০১৪ কোস্টারিকা উরুগুয়ে/ইতালি/ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন তিন চ্যাম্পিয়নকে টেক্কা
২০০২ সেনেগাল ফ্রান্স ১-০ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নকে হারানো
১৯৫০ যুক্তরাষ্ট্র ইংল্যান্ড ১-০ ইতিহাসের বিতর্কিত অঘটন
১৯৯৮ ক্রোয়েশিয়া জার্মানি ৩-০ নবাগতের জার্মানি উড়িয়ে দেওয়া
২০২২ সৌদি আরব আর্জেন্টিনা ২-১ ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত দলকে হারানো
১৯৭৪ পূর্ব জার্মানি পশ্চিম জার্মানি ১-০ ঠান্ডা যুদ্ধের লড়াই
১৯৬৬ পর্তুগাল ব্রাজিল ৩-১ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারানো
২০১৮ রাশিয়া স্পেন ১-১ (৪-৩ পেনাল্টি) টিকি-টাকার সমাপ্তি + স্বাগতিকের স্বপ্নযাত্রা

 উপসংহার (Conclusion)

বিশ্বকাপের অঘটনগুলো ফুটবলকে সুন্দর করে। যখন কোনো ছোট দল বড় দলকে হারায়, তখন পুরো বিশ্ব আবেগে ভেসে যায়। কারণ ফুটবল তখন শুধু খেলা নয় – বরং প্রমাণ করে যে কিছুই অসম্ভব নয়

যুক্তরাষ্ট্র ইংল্যান্ডকে ১-০ হারানো, সৌদি আরব আর্জেন্টিনাকে ২-১ হারানো, ক্যামেরুন আর্জেন্টিনাকে ১-০ হারানো, সেনেগাল ফ্রান্সকে ১-০ হারানো – এই ম্যাচগুলো ইতিহাসে অমর।

আগামী বিশ্বকাপেও অঘটন আসবে। কারা কাকে হারাবে? কে হবে পরবর্তী আন্ডারডগ যিনি ইতিহাস লিখবে? ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আমরা শুধু অপেক্ষা করি – সেই ম্যাচের জন্য, যখন পুরো বিশ্ব একসাথে চিৎকার করে – “অঘটন!”

আরো পড়ুন

(FAQ)

১. বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন কোনটি?

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫০ সালে ইংল্যান্ডকে ১-০ হারানোকে সবচেয়ে বড় অঘটন মনে করা হয় (অপেশাদার দল পেশাদার ইংল্যান্ডকে হারায়)।

২. কোন আন্ডারডগ দল সবচেয়ে বেশি দূর এগিয়েছে?

১৯৫০ সালের উরুগুয়ে আন্ডারডগ ছিল (ব্রাজিলের বিপক্ষে), কিন্তু তারা জিতে গিয়েছিল। আন্ডারডগ হিসেবে ১৯৯৮ ক্রোয়েশিয়া (তৃতীয়), ২০০২ দক্ষিণ কোরিয়া (চতুর্থ), ২০১৮ রাশিয়া (কোয়ার্টার ফাইনাল) – সবচেয়ে বেশি দূর এগিয়েছে ২০২২ মরক্কো (চতুর্থ)।

৩. কেন আন্ডারডগ দলগুলো বড় দলকে হারায়?

মটিভেশন বেশি থাকে, প্রেশার কম থাকে, আর ফেভারিট দল কখনো কখনো হালকা নিয়ে খেলে।

৪. কোন অঘটন টি সবচেয়ে বেশি অবিশ্বাস্য মনে হয়?

কোস্টারিকার ২০১৪ সালের গ্রুপ পর্ব – তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে টেক্কা দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া – এটি এখনো বোঝা কঠিন।

৫. অঘটনের পর ফেভারিট দল কী করে?

কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারে (২০২২ আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতে), কখনো পুরো টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে (২০১৪ স্পেন গ্রুপ থেকে বাদ)।

৬. কোন আফ্রিকান দল সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে?

ক্যামেরুন (১৯৯০ আর্জেন্টিনাকে হারানো) ও সেনেগাল (২০০২ ফ্রান্সকে হারানো) – দুইটিই বড়। ঘানার ২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়াও অসাধারণ।

৭. এশিয়ার সবচেয়ে বড় অঘটন কোনটি?

২০২২ সৌদি আরবের আর্জেন্টিনাকে ২-১ হারানো। উত্তর কোরিয়ার ১৯৬৬ ইতালিকে হারানোও বড়

Exit mobile version