Site icon এসো ইনকাম করি

How to get business loan without collateral

How to get business loan without collateral

How to get business loan without collateral

জামানত ছাড়া ব্যবসায়িক লোন পাওয়ার উপায় ২০২৬ –How to get business loan without collateral সহজ শর্তে বড় অঙ্কের অর্থায়ন ২০২৬ সালে কীভাবে জামানত ছাড়াই ব্যবসার জন্য লোন পাবেন? ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ রিফাইন্যান্সিং স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

ভূমিকা: সম্পদ নেই, তবুও ব্যবসার স্বপ্ন পূরণ সম্ভব

আপনি হয়তো ছোট ব্যবসা শুরু করতে চান, কিন্তু জামানত না থাকায় ব্যাংকে গিয়ে বারবার ফিরে এসেছেন। এটি শুধু আপনার একার সমস্যা নয়, বাংলাদেশের অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এই সমস্যার মুখোমুখি হন। কারণ ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকগুলোর কাছে জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয় 

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এই চিত্র বদলাচ্ছে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন রিফাইন্যান্সিং স্কিম এবং ব্যাংকগুলোর বিশেষ উদ্যোগের কারণে এখন জামানত ছাড়াই ব্যবসায়িক লোন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে 

এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কীভাবে আপনি জামানত ছাড়া ব্যবসায়িক লোন পেতে পারেন, কোন কোন ব্যাংক ও সরকারি স্কিম রয়েছে, এবং আবেদনের আগে কী কী জানা জরুরি।

এক নজরে: জামানতহীন ব্যবসায়িক লোনের উৎস

লোনের উৎস সর্বোচ্চ লোন সুদের হার বিশেষত্ব
নতুন উদ্যোক্তা রিফাইন্যান্সিং স্কিম ১০ লাখ টাকা ৭% কোনো জামানত নেই, ৫০০ কোটি টাকা ফান্ড
স্টার্টআপ ফান্ড নির্ধারিত ৪% নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য রেয়াতি সুদে
সিএমএসএমই রিফাইন্যান্সিং ২৫ লাখ টাকা ৮% এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে, ৪ বছর মেয়াদ
ব্র্যাক ব্যাংক ২০ লাখ+ ১৩.৭৫% থেকে দেশের বৃহত্তম জামানতহীন সিএমএসএমই অর্থায়নকারী
প্রাইম ব্যাংক-ডারাজ ৫০ লাখ টাকা নির্ধারিত ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ
সিটি ব্যাংক ১.৫ কোটি টাকা নির্ধারিত টেকসই ও সবুজ খাতে

সূচিপত্র

  1. ২০২৬ সালে জামানতহীন লোনের সুযোগ কেন বাড়ছে?

  2. সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিফাইন্যান্সিং স্কিম

  3. ব্যাংকগুলোর বিশেষ উদ্যোগ

  4. কারা এই লোন পেতে পারেন? (যোগ্যতা)

  5. আবেদনের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

  6. লোন নেওয়ার আগে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  7. বিশেষজ্ঞদের ৫টি টিপস

  8. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

  9. উপসংহার

২০২৬ সালে জামানতহীন লোনের সুযোগ কেন বাড়ছে?

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) খাত। কিন্তু এই খাতের প্রধান বাধা হলো জামানতের অভাবে লোন না পাওয়া । এই সমস্যা সমাধানে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে:

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিফাইন্যান্সিং ফান্ড:

ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ:

সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিফাইন্যান্সিং স্কিম

১. নিউ এন্ট্রাপ্রেনার্স রিফাইন্যান্সিং স্কিম (সিএমএসই)

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিশেষ স্কিমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 

২. স্টার্টআপ ফান্ড

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ 

৩. কৃষি ও গ্রামীণ খাতের রিফাইন্যান্সিং স্কিম

খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়াতে ১০,০০০ কোটি টাকার এই স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক 

৪. সিএমএসএমই রিফাইন্যান্সিং (এসএমই ফাউন্ডেশন)

এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে ৩০০ কোটি টাকার রিফাইন্যান্সিং ফান্ড 

ব্যাংকগুলোর বিশেষ উদ্যোগ

১. ব্র্যাক ব্যাংক: দেশের বৃহত্তম জামানতহীন লোনদাতা

ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশের একমাত্র এসএমই-কেন্দ্রিক ব্যাংক এবং জামানতহীন সিএমএসএমই লোনে শীর্ষে রয়েছে 

বিশেষ পণ্য:

২. প্রাইম ব্যাংক: ই-কমার্স ও এসএমই ফোকাস

প্রাইম ব্যাংক ডারাজ বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ লোন চালু করেছে 

৩. সিটি ব্যাংক: সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য

সিটি ব্যাংক টেকসই ও পরিবেশবান্ধব খাতে জামানতহীন লোন দিচ্ছে 

৪. ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল): সবুজ টেকসই লোন

ইবিএল-এর বিশেষ পণ্য ‘ইবিএল উৎকর্ষ’ জামানতহীন লোন দেয় সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য 

৫. ব্র্যাক ব্যাংক-বেসিস: আইসিটি উদ্যোক্তাদের জন্য

ব্র্যাক ব্যাংক ও বেসিস (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস) এর যৌথ উদ্যোগে আইসিটি খাতের উদ্যোক্তারা জামানতহীন লোন পাচ্ছেন 

কারা এই লোন পেতে পারেন? (যোগ্যতা)

জামানতহীন ব্যবসায়িক লোনের যোগ্যতা সাধারণত নির্ধারিত হয় নিচের বিষয়গুলোর ভিত্তিতে:

লোনের ধরন যোগ্যতা
নতুন উদ্যোক্তা স্কিম যে কেউ নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, বয়সসীমা নেই 
সিএমএসএমই রিফাইন্যান্সিং ক্ষুদ্র, মাইক্রো, মাঝারি উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার 
ব্র্যাক ব্যাংক যেকোনো সিএমএসএমই উদ্যোক্তা, ব্যাংকের নেটওয়ার্কে আবেদন 
প্রাইম ব্যাংক-ডারাজ ডারাজ বাংলাদেশের মার্চেন্ট, ২ বছর অভিজ্ঞতা, ডারাজের সুপারিশপত্র 
ব্র্যাক ব্যাংক-বেসিস বেসিসের সদস্য আইসিটি উদ্যোক্তা 
সিটি ব্যাংক/ইবিএল সবুজ ও টেকসই খাতের উদ্যোক্তা 

আবেদনের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

সরকারি স্কিমে আবেদন (নতুন উদ্যোক্তা)

১. বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত ব্যাংকে যোগাযোগ করুন – সরকারি স্কিমগুলোর জন্য অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।

২. ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুন – আপনার ব্যবসার প্রকৃতি, প্রয়োজনীয় মূলধন ও পরিশোধের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

৩. প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন – নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ ঘণ্টার বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেখানে অংশগ্রহণ করলে ৫,০০০ টাকা ভাতা পাওয়া যায় এবং লোন পেতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় 

৪. আবেদন জমা দিন – সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ফর্ম পূরণ করে জমা দিন।

ব্যাংকের লোনে আবেদন

১. ব্যাংক নির্বাচন করুন – আপনার ব্যবসার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক বেছে নিন।

২. যোগ্যতা যাচাই করুন – ব্যাংকের শর্তাবলী পড়ুন এবং আপনার যোগ্যতা নিশ্চিত করুন।

৩. আবেদন ফর্ম পূরণ করুন – ব্যাংকের শাখায় বা অনলাইনে আবেদন করুন।

৪. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিন – (নিচে দেওয়া হলো)

লোন নেওয়ার আগে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

১. সুদের হার: সরকারি স্কিমে ৪-৮% সুদ পাওয়া যায়, যা বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় অনেক কম 

২. লোনের মেয়াদ: সরকারি স্কিমে সাধারণত ১৮ মাস থেকে ৪ বছর মেয়াদ পাওয়া যায়, গ্রেস পিরিয়ডও থাকে 

৩. অতিরিক্ত ফি: প্রসেসিং ফি, জিএসটি, লেট পেমেন্ট পেনাল্টি সম্পর্কে জেনে নিন।

৪. ব্যবসায়িক পরিকল্পনা: লোনের আবেদনে একটি ভালো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা খুব কাজে দেয়। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি অপরিহার্য 

৫. আপনার সক্ষমতা: লোনের কিস্তি আপনার ব্যবসার আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা যাচাই করে নিন।

বিশেষজ্ঞদের ৫টি টিপস

১. সরকারি স্কিমকে অগ্রাধিকার দিন: ৪-৮% সুদের রিফাইন্যান্সিং স্কিমগুলোর সুবিধা নিন, যা বাজারের তুলনায় অনেক কম সুদ 

২. প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন: ১০০ ঘণ্টার বিনামূল্যে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করলে লোন পেতে অগ্রাধিকার পান 

৩. ব্যাংকের বিশেষায়িত পণ্য খুঁজুন: আপনার ব্যবসার খাত অনুযায়ী বিশেষ লোন পণ্য খুঁজুন। যেমন ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাইম ব্যাংক-ডারাজ , আইসিটি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক-বেসিস , সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য সিটি ব্যাংক ও ইবিএল 

৪. নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি স্কিম ও ব্যাংকগুলোর বিশেষ সুবিধা রয়েছে 

৫. ডকুমেন্ট তৈরি রাখুন: ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, এনআইডি ইত্যাদি ডকুমেন্ট আগে থেকে তৈরি রাখলে আবেদন দ্রুত হয়।

আরো পড়ুন

(FAQ)

১. জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ কত টাকা লোন পাওয়া যায়?
সরকারি স্কিমে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত , সিটি ব্যাংকে ১.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত , প্রাইম ব্যাংক-ডারাজে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত  পাওয়া যায়।

২. নতুন ব্যবসার জন্য জামানতহীন লোন পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতহীন লোনের সুযোগ আছে 

৩. জামানতহীন লোনের সুদের হার কেমন?
সরকারি স্কিমে ৪-৮% , ব্র্যাক ব্যাংকে ১৩.৭৫% , অন্যান্য ব্যাংকে প্রতিযোগিতামূলক হার।

৪. আবেদনের জন্য কী কী ডকুমেন্ট লাগে?
জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যদি থাকে), এবং ব্যাংকের নির্ধারিত ফর্ম।

৫. ই-কমার্স ব্যবসার জন্য লোন পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, প্রাইম ব্যাংক-ডারাজের যৌথ উদ্যোগে ই-কমার্স মার্চেন্টরা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতহীন লোন পাচ্ছেন 

৬. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা আছে?
হ্যাঁ, সরকারি স্কিম ও ব্র্যাক ব্যাংকের ‘টারা’ প্রোগ্রামে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় 

৭. লোন পেতে কতক্ষণ সময় লাগে?
ব্যাংকভেদে ১-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ডকুমেন্ট সঠিক থাকলে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যায়।

৮. প্রশিক্ষণ গ্রহণ কি বাধ্যতামূলক?
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি গ্রহণ করলে লোন পেতে অগ্রাধিকার পান 

৯. গ্রামীণ এলাকার উদ্যোক্তারা কি এই লোন পাবেন?
হ্যাঁ, ব্র্যাক ব্যাংকের ৬০% লোন গ্রামীণ এলাকায় দেওয়া হয়  এবং সরকারি স্কিমেও গ্রামীণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় 

১০. লোন পরিশোধের মেয়াদ কেমন?
সরকারি স্কিমে ১৮ মাস থেকে ৪ বছর পর্যন্ত , ব্যাংকভেদে ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডও থাকে 

উপসংহার

২০২৬ সালে জামানত ছাড়া ব্যবসায়িক লোন পাওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিফাইন্যান্সিং স্কিমগুলো ৪-৮% সুদের হার এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতহীন লোনের সুযোগ দিচ্ছে । পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ইবিএল-এর মতো ব্যাংকগুলোর বিশেষ উদ্যোগগুলো ই-কমার্স, আইসিটি, সবুজ খাত ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাপক সুবিধা এনে দিয়েছে 

Exit mobile version