Site icon এসো ইনকাম করি

ফিফার আয়ের উৎস: কোথা থেকে আসে বিলিয়ন ডলার – টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকেট ও লাইসেন্সিংয়ের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ (২০২৬ আপডেট)

ফিফা বিশ্বকাপ থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করে। কিন্তু সেই টাকা আসে কোথা থেকে? টিভি স্বত্ব বিক্রি, স্পনসরশিপ, টিকেট ও হসপিটালিটি, লাইসেন্সিং – কীভাবে ফিফা বিলিয়ন ডলার উপার্জন করে? ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফার প্রত্যাশিত আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। জানুন প্রতিটি খাতের বিস্তারিত হিসাব, ফিফার আয়ের উৎস: কোথা থেকে আসে বিলিয়ন ডলার – টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকেট ও লাইসেন্সিংয়ের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ (২০২৬ আপডেট)স্পনসরদের তালিকা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।ফিফা বিশ্বকাপ থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করে। কিন্তু সেই টাকা আসে কোথা থেকে? টিভি স্বত্ব বিক্রি, স্পনসরশিপ, টিকেট ও হসপিটালিটি, লাইসেন্সিং – কীভাবে ফিফা বিলিয়ন ডলার উপার্জন করে? ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফার প্রত্যাশিত আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। জানুন প্রতিটি খাতের বিস্তারিত হিসাব, ফিফার আয়ের উৎস: কোথা থেকে আসে বিলিয়ন ডলার – টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকেট ও লাইসেন্সিংয়ের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ (২০২৬ আপডেট)স্পনসরদের তালিকা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।

ফিফার আয়ের উৎস: কোথা থেকে আসে বিলিয়ন ডলার – টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকেট ও লাইসেন্সিংয়ের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ (২০২৬ আপডেট)

 

ফিফা বিশ্বকাপ থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করে। কিন্তু সেই টাকা আসে কোথা থেকে? টিভি স্বত্ব বিক্রি, স্পনসরশিপ, টিকেট ও হসপিটালিটি, লাইসেন্সিং – কীভাবে ফিফা বিলিয়ন ডলার উপার্জন করে? ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফার প্রত্যাশিত আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। জানুন প্রতিটি খাতের বিস্তারিত হিসাব, ফিফার আয়ের উৎস: কোথা থেকে আসে বিলিয়ন ডলার – টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকেট ও লাইসেন্সিংয়ের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ (২০২৬ আপডেট)স্পনসরদের তালিকা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।

 ভূমিকা (Introduction)

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি খেলা নয় – এটি একটি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। যখন আপনি টিভিতে বিশ্বকাপ দেখেন, স্টেডিয়ামে টিকেট কিনে বসেন, অথবা দলের জার্সি কিনেন – আপনার প্রতিটি সেন্ট ফিফার বিশাল আয়ের অংশ হয়ে যায়।

ফিফা কীভাবে এত টাকা আয় করে? কারা দেয় এই টাকা? আর সেই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় যায়?

২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপ। ফিফা প্রত্যাশা করছে এই চক্রে (২০২৩-২০২৬) মোট আয় হবে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার । এর মধ্যে শুধু বিশ্বকাপ থেকেই আসবে প্রায় ৮.৯ বিলিয়ন ডলার – যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে প্রায় ৭২% বেশি 

এই আর্টিকেলে আমরা ফিফার প্রতিটি আয়ের উৎস বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করব – টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকেট ও হসপিটালিটি, লাইসেন্সিং – সবকিছু।

চলুন, টাকার পেছনে ছুটে যাই।

১. ফিফার আয়ের প্রধান উৎসসমূহ – এক নজরে

ফিফার আয়ের চারটি প্রধান উৎস নিচে সারণি আকারে দেওয়া হলো (২০২৬ বিশ্বকাপ চক্রের প্রত্যাশিত আয়):

আয়ের উৎস প্রত্যাশিত আয় (২০২৬ চক্র) শতাংশ পূর্ববর্তী তুলনা (২০২২)
টিভি স্বত্ব (Broadcasting Rights) $৪.৩ বিলিয়ন ~৩৩% $৩.৪ বিলিয়ন (+২৬%)
স্পনসরশিপ ও মার্কেটিং রাইটস $১.৮-২.০ বিলিয়ন ~১৫% $০.৯ বিলিয়ন (+১০০%)
টিকেট ও হসপিটালিটি (প্রিমিয়াম সেবা) $৩.০+ বিলিয়ন ~২৩% $০.৯ বিলিয়ন (+২০০%+)
লাইসেন্সিং ও মার্চেন্ডাইজ $০.৫-০.৭ বিলিয়ন ~৫% $০.২ বিলিয়ন
অন্যান্য (অনুদান, সুদ, ইত্যাদি) $০.৫-০.৮ বিলিয়ন ~৬% পরিবর্তনশীল
মোট আয় (২০২৩-২০২৬ চক্র) ~$১৩ বিলিয়ন ১০০% $৭.৫ বিলিয়ন (২০১৯-২০২২) 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিফার প্রকৃত আয় এই লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যেতে পারে। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অধ্যাপক রিচার্ড শিহানের অনুমান অনুযায়ী, শুধু টিকেট ও ভিআইপি আসন থেকেই ফিফা $৭ বিলিয়নের বেশি আয় করতে পারে 

নিচে প্রতিটি খাত বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।

২. টিভি স্বত্ব – ফিফার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস

টিভি স্বত্ব (Broadcasting Rights) ফিফার আয়ের সবচেয়ে বড় একক উৎস। বিশ্বকাপ বিশ্বের ২০০+ দেশে সম্প্রচারিত হয়, এবং প্রতিটি অঞ্চলের সম্প্রচারকারী সংস্থা ফিফাকে কোটি কোটি ডলার পরিশোধ করে এই স্বত্বের জন্য।

২.১ টিভি স্বত্ব থেকে আয়ের বিবর্তন

নিচে প্রতি বিশ্বকাপে টিভি স্বত্ব থেকে ফিফার আয়ের তুলনা দেওয়া হলো:

বিশ্বকাপ টিভি স্বত্ব থেকে আয় বছর
২০০৬ (জার্মানি) $১.৩ বিলিয়ন ২০০৬
২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা) $২.৪ বিলিয়ন ২০১০
২০১৪ (ব্রাজিল) $২.৫ বিলিয়ন ২০১৪
২০১৮ (রাশিয়া) $৩.১ বিলিয়ন ২০১৮
২০২২ (কাতার) $৩.৪ বিলিয়ন ২০২২
২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্র/কানাডা/মেক্সিকো) $৪.৩ বিলিয়ন (প্রত্যাশিত) ২০২৬ 

টিভি স্বত্বের আয় ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে – যা ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

২.২ কীভাবে টিভি স্বত্ব বিক্রি হয়?

ফিফা বিশ্বকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে – প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা দরদাম করে:

২০২৪ সালে ফিফা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, তুরস্ক, চীন, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রসহ ২০টিরও বেশি অঞ্চলে টিভি স্বত্ব বিক্রি করেছে 

২.৩ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে বিতর্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের টিভি স্বত্ব নিয়ে চীনে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফিফা চীনা সম্প্রচারকারী সিসিটিভির কাছে অতি উচ্চ মূল্য দাবি করে। সিসিটিভি জানিয়ে দেয় – তারা এই মূল্য দিতে রাজি নয়। ফিফার যুক্তি: “স্পনসরদের বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণ করে টিভি স্বত্বের দাম।” সমালোচকরা বলেন – ফিফা নিজের লোভেই একদিন টিভি স্বত্বের বাজার ধসিয়ে দেবে 

৩. স্পনসরশিপ – ফিফার দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়ের উৎস

স্পনসরশিপ (মার্কেটিং রাইটস) ফিফার আয়ের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় উৎস। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ডগুলো ফিফার সাথে চুক্তি করে – তাদের লোগো বিশ্বকাপের মাঠে, টিভি পর্দায় ও সকল প্রচারণায় দেখা যায়।

৩.১ ফিফার স্পনসরশিপের স্তর (Tiers)

ফিফা স্পনসরদের ৪টি স্তরে ভাগ করেছে :

স্তর নাম সংখ্যা খরচ (আনুমানিক) অধিকার
টায়ার ১ ফিফা পার্টনারস (FIFA Partners) ৭-৮ ১.৫বিলিয়ন/চক্র(প্রতিপার্টনারপ্রায়২০০-২৫০ মিলিয়ন) বিশ্বকাপ + মহিলা বিশ্বকাপ + সব ফিফা ইভেন্ট
টায়ার ২ বিশ্বকাপ স্পনসর (World Cup Sponsors) ৬-৭ ~$১০০ মিলিয়ন/চক্র শুধু পুরুষ বিশ্বকাপের বৈশ্বিক অধিকার
টায়ার ৩ বিশ্বকাপ সাপোর্টার (Tournament Supporters) অসংখ্য ~$২০-৫০ মিলিয়ন/চক্র নির্দিষ্ট ইভেন্টে আঞ্চলিক অধিকার
টায়ার ৪ লাইসেন্সড প্রোডাক্ট পার্টনার (Licensed Partners) অসংখ্য রয়্যালটির ভিত্তিতে পণ্য তৈরির অধিকার

৩.২ ২০২৬ বিশ্বকাপের স্পনসরদের তালিকা

ফিফা পার্টনারস (টায়ার ১) – ৭টি কোম্পানি :

স্পনসর শিল্প চুক্তির সময়কাল বিশেষত্ব
অ্যাডিডাস (Adidas) স্পোর্টসওয়্যার ১৯৭০ সাল থেকে (৫০+ বছর) অফিসিয়াল ম্যাচ বল, রেফারি ইউনিফর্ম
কোকা-কোলা (Coca-Cola) পানীয় ১৯৭৪ সাল থেকে সফট ড্রিংক, স্পোর্টস ড্রিংক (পাওয়ারেড)
আরামকো (Aramco) জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত ৪ বছরের চুক্তি  প্রথম তেল কোম্পানি হিসেবে ফিফা পার্টনার
লেনোভো (Lenovo) টেকনোলজি ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত  অফিসিয়াল টেকনোলজি পার্টনার
ভিসা (Visa) আর্থিক সেবা ১৯৯০ সাল থেকে পেমেন্ট এক্সক্লুসিভিটি
হুন্ডাই (Hyundai) অটোমোবাইল ১৯৯৯ সাল থেকে যানবাহন স্পনসর
কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways) এয়ারলাইন সাম্প্রতিক ফ্লাইট স্পনসর

বিশ্বকাপ স্পনসর (টায়ার ২) – ৬টি কোম্পানি :

স্পনসর শিল্প
ব্যাংক অফ আমেরিকা (Bank of America) ব্যাংকিং
লে’স (Lay’s) স্ন্যাক ফুড
ভারাইজন (Verizon) টেলিকমিউনিকেশন
ম্যাকডোনাল্ডস (McDonald’s) ফাস্ট ফুড
মেংনিউ (Mengniu) দুগ্ধজাত পণ্য (চীনা কোম্পানি)
ডাভ (Dove) প্রসাধনী

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট সাপোর্টার (টায়ার ৩) :

৩.৩ স্পনসরশিপ আয় – পরিসংখ্যান

৪. টিকেট ও হসপিটালিটি – সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত

টিকেট ও প্রিমিয়াম হসপিটালিটি (VIP Hospitality) ফিফার আয়ের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত। ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০৪টি ম্যাচ হবে (পূর্বে ৬৪টি) – তাই টিকেট বিক্রির পরিমাণ ব্যাপক বেড়েছে।

৪.১ টিকেটের মূল্য কত?

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকেটের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ:

ম্যাচের ধরন সর্বনিম্ন মূল্য সর্বোচ্চ মূল্য (VIP/হসপিটালিটি)
গ্রুপ পর্ব (সাধারণ আসন) $৬০-৮০ $৮০০-১,৫০০
রাউন্ড অফ ১৬ $১০০-১৫০ $২,০০০+
কোয়ার্টার ফাইনাল $২০০-৩০০ $৩,০০০+
সেমিফাইনাল $৪০০-৬০০ $৫,০০০+
ফাইনাল $৮০০-১,২০০ $১৫,০০০+

৪.২ টিকেট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম – ফিফার নতুন আয়ের ফান্দ

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা অফিসিয়াল টিকেট রিসেল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এটি ফিফার জন্য একটি অভিনব আয়ের উৎস:

৪.৩ হসপিটালিটি – সুপার রিচদের জন্য প্যাকেজ

ফিফা হসপিটালিটি প্যাকেজ বিক্রির দায়িত্ব দিয়েছে অন লোকেশন ইভেন্টস (On Location Events) কে – একটি প্রিমিয়াম ইভেন্ট কোম্পানি । এই প্যাকেজে থাকে:

৪.৪ টিকেট থেকে কত আয়?

ফিফার অফিসিয়াল প্রজেকশন অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে টিকেট ও হসপিটালিটি থেকে আয় হবে **৩.০বিলিয়ন∗∗[citation:5][citation:7]।এটি২০২২সালের০.৯ বিলিয়ন থেকে ২০০% এর বেশি বৃদ্ধি। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন প্রকৃত আয় আরও বেশি হতে পারে – $৭ বিলিয়ন পর্যন্ত 

 ৫. লাইসেন্সিং ও মার্চেন্ডাইজিং

লাইসেন্সিং মানে – ফিফা তার লোগো, ট্রফি, মাসকট, এবং অন্যান্য বৌদ্ধিক সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে রয়্যালটি নেয়।

৫.১ লাইসেন্সিংয়ের বিভিন্ন খাত

খাত উদাহরণ আনুমানিক অবদান
অফিসিয়াল পণ্য (Apparel) টি-শার্ট, জার্সি, জ্যাকেট সর্বোচ্চ
স্মারক ও কালেক্টেবলস মিনি ট্রফি, স্টিকার, অ্যালবাম মধ্যম
ডিজিটাল ও গেমিং ভিডিও গেম (EA Sports FC, FIFA গেম) ক্রমবর্ধমান
স্টেশনারি ও গিফট আইটেম পেন, মগ, পোস্টার কম

৫.২ লাইসেন্সিং আয় – পরিসংখ্যান

৫.৩ ফিফার লাইসেন্সিং মডেল – ৩ স্তর

ফিফা লাইসেন্সিংকে ৩টি স্তরে ভাগ করেছে :

  1. ফিফা পার্টনারস – ব্যাপক অধিকার, সব পণ্যে লোগো ব্যবহার করতে পারে (অ্যাডিডাস, ভিসা ইত্যাদি)

  2. স্পনসরস – নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে পণ্য তৈরি ও বিক্রির অধিকার

  3. লাইসেন্সড প্রোডাক্ট পার্টনারস – শুধু নির্দিষ্ট পণ্য (যেমন: করপোরেট গিফট, টুইজ, মাসকট প্লাশ) তৈরি করতে পারে

আকর্ষণীয় তথ্য: ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য জারা (Zara) তাদের নিজস্ব অফিসিয়াল অনুমোদিত (অনুপ্রাণিত) ফুটবর জার্সি ইস্যু করেছে । কস্টকো (Costco) বিক্রি করেছে মেক্সিকান বিশ্বকাপ জার্সি – যার দাম ছিল অ্যাডিডাসের অফিসিয়াল জার্সির চেয়ে অনেক কম 

৬. ফিফার আয়ের সারসংক্ষেপ সারণি

নিচে ফিফার আয়ের সব কটি উৎস একসাথে দেওয়া হলো (২০২৬ চক্রের প্রত্যাশিত তথ্য):

ক্রম আয়ের উৎস প্রত্যাশিত আয় (বিলিয়ন ডলার) মূল কারণ
টিভি স্বত্ব (Broadcasting) $৪.৩ ২০০+ দেশে সম্প্রচার, দাম বেড়েছে 
স্পনসরশিপ (Marketing Rights) $১.৮-২.০ আরামকো, লেনোভোর মতো নতুন পার্টনার যোগ হয়েছে 
টিকেট ও হসপিটালিটি $৩.০+ ১০৪ ম্যাচ, দাম বৃদ্ধি, রিসেল প্ল্যাটফর্ম 
লাইসেন্সিং (Licensing) $০.৫-০.৭ জারা, কস্টকোর মতো নতুন উদ্যোগ 
অন্যান্য (অনুদান, সুদ, ফাইন) $০.৫-০.৮ রিজার্ভ থেকে আয়, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম
মোট (২০২৩-২০২৬ চক্র) ~$১৩.০ পূর্ববর্তী চক্রের চেয়ে ৭৩% বেশি 

৭. ফিফা কীভাবে টাকা খরচ করে?

আয় যেমন বিশাল, খরচও ততটাই বিশাল। ফিফার টাকা খরচ হয় কয়েকটি খাতে:

৭.১ খরচের প্রধান খাত

খাত ব্যয় (আনুমানিক) বর্ণনা
প্রাইজমানি (Prize Money) ~$৮৭১ মিলিয়ন ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের মধ্যে বিতরণ 
প্রস্তুতি (Preparation Money) $২.৫ মিলিয়ন প্রতি দল বিশ্বকাপের আগে ট্রেনিং ক্যাম্প ও প্রস্তুতির খরচ 
কোয়ালিফিকেশন বোনাস $১০ মিলিয়ন প্রতি দল বাছাই পর্বে খেলার জন্য প্রতিটি দল পায় 
আয়োজনের খরচ (Operational) ~$৩.৮ বিলিয়ন স্টেডিয়াম প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, লজিস্টিকস 
উন্নয়ন প্রকল্প ~$২ বিলিয়ন ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম, নারী ফুটবল উন্নয়ন

ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্টিনো বলেছেন – “ফিফা সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে, যা আমাদের অভূতপূর্বভাবে সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে সাহায্য করতে সক্ষম করেছে” 

৭.২ রিজার্ভ ফান্ড

৮. ভবিষ্যৎ আয় – ২০২৬ থেকে ২০৩০

ফিফার আয়ের ধারা ক্রমশ বাড়ছে। কারণ:

অনুমান করা হচ্ছে – ২০৩০ চক্রে ফিফার আয় $১৫-১৭ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

 উপসংহার (Conclusion)

ফিফার আয়ের ব্যবস্থা একটি জটিল ও বহুস্তরীয় অর্থনৈতিক মেশিন। টিভি স্বত্ব থেকে শুরু করে টিকেট রিসেল, স্পনসরশিপ থেকে লাইসেন্সিং – ফিফা কার্যত টাকার প্রতিটি ফোঁটা সংগ্রহ করে। আর সেই টাকা ফুটবল উন্নয়নে, প্রাইজমানিতে এবং ফিফার নিজস্ব পরিচালনায় খরচ হয়।

সমালোচকরা বলেন – ফিফা খুব লোভী, টিভি স্বত্বের দাম অযৌক্তিক বাড়াচ্ছে, সাধারণ দর্শক টিকেটের দাম হাতে পাচ্ছে না। ফিফার জবাব – “আমরা ফুটবলকে বাঁচাই ও বাড়াই।”

আপনি যা ভাবুন না কেন, একটি সত্যি অমোঘ – ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বাণিজ্যিক ইভেন্ট হতে যাচ্ছে। আর এই অর্থের স্রোতের মাঝে ফিফা বসে আছে মাঝখানে – কাটছে ও বিতরণ করছে।


আরো পড়ুন

 (FAQ)

১. ফিফার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস কী?

টেলিভিশন স্বত্ব – ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে প্রায় $৪.৩ বিলিয়ন 

২. ফিফা কত টাকা স্পনসরশিপ থেকে পায়?

প্রায় $১.৮ বিলিয়ন, যা ২০২২ চক্রের দ্বিগুণ 

৩. ফিফার মোট আয় কত (২০২৬ চক্র)?

প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার (২০২৩-২০২৬) 

৪. ফিফা কি অলাভজনক সংস্থা (Non-Profit)?

হ্যাঁ, আইনগতভাবে অলাভজনক। তবে তাদের বিশাল আয় হয় – যা ফুটবল উন্নয়নে “পুনর্বিনিয়োগ” করা হয় (এবং পরিচালনা খরচেও)।

৫. ফিফার টিকেট থেকে কত আয় হয়?

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রায় $৩ বিলিয়ন – যা ২০২২ চক্রের তুলনায় ২০০% বেশি 

৬. ফিফার প্রেসিডেন্টের বেতন কত?

প্রায় $২.৬ মিলিয়ন বার্ষিক। ইনফ্যান্টিনোর বেতন আয়ের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম – কিন্তু সুবিধা বাদ দিয়ে গণনা করা হয়েছে।

৭. ২০২৬ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশগুলো কত টাকা পায়?

প্রস্তুতির জন্য ২.৫মিলিয়ন,কোয়ালিফিকেশনেরজন্য১০ মিলিয়ন, অতিরিক্ত সহায়তা ১৬মিলিয়ন–মোটপ্রায়৮৭১ মিলিয়ন সব দলের মধ্যে বিতরণ করা হবে 

 তথ্যসারণি (At a Glance)

বিষয় বিবরণ
ফিফার মোট আয় (২০২৩-২০২৬ চক্র) ~$১৩ বিলিয়ন
বৃহত্তম আয়ের উৎস টিভি স্বত্ব ($৪.৩ বিলিয়ন)
স্পনসরশিপ আয় ~$১.৮ বিলিয়ন
টিকেট ও হসপিটালিটি আয় ~$৩.০ বিলিয়ন
লাইসেন্সিং আয় ~$০.৫ বিলিয়ন
সর্বোচ্চ স্তরের স্পনসর ফিফা পার্টনারস (৭টি কোম্পানি)
প্রতিটি পার্টনারের ব্যয় ~$২০০-২৫০ মিলিয়ন/চক্র
২০২৬ আয়োজনের ব্যয় ~$৩.৮ বিলিয়ন
Exit mobile version