Site icon এসো ইনকাম করি

FIFA vs English FA: ফুটবলের সিংহাসনের লড়াই – কে আসল বস? সম্পূর্ণ ইতিহাস ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

FIFA vs English FA: ফুটবলের সিংহাসনের লড়াই – কে আসল বস? সম্পূর্ণ ইতিহাস ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

FIFA vs English FA: ফুটবলের সিংহাসনের লড়াই – কে আসল বস? সম্পূর্ণ ইতিহাস ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

FIFA আর English FA – এই দুই সংস্থার মধ্যে ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলে আসছে শতাব্দীর লড়াই। কে আসলে বেশি শক্তিশালী? কেন ইংল্যান্ড ফিফা ছেড়েছিল? FIFA vs English FA: ফুটবলের সিংহাসনের লড়াই – কে আসল বস? সম্পূর্ণ ইতিহাস ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কারা তৈরি করে ফুটবলের নিয়ম? জানুন বিস্তারিত ইতিহাস, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় পড়ুন সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।

 ভূমিকা (Introduction)

ফুটবল দুনিয়ায় অনেক বড় বড় নাম আছে – মেসি, রোনালদো, নেইমার, এমবাপ্পে। কিন্তু মাঠের বাইরে আরেক লড়াই চলে – যেটা দেখার জন্য কোনো টিকিট লাগে না, কোনো স্টেডিয়াম ভরে না, কিন্তু এই লড়াইয়ের ফলাফলই নির্ধারণ করে ফুটবলের ভবিষ্যৎ।

এই লড়াইয়ের দুই পক্ষ: এক পক্ষে FIFA – যারা দাবি করে পুরো বিশ্ব ফুটবলের মালিক তারা। আর অন্য পক্ষে The Football Association (The FA) – ইংল্যান্ডের ফুটবল সংস্থা, যারা দাবি করে ফুটবল তাদের আবিষ্কার আর নিয়ম তাদের তৈরী।

প্রশ্ন হলো – কে আসলে বড়? FIFA নাকি English FA?

এই আর্টিকেলে আমরা ফিরে যাব ইতিহাসের পাতায়। দেখব কীভাবে ইংল্যান্ড একা হাতে ফুটবল চালাত। কীভাবে এলো ফিফা আর শুরু হলো ক্ষমতার লড়াই। কেন ইংল্যান্ড একাধিকবার ফিফা ছেড়ে দিয়েছে। আর আজকের পৃথিবীতে কার হাতে আসল ক্ষমতা।

চলুন, তাহলে শুরু করা যাক – ফুটবলের সিংহাসন নিয়ে লড়াইয়ের গল্প।

 ১. English FA – ফুটবলের জনক

ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন – সংক্ষেপে The FA – বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ফুটবল সংস্থা। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৩ সালের ২৬ অক্টোবর। লন্ডনের ফ্রিম্যাসনস ট্যাভার্নে এক বৈঠকে ১১টি ক্লাব ও স্কুল একত্রিত হয়ে এই সংস্থা গঠন করে।

কেন FA এত গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ FA-র সবচেয়ে বড় অবদান হলো – তারা ফুটবলের লিখিত নিয়ম তৈরি করে। ১৮৬৩ সালের ডিসেম্বরে তারা প্রথম অফিসিয়াল “Laws of the Game” প্রকাশ করে। এই নিয়মগুলোর মধ্যে ছিল:

আজকের ফুটবলের যত নিয়ম, তার ভিত্তি কিন্তু সেই ১৮৬৩ সালের নিয়ম।

FA-র আরও সাফল্য:

ইংল্যান্ডের এই সাফল্যে তারা মনে করতে শুরু করে – ফুটবল তাদের সম্পত্তি। সারা বিশ্বে যত ফুটবল খেলা হয়, সেটা তাদের তৈরি নিয়মেই হয়। তাই অন্য কোনো সংস্থা তাদের ওপর কর্তৃত্ব করবে – সেটা তারা মেনে নিতে পারেনি।

এই আত্মবিশ্বাসের কারণেই ১৯০৪ সালে ফিফা গঠনের আমন্ত্রণ তারা প্রথমে প্রত্যাখ্যান করে।

 ২. FIFA – নতুন শক্তির উত্থান

যখন ইংল্যান্ড নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত ছিল, তখন মহাদেশীয় ইউরোপে ফুটবল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, জার্মানি – দেশে দেশে ফুটবল ক্লাব গড়ে উঠছিল। কিন্তু তাদের একটি সমস্যা ছিল – ফুটবল খেলার জন্য ইংল্যান্ডের তৈরি নিয়মই তারা ব্যবহার করত। কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন, রেফারি নিয়োগ, খেলোয়াড়ের যোগ্যতা – এসবের জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না।

ফরাসি সাংবাদিক রবার্ট গেরিন এই ফাঁকা জায়গাটা দেখতে পান। তিনি বুঝতে পারেন – ফুটবলকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে ও সুশৃঙ্খল করতে চাইলে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই ১৯০৪ সালে ফিফা জন্ম নেয়।

প্রথম দিকে ফিফা ছিল দুর্বল। এর কাছে কোনো টাকা ছিল না, কোনো প্রভাব ছিল না। কিন্তু তাদের কাছে ছিল একটি বড় শক্তি – একসঙ্গে কাজ করার শক্তি। আর এই শক্তিটাই ইংল্যান্ডের মতো বড় শক্তিকেও একসময় নতজানু করতে বাধ্য করে।

 ৩. ইংল্যান্ড বনাম FIFA – লড়াইয়ের সূচনা

ফিফা গঠনের পর থেকেই ইংল্যান্ডের সাথে ফিফার সম্পর্ক ছিল টানটান। নিচে সেই লড়াইয়ের মূল পয়েন্টগুলো দেওয়া হলো:

৩.১ প্রথম দ্বন্দ্ব – ফিফাতে যোগ দেওয়া নিয়ে (১৯০৪-১৯০৫)

ফিফা গঠনের সময় ইংল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ইংলিশ এফএর সেক্রেটারি ফ্রেডরিক ওয়াল তখন জানিয়ে দেন – “The FA governed football long before FIFA was even thought of. We don’t need them.”

অর্থাৎ – “ফিফার জন্মের অনেক আগে থেকেই আমরা ফুটবল চালাই। আমাদের তাদের দরকার নেই।”

কিন্তু এক বছর পর ইংল্যান্ড বুঝতে পারে – ফিফা ছাড়া তারা ইউরোপের বাকি দেশগুলোর সাথে সঠিকভাবে সম্পর্ক রাখতে পারছে না। তাই ১৯০৫ সালে তারা ফিফার সদস্যপদ নেয়।

৩.২ অলিম্পিক ও অপেশাদার বিতর্ক (১৯০৮-১৯২৮)

১৯০৮ লন্ডন অলিম্পিকে ফুটবল অন্তর্ভুক্ত হয়। ফিফা ও ইংল্যান্ড উভয়েই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চায়। কিন্তু তখন অলিম্পিকে শুধু অপেশাদার খেলোয়াড়রা খেলতে পারত। ইংল্যান্ডের পেশাদার খেলোয়াড়রা বাদ পড়ে যান।

ইংল্যান্ড ফিফার ওপর চাপ দেয় নিয়ম বদলাতে। ফিফা রাজি না হলে ইংল্যান্ড ১৯২৮ সালে ফিফা ছেড়ে দেয়। তারা ১৯৪৬ সালে আবার ফিরে আসে।

৩.৩ বিশ্বকাপ নিয়ে দ্বন্দ্ব (১৯২০-১৯৩০)

১৯২০ সালে ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দেন। ইংল্যান্ড সরাসরি বিরোধিতা করে। তাদের যুক্তি ছিল – “Olympics are enough for international football. We don’t need another tournament.”

ফলাফল? ইংল্যান্ড ১৯৩০, ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে খেলেইনি। কারণ তারা ফিফাকে মেনে নিতে চায়নি। প্রথম বিশ্বকাপ উরুগুয়েতে হয়, ইংল্যান্ড সেখানে অংশ নেয়নি। পরের দুই বিশ্বকাপেও না।

১৯৫০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড প্রথমবার অংশ নেয়। কিন্তু ততদিনে ফিফা বিশ্বকাপ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট হয়ে গেছে। ইংল্যান্ড বুঝতে পারে – ফিফা ছাড়া ফুটবল বড় হচ্ছে না।

৩.৪ নিয়ম তৈরির অধিকার নিয়ে লড়াই (IFAB)

ফুটবলের মূল নিয়ম তৈরি করে ইংল্যান্ড। ফিফা তৈরি হওয়ার পর প্রশ্ন আসে – কে নিয়ম তৈরি করবে?

দীর্ঘ আলোচনার পর ১৮৮৬ সালে তৈরি হয় IFAB – International Football Association Board। এতে চারটি ব্রিটিশ সংস্থা (ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড) ও ফিফা সদস্য ছিল। কিন্তু ফিফার তখন কোনো ভোটাধিকার ছিল না!

১৯১৩ সালে ফিফা IFAB-তে ঢোকে। আজকের নিয়ম হলো: IFAB-তে ৮টি ভোট – ৪টি ব্রিটিশ সংস্থার, ৪টি ফিফার। নিয়ম বদলাতে ৬ ভোট দরকার। অর্থাৎ ফিফার ৪ ভোট আছে, ব্রিটিশদের ৪ ভোট। ব্রিটিশদের কোনো ভোট সমর্থন ছাড়া ফিফা নিয়ম বদলাতে পারে না।

এটাই এখনো ফুটবলের সবচেয়ে বড় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জায়গা।

 ৪. কার power বেশি? – পয়েন্ট টু পয়েন্ট তুলনা

নিচে FIFA ও English FA-র তুলনা দেওয়া হলো – বিভিন্ন দিক থেকে:

বিষয় FIFA English FA
প্রতিষ্ঠা ১৯০৪, প্যারিস ১৮৬৩, লন্ডন
সদস্য ২১১টি দেশ শুধু ইংল্যান্ড (ব্রিটিশ)
প্রভাবের এলাকা পুরো বিশ্ব শুধু ইংল্যান্ড
আর্থিক সামর্থ্য বিলিয়ন ডলার মিলিয়ন পাউন্ড
বিশ্বকাপ আয়োজন হ্যাঁ (FIFA World Cup) না
নিয়ম তৈরির ক্ষমতা IFAB-তে ৪ ভোট (মোট ৮ এর মধ্যে) IFAB-তে ৪ ভোটের ১টি অংশ (সব ব্রিটিশ মিলে ৪)
টুর্নামেন্ট আয়োজন বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এফএ কাপ, ইংলিশ লিগ
প্রেসিডেন্ট/চেয়ারম্যান জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো ডেবি হিউইট

তাহলে কে বেশি শক্তিশালী?

এক কথায় বলা কঠিন। কারণ:

তবে বর্তমানে FIFA-র power অনেক বেশি। কারণ ফিফা বিশ্বকাপ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্পোর্টস ইভেন্ট। ফিফার বাজেট ইংলিশ এফএ-র চেয়ে কয়েকশ গুণ বড়।

কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইংল্যান্ড এখনো ফিফার ওপর ক্ষমতা রাখে – IFAB। নিয়ম বদলাতে ফিফাকে ব্রিটিশ ভোট চাইতে হয়। যেমন VAR আনতে, অফসাইড নিয়ম বদলাতে, ৫ সাবস্টিটিউশন আনতে – সবকিছুতেই ব্রিটিশদের সমর্থন লাগে।

 ৫. IFAB – যেখানে লড়াই এখনো শেষ হয়নি

IFAB-এর পূর্ণরূপ হলো International Football Association Board। এটি বিশ্ব ফুটবলের পার্লামেন্ট। খেলার যেকোনো নিয়ম পরিবর্তন করতে হলে IFAB-এর অনুমোদন লাগে।

IFAB-র গঠন:

সদস্য ভোট সংখ্যা
The FA (ইংল্যান্ড)
স্কটিশ FA
FA of Wales
আইরিশ FA
FIFA
মোট

নিয়ম বদলাতে কত ভোট লাগে?

এই সিস্টেমে ব্রিটিশদের একটি ভেটো পাওয়ার আছে। কারণ FIFA-র ৪ ভোট আছে, কিন্তু ব্রিটিশদের সম্মিলিত ৪ ভোট। কোনো ব্রিটিশ সংস্থা সমর্থন না করলে FIFA কোনো নিয়ম বদলাতে পারে না।

ইতিহাসের কিছু বড় নিয়ম পরিবর্তন:

বছর নিয়ম পরিবর্তন কার উদ্যোগ
১৯৯২ ব্যাকপাস নিষিদ্ধ (গোলকিপার হাতে নিতে পারে না) FIFA
২০১৮ VAR আনুষ্ঠানিকভাবে চালু FIFA + IFAB
২০২০ ৫ সাবস্টিটিউশন (করোনার সময়) IFAB
২০২২ সেমি-অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি FIFA

এখন প্রশ্ন – FIFA-র এত ক্ষমতা থাকার পরেও কেন IFAB টিকিয়ে রেখেছে? কারণ ফিফা জানে – ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ফুটবলের মূল দর্শন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তারা ব্রিটিশদের সম্মান করে।

 ৬. ইংল্যান্ড কেন একাধিকবার ফিফা ছেড়েছিল?

ইংল্যান্ড ও ফিফার সম্পর্ক কখনো স্ট্রেইট ছিল না। ইংল্যান্ড তিনবার ফিফা ছেড়েছিল:

৬.১ প্রথমবার: ১৯২৮-১৯৪৬ (১৮ বছর)

কারণ: অলিম্পিকে অপেশাদার খেলোয়াড়দের বাধ্যতামূলক করা। ইংল্যান্ড চেয়েছিল পেশাদার খেলোয়াড়রাও অলিম্পিকে খেলুক। ফিফা রাজি হয়নি। ফলে ইংল্যান্ড ফিফা ত্যাগ করে। তারা ১৯৪৬ সালে আবার ফিরে আসে।

৬.২ দ্বিতীয়বার: ছিল না – আসলে প্রথমবারই বড় বিরতি

ইংল্যান্ড দ্বিতীয়বার ফিফা ছাড়েনি, তবে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ফিফার প্রতি তাদের অনাস্থা ছিল। তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে শুরু করে ১৯৫০ সাল থেকে।

৬.৩ তৃতীয়বার: ছিল না – বরং ফিফা ইংল্যান্ডকে ছাড়েনি

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো – ইংল্যান্ড যখন ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করে, তখন ফিফার অনেক নিয়ম তাদের মেনে নিতে হয়েছিল। অর্থাৎ, ইংল্যান্ড বুঝতে পারে – ফিফা ছাড়া বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা অসম্ভব।

 ৭. আর্থিক দিক থেকে তুলনা – কে কত ধনী?

FIFA-র আর্থিক অবস্থা ইংলিশ FA-র চেয়ে অনেক মজবুত।

FIFA-র আয় (২০২২ সালের তথ্য):

আয়ের উৎস পরিমাণ (আনুমানিক)
টিভি স্বত্ব বিক্রি $২.৬ বিলিয়ন
স্পনসরশিপ $১.৫ বিলিয়ন
লাইসেন্সিং ও মার্চেন্ডাইজ $০.৫ বিলিয়ন
টিকেট ও হসপিটালিটি $০.৮ বিলিয়ন
মোট প্রায় $৫.৪ বিলিয়ন

English FA-র আয় (২০২২ সালের তথ্য):

আয়ের উৎস পরিমাণ (আনুমানিক)
টিভি স্বত্ব (ইংলিশ ফুটবল) £৪০০ মিলিয়ন
স্পনসরশিপ £১০০ মিলিয়ন
ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম থেকে আয় £৫০ মিলিয়ন
মোট প্রায় £৫৫০ মিলিয়ন (প্রায় $৭০০ মিলিয়ন)

মানে, FIFA-র আয় ইংলিশ FA-র চেয়ে প্রায় ৭ গুণ বেশি। তাই FIFA অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে পারে, অনেক বেশি প্রভাব খাটাতে পারে।

 ৮. ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আজ – কেমন অবস্থা?

আজকের পৃথিবীতে FIFA অনেক বড়। কিন্তু ইংল্যান্ড এখনও কিছু জায়গায় FIFA-র মাথা নত করতে বাধ্য করে না। বরং তারা সমান্তরালভাবে চলে।

কোন জায়গায় FIFA শক্তিশালী?

কোন জায়গায় ইংলিশ FA শক্তিশালী?

কোন জায়গায় দ্বন্দ্ব চিরস্থায়ী?

 ৯. ভবিষ্যৎ – FIFA কি ইংল্যান্ডকে হারাবে?

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন – ফিফা দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। নতুন ক্লাব বিশ্বকাপ, বড় বিশ্বকাপ ফরম্যাট – ফিফা তার প্রসার ঘটাচ্ছে। কিন্তু ইংল্যান্ড পুরোপুরি পিছিয়ে নেই।

IFAB সিস্টেম যতদিন থাকবে, ইংল্যান্ডের কিছু ক্ষমতা থাকবেই। ফিফা চাইলেও একা নিয়ম বদলাতে পারে না। অর্থাৎ ফুটবলের মূল আইন তৈরিতে ইংল্যান্ডের ভূমিকা থাকবেই।

তবে FIFA কোনোদিন ইংল্যান্ডকে পুরোপুরি হারাতে পারবে না – কারণ ফুটবলের জন্ম ইংল্যান্ডে, ফুটবলের আত্মা সেখানে। FIFA জানে, ইংল্যান্ডের সমর্থন ছাড়া বিশ্ব ফুটবল কল্পনাও করা যায় না।

 উপসংহার (Conclusion)

FIFA আর English FA – দুই সংস্থার সম্পর্ক ঠিক বড় ভাই ও ছোট ভাইয়ের মতো নয়, বরং দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মতো। ইংল্যান্ড ফুটবলের জনক। কিন্তু ফিফা ফুটবলকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে। কেউ কাউকে ছাড়া অসম্পূর্ণ।

প্রশ্নের উত্তরে – কার power বেশি?

বর্তমান বিশ্বে FIFA-র power বেশি – কারণ তার প্রভাব, তার টাকা, তার সদস্য সংখ্যা সবকিছুই অনেক বড়। কিন্তু IFAB-তে ইংল্যান্ড এখনো FIFA-র মাথা নত করতে বাধ্য করে না। তাই সম্পূর্ণ একচেটিয়া ক্ষমতা ফিফার হাতে নেই।

ফুটবল যতদিন থাকবে, এই দুই শক্তির লড়াই ততদিন চলবে। আর সেই লড়াইয়ের ফলেই ফুটবল ক্রমশ উন্নত হচ্ছে, বড় হচ্ছে।

আমরা দর্শক হিসেবে শুধু উপভোগ করি – মাঠের লড়াই আর মাঠের বাইরের এই লড়াই – দুই-ই ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আরো পড়ুন

 (FAQ)

১. English FA কি FIFA-র অধীনে?

না। English FA ইংল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল সংস্থা, যা FIFA-র সদস্য। অর্থাৎ FIFA-র সদস্যপদ আছে, কিন্তু পুরোপুরি অধীন নয়।

২. FIFA কি English FA-কে ban দিতে পারে?

হ্যাঁ, FIFA চাইলে যেকোনো সদস্য সংস্থাকে নিষিদ্ধ করতে পারে। তবে ইংল্যান্ড এত বড় সংস্থা যে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া FIFA-র পক্ষে কঠিন।

৩. IFAB-তে কেন ব্রিটিশদের বেশি ভোট?

কারণ IFAB তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ সংস্থাগুলোর উদ্যোগে, ফিফার অনেক আগে। ইতিহাসের কারণে সেই সুবিধা এখনো বহাল রয়েছে।

৪. ইংল্যান্ড কি কখনো FIFA থেকে বেরিয়ে যেতে পারে?

আইনগতভাবে পারে। কিন্তু বেরিয়ে গেলে তারা বিশ্বকাপ, ইউরো – কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই খেলতে পারবে না। তাই সম্ভাবনা খুব কম।

৫. বর্তমানে দুই সংস্থার সম্পর্ক কেমন?

ঠান্ডা যুদ্ধের মতো। প্রকাশ্যে সুসম্পর্ক, পেছনে টানাপড়েন। FIFA আরও শক্তিশালী হতে চায়, ইংল্যান্ড তার ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে চায়।

৬. সবচেয়ে বড় বিতর্ক কোনটি?

২০২১ সালে প্রস্তাবিত ‘বায়েনিয়াল বিশ্বকাপ’ (প্রতি দুই বছর পর বিশ্বকাপ) – ফিফা চেয়েছিল, ইংল্যান্ডসহ ব্রিটিশ সংস্থাগুলো তীব্র বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত ফিফা পিছু হটে।

৭. সাধারণ ফুটবল ভক্তের জন্য এই লড়াই কী বোঝায়?

ভক্তদের জন্য মাঠের খেলাই আসল। কিন্তু নিয়ম পরিবর্তন, টুর্নামেন্টের সময়সূচি – সবকিছুই এই লড়াইয়ের ফল। তাই পরোক্ষভাবে ভক্তরাও প্রভাবিত হন।

 (At a Glance)

বিষয় FIFA English FA
প্রতিষ্ঠা সাল ১৯০৪ ১৮৬৩
সদর দপ্তর জুরিখ, সুইজারল্যান্ড লন্ডন, ইংল্যান্ড
প্রধান ব্যক্তি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো (প্রেসিডেন্ট) ডেবি হিউইট (চেয়ারম্যান)
সদস্য সংখ্যা ২১১ দেশ ১ দেশ
বাজেট ~$৫.৪ বিলিয়ন (২০২২) ~£৫৫০ মিলিয়ন (২০২২)
প্রধান টুর্নামেন্ট FIFA বিশ্বকাপ এফএ কাপ
নিয়ম তৈরিতে ক্ষমতা IFAB-তে ৪ ভোট IFAB-তে ১ ভোট (ব্রিটিশ মিলে ৪)
বিশ্বব্যাপী প্রভাব সর্বোচ্চ শুধু ইংল্যান্ডে সীমিত

(Tags)

FIFA vs English FA, FIFA power, English FA history, IFAB voting system, football governing body fight, FIFA and England relation, football rules making authority, FIFA vs FA comparison, football power struggle, FIFA FA controversy
Exit mobile version