FIFA U-20 ও U-17 বিশ্বকাপ: ভবিষ্যৎ তারকাদের মেলা – ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন, রেকর্ড ও উদীয়মান খেলোয়াড় (২০২৫ আপডেট)
মেসি, মারাদোনা, এমবাপ্পে – তারা সবাই একসময় অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ খেলেছেন। ফিফার যুব বিশ্বকাপগুলোFIFA U-20 ও U-17 বিশ্বকাপ: ভবিষ্যৎ তারকাদের মেলা – ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন, রেকর্ড ও উদীয়মান খেলোয়াড় (২০২৫ আপডেট) ভবিষ্যৎ তারকাদের প্রথম বড় মঞ্চ। U-20 ও U-17 বিশ্বকাপের ইতিহাস, সব চ্যাম্পিয়ন, রেকর্ড ও কোন খেলোয়াড় সেখান থেকে বড় হয়েছেন – জানুন বিস্তারিত। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
আপনি কি জানেন – লিওনেল মেসি, ডিয়েগো মারাদোনা, কিলিয়ান এমবাপ্পে, পেলে – এই সব মহাতারকারা একবার ছিলেন কিশোর ফুটবলার। আর তাদের প্রতিভা প্রথম বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়েছিল ফিফার যুব বিশ্বকাপে (U-20 ও U-17 বিশ্বকাপ)।
ফিফা শুধু সিনিয়র বিশ্বকাপ নিয়ে কাজ করে না। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য আলাদা দুটি বিশ্বকাপ আয়োজন করে:
-
FIFA U-20 বিশ্বকাপ (বয়স ২০-এর নিচে)
-
FIFA U-17 বিশ্বকাপ (বয়স ১৭-এর নিচে)
এই টুর্নামেন্টগুলো ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকাদের প্রথম বড় মঞ্চ। এখান থেকেই উঠে আসেন মেসি, আগুয়েরো, পোগবা, এমবাপ্পে, হালান্ডের মতো খেলোয়াড়রা।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো:
-
U-20 ও U-17 বিশ্বকাপের ইতিহাস ও সূচনা
-
সব চ্যাম্পিয়ন দলের তালিকা
-
কোন তারকারা এই টুর্নামেন্ট থেকে উঠে এসেছেন
-
রেকর্ড ও পরিসংখ্যান
-
বর্তমান ফরম্যাট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চলুন, শুরু করা যাক – ভবিষ্যৎ তারকাদের মেলা ঘুরে দেখি।
১. FIFA U-20 বিশ্বকাপ – ইতিহাস ও বিবর্তন
১.১ সূচনা
FIFA U-20 বিশ্বকাপ (পূর্বনাম: FIFA World Youth Championship) শুরু হয় ১৯৭৭ সালে। তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের উদ্যোগে এই টুর্নামেন্ট চালু হয়।
প্রথম আসর: ১৯৭৭ – তিউনিসিয়া
প্রথম চ্যাম্পিয়ন: সোভিয়েত ইউনিয়ন
১.২ নাম পরিবর্তন
-
১৯৭৭-২০০১: FIFA World Youth Championship
-
২০০৫-বর্তমান: FIFA U-20 World Cup
২০০৫ সালে ফিফা সব যুব টুর্নামেন্টের নাম পরিবর্তন করে ‘বিশ্বকাপ’ নামকরণ করে – যাতে গুরুত্ব ও আকর্ষণ বাড়ে।
১.৩ বর্তমান ফরম্যাট
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| বয়স সীমা | ২০ বছর বা তার কম (টুর্নামেন্টের বছর অনুযায়ী) |
| দল সংখ্যা | ২৪টি |
| ম্যাচ সংখ্যা | ৫২টি |
| অন্তর | প্রতি ২ বছর অন্তর |
| প্রথম আসর | ১৯৭৭ |
| বর্তমান চ্যাম্পিয়ন (২০২৩) | উরুগুয়ে (২০২৩ সালে আর্জেন্টিনায়) |
১.৪ অংশগ্রহণের যোগ্যতা
প্রতিটি কনফেডারেশন তাদের নিজস্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করে – সেখান থেকে দলগুলো U-20 বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করে। কনফেডারেশন অনুযায়ী আসন বণ্টন:
| কনফেডারেশন | আসন সংখ্যা |
|---|---|
| উয়েফা (ইউরোপ) | ৫-৬টি |
| ক্যাফ (আফ্রিকা) | ৪টি |
| এএফসি (এশিয়া) | ৪টি |
| কনকাকাফ (উত্তর আমেরিকা) | ৪টি |
| কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা) | ৪টি |
| ওএফসি (ওশেনিয়া) | ২টি |
| আয়োজক দেশ | ১টি (স্বয়ংক্রিয়) |
🏆 ২. U-20 বিশ্বকাপের ইতিহাস ও চ্যাম্পিয়ন (১৯৭৭-২০২৩)
নিচে U-20 বিশ্বকাপের সব আসরের চ্যাম্পিয়ন ও স্মরণীয় ঘটনা দেওয়া হলো:
| বছর | আয়োজক দেশ | চ্যাম্পিয়ন | রানার-আপ | স্কোর | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১৯৭৭ | তিউনিসিয়া | সোভিয়েত ইউনিয়ন | মেক্সিকো | ২-২ (অ.স.), ৯-৮ পেনাল্টি | প্রথম আসর, ইতিহাসের দীর্ঘতম পেনাল্টি শুটআউট (২২টি পেনাল্টি) |
| ১৯৭৯ | জাপান | আর্জেন্টিনা | সোভিয়েত ইউনিয়ন | ৩-১ | প্রথমবার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন – মারাদোনা খেলেন |
| ১৯৮১ | অস্ট্রেলিয়া | পশ্চিম জার্মানি | কাতার | ৪-০ | জার্মানির প্রথম জয় |
| ১৯৮৩ | মেক্সিকো | ব্রাজিল | আর্জেন্টিনা | ১-০ | ব্রাজিলের প্রথম জয় |
| ১৯৮৫ | সোভিয়েত ইউনিয়ন | ব্রাজিল | স্পেন | ১-০ (অ.স.) | ব্রাজিল টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন |
| ১৯৮৭ | চিলি | যুগোস্লাভিয়া | পশ্চিম জার্মানি | ১-১ (অ.স.), ৫-৪ পেনাল্টি | যুগোস্লাভিয়ার প্রথম ও শেষ জয় |
| ১৯৮৯ | সৌদি আরব | পর্তুগাল | নাইজেরিয়া | ২-০ | পর্তুগালের প্রথম জয় |
| ১৯৯১ | পর্তুগাল | পর্তুগাল | ব্রাজিল | ০-০ (অ.স.), ৪-২ পেনাল্টি | পর্তুগাল টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন |
| ১৯৯৩ | অস্ট্রেলিয়া | ব্রাজিল | ঘানা | ২-১ | ব্রাজিল তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন |
| ১৯৯৫ | কাতার | আর্জেন্টিনা | ব্রাজিল | ২-০ | আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় জয় |
| ১৯৯৭ | মালয়েশিয়া | আর্জেন্টিনা | উরুগুয়ে | ২-১ | আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন |
| ১৯৯৯ | নাইজেরিয়া | স্পেন | জাপান | ৪-০ | স্পেনের প্রথম জয় |
| ২০০১ | আর্জেন্টিনা | আর্জেন্টিনা | ঘানা | ৩-০ | আর্জেন্টিনার চতুর্থ জয় |
| ২০০৩ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ব্রাজিল | স্পেন | ১-০ | ব্রাজিল চতুর্থবার চ্যাম্পিয়ন |
| ২০০৫ | নেদারল্যান্ডস | আর্জেন্টিনা | নাইজেরিয়া | ২-১ | লিওনেল মেসির টুর্নামেন্ট – তিনি গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট জিতেন |
| ২০০৭ | কানাডা | আর্জেন্টিনা | চেক প্রজাতন্ত্র | ২-১ | আর্জেন্টিনার ষষ্ঠ জয় (সর্বোচ্চ) |
| ২০০৯ | মিশর | ঘানা | ব্রাজিল | ০-০ (অ.স.), ৪-৩ পেনাল্টি | ঘানার প্রথম জয় – আফ্রিকার প্রথম U-২০ বিশ্বকাপ জয় |
| ২০১১ | কলম্বিয়া | ব্রাজিল | পর্তুগাল | ৩-২ (অ.স.) | ব্রাজিলের পঞ্চম জয় |
| ২০১৩ | তুরস্ক | ফ্রান্স | উরুগুয়ে | ০-০ (অ.স.), ৪-১ পেনাল্টি | ফ্রান্সের প্রথম জয় – পোগবা সেরা খেলোয়াড় |
| ২০১৫ | নিউজিল্যান্ড | সার্বিয়া | ব্রাজিল | ২-১ (অ.স.) | সার্বিয়ার প্রথম জয় (যুগোস্লাভিয়ার পর) |
| ২০১৭ | দক্ষিণ কোরিয়া | ইংল্যান্ড | ভেনেজুয়েলা | ১-০ | ইংল্যান্ডের প্রথম U-২০ বিশ্বকাপ জয় |
| ২০১৯ | পোল্যান্ড | ইউক্রেন | দক্ষিণ কোরিয়া | ৩-১ | ইউক্রেনের প্রথম জয় |
| ২০২১ | ইন্দোনেশিয়া | বাতিল (কোভিড-১৯ এর কারণে) | – | – | ইতিহাসে প্রথম বাতিল |
| ২০২৩ | আর্জেন্টিনা | উরুগুয়ে | ইতালি | ১-০ | উরুগুয়ের প্রথম জয় (আর্জেন্টিনার মাটিতে – বিশেষ) |
পরিসংখ্যান:
-
সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন: আর্জেন্টিনা (৬ বার)
-
দ্বিতীয় সর্বাধিক: ব্রাজিল (৫ বার), পর্তুগাল (২ বার)
-
একাধিকবার ফাইনালে উঠেছে: ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, নাইজেরিয়া
৩. U-20 বিশ্বকাপ থেকে উঠে আসা তারকারা
U-20 বিশ্বকাপ সবসময় ভবিষ্যৎ তারকাদের চিহ্নিত করার জায়গা। নিচে কয়েকজন উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়ের নাম দেওয়া হলো:
| খেলোয়াড় | দেশ | বছর | অর্জন | পরবর্তী সাফল্য |
|---|---|---|---|---|
| ডিয়েগো মারাদোনা | আর্জেন্টিনা | ১৯৭৯ | টুর্নামেন্ট খেলেন | ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়, সর্বকালের সেরা |
| লিওনেল মেসি | আর্জেন্টিনা | ২০০৫ | গোল্ডেন বল + গোল্ডেন বুট | ২০২২ বিশ্বকাপ জয়, ৮টি ব্যালন ডি’অর |
| সের্হিও আগুয়েরো | আর্জেন্টিনা | ২০০৫ | মেসির সাথে খেলেন | প্রিমিয়ার লিগ জয়, আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ |
| পল পোগবা | ফ্রান্স | ২০১৩ | সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল) | ২০১৮ বিশ্বকাপ জয় |
| এরলিং হালান্ড | নরওয়ে | ২০১৯ | টুর্নামেন্ট খেলেন (নরওয়ে গ্রুপ পর্বে বাদ) | বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার, ম্যানসিটি |
| ডিয়েগো ফোরলান | উরুগুয়ে | ১৯৯৯ | টুর্নামেন্ট খেলেন | ২০১০ বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল |
| লুইস ফিগো | পর্তুগাল | ১৯৯১ | পর্তুগাল চ্যাম্পিয়ন | ২০০০ ব্যালন ডি’অর |
| আদ্রিয়ানো | ব্রাজিল | ২০০১ | টুর্নামেন্ট খেলেন | ইন্টার মিলানের হয়ে সিরি আ শিরোপা |
| ডেভিড সিলভা | স্পেন | ২০০৩ | টুর্নামেন্ট খেলেন | বিশ্বকাপ ও ইউরো জয় |
| ডোমিনিক লিভাকোভিচ | ক্রোয়েশিয়া | ২০১৫ | টুর্নামেন্ট খেলেন | ২০২২ বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপারদের একজন |
২০০৫ সালের আর্জেন্টিনা দল – ইতিহাসের সেরা যুব দল
২০০৫ সালের U-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন:
-
লিওনেল মেসি
-
সের্হিও আগুয়েরো
-
ফার্নান্দো গাগো
-
অস্কার উস্তারি
এই দলটি টুর্নামেন্ট জেতে এবং মেসি ইতিহাসের সেরা যুব খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন।
৪. FIFA U-17 বিশ্বকাপ – কিশোর তারকাদের মেলা
৪.১ সূচনা ও ইতিহাস
FIFA U-17 বিশ্বকাপ শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয় চীনে। প্রথম চ্যাম্পিয়ন ছিল নাইজেরিয়া।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| বয়স সীমা | ১৭ বছর বা তার কম |
| দল সংখ্যা | ২৪টি (২০২৫ সাল থেকে ৪৮-এ উন্নীত করার প্রস্তাব) |
| প্রথম আসর | ১৯৮৫ |
| বর্তমান চ্যাম্পিয়ন (২০২৩) | জার্মানি (ইন্দোনেশিয়ায়) |
| সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন | নাইজেরিয়া (৫ বার) |
৪.২ U-17 বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের তালিকা (১৯৮৫-২০২৩)
| বছর | আয়োজক | চ্যাম্পিয়ন | রানার-আপ | স্কোর |
|---|---|---|---|---|
| ১৯৮৫ | চীন | নাইজেরিয়া | পশ্চিম জার্মানি | ২-০ |
| ১৯৮৭ | কানাডা | সোভিয়েত ইউনিয়ন | নাইজেরিয়া | ১-১ (অ.স.), ৪-২ পেনাল্টি |
| ১৯৮৯ | স্কটল্যান্ড | সৌদি আরব | স্কটল্যান্ড | ২-২ (অ.স.), ৫-৪ পেনাল্টি |
| ১৯৯১ | ইতালি | ঘানা | স্পেন | ১-০ |
| ১৯৯৩ | জাপান | নাইজেরিয়া | ঘানা | ২-১ |
| ১৯৯৫ | ইকুয়েডর | ঘানা | ব্রাজিল | ৩-২ |
| ১৯৯৭ | মিশর | ব্রাজিল | ঘানা | ২-১ |
| ১৯৯৯ | নিউজিল্যান্ড | ব্রাজিল | অস্ট্রেলিয়া | ০-০ (অ.স.), ৮-৭ পেনাল্টি |
| ২০০১ | ত্রিনিদাদ ও টোবাগো | ফ্রান্স | নাইজেরিয়া | ৩-০ |
| ২০০৩ | ফিনল্যান্ড | ব্রাজিল | স্পেন | ১-০ |
| ২০০৫ | পেরু | মেক্সিকো | ব্রাজিল | ৩-০ |
| ২০০৭ | দক্ষিণ কোরিয়া | নাইজেরিয়া | স্পেন | ০-০ (অ.স.), ৩-০ পেনাল্টি |
| ২০০৯ | নাইজেরিয়া | সুইজারল্যান্ড | নাইজেরিয়া | ১-০ |
| ২০১১ | মেক্সিকো | উরুগুয়ে | মেক্সিকো | ২-০ |
| ২০১৩ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | নাইজেরিয়া | মেক্সিকো | ৩-০ |
| ২০১৫ | চিলি | নাইজেরিয়া | মালি | ২-০ |
| ২০১৭ | ভারত | ইংল্যান্ড | স্পেন | ৫-২ |
| ২০১৯ | ব্রাজিল | ব্রাজিল | মেক্সিকো | ২-১ |
| ২০২১ | পেরু | বাতিল (কোভিড-১৯ এর কারণে) | – | – |
| ২০২৩ | ইন্দোনেশিয়া | জার্মানি | ফ্রান্স | ২-২ (অ.স.), ৪-৩ পেনাল্টি |
৪.৩ পরিসংখ্যান
-
সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন: নাইজেরিয়া (৫ বার)
-
দ্বিতীয় সর্বাধিক: ব্রাজিল (৪ বার), ঘানা (২ বার)
-
আফ্রিকার আধিপত্য: নাইজেরিয়া ও ঘানা মিলিয়ে ৭ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে
৫. U-17 বিশ্বকাপ থেকে উঠে আসা তারকারা
| খেলোয়াড় | দেশ | বছর | পরবর্তী সাফল্য |
|---|---|---|---|
| ল্যান্ডন ডোনোভান | যুক্তরাষ্ট্র | ১৯৯৯ | যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকালের সেরা গোলদাতা |
| টনি ক্রুস | জার্মানি | ২০০৫ | ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়, একাধিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ |
| আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা | স্পেন | ২০০১ | ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের ফাইনাল গোল |
| মারিও গোতজে | জার্মানি | ২০০৭ | ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের জয়সূচক গোল |
| ফিলিপ কুটিনহো | ব্রাজিল | ২০০৭ | বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় |
| কিলিয়ান এমবাপ্পে | ফ্রান্স | ২০১৫ | ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়, হ্যাটট্রিক ২০২২ ফাইনালে |
| জুড বেলিংহাম | ইংল্যান্ড | ২০১৯ | রিয়াল মাদ্রিদে সুপারস্টার |
এমবাপ্পে ২০১৫ সালে U-১৭ বিশ্বকাপ খেলেন। ফ্রান্স সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি মোনাকোর হয়ে অভিষেক করেছিলেন।
৬. U-20 ও U-17 বিশ্বকাপের তুলনা – পরিসংখ্যান
| বিষয় | U-20 বিশ্বকাপ | U-17 বিশ্বকাপ |
|---|---|---|
| প্রথম আসর | ১৯৭৭ | ১৯৮৫ |
| মোট আসর | ২৩টি (২০২৩ পর্যন্ত) | ১৯টি (২০২৩ পর্যন্ত) |
| বর্তমান দল সংখ্যা | ২৪টি | ২৪টি |
| সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন | আর্জেন্টিনা (৬ বার) | নাইজেরিয়া (৫ বার) |
| সবচেয়ে সফল কনফেডারেশন | কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা) | ক্যাফ (আফ্রিকা) |
| বাতিল আসর | ২০২১ (কোভিড-১৯) | ২০২১ (কোভিড-১৯) |
| বর্তমান চ্যাম্পিয়ন (২০২৩) | উরুগুয়ে | জার্মানি |
| পরবর্তী আসর | ২০২৫ (চিলি) | ২০২৫ (কাতার) |
৭. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা – সম্প্রসারণ ও সংস্কার
ফিফা যুব বিশ্বকাপের ফরম্যাট বড় করার পরিকল্পনা করছে:
৭.১ U-20 বিশ্বকাপ ২০২৫ – চিলিতে
-
দল সংখ্যা: ২৪ (এখনো অপরিবর্তিত)
-
তারিখ: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর (নির্ধারিত)
৭.২ U-17 বিশ্বকাপ ২০২৫ – কাতারে
২০২৫ সালের U-17 বিশ্বকাপ হবে কাতারে। ফিফা এটিকে বছরেক একবার করার পরিকল্পনা করছে (প্রতি ২ বছর নয়), যাতে তরুণ প্রতিভা দ্রুত চিহ্নিত করা যায়।
৭.৩ U-17 বিশ্বকাপ ৪৮ দলে উন্নীত করার প্রস্তাব
২০২৫ সালের পর থেকে ফিফা U-17 বিশ্বকাপ ৪৮ দলে উন্নীত করার কথা ভাবছে – যাতে আরও দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চ পায়।
উপসংহার (Conclusion)
FIFA U-20 ও U-17 বিশ্বকাপ শুধু টুর্নামেন্ট নয় – এগুলি ভবিষ্যৎ তারকাদের কারখানা। মারাদোনা, মেসি, এমবাপ্পে, পোগবা, হালান্ড – সবাই এই মঞ্চে প্রথমবার নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া, জার্মানি – এই দেশগুলো যুব বিশ্বকাপে আধিপত্য বিস্তার করেছে। কিন্তু সম্প্রতি উরুগুয়ে, ইংল্যান্ড ও ইউক্রেনের মতো দলও জিতেছে – প্রমাণ করে যে ফুটবলের ভবিষ্যত উজ্জ্বল।
আপনি যদি কোন তরুণ খেলোয়াড়কে চিনতে চান – U-২০ ও U-১৭ বিশ্বকাপ দেখুন। পরবর্তী মেসি হয়তো এখন সেখানে খেলছে!
আরো পড়ুন
- পার্ট-টাইম ফ্রিল্যান্সিং করে Income বাড়ানোর উপায়
- গ্রাফিক ডিজাইনে মাসে ১ লাখ টাকা Income করার কৌশল
- সেলফ-পাবলিশড ই-বুক বিক্রি করে আয় Income
- TikTok ফটো এডিটিং টিপস সেরা স্টাইল
- TikTok এর গোপন কৌশল নতুন ভিডিও শেয়ারিং
(FAQ)
১. অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ কবে শুরু হয়?
১৯৭৭ সালে তিউনিসিয়ায়। প্রথম চ্যাম্পিয়ন ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।
২. কোন দেশ সবচেয়ে বেশি অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছে?
আর্জেন্টিনা – ৬ বার।
৩. অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা কে?
পুরো টুর্নামেন্টের জন্য নির্দিষ্ট রেকর্ড ভিন্ন। তবে ২০১৩ সালে নাইজেরিয়ার কেলেচি ইহিয়েনাচো ৪ ম্যাচে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।
৪. মেসি কোন U-২০ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন?
২০০৫ সালে নেদারল্যান্ডসে। তিনি ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২টি পেনাল্টি মিস করলেও আর্জেন্টিনা জেতে। তিনি গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট জিতেন।
৫. এমবাপ্পে কি U-১৭ বিশ্বকাপ খেলেছেন?
হ্যাঁ। ২০১৫ সালে চিলিতে। ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল (কোস্টারিকার কাছে হেরে)।
৬. ২০২৫ সালের যুব বিশ্বকাপ কোথায় হবে?
U-20: চিলিতে। U-17: কাতারে (নির্ধারিত)।
৭. যুব বিশ্বকাপে কোন বয়সের খেলোয়াড়রা খেলতে পারে?
টুর্নামেন্ট শুরুর বছর অনুযায়ী – U-20-এ ২০ বছর বা তার কম, U-17-এ ১৭ বছর বা তার কম বয়সীরা খেলতে পারে।
তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | U-20 বিশ্বকাপ | U-17 বিশ্বকাপ |
|---|---|---|
| প্রথম আসর | ১৯৭৭ | ১৯৮৫ |
| সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন | আর্জেন্টিনা (৬) | নাইজেরিয়া (৫) |
| বর্তমান চ্যাম্পিয়ন | উরুগুয়ে (২০২৩) | জার্মানি (২০২৩) |
| দল সংখ্যা | ২৪ | ২৪ |
| পরবর্তী আসর | ২০২৫ (চিলি) | ২০২৫ (কাতার) |
| উল্লেখযোগ্য তারকা | মেসি, মারাদোনা, আগুয়েরো, পোগবা | এমবাপ্পে, ইনিয়েস্তা, ক্রুস, বেলিংহাম |

