FIFA গেমের লাইসেন্সিং যুদ্ধ: কীভাবে ক্লাব ও খেলোয়াড়দের লাইসেন্স নেয়া হয়, FIFPro থেকে Premier League – বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা (২০২৬ আপডেট)
FIFA গেমে আপনি কেন আসল ক্লাব ও খেলোয়াড়দের নাম দেখতে পান? কীভাবে EA Sports বা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়ার লিগ, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনার লাইসেন্স পায়? FIFPro, উয়েফা ও FIFPro-র ভূমিকা কী? লাইসেন্সিংয়ের জটিলতা, খরচ ও প্রতিযোগিতার কাহিনী। FIFA গেমের লাইসেন্সিং যুদ্ধ: কীভাবে ক্লাব ও খেলোয়াড়দের লাইসেন্স নেয়া হয়, FIFPro থেকে Premier League – বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা (২০২৬ আপডেট) ফিফা কেন নিজের গেম বানানোর চেষ্টা করছে? বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
আপনি কখনো কি ভেবেছেন – FIFA গেম খেলার সময় আপনি কেন রিয়াল মাদ্রিদের আসল জার্সি, লিভারপুলের আসল ব্যাজ ও খেলোয়াড়দের আসল নাম দেখতে পান? অথচ কিছু গেমে (যেমন: PES বা eFootball) আপনি “Man Blue”, “London FC” দেখতে পান।
এর উত্তর লুকিয়ে আছে লাইসেন্সিং-এর জটিল জগতে। FIFA গেম বানাতে হলে ডেভেলপারকে লাইসেন্স কিনতে হয় – ক্লাব থেকে, লিগ থেকে, খেলোয়াড় ইউনিয়ন থেকে, এমনকি স্টেডিয়াম থেকেও। প্রতিটি লাইসেন্স আলাদা। প্রতিটির জন্য আলাদা টাকা।
এটি একটি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। আর এই ব্যবসার মাঝখানে আছে EA Sports, যারা ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল গেম বানিয়ে আসছে।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো:
-
লাইসেন্সিং কেন এত জটিল?
-
FIFPro কী ও কীভাবে খেলোয়াড়দের লাইসেন্স নেয়?
-
প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা থেকে স্টেডিয়াম – প্রতিটি লাইসেন্সের খরচ কেমন?
-
EA Sports কীভাবে এত বড় লাইসেন্সিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে?
-
PES (eFootball) কেন লাইসেন্সিং যুদ্ধে হেরে গেল?
-
ফিফা কেন নিজের গেম বানানোর চেষ্টা করছে?
চলুন, শুরু করা যাক – ফুটবল গেম লাইসেন্সিংয়ের ভিতরের গল্প।
১. লাইসেন্সিং কেন এত জটিল?
১.১ একটি ফুটবল গেমের জন্য কত লাইসেন্স দরকার?
একটি সম্পূর্ণ ফুটবল গেম তৈরি করতে ডেভেলপারকে নিচের সবকিছুর লাইসেন্স নিতে হয়:
| লাইসেন্সের ধরন | উদাহরণ | কতটা গুরুত্বপূর্ণ |
|---|---|---|
| লিগ লাইসেন্স | প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, বুন্দেসলিগা | গেমের মূল আকর্ষণ |
| ক্লাব লাইসেন্স | রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ | দলের আসল নাম ও জার্সি |
| খেলোয়াড় লাইসেন্স | প্রতিটি খেলোয়াড়ের নাম, ছবি, বৈশিষ্ট্য | গেমের বাস্তবতা |
| স্টেডিয়াম লাইসেন্স | ক্যাম্প নউ, ওল্ড ট্রাফোর্ড, আলিয়ানৎস আরেনা | ভিজুয়াল অভিজ্ঞতা |
| প্রতিযোগিতা লাইসেন্স | উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ | টুর্নামেন্ট মোড |
| স্পনসর লাইসেন্স | অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা | জার্সির ব্র্যান্ড |
প্রশ্ন: একটি ক্লাবের লাইসেন্স নিলেই কি খেলোয়াড়ের নাম ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: না। ক্লাব লাইসেন্স শুধু দলের নাম, ব্যাজ ও জার্সি দেয়। খেলোয়াড়ের নাম ও ছবির জন্য আলাদা FIFPro লাইসেন্স লাগে।
১.২ লাইসেন্সিংয়ের জটিলতা
লাইসেন্সিং এত জটিল হওয়ার কারণগুলো হলো:
| কারণ | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| ফ্র্যাগমেন্টেশন | লাইসেন্স এক জায়গায় নেই। লিগ আলাদা, ক্লাব আলাদা, খেলোয়াড় আলাদা |
| এক্সক্লুসিভিটি | কিছু লিগ EA Sports-এর সাথে এক্সক্লুসিভ চুক্তি করে (যেমন: প্রিমিয়ার লিগ) |
| আঞ্চলিক আইন | বিভিন্ন দেশের আইন ভিন্ন (যেমন: জার্মানির ৫০+১ নিয়ম ক্লাব লাইসেন্সিংকে প্রভাবিত করে) |
| উচ্চ মূল্য | বড় লিগের লাইসেন্স নিতে কোটি কোটি ডলার খরচ হয় |
মজার তথ্য: PES (বর্তমানে eFootball) প্রিমিয়ার লিগের লাইসেন্স ছিল না। তাই তাদের গেমে আপনি “Manchester United”-এর পরিবর্তে “Man Red” বা “Liverpool”-এর পরিবর্তে “Merseyside Blue” দেখতে পেতেন।
২. FIFPro – খেলোয়াড়দের লাইসেন্সের মধ্যস্থতাকারী
২.১ FIFPro কী?
FIFPro (Fédération Internationale des Associations de Footballeurs Professionnels) হলো বিশ্ব পেশাদার ফুটবলারদের ইউনিয়ন। এটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হুফডডর্পে।
FIFPro-র সবচেয়ে বড় কাজ হলো খেলোয়াড়দের লাইসেন্স একক উৎস থেকে প্রদান করা। EA Sports যদি প্রতিটি খেলোয়াড়ের সাথে আলাদাভাবে চুক্তি করত, তা অসম্ভব ছিল। FIFPro সেই কাজ সহজ করে দেয়।
২.২ FIFPro লাইসেন্স কী দেয়?
FIFPro-র লাইসেন্সের আওতায় আসে:
| অধিকার | বর্ণনা |
|---|---|
| খেলোয়াড়ের নাম | আসল নাম (প্রথম ও শেষ নাম) |
| খেলোয়াড়ের ছবি | গেমে খেলোয়াড়ের সদৃশ (likeness) |
| খেলোয়াড়ের বৈশিষ্ট্য | বয়স, উচ্চতা, ওজন, পছন্দের পা, অবস্থান |
| খেলোয়াড়ের স্ট্যাট | গতি, শট, পাস, ড্রিবলিং-এর মান |
FIFPro লাইসেন্স থেকে বাদ: কিছু খেলোয়াড় আলাদা চুক্তি করে (যেমন: নেইমার, বেকহ্যাম আইকন)। তাদের জন্য EA Sports আলাদাভাবে লাইসেন্স নেয়।
২.৩ FIFPro লাইসেন্সের খরচ
নির্দিষ্ট সংখ্যা পাবলিক নয়, তবে শিল্প সূত্র অনুযায়ী:
-
EA Sports FIFPro-কে বার্ষিক $১০-২০ মিলিয়ন দেয়
-
বিনিময়ে তারা ৬৫,০০০+ খেলোয়াড়ের নাম ও ছবি ব্যবহার করতে পারে
৩. লিগ ও ক্লাব লাইসেন্স – প্রতিযোগিতার মাঠ
৩.১ প্রিমিয়ার লিগ – সবচেয়ে ব্যয়বহুল
প্রিমিয়ার লিগ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল লিগ। EA Sports প্রিমিয়ার লিগের সাথে এক্সক্লুসিভ চুক্তি করেছে। ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| চুক্তির সময়কাল | ২০১৯-২০২৬ (৬ বছর) |
| চুক্তির মূল্য | $৫০০ মিলিয়নের বেশি |
| এক্সক্লুসিভিটি | PES/eFootball প্রিমিয়ার লিগ লাইসেন্স পায়নি |
এই চুক্তির আওতায় EA Sports পায়:
-
২০টি ক্লাবের আসল নাম, ব্যাজ, জার্সি
-
সব স্টেডিয়ামের ডিজিটাল রেপ্লিকা
-
খেলোয়াড়দের আসল ছবি (FIFPro-র সাথে যৌথভাবে)
৩.২ লা লিগা – বিরোধ ও সমাধান
লা লিগা নিয়ে EA Sports ও Konami-র মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতা ছিল। বর্তমানে:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| বর্তমান অবস্থা | EA Sports FC-তে লা লিগার সব ক্লাব আছে |
| ব্যতিক্রম | বার্সেলোনার ক্যাম্প নউ স্টেডিয়াম নেই (আলাদা চুক্তির কারণে) |
আকর্ষণীয় তথ্য: ২০২৪-২৫ মৌসুমে EA Sports FC 24-এ বার্সেলোনার ক্যাম্প নউ স্টেডিয়াম ছিল না। এটি একটি আলাদা চুক্তির আওতায় পড়ে – যা EA Sports তখনো নেয়নি।
৩.৩ বুন্দেসলিগা – জার্মান জটিলতা
জার্মান বুন্দেসলিগার লাইসেন্সিং জটিল কারণ সেখানে ক্লাব ও লিগ আলাদাভাবে লাইসেন্স বিক্রি করে না। EA Sports ক্লাবগুলোর সাথে সরাসরি চুক্তি করে।
৩.৪ অন্যান্য লিগ
| লিগ | লাইসেন্স স্ট্যাটাস |
|---|---|
| সিরি আ (ইতালি) | EA Sports FC-তে আছে (আসন্ন পক্ষে) |
| লিগ ১ (ফ্রান্স) | EA Sports FC-তে আছে |
| এফসি (নেদারল্যান্ডস) | লাইসেন্স নেই (Manier Utrecht-এর মতো কাল্পনিক নাম) |
| MLS (যুক্তরাষ্ট্র) | সম্পূর্ণ লাইসেন্স আছে |
৪. স্টেডিয়াম লাইসেন্স – বাস্তবতার ভিজুয়াল আনয়ন
স্টেডিয়াম লাইসেন্স নেওয়া সবচেয়ে কঠিন ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়াগুলোর একটি। কারণ প্রতিটি স্টেডিয়াম আলাদা মালিকানাধীন, এবং তাদের 3D স্ক্যান করে গেমে আনার জন্য অনেক সময় ও খরচ লাগে।
EA Sports FC-তে কয়টি বাস্তব স্টেডিয়াম আছে?
-
প্রায় ১০০টির বেশি বাস্তব স্টেডিয়াম
-
প্রিমিয়ার লিগের সব স্টেডিয়াম
-
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রধান স্টেডিয়ামগুলো
স্টেডিয়াম লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া:
-
EA Sports স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে
-
অনুমতি নিয়ে 3D স্ক্যানিং টিম স্টেডিয়ামে পাঠানো হয়
-
লেজার স্ক্যান ও ফটোগ্রামেট্রি (photogrammetry) ব্যবহার করে স্টেডিয়ামের ডিজিটাল কপি তৈরি করা হয়
-
এই প্রক্রিয়ায় একটি স্টেডিয়ামের জন্য সপ্তাহ খানেক সময় লাগে
-
চুক্তি স্বাক্ষর – যার মূল্য কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে
উদাহরণ: ক্যাম্প নউ (বার্সেলোনা) ও বার্নাবেউ (রিয়াল মাদ্রিদ) আলাদা লাইসেন্সের আওতায় পড়ে। কখনো কখনো এই লাইসেন্স নিয়ে বিরোধ হয় – তাই গেমে স্টেডিয়াম পাওয়া যায় না।
৫. লাইসেন্সিং খরচ – EA Sports-কে কত টাকা দিতে হয়?
নির্দিষ্ট সংখ্যা পাবলিক করা হয় না, তবে শিল্প সূত্র ও বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী:
| খাত | বার্ষিক খরচ (আনুমানিক) |
|---|---|
| FIFA (নাম লাইসেন্স – ২০২২ পর্যন্ত) | ~$১৫০ মিলিয়ন |
| FIFPro (খেলোয়াড় লাইসেন্স) | $১০-২০ মিলিয়ন |
| প্রিমিয়ার লিগ (এক্সক্লুসিভ) | ~$৮৩ মিলিয়ন |
| লা লিগা, বুন্দেসলিগা, সিরি আ | ~$৫০-১০০ মিলিয়ন (মোট) |
| স্টেডিয়াম লাইসেন্স | $১০-২০ মিলিয়ন |
| উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ | ~$১০ মিলিয়ন |
| মোট (FIFA ছাড়া) | ~$১৫০-২০০ মিলিয়ন |
আকর্ষণীয় তথ্য: EA Sports যখন FIFA-কে লাইসেন্স ফি দিত (১৫০মিলিয়ন),তখনমোটলাইসেন্সিংখরচছিল৩৫০ মিলিয়নের মতো। ২০২৩ সালের পর EA Sports FC-তে সেই $১৫০ মিলিয়ন বেঁচে গেছে।
৬. EA Sports vs Konami – লাইসেন্সিং যুদ্ধের ইতিহাস
৬.১ লাইসেন্সিং যুদ্ধে Konami কেন হেরে গেল?
২০০০-এর দশকে Pro Evolution Soccer (PES) গেমপ্লের দিক থেকে FIFA-র চেয়ে ভালো ছিল। অনেকে মনে করত PES-এর গেমপ্লে বেশি বাস্তবসম্মত। তাহলে কেন PES হারল?
প্রধান কারণ: লাইসেন্স।
| বিষয় | EA Sports (FIFA) | Konami (PES/eFootball) |
|---|---|---|
| প্রিমিয়ার লিগ | ✔️ এক্সক্লুসিভ | ❌ নেই (Man Red, Merseyside Blue) |
| লা লিগা | ✔️ আছে | ❌ আংশিক (আগে ছিল, এখন নেই) |
| বুন্দেসলিগা | ✔️ আছে | ❌ নেই |
| খেলোয়াড়ের নাম | ✔️ আসল (FIFPro) | ✔️ আসল (FIFPro) |
| স্টেডিয়াম | ১০০+ | ২৫-৩০ |
Konami-র সীমাবদ্ধতা:
-
প্রিমিয়ার লিগের এক্সক্লুসিভ চুক্তি EA-র সাথে – PES-এ আসল নাম আনা যেত না
-
আর্থিক সীমাবদ্ধতা – লাইসেন্সিং যুদ্ধে EA-র মতো বিনিয়োগ করতে পারেনি
-
২০২১ সালে eFootball চালু করে বড় ভুল করে – লাইসেন্সিং আরও দুর্বল হয়
ফলাফল: PES-এর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে, FIFA (এখন EA Sports FC) বাজারের প্রায় ৯০% দখল করে নেয়।
৭. EA Sports FC – নাম বদল, লাইসেন্স অপরিবর্তিত
২০২৩ সালে EA Sports FIFA নাম ছাড়লেও লাইসেন্স ধরে রেখেছে। কারণ লাইসেন্সগুলো ক্লাব ও লিগের সাথে সরাসরি ছিল, FIFA-র সাথে নয়।
EA Sports FC-তে এখনও আছে:
-
প্রিমিয়ার লিগের এক্সক্লুসিভ লাইসেন্স
-
লা লিগার সব ক্লাব (স্টেডিয়াম ছাড়া কিছু)
-
বুন্দেসলিগার লাইসেন্স
-
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লাইসেন্স
-
FIFPro লাইসেন্স (খেলোয়াড়ের নাম)
শুধু যা নেই:
-
FIFA নাম (যা খেলা ছাড়া লিগের সাথে সম্পর্কিত নয়)
-
বিশ্বকাপ লাইসেন্স (FIFA-র কাছে আছে)
৮. ফিফার নিজস্ব গেম – লাইসেন্সিং যুদ্ধে নতুন খেলোয়াড়
২০২৫ সালের জুনে ফিফা চালু করে FIFA Rivals – একটি মোবাইল ফুটবল গেম (Mythical Games ডেভেলপ করেছে)।
৮.১ FIFA Rivals-এর লাইসেন্স চ্যালেঞ্জ
| চ্যালেঞ্জ | বিবরণ |
|---|---|
| ক্লাব লাইসেন্স | এখনো প্রিমিয়ার লিগের মতো বড় লিগের লাইসেন্স নেই |
| খেলোয়াড় লাইসেন্স | FIFPro লাইসেন্স আছে – তাই খেলোয়াড়ের আসল নাম ও ছবি ব্যবহার করতে পারে |
| গেমপ্লে | আর্কেড-স্টাইল (সিমুলেশন নয়) – কম জটিল, মোবাইলের জন্য তৈরি |
৮.২ FIFA + 2K Games – সিমুলেশন গেমের পরিকল্পনা
ফিফা 2K Games-এর সাথে একটি নতুন ফুটবল সিমুলেশন গেম তৈরির পরিকল্পনা করছে। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি লিগ ও ক্লাবের সাথে আলাদা লাইসেন্স নিতে হবে। এটি একটি বিশাল বিনিয়োগ ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
The Athletic-এর বিশ্লেষক আইয়ান ম্যাকিনটশ বলেছেন – এটি একটি “ব্যয়বহুল ভুল” হতে পারে EA Sports FC-র আধিপত্যের যুগে।
উপসংহার (Conclusion)
ফুটবল গেমের লাইসেন্সিং একটি জটিল, ব্যয়বহুল ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব। EA Sports এই খেলায় সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় – তারা প্রিমিয়ার লিগ থেকে FIFPro পর্যন্ত সব বড় লাইসেন্সের চুক্তি করে রেখেছে।
Konami (PES/eFootball) লাইসেন্সিং যুদ্ধে হেরে গেছে – ফলে তাদের গেমে কাল্পনিক ক্লাবের নাম দেখতে হয়।
২০২৩ সালের পর EA Sports FC নামে যাত্রা শুরু করেছে। FIFA নিজস্ব মোবাইল গেম (FIFA Rivals) এনেছে, কিন্তু সিমুলেশন গেমের লাইসেন্স এখনো EA Sports FC-র আধিপত্যে আছে।
একজন গেমার হিসেবে, আপনি যখন EA Sports FC খেলেন – আপনি শুধু একটি গেম খেলছেন না। আপনি দেখছেন বিলিয়ন ডলারের লাইসেন্সিং ব্যবসার ফলাফল। প্রতিটি ক্লাবের ব্যাজ, প্রতিটি স্টেডিয়ামের ঘাস – সবকিছুর পেছনে আছে জটিল চুক্তি, কোটি কোটি ডলার ও বছরের পর বছর আলোচনা।
লাইসেন্সিং যুদ্ধ চলবে। কিন্তু EA Sports FC এখনো বিজয়ী। ⚽🎮
আরো পড়ুন
- Tapmad: বাংলাদেশের সেরা স্পোর্টস স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম – দাম, বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার পদ্ধতি
- bd cricket: বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাস, অর্জন, তারকা খেলোয়াড় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
- ban v aus: বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্পূর্ণ ইতিহাস ও পরিসংখ্যান
- FIFA এর কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা: ফুটবল বিশ্বের প্রশাসনিক পিরামিড – কারা চালায় এই বিশাল সংস্থা? (২০২৫ আপডেট)
- ফ্রিল্যান্সিং কি?
(FAQ)
১. EA Sports কীভাবে এত বড় লাইসেন্সিং নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে?
প্রায় ৩০ বছর ধরে ধাপে ধাপে চুক্তি করে। শুরু করেছিল FIFPro ও কয়েকটি লিগ দিয়ে। পরে বড় বড় লিগের সাথে এক্সক্লুসিভ চুক্তি করে।
২. FIFPro কী ভূমিকা পালন করে?
FIFPro খেলোয়াড়দের লাইসেন্স একত্রে প্রদান করে। EA Sportsকে আলাদাভাবে ৬৫,০০০+ খেলোয়াড়ের সাথে চুক্তি করতে হয় না।
৩. কেন PES/eFootball-এ আসল ক্লাবের নাম নেই?
Konami প্রিমিয়ার লিগের মতো বড় লিগের এক্সক্লুসিভ লাইসেন্স পায়নি। ফলে তাদের কাল্পনিক নাম (Man Red, Merseyside Blue) ব্যবহার করতে হয়েছে।
৪. EA Sports FC-তে সব লিগের লাইসেন্স আছে কি?
সব না। এফসি (নেদারল্যান্ডস), লিগা পর্তুগাল – কিছু লিগ লাইসেন্সের আওতায় নেই। তবে প্রধান লিগগুলো (প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, বুন্দেসলিগা) আছে।
৫. স্টেডিয়াম লাইসেন্স নিতে কত খরচ হয়?
প্রতি স্টেডিয়ামের জন্য কয়েক লাখ ডলার। EA Sports FC-তে ১০০টির বেশি স্টেডিয়াম আছে।
৬. FIFA Rivals-এ কি আসল ক্লাব আছে?
FIFA Rivals একটি আর্কেড-স্টাইল মোবাইল গেম। এতে সব লিগের লাইসেন্স নেই – তবে FIFPro লাইসেন্সের কারণে খেলোয়াড়দের আসল নাম আছে।
৭. ফিফার 2K গেম কবে আসবে?
এখনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আসার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু লাইসেন্সিং জটিলতার কারণে সময় লাগতে পারে।
তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রধান লাইসেন্স প্রদানকারী | FIFPro, লিগ কর্তৃপক্ষ, ক্লাব, উয়েফা |
| EA Sports-এর বার্ষিক লাইসেন্সিং খরচ | $১৫০-২০০ মিলিয়ন (FIFA নাম বাদে) |
| FIFPro লাইসেন্সের আওতায় খেলোয়াড় সংখ্যা | ৬৫,০০০+ |
| প্রিমিয়ার লিগ চুক্তির মূল্য | $৫০০ মিলিয়ন+ (২০১৯-২০২৬) |
| EA Sports FC-তে বাস্তব স্টেডিয়াম | ১০০+ |
| Konami (eFootball)-এর স্টেডিয়াম সংখ্যা | ২৫-৩০ |
| FIFA Rivals লঞ্চের তারিখ | জুন ২০২৫ |
| ভবিষ্যৎ FIFA 2K গেম | উন্নয়নশীল (তারিখ ঘোষিত নয়) |

