FIFA Fair Play: ফুটবলের সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পুরস্কার – ইতিহাস, বিজয়ী ও প্রভাব (২০২৫ আপডেট)
FIFA Fair Play পুরস্কার ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক অর্জনগুলোর একটি। এটি দেওয়া হয় সেই দল, খেলোয়াড় বা সংস্থাকে যারা মাঠের ভিতরে ও বাইরে সততা, সম্মান ও ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করে। কারা এই পুরস্কার পেয়েছেন? আর্জেন্টিনার দিয়েগো মারাদোনা থেকে শুরু করে জাপানের ভক্তরা – কেন তারা Fair Play পুরস্কার পেয়েছেন? ফিফার এই উদ্যোগের ইতিহাস ও প্রভাব। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়। এটি সম্মান, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার খেলা। ফিফা সবসময় ফুটবলের এই মূল্যবোধগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আর সেই মূল্যবোধকে উৎসাহিত করার জন্যই ফিফা চালু করেছে FIFA Fair Play পুরস্কার।
এই পুরস্কার দেওয়া হয় সেই দল, খেলোয়াড় বা সংস্থাকে – যারা মাঠের ভিতরে ও বাইরে অসাধারণ সততা, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান ও ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করে।
FIFA Fair Play পুরস্কার শুধু একটি ট্রফি নয় – এটি ফুটবলের আত্মার স্বীকৃতি।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো:
-
FIFA Fair Play পুরস্কারের ইতিহাস ও উদ্দেশ্য
-
কীভাবে বিজয়ী নির্বাচিত হয়?
-
ইতিহাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য Fair Play মুহূর্তগুলো
-
বিজয়ীদের তালিকা (দল ও ব্যক্তি)
-
বিতর্ক ও সমালোচনা
-
ফিফার অন্যান্য Fair Play উদ্যোগ
চলুন, শুরু করা যাক – ফুটবলের ভালো দিকের গল্প নিয়ে।
১. FIFA Fair Play পুরস্কার কী ও কেন চালু করা হয়?
১.১ পুরস্কারের ইতিহাস
FIFA Fair Play পুরস্কার চালু হয় ১৯৮৭ সালে। তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের উদ্যোগে এই পুরস্কার প্রবর্তিত হয়।
উদ্দেশ্য: ফুটবলে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানকে উৎসাহিত করা।
১.২ পুরস্কারের শর্তাবলি
FIFA Fair Play পুরস্কার পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে:
| মানদণ্ড | বর্ণনা |
|---|---|
| হলুদ ও লাল কার্ড কম | মৌসুমে বা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম কার্ড পাওয়া দল |
| ইতিবাচক আচরণ | প্রতিপক্ষ, রেফারি ও দর্শকদের প্রতি সম্মান দেখানো |
| সততা | মাঠের ভিতরে সৎ খেলা (ডাইভিং, সময় নষ্ট না করা) |
| সামাজিক দায়বদ্ধতা | মাঠের বাইরেও Fair Play মূল্যবোধ প্রচার |
১.৩ কীভাবে বিজয়ী নির্বাচিত হয়?
বিজয়ী নির্বাচন করেন FIFA Fair Play কমিটি। তারা নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করে:
-
ফিফা টুর্নামেন্টের রেফারি রিপোর্ট
-
শৃঙ্খলা সংক্রান্ত রেকর্ড (কার্ড, নিষেধাজ্ঞা)
-
বিশেষ Fair Play মুহূর্তের ভিডিও প্রমাণ
-
দল বা খেলোয়াড়ের সামগ্রিক আচরণ
বছরভিত্তিক পুরস্কার: ফিফা প্রতি বছর একটি দল বা ব্যক্তিকে Fair Play পুরস্কার দেয়।
বিশ্বকাপ বিশেষ পুরস্কার: প্রতি বিশ্বকাপের পর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে Fair Play দলকে একটি আলাদা পুরস্কার দেওয়া হয়।
২. ইতিহাসের সেরা Fair Play মুহূর্তগুলো
ফুটবল ইতিহাসে কিছু ঘটনা আছে যা Fair Play-র সেরা উদাহরণ। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা দেওয়া হলো:
২.১ পাওলো দি কানিও (২০০১) – সততার অনন্য উদাহরণ
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| খেলোয়াড় | পাওলো দি কানিও (ইতালি) |
| ক্লাব | ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড |
| তারিখ | ২০০১ সালের ডিসেম্বর |
| ঘটনা | এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচে দি কানিও পেনাল্টি পেলেন – কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলকিপার পল গেরার্ড ইনজুরিতে পড়েছিলেন। দি কানিও ইচ্ছাকৃতভাবে পেনাল্টি মিস করেন – যাতে ইনজুরি অবস্থায় গোলকিপারকে জাল তুলতে না হয়। |
ফলাফল: দি কানিও FIFA Fair Play পুরস্কার পান (২০০১)। তিনি বলেছিলেন – “ফুটবল জিততে চাই, কিন্তু এভাবে নয়।”
২.২ লিডস ইউনাইটেড (১৯৭৫) – পেনাল্টি ফিরিয়ে দেওয়া
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| দল | লিডস ইউনাইটেড |
| প্রতিপক্ষ | ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়ন |
| ঘটনা | রেফারি লিডসকে একটি ভুল পেনাল্টি দেন। লিডসের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করে – রেফারিকে বলেন পেনাল্টি হয়নি। রেফারি সিদ্ধান্ত বদলান। |
প্রভাব: ফিফা তখনো Fair Play পুরস্কার চালু করেনি, কিন্তু লিডসের এই ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে সততার উদাহরণ হয়ে আছে।
২.৩ জাপানের ভক্তরা (২০১৮) – স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার সংস্কৃতি
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে জাপানের ভক্তরা প্রতিটি ম্যাচের পর স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে। বেলজিয়ামের কাছে হারার পরও তারা আবর্জনা তুলে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে যায়। |
| প্রতিক্রিয়া | বিশ্ব গণমাধ্যমে এই ছবি ভাইরাল হয়। জাপানের ভক্তরা Fair Play পুরস্কার পায়। |
এটি আজও জাপানি ফুটবল সংস্কৃতির অংশ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও জাপানের ভক্তরা একই কাজ করে।
২.৪ আর্জেন্টিনা vs নাইজেরিয়া (২০১৮) – মার্কোস রোহোর সততা
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| খেলোয়াড় | মার্কোস রোহো (আর্জেন্টিনা) |
| ঘটনা | রোহোর হাতে বল লাগে – রেফারি দেখেননি। রোহো রেফারিকে গোল না দেওয়ার অনুরোধ করেন। রেফারি গোল দেননি। |
তিনি বলেন – “আমি হাত দিয়েছি, গোল হতে পারে না।”
৩. FIFA Fair Play পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা (বছরভিত্তিক)
নিচে কয়েকজন উল্লেখযোগ্য বিজয়ীর নাম দেওয়া হলো:
| বছর | বিজয়ী | দেশ/সংস্থা | কারণ |
|---|---|---|---|
| ১৯৮৭ | ভক্তরা (ডান্ডি ইউনাইটেড) | স্কটল্যান্ড | প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে করতালি |
| ১৯৮৮ | ফ্রাঙ্ক অরডেনেভিৎস | অস্ট্রিয়া | প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের গোল মিস |
| ১৯৯০ | গ্যারি লিনেকার | ইংল্যান্ড | পুরো ক্যারিয়ারে কোনো হলুদ/লাল কার্ড না পাওয়া |
| ১৯৯১ | ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা | স্পেন | অনূর্ধ্ব-২০ দলের অসাধারণ আচরণ |
| ১৯৯২ | নিউয়র্ক কসমস | যুক্তরাষ্ট্র | বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের একসাথে খেলানোর মাধ্যমে সম্প্রীতি প্রচার |
| ১৯৯৩ | ডান্ডি ইউনাইটেড | স্কটল্যান্ড | প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি ফিরিয়ে দেয় |
| ১৯৯৪ | ক্রীড়া সাংবাদিক গুইদো বুকারেলি | ইতালি | ফুটবলে ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে লেখালেখি |
| ১৯৯৫ | জাকিন তানকো | বুর্কিনা ফাসো | ১২ বছর বয়সে ফুটবলের উন্নয়নে কাজ |
| ১৯৯৬ | জর্জ ওয়াহ | লাইবেরিয়া | যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফুটবলের প্রসার |
| ১৯৯৭ | ডেভিড বেকহ্যাম | ইংল্যান্ড | পেনাল্টি মিসের পর দেশবাসীর ক্ষমা প্রার্থনা ও চ্যারিটি কাজ |
| ১৯৯৮ | জাতীয় দল (ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র) | ইরান/যুক্তরাষ্ট্র | বিশ্বকাপে শান্তিপূর্ণ আচরণ |
| ১৯৯৯ | এলসি বার্থ | স্কটল্যান্ড | ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা |
| ২০০০ | পাওলো দি কানিও | ইতালি | ইনজুরিতে পড়া গোলকিপারের জন্য পেনাল্টি মিস |
| ২০০১ | জাপানের ভক্তরা | জাপান | ২০০২ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে স্টেডিয়াম পরিষ্কার |
| ২০০২ | সিওল ওয়ার্ল্ড কাপ সংগঠক | দক্ষিণ কোরিয়া | প্রশংসনীয় আয়োজন |
| ২০০৩ | সেল্টিক ফুটবল ক্লাবের ভক্তরা | স্কটল্যান্ড | প্রতিপক্ষ লিগের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা |
| ২০০৪ | ব্রাজিলের জাতীয় দল | ব্রাজিল | দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ফুটবল ব্যবহার |
| ২০০৫ | আন্তর্জাতিক ফুটবল কমিউনিটি | বৈশ্বিক | সুনামি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিল সংগ্রহ |
| ২০০৬ | ২০০৬ বিশ্বকাপ দর্শকরা | জার্মানি | অসাধারণ আচরণ ও স্বাগত জানানোর সংস্কৃতি |
| ২০০৭ | পাবলো আইমার | আর্জেন্টিনা | শিশু হাসপাতালে ফুটবল শেখানো |
| ২০০৮ | তুরস্ক ও আর্মেনিয়া | তুরস্ক/আর্মেনিয়া | ফুটবল কূটনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানো |
| ২০০৯ | কংগোর জাতীয় দল | কংগো | যুদ্ধ শেষে ফুটবলের মাধ্যমে পুনর্মিলন |
| ২০১০ | হাইতি জাতীয় দল | হাইতি | ভূমিকম্প পর ফুটবল চালিয়ে দেশবাসীকে আশা দেওয়া |
| ২০১১ | জাপানের জাতীয় দল | জাপান | ২০১১ সুনামির পর দেশবাসীকে উৎসর্গ করে খেলা |
| ২০১২ | উজবেকিস্তান জাতীয় দল | উজবেকিস্তান | বাছাই পর্বে প্রতিপক্ষকে সাহায্য করা |
| ২০১৩ | আফগানিস্তান জাতীয় দল | আফগানিস্তান | যুদ্ধের মধ্যেও ফুটবল চালিয়ে রাখা |
| ২০১৪ | ২০১৪ বিশ্বকাপের সব ভলান্টিয়ার | ব্রাজিল | অসাধারণ আতিথেয়তা |
| ২০১৫ | জার্মানির সব ক্লাব | জার্মানি | শরণার্থীদের জন্য ফুটবল খোলা |
| ২০১৬ | আতলেতিকো নাসিওনাল | কলম্বিয়া | শোকাহত চ্যাপেকোয়েন্সে দলকে কোপা সুদামেরিকানা ছেড়ে দেয় |
| ২০১৭ | লরেন্স | ঘানা | প্রতিবন্ধী ফুটবলারদের জন্য কাজ |
| ২০১৮ | লেনা দে ক্যাস্ট্রো | ফ্রান্স | নারী ফুটবল উন্নয়নে |
| ২০১৯ | জাপানের ভক্তরা | জাপান | ২০১৯ রাগবি বিশ্বকাপের পর স্টেডিয়াম পরিষ্কার |
| ২০২০ | সিনজি ওকাজাকি | জাপান | চ্যারিটি কাজ ও COVID-19 সময় সাহায্য |
| ২০২১ | ডেনমার্কের মেডিকেল টিম | ডেনমার্ক | ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের জীবন বাঁচানো |
| ২০২২ | লুকা মদ্রিচ | ক্রোয়েশিয়া | পুরো ক্যারিয়ারে সততা ও নেতৃত্ব |
| ২০২৩ | ব্রাজিলের জাতীয় দল | ব্রাজিল | বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সমর্থন |
৪. বিশ্বকাপের FIFA Fair Play পুরস্কার
প্রতি বিশ্বকাপের পর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সৎ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ দলকে একটি আলাদা Fair Play পুরস্কার দেওয়া হয়।
বিশ্বকাপ Fair Play বিজয়ীদের তালিকা (১৯৭০-২০২২)
| বছর | বিজয়ী দল | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১৯৭০ | পেরু | প্রথমবার পুরস্কার প্রবর্তিত হয় (অফিসিয়ালি ১৯৭৮ থেকে) |
| ১৯৭৪ | পশ্চিম জার্মানি | আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন |
| ১৯৭৮ | আর্জেন্টিনা | বিতর্কিতভাবে পুরস্কার পেলেও ফিফা দিয়েছে |
| ১৯৮২ | ব্রাজিল | সুন্দর খেলা ও কার্ড কম |
| ১৯৮৬ | ব্রাজিল | টানা দ্বিতীয়বার |
| ১৯৯০ | ইংল্যান্ড | মাত্র ১টি লাল কার্ড পুরো টুর্নামেন্টে |
| ১৯৯৪ | ব্রাজিল | তৃতীয়বার |
| ১৯৯৮ | ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স | যৌথভাবে |
| ২০০২ | বেলজিয়াম | গ্রুপ পর্বে উল্লেখযোগ্য আচরণ |
| ২০০৬ | ব্রাজিল ও স্পেন | যৌথভাবে |
| ২০১০ | স্পেন | চ্যাম্পিয়ন ও দারুণ আচরণ |
| ২০১৪ | কলম্বিয়া | প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান দল (ব্রাজিল ছাড়া) |
| ২০১৮ | স্পেন | দ্বিতীয়বার |
| ২০২২ | ইংল্যান্ড | মাঠে ও মাঠের বাইরে অসাধারণ আচরণ |
৫. বিতর্ক ও সমালোচনা
FIFA Fair Play পুরস্কারও বিতর্কের বাইরে নয়।
৫.১ “ব্রাজিল সব সময় জেতে” – সমালোচনা
ব্রাজিল বিশ্বকাপ Fair Play পুরস্কার সবচেয়ে বেশি বার পেয়েছে (৪ বার – ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯৪, ২০০৬)। সমালোচকরা বলেন – “ফিফা ব্রাজিলকে বেশি গুরুত্ব দেয়।” কারণ ব্রাজিলের খেলায় কার্ডের সংখ্যা অন্যান্য দলের চেয়ে বেশি ছিল না বিশেষভাবে।
৫.২ জার্মানি কেন পায়নি?
জার্মানি সুশৃঙ্খল দল হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তারা বিশ্বকাপ Fair Play পুরস্কার পেয়েছে মাত্র একবার (১৯৭৪ – আয়োজক হিসেবে)। পরে আর পায়নি। সমালোচকরা মনে করেন – ফিফা বড় দলকে এড়িয়ে চলে।
৫.৩ পুরস্কারের মান কমে যাওয়া
কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন – FIFA Fair Play পুরস্কার এখন আর আগের মতো গুরুত্ব পায় না। অনেক দল পুরস্কার পাওয়ার চেয়ে জিততেই বেশি মনোযোগী।
৬. ফিফার অন্যান্য Fair Play উদ্যোগ
শুধু পুরস্কার নয় – ফিফা Fair Play মূল্যবোধ প্রচারের জন্য অন্যান্য উদ্যোগ নিয়েছে:
৬.১ Fair Play ক্যাম্পেইন
-
“My Game is Fair Play” – যুব টুর্নামেন্টে Fair Play শিক্ষা দেওয়া
-
“Football for Hope” – সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ফুটবল
৬.২ Fair Play ট্রফি
শুধু ফিফা নয় – উয়েফা ও অন্যান্য কনফেডারেশনও Fair Play পুরস্কার দেয়।
৬.৩ Fair Play র্যাঙ্কিং
কিছু টুর্নামেন্টে (যেমন: বিশ্বকাপ) ফিফা একটি Fair Play র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে – যেখানে কার্ডের সংখ্যা অনুযায়ী দল সাজানো হয়।
৭. Fair Play কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Fair Play ফুটবলের ভিত্তি। এটি শেখায়:
| শিক্ষা | বর্ণনা |
|---|---|
| সম্মান | প্রতিপক্ষ, রেফারি ও দর্শকদের সম্মান করা |
| সততা | মাঠের ভিতরে সৎ থাকা (ডাইভ না করা, সময় নষ্ট না করা) |
| আত্মনিয়ন্ত্রণ | রাগ নিয়ন্ত্রণ করা, হিংসা এড়ানো |
| ন্যায়পরায়ণতা | সব দলের জন্য সমান সুযোগ |
লুকা মদ্রিচ বলেছিলেন – “Fair Play মানে শুধু সঠিক খেলা নয় – সঠিক মানুষ হওয়াও।”
উপসংহার (Conclusion)
FIFA Fair Play পুরস্কার ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক অর্জনগুলোর একটি। এটি সেই দল ও ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেয় – যারা প্রমাণ করেছেন ফুটবল শুধু জয়ের জন্য নয়, বরং মূল্যবোধ রক্ষার জন্যও।
পাওলো দি কানিওর পেনাল্টি মিস করা, জাপানের ভক্তদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করা, ডেনমার্কের ডাক্তারদের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনকে বাঁচানো – এসব গল্প ফুটবলকে সুন্দর করে।
ফুটবলের ভবিষ্যৎ কেবল গোল ও ট্রফি দিয়ে তৈরি নয় – এটি তৈরি হয় সততা, সম্মান ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে। FIFA Fair Play পুরস্কার সেই ভিত্তিকেই উৎসাহিত করে।
“ফুটবল শুধু একটি খেলা নয় – এটি জীবনের পাঠশালা। Fair Play সেই শিক্ষার প্রথম পাঠ।”
আরো পড়ুন
- অনলাইন লোন সার্ভিস দিয়ে ইনকাম Incomeকরুন
- এফিলিয়েট Affiliate এবং ব্লগিং মার্কেটিং এর জন্যে কাজের ১০টি টুলস
- কিভাবে মাত্র ৫ মিনিটে logo লোগো তৈরি করবেন? ফ্রি লোগো ডিজাইন
- ফাইন্যান্স ও বিজনেস ব্লগ লিখে ইনকাম Income করুন
- স্ক্রিল Skrill– অর্থ লেনদেনের সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি
(FAQ)
১. FIFA Fair Play পুরস্কার কবে চালু হয়?
১৯৮৭ সালে তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের উদ্যোগে।
২. Fair Play পুরস্কার পাওয়ার মানদণ্ড কী?
কম কার্ড, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান, সততা, ইতিবাচক আচরণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।
৩. সবচেয়ে বিখ্যাত Fair Play উদাহরণ কোনটি?
পাওলো দি কানিওর পেনাল্টি মিস করা (২০০১) – ইনজুরিতে পড়া গোলকিপারকে সম্মান জানাতে।
৪. কোনো দল কি একাধিকবার পুরস্কার পেতে পারে?
হ্যাঁ। জাপানের ভক্তরা (২০০১ ও ২০১৯), ব্রাজিল (বিশ্বকাপ Fair Play ৪ বার)।
৫. বিশ্বকাপের Fair Play পুরস্কার কোন দল সবচেয়ে বেশি পেয়েছে?
ব্রাজিল (৪ বার – ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯৪, ২০০৬)।
৬. ২০২২ বিশ্বকাপের Fair Play পুরস্কার কে পেয়েছিল?
ইংল্যান্ড জাতীয় দল।
৭. সাধারণ মানুষ কী Fair Play প্রচারে ভূমিকা রাখতে পারে?
হ্যাঁ। শিশু ও যুবকদের Fair Play মূল্যবোধ শেখানো, স্থানীয় ক্লাবে স্বেচ্ছাসেবক হওয়া, এবং সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক আচরণ প্রচার করা।
তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রথম পুরস্কার প্রবর্তন | ১৯৮৭ |
| মূল্যায়নকারী সংস্থা | FIFA Fair Play কমিটি |
| বিশ্বকাপ Fair Play প্রথম বিজয়ী | ১৯৭৮ আর্জেন্টিনা (অফিসিয়ালি) |
| সর্বাধিক বিশ্বকাপ Fair Play বিজয়ী | ব্রাজিল (৪ বার) |
| সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিগত বিজয়ী | পাওলো দি কানিও (২০০০) |
| সবচেয়ে বিখ্যাত দলীয় বিজয়ী | জাপানের ভক্তরা (২০০১, ২০১৯) |
| ২০২২ ফিফা Fair Play বিজয়ী | লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া) |

