Site icon এসো ইনকাম করি

FIFA ও শরণার্থী: যুদ্ধ ও শরণার্থী ক্যাম্পে ফুটবল – ফিফার শান্তি উদ্যোগ, গাজা পুনর্বাসন ও আফগান নারী ফুটবলারদের গল্প (২০২৬ আপডেট)

FIFA ও শরণার্থী: যুদ্ধ ও শরণার্থী ক্যাম্পে ফুটবল – ফিফার শান্তি উদ্যোগ, গাজা পুনর্বাসন ও আফগান নারী ফুটবলারদের গল্প (২০২৬ আপডেট)

FIFA ও শরণার্থী: যুদ্ধ ও শরণার্থী ক্যাম্পে ফুটবল – ফিফার শান্তি উদ্যোগ, গাজা পুনর্বাসন ও আফগান নারী ফুটবলারদের গল্প (২০২৬ আপডেট)

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয় – এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে আশার প্রদীপ। FIFA ও শরণার্থী: যুদ্ধ ও শরণার্থী ক্যাম্পে ফুটবল – ফিফার শান্তি উদ্যোগ, গাজা পুনর্বাসন ও আফগান নারী ফুটবলারদের গল্প (২০২৬ আপডেট) ফিফা কীভাবে বিশ্বের শরণার্থী ক্যাম্পে ফুটবল পৌঁছে দিচ্ছে? গাজায় ৫০টি মিনি-পিচ নির্মাণ থেকে শুরু করে আফগান নারী ফুটবলারদের জন্য দল গঠন, মালাউইর জালেকা ক্যাম্পে যুব ফুটবল দল – ফিফার ফাউন্ডেশন ও পিস ফান্ডের গল্প। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।

 ভূমিকা (Introduction)

যুদ্ধ, সংঘাত, নির্যাতন – এগুলো মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, স্বপ্ন কেড়ে নেয়, শৈশব কেড়ে নেয়। কিন্তু তারপরও একটা জিনিস মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, আশা জাগায় – ফুটবল।

বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুরা যখন ফুটবল খেলে, তারা ক্ষণিকের জন্য হলেও তাদের হারানো বাড়ির কথা ভুলে যায়। গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝে যখন শিশুরা বল কিক করে, তারা যুদ্ধের ভয়কে কিছুক্ষণের জন্য পেছনে ফেলে দেয়।

ফিফা এই শক্তিটাকে কাজে লাগাচ্ছে। ফিফার ফাউন্ডেশন, ফিফা পিস ফান্ড ও ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বিপর্যস্ত অঞ্চলে ফুটবল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিল অনুমোদন দিয়েছে একটি পোস্ট-কনফ্লিক্ট রিকভারি ফান্ড তৈরির – যার উদ্দেশ্য ফুটবলের শক্তি দিয়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পুনর্বাসন ও আশা ফিরিয়ে আনা 

এই আর্টিকেলে আমরা জানবো:

চলুন, শুরু করা যাক – যুদ্ধের মধ্যে ফুটবল কেন আশার প্রতীক, তার গল্প।

 ১. ফিফা পিস ফান্ড – যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্বাসন

১.১ পিস ফান্ড কী ও কেন তৈরি হলো?

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিল একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় – FIFA পিস ফান্ড (পোস্ট-কনফ্লিক্ট রিকভারি ফান্ড) অনুমোদন করা হয় 

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“Football is more than a game. It is a force for unity, peace and hope.”
(ফুটবল শুধু খেলা নয় – এটি একতা, শান্তি ও আশার শক্তি।) 

এই ফান্ডের উদ্দেশ্য:

১.২ শান্তি পরিষদের সাথে অংশীদারিত্ব (২০২৬)

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা ও শান্তি পরিষদ (Board of Peace) একটি যুগান্তকারী অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে । এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফ্যান্টিনো, গাজার জন্য হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ নিকোলে ম্লাদেনভ, ও গাজার জাতীয় কমিটির প্রধান কমিশনার ড. আলী শাথ।

ইনফ্যান্টিনো এই অংশীদারিত্বের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন:

“We need to help. We need to do something. We also have to rebuild and build people, emotion, hope and trust. And this is what football, my sport, is about.”
(আমাদের সাহায্য করতে হবে। আমাদের কিছু করতে হবে। আমাদের পুনর্নির্মাণ করতে হবে এবং মানুষ, আবেগ, আশা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। আর ফুটবলই সেটা করে।) 

২. গাজা পুনর্বাসন প্রকল্প – ধ্বংসের মাঝে ফুটবলের পুনর্জন্ম

ফিফা ও শান্তি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে গাজায় একটি বিশাল ফুটবল পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি চারটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে :

২.১ পর্ব ১: স্থানীয় অ্যাকশন (৩-৬ মাস) – মিনি-পিচ স্থাপন

তথ্য বিবরণ
কাজ ৫০টি FIFA Arena মিনি-পিচ নির্মাণ
প্রতি পিচের খরচ প্রায় $৫০,০০০
মোট বিনিয়োগ (পর্ব ১) $২.৫ মিলিয়ন
অবস্থান স্কুল ও আবাসিক এলাকার কাছাকাছি
অতিরিক্ত কর্মসূচি Football for Schools প্রোগ্রাম ও যুব লিগ 

২.২ পর্ব ২: পেশাদার ইনফ্রাস্ট্রাকচার (১২ মাস)

তথ্য বিবরণ
কাজ ৫টি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল পিচ নির্মাণ (বিভিন্ন গভর্নরেটে)
প্রতি পিচের খরচ প্রায় $১ মিলিয়ন
মোট বিনিয়োগ (পর্ব ২) $৫ মিলিয়ন
অতিরিক্ত স্থানীয় ক্লাব গঠন ও যুব উন্নয়ন পথ তৈরি 

২.৩ পর্ব ৩: ফিফা একাডেমি (১৮-৩৬ মাস)

তথ্য বিবরণ
কাজ FIFA একাডেমি নির্মাণ (আবাসিক সুবিধাসহ)
প্রকল্পিত বিনিয়োগ $১৫ মিলিয়ন
উদ্দেশ্য প্রতিভা সনাক্তকরণ ও পেশাদার ক্যারিয়ার গঠন, শিক্ষার সুযোগ 

২.৪ পর্ব ৪: জাতীয় স্টেডিয়াম (১৮-৩৬ মাস)

তথ্য বিবরণ
কাজ ২০,০০০-২৫,০০০ ধারণক্ষমতার জাতীয় স্টেডিয়াম
প্রকল্পিত বিনিয়োগ প্রায় $৫০ মিলিয়ন 
উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন, সাংস্কৃতিক ইভেন্ট, জাতীয় পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সংহতি সৃষ্টি 

২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, ৫৯টি ফিফা সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই FIFA Arena প্রোগ্রামে যোগ দিয়েছে । ফিফা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কমপক্ষে ১,০০০টি মিনি-পিচ নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েছে – যা এই প্রকল্পের একটি অংশ 

 ৩. আফগান নারী শরণার্থী ফুটবল দল – প্রতিরোধের গল্প

২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পর নারী ফুটবল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক নারী ফুটবলার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। কিন্তু ফিফা তাদের ফেলে রাখেনি।

৩.১ আফগান নারী শরণার্থী দল গঠনের কাহিনী

২০২৫ সালের মে মাসে ফিফা কাউন্সিল আফগান নারী শরণার্থী ফুটবল দল গঠনের অনুমোদন দেয় । এটি ফিফার তিন-স্তম্ভবিশিষ্ট কৌশলের অংশ – যার মধ্যে রয়েছে: আফগানিস্তানের ভিতরে নারী ফুটবলারদের মানবিক ও লজিস্টিক সহায়তা, আন্তর্জাতিকভাবে অ্যাডভোকেসি, এবং শরণার্থী দল গঠন 

৩.২ সেন্ট জর্জেস পার্কে ট্যালেন্ট আইডি ক্যাম্প

২০২৫ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জেস পার্ক (ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) আফগান নারী ফুটবলারদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় । প্রায় ৭০ জন খেলোয়াড় তিনটি ক্যাম্পে অংশ নেয় – যাদের মধ্যে থেকে ২৩ জনকে প্রথম ম্যাচের জন্য নির্বাচিত করা হবে।

একজন খেলোয়াড় নাজমা আরেফি তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন:

“That’s why everyone loves it. Everyone loves football. The feeling of being free, the feeling of sisterhood, the feeling of joy – forgetting everything behind and you’re just enjoying it and being in the present. That’s why I kept playing.”
(এজন্যই সবাই ফুটবল ভালোবাসে। মুক্ত থাকার অনুভূতি, বোনের মতো সম্পর্কের অনুভূতি, আনন্দের অনুভূতি – পেছনের সবকিছু ভুলে বর্তমানে উপভোগ করা। এজন্যই আমি খেলা চালিয়ে যাচ্ছি।) 

৩.৩ ফিফার পূর্ণ সহায়তা

সেন্ট জর্জেস পার্কের ক্যাম্পগুলো ছিল শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণ নয় – এটি ছিল একটি হলিস্টিক অভিজ্ঞতা । FIFA স্টাফ, সাবেক ইংল্যান্ড গোলকিপার কারেন বার্ডসলি ও অন্যান্য পেশাদাররা উপস্থিত ছিলেন।

কারেন বার্ডসলি বলেন:

“I think playing at a higher level allows me to understand what you can get from playing football essentially. But then I also know what it takes to push yourself beyond where you think you can go – that resilience.”
(উচ্চ স্তরে খেলার অভিজ্ঞতা আমাকে বোঝায় যে ফুটবল থেকে কী পাওয়া যায়। কিন্তু আমি এও জানি যে নিজের সীমার বাইরে ঠেলে দিতে কী লাগে – সেই প্রতিরোধ ক্ষমতা।) 

ফিফার চিফ উইমেনস ফুটবল অফিসার সারাই বারম্যান (নিউজিল্যান্ডের সাবেক সামোয়ান আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়) বলেন:

“Understanding the individual journeys that some of these players have been on, it’s incredible to be able to see them here, smiling, laughing, enjoying, in a safe environment. And I’m so glad that we’ve been able to provide that for them.”
(এই খেলোয়াড়দের কেউ কেউ কী পথ পাড়ি দিয়েছেন, তা বুঝলে অবাক লাগে। তাদের এখানে হাসতে, খেলতে, নিরাপদ পরিবেশে থাকতে দেখে ভালো লাগে। আমরা তাদের সেটা দিতে পেরেছি বলে আমি আনন্দিত।) 

দলটি ২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছে। এটি আফগান নারী ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।

 ৪. FIFA ফাউন্ডেশন রিকভারি প্রোগ্রাম – দুর্যোগ ও সংঘাতে পুনর্বাসন

FIFA ফাউন্ডেশনের রিকভারি প্রোগ্রাম দুর্যোগ ও সংঘাতের শিকার কমিউনিটিগুলোকে সাহায্য করে 

৪.১ প্রকল্পের ধরন

প্রকল্প বর্ণনা
রিকভারি প্রোগ্রাম ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুটবল ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেরামত ও পুনর্নির্মাণ
হিউম্যানিটারিয়ান ফান্ড প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে জরুরি সহায়তা (খাদ্য, অস্থায়ী আশ্রয়, সুরক্ষা)

৪.২ FIFA ফাউন্ডেশন কমিউনিটি প্রোগ্রাম

২০১৯ সালে চালু হওয়া এই প্রোগ্রামটি স্থানীয় এনজিওগুলোর সাথে অংশীদারিত্বে কাজ করে । প্রভাব:

পরিসংখ্যান বিবরণ
২০২৪ সালে উপকৃত ৫৪টি দেশে ১৫৪,০০০ জন
মোট উপকৃত (২০১৯ থেকে) বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষ 

২০২৫ সালে আরেকটি মাইলফলক অর্জিত হয় – ১৩৯টি এনজিও ফাউন্ডেশন কমিউনিটি প্রোগ্রামের অধীনে অর্থায়ন পায়, যা রেকর্ড সংখ্যা । এই প্রকল্পগুলো বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়:

 ৫. UNHCR-এর সাথে অংশীদারিত্ব – বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সুরক্ষা

FIFA ফাউন্ডেশন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে 

৫.১ জালেকা ক্যাম্প, মালাউই

মালাউইর জালেকা শরণার্থী ক্যাম্পে FIFA ফাউন্ডেশন ও UNHCR-এর যৌথ প্রকল্পে একটি যুব ফুটবল দল একটি জাতীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় । এই অভিজ্ঞতা ক্যাম্পের যুবকদের জন্য আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সংহতির নতুন দ্বার উন্মোচন করে।

৫.২ কোচ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি – আর্মেনিয়া, মরক্কো, পোল্যান্ড

২০২৫ সালে আর্মেনিয়া, মরক্কো ও পোল্যান্ডে কোচ প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রশিক্ষণে ১২০ জনের বেশি শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও হোস্ট কমিউনিটির সদস্য অংশ নেন 

একজন দক্ষিণ সুদানী প্রশিক্ষণার্থীর মন্তব্য:

“Through this workshop, I have learned that I can help my community through grassroots football. Through football, we can learn to be good leaders and bring people together. We can create communities where people feel a sense of belonging.”
(এই কর্মশালার মাধ্যমে আমি শিখেছি – আমি গ্রাসরুট ফুটবলের মাধ্যমে আমার কমিউনিটিকে সাহায্য করতে পারি। ফুটবলের মাধ্যমে আমরা ভালো নেতা হতে শিখতে পারি ও মানুষকে একত্রিত করতে পারি। আমরা এমন কমিউনিটি তৈরি করতে পারি যেখানে মানুষ নিজেদের আওতাধীন বোধ করে।) 

৫.৩ দক্ষিণ আফ্রিকা – Tshwaragano-Bambanani প্রকল্প

২০২৫ সালের এপ্রিলে UNHCR দক্ষিণ আফ্রিকায় Tshwaragano-Bambanani (সোতহো ভাষায় “একসাথে” – অর্থাৎ একতা) প্রকল্প চালু করে । এই তিন বছরের প্রকল্পে:

তথ্য বিবরণ
অর্থায়ন FIFA লিগ্যাসি ফান্ড থেকে $৬০০,০০০ 
উপকৃত প্রায় ১,০০০ তরুণ শরণার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা
অঞ্চল গুটেং, কোয়াজুলু-নাটাল ও ওয়েস্টার্ন কেপের ৩টি প্রদেশ
অংশীদার UNHCR, FIFA, UNICEF, দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার বিভাগ
উদ্দেশ্য খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক সংহতি, শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন 

UNHCR-এর দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ইগর চিওবানু বলেন:

“UNHCR is excited and grateful to collaborate with FIFA on this new initiative in South Africa. As we all know, sports foster social cohesion through shared experiences and teamwork, and refugees are no exception to this. Sports offer refugees, who have endured hardship and conflict, a renewed sense of belonging and community.”
(UNHCR দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিফার সাথে কাজ করতে পেরে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। খেলাধুলা ভাগাভাগি অভিজ্ঞতা ও দলগত কাজের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি গড়ে তোলে – শরণার্থীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। খেলাধুলা তাদের পুনরায় আওতাধীন ও কমিউনিটির অনুভূতি ফিরিয়ে দেয়।) 

৫.৪ চিলি – U-20 বিশ্বকাপে ফ্ল্যাগ বেয়ারার স্বপ্নপূরণ

২০২৫ সালের FIFA U-20 বিশ্বকাপ চিলিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই উপলক্ষে FIFA ফাউন্ডেশন ও UNHCR যৌথভাবে ২৫ জন শরণার্থী শিশুকে ফ্ল্যাগ বেয়ারার (পতাকা বাহক) হিসেবে নির্বাচিত করে 

ভেনেজুয়েলা থেকে চিলিতে আসা ১১ বছর বয়সী জুলিও তার অনুভূতি ব্যক্ত করে:

“If I don’t go to training, I won’t become a professional footballer. I was really happy because I’d never been to a stadium before, and I’d get to meet real players! I was nervous the first time because there were so many people, but I was also happy because my family and friends were there to see me.”
(যদি আমি প্রশিক্ষণে না যাই, আমি প্রফেশনাল ফুটবলার হতে পারব না। আমি খুব খুশি ছিলাম কারণ আমি আগে কখনো স্টেডিয়ামে যাইনি, আর আসল খেলোয়াড়দের সাথে দেখা করতে পারব! প্রথমবার নার্ভাস ছিলাম কারণ অনেক মানুষ ছিল, কিন্তু খুশিও ছিলাম কারণ আমার পরিবার ও বন্ধুরা আমাকে দেখতে এসেছিল।) 

হাইতি থেকে আসা ১২ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা বলেন:

“I discovered the sport here, and I like it because it helps me fight boredom and lead a healthy life… I had never been to a stadium before and I think it’s incredible. You can feel the excitement of all the people in the air and it’s contagious.”
(আমি এখানে খেলাটি আবিষ্কার করেছি, আর আমি এটি পছন্দ করি কারণ এটি আমার একঘেয়েমি দূর করে ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে সহায়তা করে… আমি আগে কখনো স্টেডিয়ামে যাইনি আর এটা অসাধারণ মনে হচ্ছে। আপনি মানুষের উত্তেজনা বাতাসে অনুভব করতে পারেন আর এটা সংক্রামক।) 

 ৬. ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে লিগ্যাসি – “Qatar 2022 for All”

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় একটি অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল – “FIFA Qatar 2022 for All: Sharing the Joy of Refugees and Displaced Persons” । এই উদ্যোগের আওতায়:

অংশগ্রহণকারী দেশ: জর্ডান, বাংলাদেশ, সুদান, সোমালিয়া, উত্তর সিরিয়া, কেনিয়া

বাংলাদেশে: ভাসান চর ক্যাম্পে ৬,০০০+ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও এতিম শিশু বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার সুযোগ পায় । ক্যাম্পের একজন সরকারি কর্মকর্তা তারিক আল-ইসলাম বলেন:

“The effort of Qatar Charity and other organizations is commendable, and I hope the refugees will enjoy the event.”

সিরিয়ায়: আল-কাইবা ক্যাম্পে ২,০০০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ ফ্যান জোনে বিশ্বকাপ উপভোগ করে । AFAD সমন্বয়কারি নিয়াজি ডেমির বলেন:

“This tent has a great impact, as more than 2,000 people live in the camp, who are unable to participate or hold any social event. Thanks to the State of Qatar, and this tent, this camp has become a special place…”

 উপসংহার (Conclusion)

ফুটবল যুদ্ধের ময়দানে আশার প্রদীপ। ফিফা পিস ফান্ড, ফিফা ফাউন্ডেশন ও UNHCR-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বিপর্যস্ত অঞ্চলে ফুটবল পৌঁছে দিচ্ছে।

২০২৫-২০২৬ সালের প্রধান মাইলফলক:

FIFA ফাউন্ডেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান মাউরিসিও ম্যাক্রি বলেছেন :

“Our partnership with UNHCR reflects a shared commitment to using football as a tool for inclusion and opportunity. Together, we are creating safe spaces and developing skills that help communities integrate, adapt and thrive.”

বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফুটবল খেলা শিশুরা, গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বল কিক করে যাওয়া তরুণরা, আফগান নারী যারা ফুটবল খেলতে বাধা পেয়েও কখনও হার মানেনি – তাদের জন্য ফুটবল শুধু খেলা নয়; এটি স্বাধীনতার প্রতীক, আত্মমর্যাদার অস্ত্র ও জীবনের আশ্বাস

ফিফার এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে – ফুটবল সত্যিই বিশ্বকে এক করতে পারে, সীমানা ভাঙতে পারে, আর সবচেয়ে বড় কথা – যুদ্ধের ক্ষত সারাতে পারে।

আরো পড়ুন

(FAQ)

১. ফিফা পিস ফান্ড কী?

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত একটি তহবিল যা যুদ্ধ ও সংঘাতের শিকার অঞ্চলে ফুটবলের মাধ্যমে পুনর্বাসনে সহায়তা করে। এটি তৃতীয় পক্ষের অনুদানের জন্য উন্মুক্ত 

২. গাজায় ফিফার কী প্রকল্প আছে?

ফিফা ও শান্তি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে গাজায় ৫০টি FIFA Arena মিনি-পিচ, ৫টি পূর্ণাঙ্গ পিচ, একটি FIFA একাডেমি ও একটি ২০,০০০ আসনের জাতীয় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। প্রায় $৭২.৫ মিলিয়নের বেশি বিনিয়োগ 

৩. আফগান নারী শরণার্থী ফুটবল দল কীভাবে তৈরি হলো?

২০২৫ সালের মে মাসে ফিফা কাউন্সিল এই দল গঠনের অনুমোদন দেয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জেস পার্কে প্রায় ৭০ জন খেলোয়াড়ের ট্যালেন্ট আইডি ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ জন নির্বাচিত হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে 

৪. FIFA ফাউন্ডেশন শরণার্থীদের জন্য কী করে?

FIFA ফাউন্ডেশন UNHCR-এর সাথে অংশীদারিত্বে শরণার্থী ক্যাম্পে ফুটবল মাঠ নির্মাণ করে, খেলার সরঞ্জাম দেয়, কোচ প্রশিক্ষণ দেয়, এবং কমিউনিটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি গড়ে তোলে। ২০২৪ সালে ৫৪টি দেশে ১৫৪,০০০ জন উপকৃত হয়েছে 

৫. FIFA ফাউন্ডেশন রিকভারি প্রোগ্রাম কী?

এটি দুর্যোগ ও সংঘাতের শিকার কমিউনিটির জন্য তৈরি একটি প্রকল্প – যা ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুটবল সুবিধা পুনর্নির্মাণ করে 

৬. ফিফার ১,০০০ মিনি-পিচ প্রকল্প কী?

ফিফা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কমপক্ষে ১,০০০টি FIFA Arena মিনি-পিচ নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এই প্রোগ্রামে যোগ দিয়েছে 

 তথ্যসারণি (At a Glance)

বিষয় বিবরণ
FIFA পিস ফান্ড অনুমোদন ডিসেম্বর ২০২৫ 
গাজা প্রকল্পের মোট বিনিয়োগ ~$৭২.৫ মিলিয়ন 
গাজায় মিনি-পিচ ৫০টি ($২.৫ মিলিয়ন)
গাজায় পূর্ণাঙ্গ পিচ ৫টি ($৫ মিলিয়ন)
গাজায় FIFA একাডেমি $১৫ মিলিয়ন
গাজায় জাতীয় স্টেডিয়াম ~$৫০ মিলিয়ন 
আফগান নারী খেলোয়াড় ~৭০ জন ক্যাম্পে 
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রকল্প $৬০০,০০০, ৩ বছর, ১,০০০ জন 
FIFA ফাউন্ডেশন উপকৃত (২০২৪) ৫৪ দেশে ১৫৪,০০০ জন 
মোট উপকৃত (২০১৯ থেকে) প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষ 

Exit mobile version