FIFA বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত রেফারি সিদ্ধান্ত: VAR-এর আগে ও পরে ইতিহাসের ভুল, বিতর্ক ও কেলেঙ্কারি
বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেফারিদের কিছু সিদ্ধান্ত আজও বিতর্কিত। ১৯৬৬ ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোল, ১৯৮৬ ম্যারাডোনার হ্যান্ড অফ গড, ২০০২ দক্ষিণ কোরিয়ার বিতর্কিত সেমিফাইনাল, ২০১০ ল্যাম্পার্ডের অঘটন – VAR এলেও বিতর্ক থামেনি। FIFA বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত রেফারি সিদ্ধান্ত: VAR-এর আগে ও পরে ইতিহাসের ভুল, বিতর্ক ও কেলেঙ্কারি জানুন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত ১৫টি রেফারি সিদ্ধান্তের গল্প। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
ফুটবল বিশ্বকাপে রেফারি। তিনিই মাঠের ঈশ্বর। তার এক সিদ্ধান্ত দেশকে কাঁদাতে পারে, ইতিহাস বদলে দিতে পারে। কখনো কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়, আবার কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চিরকাল থেকে যায়।
VAR (Video Assistant Referee) আসার আগে রেফারিদের ভুল এড়ানোর উপায় ছিল না। চোখের দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হতো – ভুল হতো। VAR আসার পর নাটক কমেছে, কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এই আর্টিকেলে আমরা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ১৫টি রেফারি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করব। গল্প, প্রভাব ও রেফারিদের পরবর্তী প্রতিক্রিয়াসহ।
চলুন, শুরু করা যাক।
১. ১৯৬৬ – ইংল্যান্ড vs পশ্চিম জার্মানি ফাইনাল: গোল নাকি নো গোল?
দ্য গোল দ্যাট স্প্লিট দ্য ওয়ার্ল্ড
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৩০ জুলাই ১৯৬৬ |
| স্থান | ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম, লন্ডন |
| ম্যাচ | বিশ্বকাপ ফাইনাল |
| সিদ্ধান্ত | জিওফ হার্স্টের তৃতীয় গোল দেওয়া হয় (গোল নাকি নয়) |
| রেফারি | গটফ্রিড ডিনস্ট (সুইজারল্যান্ড) |
গল্প:
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত। অতিরিক্ত সময়ে স্কোর ২-২। ইংল্যান্ড আক্রমণ করে। বল জার্মানির ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। রেফারি ডিনস্ট গোল দেন নাকি দেন না? তিনি সাইডলাইনে সহকারী রেফারি তুফান বাহরামভ (সোভিয়েত ইউনিয়ন) কে প্রশ্ন করেন। বাহরামভ মাথা নাড়ান – গোল। ইংল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বিতর্ক কেন: ২০০০ সালের পর 3D টেকনোলজি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে – বল সম্ভবত গোল লাইন অতিক্রম করেনি (আধা ইঞ্চির কম পার্থক্য)। জার্মানি আজও বলে – ওই গোল ছিল না।
প্রভাব: ইংল্যান্ড তার একমাত্র বিশ্বকাপ জেতে। জার্মানি প্রতিবাদ করে কিন্তু ফলাফল বদলায়নি। রেফারি বাহরামভ জার্মানিতে আমন্ত্রণ হারান।
২. ১৯৮৬ – আর্জেন্টিনা vs ইংল্যান্ড: হ্যান্ড অফ গড
দ্য মোস্ট ইনফেমাস হ্যান্ডবল ইন হিস্ট্রি
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২২ জুন ১৯৮৬ |
| স্থান | এস্তাদিও আস্তেকা, মেক্সিকো সিটি |
| ম্যাচ | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| সিদ্ধান্ত | ম্যারাডোনার হাত দিয়ে গোল দেওয়া হয় |
| রেফারি | আলী বিন নাসের (তিউনিসিয়া) |
গল্প:
ম্যারাডোনা লাফিয়ে বল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। বল তার হাতে লেগে গিয়ে জালে জড়ায়। ইংলিশ খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করে – হ্যান্ডবল! কিন্তু রেফারি বিন নাসের গোল দেন। ম্যারাডোনা পরে বলেন – “এটা একটু ম্যারাডোনার মাথা ও একটু আল্লাহর হাত দিয়ে হয়েছে” – “হ্যান্ড অফ গড”। ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন গোলকিপার ছিলেন – বল তার মাথার ওপর দিয়ে ম্যারাডোনার হাতে লাগে।
বিতর্ক কেন: স্পষ্ট হ্যান্ডবল। VAR থাকলে গোল কখনো হতো না।
প্রভাব: আর্জেন্টিনা ২-১ জেতে (ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলটি সেঞ্চুরি গোল – ইতিহাসের সেরা)। ইংল্যান্ড বিদায়। ম্যারাডোনার বিতর্ক এখনো অমর।
৩. ২০০২ – দক্ষিণ কোরিয়া vs ইতালি: ফাভাল্লির নির্দোষ লাল কার্ড
দ্য ডিসগ্রেস অফ গিয়নজু
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১৮ জুন ২০০২ |
| স্থান | গিয়নজু ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেডিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া |
| ম্যাচ | রাউন্ড অফ ১৬ |
| সিদ্ধান্ত | ফ্রান্সেস্কো টত্তি ভুল পেনাল্টি + ফ্রান্সেস্কো টত্তি লাল কার্ড + ডামিয়ানো টমাসির গোল অফসাইড দেওয়া |
| রেফারি | বায়রন মোরেনো (ইকুয়েডর) |
গল্প:
এই ম্যাচ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিং নমুনা। ঘটনাগুলো:
-
ইতালির ডিফেন্ডার লুইজি দি বাজ্জো ফাউল করেননি – পেনাল্টি দেওয়া হয় (আহান জং হোয়ানের ডাইভ)
-
পেনাল্টি ইতালির গোলকিপার বাফন বাঁচান।
-
টত্তি ডি-ফেন্ডারের হালকা সংস্পর্শে পড়ে পড়ে যান – রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান (অর্থাৎ লাল কার্ড)। টত্তি বসে কাঁদতে থাকেন।
-
ডামিয়ানো টমাসি ওভারল্যাপ করে বল জালে জড়ান – অফসাইড দেওয়া হয় (যা ছিল না)।
-
দক্ষিণ কোরিয়া সোন জং গুয়ানের গোলে জেতে (১১৭ মিনিটে) – গোলটিতে আগে ফাউল ছিল কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন।
বিতর্ক কেন: রেফারি মোরেনো স্পষ্ট দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন। ফিফা পরবর্তী তদন্ত করে মোরেনোকে নিষিদ্ধ করতে পারেনি (প্রমাণ ছিল না)। কিন্তু মোরেনো পরে ইকুয়েডরে মাদক পাচারের সাথে যুক্ত হন ও জেলে যান।
প্রভাব: ইতালি বিদায়। দক্ষিণ কোরিয়া সেমিফাইনালে ওঠে (স্বাগতিক সুবিধা)। ইতালীয় ফুটবল বিশ্ব মোরেনোকে চিরকাল ঘৃণা করে। বিশ্বকাপে স্বাগতিক সুবিধার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
৪. ২০০২ – দক্ষিণ কোরিয়া vs স্পেন: দুই গোল বাতিল
দ্য ডাবল ডিজগ্রেস
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২২ জুন ২০০২ |
| স্থান | গিয়নজু ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেডিয়াম |
| ম্যাচ | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| সিদ্ধান্ত | স্পেনের দুই বৈধ গোল বাতিল করা হয় |
| রেফারি | গামাল আল-গান্দুর (মিশর) |
গল্প:
ইতালির বিতর্কের চার দিন পর স্পেনের পালা।
১ম ঘটনা: ৫০ মিনিটে স্পেনের ইভান হেলগুয়েরা গোল করেন – রেফারি বল আউট দিয়ে গোল বাতিল করেন (রিপ্লেতে দেখা যায় বল আউট ছিল না)।
২য় ঘটনা: ৯৩ মিনিটে রুবেন বারাহা গোল করেন – অফসাইড দেওয়া হয় (ভুল, অফসাইড ছিল না)।
ম্যাচ গোলশূন্য শেষে পেনাল্টি শুটআউটে স্পেন হারে।
বিতর্ক কেন: দুটি স্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত। ফিফা পরে স্বীকার করে রেফারি ভুল করেছেন।
প্রভাব: দক্ষিণ কোরিয়া সেমিফাইনালে (জার্মানির কাছে ১-০ হেরে) ও তৃতীয় স্থানের ম্যাচে (তুরস্কের কাছে ৩-২ হেরে) চতুর্থ হয়। স্পেন ফুটবল ইতিহাসে বঞ্চিত হয়।
৫. ২০১০ – ইংল্যান্ড vs জার্মানি: ল্যাম্পার্ডের গোল অদৃশ্য
দ্য গোল দ্যাট নেভার ওয়াজ – আন্ডার টেকনোলজি ফেল
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২৭ জুন ২০১০ |
| স্থান | ফ্রি স্টেট স্টেডিয়াম, ব্লুমফন্টেইন, দক্ষিণ আফ্রিকা |
| ম্যাচ | রাউন্ড অফ ১৬ |
| সিদ্ধান্ত | ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের ক্লিয়ার গোল দেওয়া হয়নি |
| রেফারি | হোর্হে লারিওন্ডা (উরুগুয়ে) |
গল্প:
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে। ল্যাম্পার্ড ২৫ গজ থেকে শুট করেন – বল জার্মানির ক্রসবারে লেগে স্পষ্ট গোল লাইন অতিক্রম করে ফিরে আসে। জার্মানির গোলকিপার নয়ার বল তুলে নেন। রেফারি লারিওন্ডা গোল দেন না। মাঠের বাইরে সবার চোখে পড়ে – গোল হয়েছিল। কিন্তু রেফারি দেখেননি।
এই সময় গোললাইন টেকনোলজি ছিল না। VAR ছিল না।
বিতর্ক কেন: বল গোল লাইন অতিক্রম করেছিল (২ ফুটের বেশি)। রেফারি কাছ থেকে দেখেও বুঝতে পারেননি।
প্রভাব: স্কোর ২-১ থাকলেও পরে জার্মানি ৪-১ জেতে। ইংল্যান্ড ফুটবল পরিবারে গোললাইন টেকনোলজি আনার আন্দোলন তীব্র হয়। পরের বছর ফিফা গোললাইন টেকনোলজি চালু করে।
৬. ১৯৯৮ – আর্জেন্টিনা vs ইংল্যান্ড: বেকহ্যামের লাল কার্ড
দ্য রেড কার্ড দ্যাট শেপড আ ক্যারিয়ার
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৩০ জুন ১৯৯৮ |
| স্থান | স্তাদ দ্য গারলান, লিওঁ, ফ্রান্স |
| ম্যাচ | রাউন্ড অফ ১৬ |
| সিদ্ধান্ত | ডেভিড বেকহ্যামকে লাল কার্ড দেওয়া হয় |
| রেফারি | কিম মিল্টন নিলসেন (ডেনমার্ক) |
গল্প:
ম্যাচ উত্তপ্ত। আর্জেন্টিনার ডিয়েগো সিমেওনে বেকহ্যামকে ফাউল করেন। বেকহ্যাম শুয়ে থাকা অবস্থায় পা ছুঁড়ে সিমেওনে স্পর্শ করেন (হালকা ফাউল)। সিমেওনে নাটকীয়ভাবে পড়ে যান। রেফারি নিলসেন লাল কার্ড দেখান।
বিতর্ক কেন: অনেক মনে করেন লাল কার্ড কঠোর সিদ্ধান্ত ছিল (হলুদ হলেও হতো)। সিমেওনের অভিনয় বেকহ্যামকে ফাঁসায়।
প্রভাব: ইংল্যান্ড ২-২ স্কোরে পেনাল্টিতে হারে। বেকহ্যাম পুরো ইংল্যান্ডের শত্রু হয়ে যান (পরের মৌসুমে হুমকি পান)। তিন বছর পর ২০০২ বিশ্বকাপ বাছাইতে গ্রিসের বিপক্ষে শেষ মিনিটের ফ্রি কিকে গোল করে তিনি বেকহ্যাম সেন্ট বেকহ্যাম হন। কিন্তু ১৯৯৮ লাল কার্ডের বেদনা আজও ভোলেননি।
৭. ২০১৪ – মেক্সিকো vs ক্যামেরুন: ক্লিয়ার গোল কেন বাতিল?
টু গোলস ডিনায়েড – দ্য VAR লেস এরা
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১৩ জুন ২০১৪ |
| স্থান | এস্তাদিও দাস দুনাস, নাটাল, ব্রাজিল |
| ম্যাচ | গ্রুপ পর্ব |
| সিদ্ধান্ত | জিওভানি দোস সান্তোসের দুই গোল বাতিল |
| রেফারি | জোনাস এরিকসন (সুইডেন) |
গল্প:
মেক্সিকোর জিওভানি দোস সান্তোস প্রথমে গোল করেন – অফসাইড দেওয়া হয় (ভুল, ছিল না)। দ্বিতীয় গোল করেন – আরেক অফসাইড (ভুল আবার)। রিপ্লেতে দেখা যায় দুই গোলই বৈধ।
বিতর্ক কেন: স্পষ্ট ভুল। মেক্সিকো শেষ পর্যন্ত ১-০ জেতে (ওরিবে পেরাল্টার হেড) – কিন্তু প্রতিপক্ষ ক্যামেরুনকে ২-০ বা ৩-০ হওয়া উচিত ছিল।
প্রভাব: VAR পরবর্তী বিশ্বকাপ থেকে আসে। এই ম্যাচের ভুল সিদ্ধান্তগুলো VAR-এর প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করেছে।
৮. ১৯৯০ – আর্জেন্টিনা vs ইউএসএসআর: মারাদোনার গোল মিস
দ্য ডাইভ দ্যাট নেভার ওয়াজ
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১৯৯০ গ্রুপ পর্ব |
| সিদ্ধান্ত | ম্যারাডোনার ডাইভ থেকে পেনাল্টি ও গোল |
| প্রভাব | সোভিয়েত ইউনিয়ন বিদায় |
(বিস্তারিত কম পরিচিত – বরং আমরা পরিচিত বিতর্ক দেই)
৯. ১৯৯৮ – ব্রাজিল vs নরওয়ে: বিতর্কিত পেনাল্টি
ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের শক
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২৩ জুন ১৯৯৮ |
| স্থান | ভেলোদ্রোম, মার্সেই, ফ্রান্স |
| সিদ্ধান্ত | নরওয়েকে বিতর্কিত পেনাল্টি দেওয়া হয় |
| ফলাফল | নরওয়ে ২-১ জেতে, ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হয়ে রানার-আপ হয় |
গল্প:
ব্রাজিল এগিয়ে যাওয়ার পর নরওয়ে সমতা আনে। শেষ মিনিটে ব্রাজিলের জুনিয়র বায়ানো ডিফেন্ডারের সাথে সংস্পর্শে পড়ে – রেফারি নরওয়েকে পেনাল্টি দেন। ব্রাজিল বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। পেনাল্টি গোল হয় (রে ক্রেগ কিউ) – নরওয়ে জেতে।
প্রভাব: ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠে (ফ্রান্সের কাছে ৩-০ হারে) – তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হওয়ায় পথ বদলায়নি।
১০. ২০০৬ – পর্তুগাল vs নেদারল্যান্ডস (ব্যাটল অফ নুরেমবার্গ): ৪ লাল, ১৬ হলুদ
দ্য মোস্ট ব্রুটাল রেফারিড ম্যাচ এভার
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২৫ জুন ২০০৬ |
| স্থান | ফ্রাঙ্কেনস্টাডিওন, নুরেমবার্গ, জার্মানি |
| ম্যাচ | রাউন্ড অফ ১৬ |
| কার্ড | ৪টি লাল কার্ড, ১৬টি হলুদ কার্ড (বিশ্বকাপ রেকর্ড) |
| রেফারি | ভালেন্তিন ইভানভ (রাশিয়া) |
গল্প:
ম্যাচটি দাঙ্গায় পরিণত হয়। খেলোয়াড়রা লাথি, কনুই, ফাউল – যা কিছু পারে। রেফারি ইভানভ কার্ড বিতরণ করতে থাকেন। ৪ খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে (দুজনে পর্তুগাল, দুজনে নেদারল্যান্ডস)। ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার পরে বলেন – “রেফারি নিজে হলুদ কার্ড পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।”
বিতর্ক কেন: রেফারি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফাউল ও বিতর্কের বন্যায় খেলার মান নষ্ট হয়।
প্রভাব: পর্তুগাল ১-০ জেতে (স্ট荫 ম্যানিচে গোল)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে নোংরা ম্যাচ। রেফারি ইভানভ আর কখনো বড় ম্যাচ পাননি।
১১. VAR-এর যুগ: ২০১৮ – স্পেন vs মরক্কো (অ্যাস্টন ভিলার বিতর্ক)
লেট VAR ডিসিশন শেপস গ্রুপ
আরও সাম্প্রতিক: ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা vs সৌদি আরবে VAR-এর ৭-৮ মিনিট পর্যালোচনা ইত্যাদি।
১২. ২০২২ – আর্জেন্টিনা vs নেদারল্যান্ডস: রাফায়েল ফান দের ভার্টের লাল কার্ড
কোয়ার্টার ফাইনাল টেনশন
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৯ ডিসেম্বর ২০২২ |
| স্থান | লুসাইল স্টেডিয়াম, কাতার |
| সিদ্ধান্ত | ম্যাচ শেষে লাল কার্ড, বিতর্কিত পেনাল্টি? |
ম্যাচটি উত্তপ্ত হয়। রেফারি মাতেউ লাহোজ অনেক কার্ড দেন (১৮টি হলুদ – বিশ্বকাপ রেকর্ড)। শেষে নেদারল্যান্ডসের ফান দের ভার্ট আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলতে গিয়ে লাল কার্ড পান – মাঠেই উত্তেজনা।
উপসংহার (Conclusion)
রেফারি মানুষ। ভুল হবে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে ভুলের মূল্য অনেক বেশি। ১৯৬৬-এর গোল, ১৯৮৬-এর হ্যান্ড অফ গড, ২০০২ দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচগুলো, ২০১০ ল্যাম্পার্ডের গোল – এগুলো ফুটবল ইতিহাসে কালো দাগ হয়ে আছে। VAR আসার পর কিছু ভুল কমেছে, কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মানবিক ত্রুটি সবসময় থাকবে।
ভবিষ্যতে AI ও আরও উন্নত প্রযুক্তি আসবে। তবুও বিতর্ক থামবে না – কারণ ফুটবল বিতর্কের খেলা।
- আরো পড়ুন
- ফাইভার fiver কোন ধরনের প্লাটফর্ম ?
- অনলাইন লোন সার্ভিস দিয়ে ইনকাম Incomeকরুন
- ফ্রিল্যান্সিং কি?
- ই-কমার্স ও ড্রপশিপিং বিজনেস করে ইনকাম Income
- গ্রাফিক্স design ডিজাইন কি? গ্রাফিক্স design ডিজাইন শিখে কি করা যায়?
- ফেসবুুকে Facebook বা মার্কেটপ্লেস পুরাতন বা নতুন পণ্য বিক্রি করে ইনকাম Income
- ফাইভার fiver কোন ধরনের প্লাটফর্ম ?
(FAQ)
১. সবচেয়ে বিতর্কিত রেফারি সিদ্ধান্ত কোনটি?
১৯৮৬ ম্যারাডোনার হ্যান্ড অফ গড – স্পষ্ট প্রতারণা কিন্তু রেফারি দেখেননি।
২. VAR কবে থেকে বিশ্বকাপে আসে?
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে। তার আগে গোললাইন টেকনোলজি ছিল (২০১৪ থেকে)।
৩. কোন ম্যাচে সবচেয়ে বেশি কার্ড দেখানো হয়েছে?
২০০৬ পর্তুগাল vs নেদারল্যান্ডস – ৪ লাল, ১৬ হলুদ।
৪. কোন রেফারি সবচেয়ে বিতর্কিত?
বায়রন মোরেনো (২০০২ দক্ষিণ কোরিয়া vs ইতালি) – বিশ্বাস করা হয় তিনি ম্যাচ ফিক্সিং করেছিলেন (পরে মাদক পাচারে জেলে যান)।
৫. ল্যাম্পার্ডের গোলের পর কী বদলায়?
ফিফা গোললাইন টেকনোলজি চালু করে (২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে)।
৬. দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২-এর ম্যাচগুলো কি ফিক্সড ছিল?
প্রমাণ নেই, তবে রেফারিং এত খারাপ ছিল যে সন্দেহ জাগা স্বাভাবিক। ফিফা তদন্ত করেছে – কোনো শাস্তি হয়নি।
৭. VAR-পরবর্তী সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কোনটি?
২০২২ গ্রুপ পর্বে জাপান vs স্পেন – জাপানের দ্বিতীয় গোলের আগে বল আউট হয়েছিল কিনা (VAR গোল দেয়, বল আউট হয়নি বলে সেমি-অটোমেটেড প্রযুক্তিতে ধরা পড়ে)।

