Site icon এসো ইনকাম করি

FIFA কি? সম্পূর্ণ ইতিহাস, গঠন ও ক্ষমতা – Football এর বিশ্বনিয়ন্তা সংস্থা

FIFA কি? সম্পূর্ণ ইতিহাস, গঠন ও ক্ষমতা – Football এর বিশ্বনিয়ন্তা সংস্থা

FIFA কি? সম্পূর্ণ ইতিহাস, গঠন ও ক্ষমতা – Football এর বিশ্বনিয়ন্তা সংস্থা

FIFA কি এবং কেন এটি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থা? জানুন FIFA এর জন্মকথা, ২১১টি সদস্য দেশ, বিশ্বকাপ আয়োজন, বিতর্ক, প্রেসিডেন্ট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত। FIFA কি? সম্পূর্ণ ইতিহাস, গঠন ও ক্ষমতা – Football এর বিশ্বনিয়ন্তা সংস্থা Bengali ও English মিক্স ভাষায় পড়ুন সম্পূর্ণ আর্টিকেল।

ভূমিকা (Introduction)

আমরা অনেকেই ফুটবল দেখি। মেসি গোল করলে চিৎকার করি, রোনালদো ফ্রি কিক নিলে হৃদপিণ্ড দ্রুত স্পন্দিত হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন – এই ফুটবল খেলাটি কে নিয়ন্ত্রণ করে? কে ঠিক করে কবে বিশ্বকাপ হবে, কে হবে রেফারি, কোন খেলোয়াড় কত টাকায় ক্লাব বদলাবে? এই সবকিছুর উত্তর একটাই শব্দ – FIFA

FIFA শুধু একটি সংক্ষিপ্ত নাম নয়। এটি একটি সংস্থা, একটি শক্তি, একটি সাম্রাজ্য। যখনই দুটি দেশের জাতীয় ফুটবল দল মাঠে নামে, তখনই ফিফার আইন জারি হয়। যখনই কোন ট্রান্সফারে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়, তখনই ফিফার নজর থাকে। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো – FIFA আসলে কী, কেন এটি ফুটবলের boss, কীভাবে এটি জন্ম নিল, আর কেন এটি এত শক্তিশালী।

তো শুরু করা যাক – FIFA এর গল্প

১. FIFA কি? – এক কথায় পরিচয়

প্রথমেই জেনে নিই – FIFA শব্দটির অর্থ কী।

FIFA হলো ফরাসি ভাষার একটি শব্দসংক্ষেপ। ফুল ফর্ম হলো:
Fédération Internationale de Football Association

ইংরেজিতে যার মানে: International Federation of Association Football
আরেকটু সহজ বাংলায়: ফুটবলের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন

কিন্তু ফেডারেশন মানেই যেন অনেক বড় বড় কথা। তাই সাধারণ মানুষের ভাষায় বললে – FIFA হলো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ ফুটবল খেলার জন্য যা কিছু নিয়ম, যা কিছু টুর্নামেন্ট, যা কিছু বিতর্ক – সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ফিফার আছে।

একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে:
ধরুন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হবে। কবে হবে, কোন মাঠে হবে, কোন রেফারি থাকবেন, খেলোয়াড়দের কী কী জামা পরতে হবে, কতজন দর্শক ঢুকতে পারবেন, কারা সম্প্রচার করবে – এসব কিছু ফিফার অনুমোদন সাপেক্ষে হয়। ফিফা যদি না চায়, তাহলে সেই ম্যাচ আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাবে না।

তাই ফুটবল দুনিয়ায় ফিফা হচ্ছে অনেকটা সুপ্রিম কোর্টসরকার এবং পুলিশ – তিনের সমন্বয়।

২. কেন ফিফার জন্ম হলো? (Why was FIFA born?)

আজ ফিফা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, এর শুরুটা ছিল খুব ছোট। ২০ শতকের প্রথম দিকে ফুটবল ইউরোপে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি – সর্বত্র ফুটবল ক্লাব ও লিগ তৈরি হচ্ছিল।

কিন্তু একটা বড় সমস্যা ছিল – কোনো একক নিয়ম ছিল না। ইংল্যান্ডে অফসাইডের নিয়ম এক রকম, ফ্রান্সে আরেক রকম। স্কটল্যান্ডে ফাউলের সংজ্ঞা ভিন্ন, জার্মানিতে ভিন্ন। ফলে যখন কোন দেশ আরেক দেশের দলকে ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানাতো, তখন নিয়ে বিশৃঙ্খলা হতো। কোন নিয়মে খেলবে? কোন রেফারি মানবে?

এছাড়াও আরো কিছু সমস্যা ছিল:

  • একক কর্তৃপক্ষের অভাব: আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফল নিয়ে ঝগড়া হলে মীমাংসা করার কেউ ছিল না।

  • প্রতিযোগিতার জটিলতা: ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্লাবগুলো একসঙ্গে টুর্নামেন্ট খেলতে চাইত, কিন্তু কোন সংস্থা সেটা আয়োজন করবে?

  • পেশাদারি বনাম অপেশাদারি: কোন খেলোয়াড় পেশাদার হবে, কে অপেশাদার – তাও নিয়ে মতবিরোধ ছিল।

এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যই ২১ মে ১৯০৪ তারিখে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সাতটি দেশ একত্রিত হয়। তারা বসে একটি নতুন সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। নাম দেওয়া হয় FIFA। সেই সাতটি দেশ ছিল:

  1. ফ্রান্স

  2. বেলজিয়াম

  3. ডেনমার্ক

  4. নেদারল্যান্ডস

  5. স্পেন

  6. সুইডেন

  7. সুইজারল্যান্ড

ইংল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা প্রথমে যোগ দিতে চায়নি। কারণ ইংল্যান্ড মনে করতো – ফুটবল তাদের আবিষ্কার, তাই তারাও নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু পরে বুঝতে পারে, একা থাকার চেয়ে ফিফার অংশ হওয়া ভালো। ১৯০৫ সালে ইংল্যান্ড ফিফাতে যোগ দেয়।

৩. ফিফার বর্তমান অবস্থা – কত বড় এই সংস্থা?

যে সংস্থা শুরু হয়েছিল মাত্র সাতটি দেশ নিয়ে, সেই সংস্থা আজ ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি। বর্তমানে ফিফার সদস্য দেশের সংখ্যা ২১১

একটু তুলনা দিই:

  • জাতিসংঘ (UN) এ সদস্য দেশ আছে ১৯৩ টি।

  • অলিম্পিক গেমসের সংস্থা আইওসি (IOC) এ সদস্য আছে ২০৬ টি।

তার মানে, ফিফা জাতিসংঘের চেয়েও বড় একটি সংস্থা, যেখানে প্রায় সব স্বাধীন দেশই রয়েছে। এমনকি যেসব দেশ জাতিসংঘের সদস্য নয় – যেমন ফিলিস্তিন, তাইওয়ান নয় বরং চীনা তাইপে নামে – তারাও ফিফার সদস্য।

ফিফার বর্তমান প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে। এটি একটি দারুণ আধুনিক কমপ্লেক্স, যেখান থেকে ফুটবল বিশ্বের সব বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফিফার নিজস্ব জাদুঘরও আছে, যেখানে ফুটবলের ইতিহাসের নানা নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।

বর্তমান ফিফা প্রেসিডেন্ট হলেন জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো (Gianni Infantino)। তিনি ২০১৬ সালে নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন।

৪. ফিফা আসলে কী করে? (What does FIFA do?)

FIFA শুধু নামে বড় নয়, কাজেও বড়। নিচে ফিফার প্রধান প্রধান কাজগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

৪.১ বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্ট আয়োজন

সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে FIFA World Cup আয়োজন করা। এটি পুরুষ ও মহিলা – দুই বিভাগেই হয়।

  • পুরুষ বিশ্বকাপ: ১৯৩০ সাল থেকে প্রতি ৪ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দেখা একক ক্রীড়া ইভেন্ট। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মানুষ দেখেছিল।

  • মহিলা বিশ্বকাপ: ১৯৯১ সাল থেকে শুরু হয়। মহিলা ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ফিফা ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

  • অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ: ভবিষ্যৎ তারকাদের চিহ্নিত করার জন্য এই টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করে ফিফা।

  • ক্লাব বিশ্বকাপ: বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের সেরা ক্লাবদের নিয়ে এই টুর্নামেন্ট হয়।

  • ফুটসাল ও বিচ ফুটবল বিশ্বকাপ: ফুটবলের ভিন্ন ভিন্ন রূপের জন্যও ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করে।

৪.২ খেলার নিয়ম নির্ধারণ

ফুটবলের অফিসিয়াল নিয়ম বলা হয় Laws of the Game। এই নিয়ম তৈরির জন্য একটি পৃথক সংস্থা আছে – IFAB (International Football Association Board)। ফিফা সেখানে ৫০% ভোট ক্ষমতা রাখে। অর্থাৎ ফিফা চাইলে নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে, তবে তার জন্য অন্য সদস্যদেরও মত নিতে হয়।

VAR (Video Assistant Referee) প্রযুক্তি আনা, অফসাইড নিয়ম পরিবর্তন, সাবসটিটিউশনের সংখ্যা বাড়ানো – সবকিছুতেই ফিফার বড় ভূমিকা আছে।

৪.৩ খেলোয়াড় ট্রান্সফার নিয়ন্ত্রণ

খুব অল্প মানুষ জানেন যে কোনো ক্লাব যখন কোনো খেলোয়াড়কে কিনতে চায়, তখন সেটা ফিফার TMS (Transfer Matching System) নামের একটি সিস্টেমের মাধ্যমে হয়। এই সিস্টেম নিশ্চিত করে যে ট্রান্সফারে কোনো দুর্নীতি বা অবৈধ লেনদেন হচ্ছে কিনা।

৪.৪ র্যাঙ্কিং তৈরি করা

ফিফা FIFA Ranking নামে একটি পয়েন্ট সিস্টেম চালু করে। এতে প্রতিটি জাতীয় দল তাদের পারফরম্যান্স অনুযায়ী পয়েন্ট পায়। এই র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্টের ড্র হয়।

৪.৫ শৃঙ্খলা ও শাস্তি

কোনো খেলোয়াড় বা দল যদি অন্যায় করে – যেমন রেসিজম, ম্যাচ ফিক্সিং, ডোপিং, তাহলে ফিফা তাদের শাস্তি দিতে পারে। শাস্তি হতে পারে – ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ করা, জরিমানা করা, এমনকি কয়েক বছরের জন্য ফুটবল খেলা থেকে বহিষ্কার করা।

৪.৬ ফুটবলের উন্নয়ন

FIFA শুধু বড় দল নিয়ে ভাবে না। তারা FIFA Forward Program নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে ছোট ও উন্নয়নশীল দেশের ফুটবল উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হয়। প্রশিক্ষক পাঠানো, মাঠ নির্মাণ, যন্ত্রপাতি দেওয়া – সবকিছু করে ফিফা।

৫. ফিফার টাকাপয়সা কোথা থেকে আসে?

ফিফা কিন্তু কোনো লাভের সংস্থা নয়। তবুও তাদের হাতে বিপুল পরিমাণ টাকা আসে। ফিফার প্রধান আয়ের উৎসগুলো হলো:

আয়ের উৎস বিস্তারিত
বিশ্বকাপ টিভি স্বত্ব বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করে বিলিয়ন ডলার আয় করে ফিফা
স্পনসরশিপ কোका-কোলা, ভিসা, অ্যাডিডাস, কিয়ার – এই ধরনের বিশ্বব্র্যান্ড ফিফাকে কোটি কোটি টাকা দেয়
টিকেট বিক্রি বিশ্বকাপের টিকেট বিক্রি থেকেও বিপুল অর্থ আসে
লাইসেন্সিং ও মার্চেন্ডাইজ ফিফার লোগো ব্যবহার করতে খেলনা, জামা, ভিডিও গেম কোম্পানিগুলোকে টাকা দিতে হয়

এই টাকা দিয়েই ফিফা তার সব কর্মকাণ্ড চালায় এবং উন্নয়নশীল দেশে ফুটবলের উন্নতিতে বিনিয়োগ করে।

৬. ফিফা নিয়ে বিতর্ক – অন্ধকার দিক

একটা বড় সংস্থা হলেই বিতর্ক আসবেই। ফিফাও এর ব্যতিক্রম নয়। কয়েকটি বড় বিতর্ক আলোচনা করা যাক:

৬.১ ২০১৫ সালের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ফিফার বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ছিল – ফিফার অনেক বড় কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছেন। কাতার ও রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় ফিফার সেক্রেটারি জেনারেলসহ অনেক কর্মকর্তা গ্রেফতার হন।

৬.২ সেপ ব্লাটার ও মিশেল প্লাতিনি

সেপ ব্লাটার ফিফার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফা চালান। কিন্তু তার অধীনে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। ব্লাটার ও ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি দুর্নীতির দায়ে ফুটবল থেকে বহিষ্কৃত হন।

৬.৩ কাতার বিশ্বকাপ বিতর্ক

২০২২ সালের বিশ্বকাপ কাতারে দেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। অভিযোগ ওঠে – কাতার আয়োজক নির্বাচিত হওয়ার জন্য ঘুষ দিয়েছে। এছাড়া কাতারে বিদেশী শ্রমিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, গরমের মধ্যে বিশ্বকাপ আয়োজন – সব মিলিয়ে ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

৬.৪ মানবাধিকার ইস্যু

FIFA দীর্ঘদিন ধরে এলজিবিটিকিউ অধিকার ও নারী ফুটবল নিয়ে সমালোচিত হয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে কাতারে সমকামিতা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ফিফা সেসময় স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

৭. ফিফার ভবিষ্যৎ – কী আসছে সামনে?

FIFA এখন নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:

  • ২০২৬ বিশ্বকাপ: যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে।

  • নতুন ক্লাব বিশ্বকাপ: ২০২৫ সালে ৩২ দলের একটি বড় ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে ফিফার।

  • প্রযুক্তির ব্যবহার: VAR আরও উন্নত হবে। অফসাইড নির্ণয়ে সেমি-অটোমেটেড প্রযুক্তি আসছে।

  • নারী ফুটবলে বিনিয়োগ: ফিফা মহিলা ফুটবলের প্রসারে আরও টাকা দিচ্ছে। ২০২৩ মহিলা বিশ্বকাপের প্রাইজ মানি আগের তুলনায় অনেক বাড়ানো হয়েছে।

উপসংহার (Conclusion)

FIFA শুধু একটি সংস্থা নয় – এটি ফুটবল নামক আবেগের অভিভাবক। শুরুতে হয়তো কিছু দেশের ছোট একটি উদ্যোগ ছিল; আজ এটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া সংস্থাগুলোর একটি। ফুটবল নিয়ে বসলে, ফুটবল দেখলে, ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখলে – ফিফা কোথাও না কোথাও জড়িয়ে থাকে।

হ্যাঁ, ফিফার অনেক ভুল-ত্রুটি আছে, দুর্নীতির কলঙ্ক আছে, কিন্তু ফুটবলকে বিশ্বের সব কোণে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্বও ফিফাকেই দিতে হবে।

তো শেষ কথা – FIFA is the heart and brain of world football. ফুটবল যতদিন থাকবে, ফিফা ততদিন থাকবে।

 (FAQ)

১. FIFA এর ফুল ফর্ম কী?

FIFA এর ফুল ফর্ম হলো Fédération Internationale de Football Association। এটি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে।

২. ফিফা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

২১ মে ১৯০৪ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩. ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট কে?

ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো (Gianni Infantino), যিনি সুইজারল্যান্ডের নাগরিক।

৪. ফিফার কতটি সদস্য দেশ আছে?

ফিফার সদস্য দেশের সংখ্যা ২১১

৫. ফিফা কি কোন মুনাফাভোগী সংস্থা?

না, ফিফা একটি অলাভজনক (non-profit) সংস্থা। তবে তারা বিশাল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে, যা তারা ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করে।

৬. ফিফা ও উয়েফার মধ্যে পার্থক্য কী?

FIFA পুরো বিশ্বের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। UEFA শুধু ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অর্থাৎ UEFA হলো FIFA-র অধীনস্থ একটি মহাদেশীয় সংস্থা।

৭. ফিফা বিশ্বকাপে কতটি দল অংশ নেয়?

বর্তমান নিয়মে ৩২টি দল অংশ নেয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ৪৮টি দল অংশ নেবে।

তথ্যসারণি (At a Glance)

বিষয় বিবরণ
নাম ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FIFA)
প্রতিষ্ঠা ২১ মে ১৯০৪
প্রতিষ্ঠাস্থল প্যারিস, ফ্রান্স
সদর দপ্তর জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
সদস্য দেশ ২১১
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো (২০১৬–বর্তমান)
প্রধান টুর্নামেন্ট FIFA World Cup (পুরুষ ও মহিলা)
ওয়েবসাইট www.fifa.com
মোট আয় (২০২২) প্রায় ৫.৮ বিলিয়ন ডলার
Exit mobile version