FIFA সদর দপ্তর জুরিখ: ফুটবল বিশ্বের হৃদয়ে একটি ভার্চুয়াল সফর – ইতিহাস, স্থাপত্য, জাদুঘর ও অজানা তথ্য (২০২৬ আপডেট)
ফিফার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে অবস্থিত – যেখানে বসে ফুটবল বিশ্বের সব বড় সিদ্ধান্ত। কীভাবে এই অনন্য ভবনটি তৈরি হয়েছে? এর ভিতরে কী আছে? ফিফা জাদুঘরে কী কী দেখা যায়? বিশ্বকাপের আসল ট্রফি কোথায় রাখা হয়? সাধারণ দর্শক কি এখানে প্রবেশ করতে পারেন? FIFA সদর দপ্তর জুরিখ: ফুটবল বিশ্বের হৃদয়ে একটি ভার্চুয়াল সফর – ইতিহাস, স্থাপত্য, জাদুঘর ও অজানা তথ্য (২০২৬ আপডেট)জানুন ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সব রহস্য। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ ভ্রমণ বিবরণী।
ভূমিকা (Introduction)
সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহর। সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহরগুলোর একটি। কিন্তু জুরিখকে বিশ্ববাসী চেনে আরও একটি কারণে – এখানে অবস্থিত ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা – ফিফা সদর দপ্তর (FIFA Headquarters)। যাকে ডাকা হয় “Home of FIFA” ।
এখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় – বিশ্বকাপ কোথায় হবে, ফুটবলের নিয়ম কী হবে, কোন খেলোয়াড় কত টাকায় ক্লাব বদলাবে। এখানেই বসে ফিফা প্রেসিডেন্ট, ফিফা কাউন্সিলের সদস্যরা – মিলে গড়ে তোলেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ।
কিন্তু এই ভবনটি দেখতে কেমন? এর ভিতরে কী আছে? সাধারণ দর্শক কি এখানে ঢুকতে পারেন? বিশ্বকাপের আসল ট্রফি কোথায় রাখা হয়?
এই আর্টিকেলে আমরা ভার্চুয়াল সফর করব ফিফা সদর দপ্তরের – জানব এর ইতিহাস, স্থাপত্য, গোপন কক্ষ, ফিফা জাদুঘর এবং আরও অনেক কিছু।
চলুন, শুরু করা যাক – জুরিখের উদ্দেশ্যে।
১. অবস্থান ও ঠিকানা
ফিফা সদর দপ্তর অবস্থিত জুরিখের জুরিখবার্গ (Zürichberg) এলাকায় – একটি বনানী পাহাড়ের ওপর, শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে ।
পূর্ণ ঠিকানা:
FIFA-Strasse 20
8044 Zürich
Switzerland
এটি একটি অভিজাত ও শান্ত পাড়া। ফিফার ঠিকানা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে জুরিখ শহর কর্তৃপক্ষ পুরনো রাস্তার নাম বদলে ফিফা-স্ট্রাসে (FIFA Street) রাখে – একমাত্র ফুটবল সংস্থা হিসেবে যার নিজের নামে রাস্তা আছে ।
কিভাবে যাবেন?
বিমানে জুরিখ এয়ারপোর্টে নেমে ট্রেনে শহরে এসে ট্রাম (Line 5 বা 6) ধরতে হবে। স্টেশন থেকে হেঁটে যাওয়া যায় – তবে পাহাড়ি পথ বলে হাঁটতে ইচ্ছুক না হলে ট্যাক্সি বা বাস নেওয়া ভালো।
২. স্থাপত্য – দ্যা হোম অফ ফিফা (The Home of FIFA)
বর্তমান ফিফা সদর দপ্তরটি ২০০৬ সালে সম্পূর্ণ হয়। ২০০৭ সালের ২৯ মে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ।
স্থপতি: সুইস স্থপতি তিল্লা তেউস (Tilla Theus)
নির্মাণ ব্যয়: প্রায় ২৪০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাংক (পরে যা দাঁড়ায় প্রায় $১৮৪ মিলিয়ন বা ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো)
২.১ অনন্য স্থাপত্য নকশা
ফিফা সদর দপ্তর স্থাপত্যের দিক থেকে অনন্য ও অদ্ভুত। ভবনটির দুই-তৃতীয়াংশ মাটির নিচে অবস্থিত । উপরে মাত্র ২টি তলা দেখা যায় – বাকি ৫টি তলা পুরোপুরি মাটির নিচে।
কেন এভাবে বানানো হয়েছে?
তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার এর ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন – “যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেখানে সরাসরি আলো থাকা উচিত নয়। আলো আসা উচিত সেখানে বসা মানুষের কাছ থেকে” ।
বাহিরের চেহারা:
-
ভবনের বাইরের অংশ অ্যালুমিনিয়ামের জালি দিয়ে আবৃত, যা দেখতে অনেকটা গোলপোস্টের জালের মতো । এটি সূর্যের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও নকশাগত সৌন্দর্য আনে।
-
এই জালি নকশা ফুটবলের প্রতি ইঙ্গিত – “গোলের জাল” ।
-
ভবনটি বাইরে থেকে সাধারণ দেখালেও ভিতরে বিলাসবহুল – ব্রাজিলিয়ান শেল, আমেরিকান ওয়ালনাট কাঠ, ক্রোম স্টিলের রেলিং ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে ।
২.২ ভিতরের কাঠামো
| তলা | কী আছে |
|---|---|
| উপরের তলা (২টি) | অফিস, রিসেপশন, কনফারেন্স রুম |
| ১ম ভূগর্ভস্থ তলা | আর্কাইভ, টেকনিক্যাল রুম |
| ২য় ভূগর্ভস্থ তলা | ভিআইপি লাউঞ্জ, ইতালীয় রেস্তোরাঁ “লা পিরামিড” |
| ৩য় ভূগর্ভস্থ তলা | নির্বাহী কমিটির মিটিং রুম – যেখানে বিশ্বকাপ আয়োজক নির্বাচন ও অন্যান্য বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় |
| ৪র্থ ভূগর্ভস্থ তলা | প্রার্থনা কক্ষ (Onyx Room) – যা ইসলামিক সদস্যদের জন্য কিবলার দিক নির্দেশনা সহ সাজানো |
| ৫ম ভূগর্ভস্থ তলা | গাড়ি পার্কিং ও স্টোরেজ |
প্রার্থনা কক্ষটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য – এটি প্রায় সব ধর্মের লোকের জন্য উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ রাখা হয়েছে। কোনো ধর্মীয় প্রতীক নেই, শুধু সবুজ তীর মক্কার দিক দেখায় ।
ফিফা হাউসের ভিতরে একটি পূর্ণ আকারের ফুটবল মাঠ ও বিচ ফুটবল মাঠ আছে । কর্মচারী ও অতিথিরা এখানে খেলতে পারেন।
২.৩ ফিফার পুরনো বাড়ি
বর্তমান ভবনের আগে ফিফার সদর দপ্তর ছিল ভিন্ন জায়গায়:
-
১৯৩২-১৯৫৪: জুরিখের অন্য一处 ভবন
-
১৯৫৪-১৯৭৯: ভিলা ডেরওয়াল্ড (Villa Derwald) – একটি চমৎকার প্রাসাদ স্টাইলের বাড়ি
-
১৯৭৯-২০০৬: হিৎসিগওয়েগে (Hitzigweg) “ফিফা হাউস” – আধুনিক ও ফাংশনাল ভবন
বর্তমান ভবন ফিফার চতুর্থ সদর দপ্তর। ক্রমবর্ধমান কর্মচারী সংখ্যার (১৯৭৯ সালে মাত্র ৮ জন) কারণে বড় ভবন প্রয়োজন হয়েছিল । বর্তমানে এখানে ৩০০+ কর্মচারী কাজ করেন ।
৩. ফিফা জাদুঘর (FIFA Museum) – ফুটবল ইতিহাসের ভান্ডার
ফিফা সদর দপ্তর থেকে কিছুটা দূরে (যাতায়াতের সুবিধার্থে, একই এলাকায়) অবস্থিত ফিফা জাদুঘর। এটি ৩২,৫০০ বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত – তিন তলায় ফুটবলের ইতিহাস, ট্রফি ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রদর্শনী নিয়ে সাজানো ।
ঠিকানা: Seestrasse 27, 8002 Zürich
খোলার সময়: মঙ্গলবার-রবিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা (সোমবার বন্ধ)
৩.১ রেইনবো – ২১১টি দেশের জার্সির প্রদর্শনী
জাদুঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে দ্য রেইনবো – ৩৫ মিটার লম্বা একটি প্রদর্শনী যেখানে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের জাতীয় দলের জার্সি রংধনুর মতো সাজিয়ে রাখা হয়েছে ।
এখানে জার্সিগুলো FIFA র্যাঙ্কিং বা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো নেই – বরং জার্সির রং অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। বাইরের অংশে আছে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ৩২টি দলের জার্সি ।
৩.২ টাইমলাইন – ফুটবলের ইতিহাসের কালক্রম
১৩ মিটার লম্বা একটি টাইমলাইন দেয়াল, যেখানে ফুটবলের ইতিহাস ধরা আছে – ১৮৬৩ সালের ইংলিশ এফএ গঠন থেকে শুরু করে বর্তমান ।
এখানে দেখানো হয়েছে:
-
খেলার ১৩টি মূল আইন থেকে বর্তমান ১৭টি আইনে পরিবর্তন
-
এফএ কাপ (১৮৭১-৭২) থেকে শুরু করে কোপা আমেরিকা (১৯১৬) পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ইতিহাস
-
সদস্য দেশগুলোর ফিফাতে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী ফুটবলের বিশ্বব্যাপী বিস্তার
৩.৩ ফাউন্ডেশন – ফিফা প্রতিষ্ঠার গল্প
জাদুঘরের সবচেয়ে ছোট কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ। এখানে ১৯০৪ সালের ফিফা প্রতিষ্ঠার আসল ডকুমেন্ট (Statutes) সংরক্ষিত আছে ।
প্রদর্শনীর কেন্দ্রে রয়েছে আইএফএবি (IFAB) এর প্রথম মিনিট বুক – ১৮৮৬ সালের রেকর্ড, যেখানে ফুটবলের আইনে পরিবর্তনের আলোচনা লিপিবদ্ধ আছে । ৬টি স্তম্ভের মাধ্যমে ফিফার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও অগ্রগতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
৩.৪ FIFA বিশ্বকাপ গ্যালারি – জাদুঘরের হৃদয়
এটি জাদুঘরের সবচেয়ে বড় কক্ষ – যেখানে পুরুষ ও মহিলা বিশ্বকাপের ইতিহাস বিস্তারিত ভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে ।
প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে:
-
১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের খেলোয়াড়ের জার্সি
-
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে পেলের পরা ট্র্যাকসুট
-
এপ্রিল হেনরিখস (প্রথম মহিলা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক) এর মেডেল ও জার্সি
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ: পুরুষ ও মহিলা বিশ্বকাপের আসল ট্রফি দুটো স্থায়ীভাবে এখানে রাখা আছে ।
-
পুরুষ ট্রফিটি ১৯৭৪ সাল থেকে ব্যবহার হচ্ছে (জুলে রিমে ট্রফি ব্রাজিল ১৯৭০-এ চিরকাল পেয়েছিল)
-
মহিলা ট্রফিটি ১৯৯৯ সালে প্রথম চালু করা হয়
৩.৫ সিনেমা হল – ১৮০ ডিগ্রি অভিজ্ঞতা
একটি বাঁকা পর্দায় (১৮০°) ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের কিছু বিশেষ মুহূর্ত দেখানো হয় ।
পাশেই আছে কারভা নর্ড – স্টেডিয়ামের কার্ভা নর্ডের আদলে তৈরি একটি জায়গা, যেখানে ১৯৬৬ ওয়েম্বলি, ১৯৭৪ মিউনিখ ও ২০১০ কেপ টাউনের স্টেডিয়ামের আসন বসানো আছে ।
৩.৬ ই-ফুটবল ও পিনবল – ইন্টারঅ্যাক্টিভ জোন
ভার্চুয়াল জগতে পা রেখে খেলোয়াড়দের সাথে গোল উদযাপন করার সুযোগ আছে। FIFAE বিশ্বকাপ ট্রফির সাথে সেলফি তোলা যায় ।
জাদুঘর শেষ হয় পিনবল জোনে – যেখানে দর্শকরা নিজেরা বল নিয়ন্ত্রণ ও খেলার দক্ষতা পরীক্ষা করতে পারেন ।
৩.৭ স্পেশাল এক্সিবিশন – ইন্ডোভেশন ইন অ্যাকশন (২০২৫-২০২৬)
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত জাদুঘরে একটি বিশেষ প্রদর্শনী চলছে – “ইন্ডোভেশন ইন অ্যাকশন: ফুটবল টেকনোলজিস অন অ্যান্ড অফ দা পিচ” ।
এখানে দেখানো হচ্ছে:
-
১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের সাদা-কালো ক্যামেরা থেকে ৪কে আলট্রা-স্লো মোশন ফুটেজ পর্যন্ত সম্প্রচার প্রযুক্তির বিবর্তন
-
VAR রুম – রেফারি হিসেবে নিজেকে পরীক্ষা করার সুযোগ
-
গোললাইন টেকনোলজি অপারেটর হওয়ার অভিজ্ঞতা
-
ফিফা প্লেয়ার অ্যাপ – চেলসির কোল পামারের পারফরম্যান্স স্ট্যাটিস্টিকস দেখার সুযোগ
-
২০২৩ মহিলা বিশ্বকাপে কানাডার গোলকিপার কাইলেন শেরিডানের পানির বোতল (যাতে পেনাল্টি পরিসংখ্যান লেখা ছিল)
৪. সাধারণ দর্শক কি ফিফা সদর দপ্তর ঘুরতে পারেন?
৪.১ প্রশাসনিক ভবন (The Home of FIFA)
প্রশাসনিক ভবন – যেখানে ফিফা কর্মকর্তারা কাজ করেন – তা সাধারণ দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত নয় ।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে: কেউ যদি আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আইনি বা প্রশাসনিক কাজে আসেন, তাহলে রিসেপশন এলাকা পর্যন্ত যেতে পারেন। সাধারণ পর্যটকদের জন্য ভবনের ভিতরে যাওয়ার সুযোগ নেই ।
৪.২ ফিফা জাদুঘর – সবার জন্য উন্মুক্ত
আপনি যদি ফুটবল ভালোবাসেন, তাহলে ফিফা জাদুঘর অবশ্যই দেখার মতো। জাদুঘরটি সম্পূর্ণ আলাদা ভবনে (Seestrasse) এবং সকল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ।
টিকেট মূল্য (আনুমানিক):
-
প্রাপ্তবয়স্ক: ২৪ ফ্রাংক (~২৮ ডলার)
-
শিশু ও স্টুডেন্ট: কম
-
অডিও গাইড বিনামূল্যে (৮টি ভাষায় পাওয়া যায়)
ভিজিটর রিভিউ: বাইরে একটি বিশাল ফুটবল বল ভাস্কর্য রয়েছে যা ছবি তোলার জন্য দারুণ জায়গা ।
৫. গোপন কক্ষ ও আকর্ষণীয় তথ্য
৫.১ নির্বাহী কমিটির মিটিং রুম
ভবনের ৩য় ভূগর্ভস্থ তলায় অবস্থিত এই কক্ষে বসে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় – কে বিশ্বকাপ আয়োজক হবে থেকে শুরু করে ফুটবল নিয়ম পরিবর্তন ।
কক্ষটির দেওয়াল অ্যালুমিনিয়ামের, মেঝে ল্যাপিস লাজুলি পাথরের তৈরি। জানলা নেই – শুধু পরোক্ষ আলোর ব্যবস্থা। ব্লাটার বলতেন – “লাইট অফ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় সরাসরি আলো থাকা উচিত নয়” ।
৫.২ মেডিটেশন রুম (প্রার্থনা কক্ষ)
৪র্থ ভূগর্ভস্থ তলায় একটি অনিক্স পাথরে তৈরি ঘর। দেয়াল ও ছাদ এমনভাবে তৈরি যে আলো ভেতরে এসে পড়ে। কক্ষটি ধর্মনিরপেক্ষ রাখা হয়েছে – তবে ইসলামিক সদস্যদের জন্য সবুজ তীর মক্কার দিক নির্দেশ করে ।
৫.৩ ফুল সাইজ ফুটবল পিচ
সদর দপ্তরের পাশেই একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল মাঠ আছে । পাশাপাশি একটি বিচ ফুটবল মাঠ ও রয়েছে । অনেক সময় ফিফা কর্মকর্তারা এখানে খেলেন।
৫.৪ ভূগর্ভস্থ পার্কিং
বিলিয়ন ডলারের ফিফা অফিসার ও অতিথিদের জন্য ২৪০টি গাড়ির পার্কিং স্পেস মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে ।
৫.৫ আর্কাইভ
ফিফার পুরনো সব ডকুমেন্ট, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ডকুমেন্ট, আইন ও চুক্তির কপি রাখা আছে ভূগর্ভস্থ আর্কাইভে – যা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ।
৬. ফিফা সদর দপ্তর – তথ্যসারণি
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঠিকানা | FIFA-Strasse 20, 8044 Zürich, Switzerland |
| স্থপতি | তিল্লা তেউস (Tilla Theus) |
| নির্মাণ সমাপ্তি | ২০০৬ (উদ্বোধন ২৯ মে ২০০৭) |
| নির্মাণ ব্যয় | ২৪০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাংক (~$১৮৪ মিলিয়ন) |
| মোট জমির পরিমাণ | ৪৪,০০০ বর্গমিটার |
| ভবনের তলা | ২টি উপরে, ৫টি নিচে – মোট ৭টি |
| কর্মচারী সংখ্যা | ৩০০-১০০০ (বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী) |
| সুবিধা | ফুটবল পিচ, বিচ ফুটবল পিচ, জিম, প্রার্থনা কক্ষ, রেস্তোরাঁ, ভিআইপি লাউঞ্জ, কনফারেন্স সেন্টার, আর্কাইভ |
| ফিফা জাদুঘর অবস্থান | Seestrasse 27, 8002 Zürich (সদর দপ্তর থেকে আলাদা) |
| জাদুঘরের আয়তন | ৩২,৫০০ বর্গফুট |
| জাদুঘর খোলার সময় | মঙ্গলবার-রবিবার ১০:০০-১৮:০০ (সোমবার বন্ধ) |
৭. কেন জুরিখ? ফিফার কেন সুইজারল্যান্ডে সদর দপ্তর?
অনেকে প্রশ্ন করেন – ফিফা কেন সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বসে? এর কারণ রয়েছে:
১. নিরপেক্ষ অবস্থান: সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরপেক্ষ। ফুটবলের মতো সর্বজনীন খেলার কেন্দ্র নিরপেক্ষ দেশে থাকা কূটনৈতিকভাবে বুদ্ধিমানের কাজ।
২. আন্তর্জাতিক সংস্থার ঘনত্ব: জুরিখ ও জেনেভায় ইতিমধ্যে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার (UN, WHO, ICRC, ইত্যাদি) অফিস আছে।
৩. ট্যাক্স ও আইনি সুবিধা: সুইজারল্যান্ড বিদেশী সংস্থার জন্য কর ও আইনি সুবিধা দেয়।
৪. ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থান: ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও অস্ট্রিয়ার মাঝখানে হওয়ায় ভ্রমণ সহজ।
ফিফা সদর দপ্তর ১৯৩২ সাল থেকে জুরিখেই আছে – শুধু একবার জায়গা বদলেছে, শহর ছাড়েনি ।
উপসংহার (Conclusion)
ফিফা সদর দপ্তর শুধু একটি অফিস নয় – এটি ফুটবল বিশ্বের মস্তিষ্ক। এখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার ভবিষ্যৎ। ভবনের অনন্য স্থাপত্য – দুই-তৃতীয়াংশ মাটির নিচে – প্রতীকীভাবে ফুটবল বিশ্বের রহস্য ও গুরুত্বকেই তুলে ধরে।
এবং ফিফা জাদুঘর – যেখানে ফুটবলের ইতিহাস, ট্রফি ও আবেগ সংরক্ষিত আছে। জুরিখ ভ্রমণে এলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি একটি পবিত্র তীর্থস্থান।
যারা ফুটবল ভালোবাসেন – তাদের জন্য জুরিখের ফিফা সদর দপ্তর ও জাদুঘর দর্শন একবার হলেও করা উচিত। হয়তো সেদিন ফুটবলের ইতিহাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময়টায় আপনি সেখানে উপস্থিত থাকবেন! আর যদি ভাগ্য ভালো হয়, ফিফা স্ট্রিটের সেই বিশাল ফুটবল বলের সাথে সেলফি তোলার সুযোগ পাবেন।
আরো পড়ুন
- পার্ট-টাইম ফ্রিল্যান্সিং করে Income বাড়ানোর উপায়
- গ্রাফিক ডিজাইনে মাসে ১ লাখ টাকা Income করার কৌশল
- সেলফ-পাবলিশড ই-বুক বিক্রি করে আয় Income
- TikTok ফটো এডিটিং টিপস সেরা স্টাইল
- TikTok এর গোপন কৌশল নতুন ভিডিও শেয়ারিং
(FAQ)
১. ফিফা সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরের জুরিখবার্গ এলাকায়, FIFA-Strasse 20 ঠিকানায় ।
২. সাধারণ দর্শক কি ফিফা সদর দপ্তর ঘুরতে পারেন?
প্রশাসনিক ভবন সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে ফিফা জাদুঘরে (Seestrasse 27) সবাই যেতে পারেন ।
৩. ফিফা জাদুঘরে কী আছে?
বিশ্বকাপের আসল ট্রফি, ২১১ দেশের জার্সি, ফুটবলের ইতিহাস, ইন্টারঅ্যাক্টিভ গেম, VAR রুম, ই-ফুটবল জোন ও আরও অনেক কিছু ।
৪. ফিফা জাদুঘরে প্রবেশের ফি কত?
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রায় ২৪ সুইস ফ্রাংক (~২৮ ডলার) ।
৫. ফিফা ভবনটি কেন মাটির নিচে বানানো হয়েছে?
যাতে যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেখানে সরাসরি আলো না পড়ে – আলো আসে সেখানে বসা মানুষের কাছ থেকে ।
৬. পুরুষ বিশ্বকাপের আসল ট্রফি কোথায় রাখা আছে?
ফিফা জাদুঘরে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত আছে ।
৭. ফিফা জাদুঘর কখন খোলা থাকে?
মঙ্গলবার থেকে রবিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সোমবার বন্ধ থাকে ।

