FIFA বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্কোরলাইন: সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ, বড় জয় ও রেকর্ডসমূহ (১৯৩০-২০২২)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কিছু ম্যাচ গোলের বন্যায় ভেসে গেছে। হাঙ্গেরি ১০-১ এল সালভাদর, যুগোস্লাভিয়া ৯-০ জাইর, পর্তুগাল ৭-০ উত্তর কোরিয়া – কোন ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছে? FIFA বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্কোরলাইন: সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ, বড় জয় ও রেকর্ডসমূহ (১৯৩০-২০২২) সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড কার? জানুন বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও গল্প। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।
ভূমিকা (Introduction)
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই টানটান লড়াই, শেষ মুহূর্তের গোল, পেনাল্টি নাটক। কিন্তু কখনো কখনো বিশ্বকাপে হয় গোলের বন্যা। সেই ম্যাচগুলো যেখানে একটি দল অপর দলকে উড়িয়ে দেয় – ৫-০, ৬-০, এমনকি ৯-০, ১০-১ ব্যবধানে।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো:
-
বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় কোনগুলো?
-
সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ কোনটি?
-
কোন খেলোয়াড় এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন?
-
বড় স্কোরলাইনের পেছনের গল্প ও মজার তথ্য
চলুন, গোলের বন্যায় ভেসে যাই।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় (শীর্ষ ১০)
নিচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের ব্যবধানে জয় এর তালিকা দেওয়া হলো:
| র্যাঙ্ক | বছর | বিজয়ী দল | ফলাফল | পরাজিত দল | ব্যবধান | পর্ব |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ১৯৭৪ | যুগোস্লাভিয়া | ৯-০ | জাইর (বর্তমান ডিআর কঙ্গো) | ৯ গোল | গ্রুপ পর্ব |
| ১ | ১৯৩৮ | সুইডেন | ৮-০ | কিউবা | ৮ গোল | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ১ | ১৯৫৪ | হাঙ্গেরি | ৯-০ | দক্ষিণ কোরিয়া | ৯ গোল | গ্রুপ পর্ব |
| ১ | ২০০২ | জার্মানি | ৮-০ | সৌদি আরব | ৮ গোল | গ্রুপ পর্ব |
| ৫ | ১৯৩০ | উরুগুয়ে | ৬-০ | বলিভিয়া | ৬ গোল | গ্রুপ পর্ব |
| ৫ | ১৯৩০ | আর্জেন্টিনা | ৬-৩ | মেক্সিকো (গোল বেশি, ব্যবধান ৩) কিন্তু বড় স্কোরের জন্য নয় | – | – |
| ৫ | ১৯৫৪ | উরুগুয়ে | ৭-০ | স্কটল্যান্ড | ৭ গোল | গ্রুপ পর্ব |
| ৫ | ১৯৭৪ | যুগোস্লাভিয়া | ৯-০ | জাইর | ৯ গোল | গ্রুপ পর্ব |
| ৫ | ২০১০ | পর্তুগাল | ৭-০ | উত্তর কোরিয়া | ৭ গোল | গ্রুপ পর্ব |
আসলে ৯-০ ব্যবধানের জয় আছে দুটি: যুগোস্লাভিয়া ৯-০ জাইর (১৯৭৪) ও হাঙ্গেরি ৯-০ দক্ষিণ কোরিয়া (১৯৫৪)। ৮-০ ব্যবধানে জয় আছে উরুগুয়ে ৮-০ বলিভিয়া (১৯৩০? আসলে ১-০? ভুল), আসলে ১৯৩০ উরুগুয়ে বলিভিয়াকে ১-০ হারিয়েছিল – এটা ভুল। সঠিক তথ্য নিচে দেওয়া হলো।
সঠিক তালিকা :
| ব্যবধান | বছর | বিজয়ী | ফলাফল | পরাজিত | পর্ব |
|---|---|---|---|---|---|
| ৯ গোল | ১৯৭৪ | যুগোস্লাভিয়া | ৯-০ | জাইর | গ্রুপ পর্ব |
| ৯ গোল | ১৯৫৪ | হাঙ্গেরি | ৯-০ | দক্ষিণ কোরিয়া | গ্রুপ পর্ব |
| ৮ গোল | ১৯৩৮ | সুইডেন | ৮-০ | কিউবা | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ৮ গোল | ২০০২ | জার্মানি | ৮-০ | সৌদি আরব | গ্রুপ পর্ব |
| ৮ গোল | ১৯৫০ | উরুগুয়ে | ৮-০ | বলিভিয়া | গ্রুপ পর্ব |
| ৮ গোল | ২০১০ | পর্তুগাল | ৭-০ | উত্তর কোরিয়া (৭ গোল) | গ্রুপ পর্ব |
| ৭ গোল | ১৯৫৪ | তুরস্ক | ৭-০ | দক্ষিণ কোরিয়া | গ্রুপ পর্ব |
| ৭ গোল | ১৯৫৪ | উরুগুয়ে | ৭-০ | স্কটল্যান্ড | গ্রুপ পর্ব |
| ৭ গোল | ১৯৬২ | হাঙ্গেরি | ৬-১ (ব্যবধান ৫) | বুলগেরিয়া | – |
সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ (দুই দল মিলিয়ে)
কিছু ম্যাচে শুধু একটি দল বড় জয় পায়নি, বরং দুই দল মিলিয়ে গোলের বন্যা হয়েছে। নিচে তালিকা দেওয়া হলো:
| র্যাঙ্ক | বছর | ম্যাচ | ফলাফল | মোট গোল | পর্ব |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ১৯৫৪ | অস্ট্রিয়া vs সুইজারল্যান্ড | ৭-৫ | ১২ গোল | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ২ | ১৯৩০ | উরুগুয়ে vs যুগোস্লাভিয়া | ৬-১ | ৭ গোল | সেমিফাইনাল |
| ২ | ১৯৩০ | আর্জেন্টিনা vs মেক্সিকো | ৬-৩ | ৯ গোল | গ্রুপ পর্ব |
| ২ | ১৯৩৮ | সুইডেন vs কিউবা | ৮-০ | ৮ গোল | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ২ | ১৯৫৪ | হাঙ্গেরি vs পশ্চিম জার্মানি | ৮-৩ (গ্রুপ), ৩-২ (ফাইনাল) | ১১ গোল (গ্রুপ) | গ্রুপ পর্ব |
| ৩ | ১৯৮২ | হাঙ্গেরি vs এল সালভাদর | ১০-১ | ১১ গোল | গ্রুপ পর্ব |
২.১ সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ: অস্ট্রিয়া ৭-৫ সুইজারল্যান্ড (১৯৫৪)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২৬ জুন ১৯৫৪ |
| স্থান | স্তাদ অলিম্পিক দে লা পঁতেজ, লোজান, সুইজারল্যান্ড |
| ফলাফল | অস্ট্রিয়া ৭-৫ সুইজারল্যান্ড |
| মোট গোল | ১২ (বিশ্বকাপ রেকর্ড) |
গল্প:
১৯৫৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। আয়োজক সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া – দুই প্রতিবেশী দেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের বন্যা। সুইজারল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় (১৬ মিনিটের মধ্যে)। তারপর অস্ট্রিয়া ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়া ৭-৫ জেতে। কোনো প্রতিরক্ষা ছিল না – ছিল শুধু আক্রমণ। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের একমাত্র ম্যাচ যেখানে দুই দল মিলিয়ে ১২ গোল হয়েছে।
হাঙ্গেরি ১০-১ এল সালভাদর (১৯৮২)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ১৫ জুন ১৯৮২ |
| স্থান | নুয়েভো এস্তাদিও, এলচে, স্পেন |
| ফলাফল | হাঙ্গেরি ১০-১ এল সালভাদর |
| মোট গোল | ১১ |
গল্প:
হাঙ্গেরির স্বর্ণালী প্রজন্ম তখন শেষ। কিন্তু তারা এল সালভাদরকে তুলে ধরল। লাজলো কিস ৭ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন (বিশ্বকাপের দ্রুততম হ্যাটট্রিকের একটি রেকর্ড)। হাঙ্গেরির হয়ে ৫ ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেন। এল সালভাদরের একমাত্র গোলটি লুইস রামিরেজ করেন। এটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ।
৩. এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড়
৩.১ ওলেগ সালেনকো – ৫ গোল (১৯৯৪)
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| ম্যাচ | রাশিয়া ৬-১ ক্যামেরুন |
| তারিখ | ২৮ জুন ১৯৯৪ |
| স্থান | স্ট্যানফোর্ড স্টেডিয়াম, প্যালো আল্টো, ক্যালিফোর্নিয়া |
| গোলদাতা | ওলেগ সালেনকো (রাশিয়া) – ৫ গোল |
গল্প:
১৯৯৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। রাশিয়া ইতিমধ্যে বাদ পড়েছিল (ব্রাজিল ও সুইডেনের কাছে হেরে), ক্যামেরুনও বাদ পড়েছিল। খেলা অর্থহীন। কিন্তু সালেনকো ভাবলেন – রেকর্ড করি। তিনি ১৫, ৪১, ৪৪, ৭২ ও ৭৫ মিনিটে গোল করেন – ৫ গোল। এটি বিশ্বকাপের একক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (যৌথভাবে)। অপর রেকর্ডধারী কে? ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের পেদ্রো সেয়া ও আর্জেন্টিনার গিয়ের্মো স্তাবিলে – তারাও ৫ গোল করেছিলেন? আসলে স্তাবিলে ১৯৩০ সালে ৮ গোল করেছিলেন পুরো টুর্নামেন্টে, এক ম্যাচে ৩ গোল? সালেনকো একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ৫ গোল করেছেন।
৩.২ অন্যান্য যারা ৪ গোল করেছেন এক ম্যাচে:
| খেলোয়াড় | দেশ | বছর | প্রতিপক্ষ | গোল |
|---|---|---|---|---|
| আর্নেস্ট উইলিমোভস্কি | পোল্যান্ড | ১৯৩৮ | ব্রাজিল | ৪ (হেরেছিল ৬-৫) |
| লিওনিদাস | ব্রাজিল | ১৯৩৮ | পোল্যান্ড | ৪ (জিতেছিল ৬-৫) |
| হান্স শেফার | জার্মানি | ১৯৫৪ | তুরস্ক | ৪ |
| সান্ডর কোকস | হাঙ্গেরি | ১৯৫৪ | দক্ষিণ কোরিয়া | ৪ |
| জস্ট ফন্তেইন | ফ্রান্স | ১৯৫৮ | প্যারাগুয়ে | ৪ |
| ইউসেবিও | পর্তুগাল | ১৯৬৬ | উত্তর কোরিয়া | ৪ (৫-৩ জয়ের পথে) |
| এমিলিও বুত্রাগুয়েনো | স্পেন | ১৯৮৬ | ডেনমার্ক | ৪ |
গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বড় জয়
গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি বড় ব্যবধানের জয় হয় (কারণ দুর্বল দলগুলো প্রায়শই জোরালো প্রতিপক্ষ পায়)।
সেরা ৫ গ্রুপ পর্বের জয়:
| র্যাঙ্ক | বছর | বিজয়ী | ফলাফল | পরাজিত | ব্যবধান |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ১৯৭৪ | যুগোস্লাভিয়া | ৯-০ | জাইর | ৯ |
| ২ | ১৯৫৪ | হাঙ্গেরি | ৯-০ | দক্ষিণ কোরিয়া | ৯ |
| ৩ | ২০০২ | জার্মানি | ৮-০ | সৌদি আরব | ৮ |
| ৪ | ১৯৩০ | উরুগুয়ে | ৬-০ (আসলে ৬-০ নয়, উরুগুয়ে বলিভিয়াকে ১-০) ভুল – সুইডেন ৮-০ কিউবা (১৯৩৮) কোয়ার্টার ফাইনাল | ||
| ৪ | ১৯৩৮ | সুইডেন | ৮-০ | কিউবা | ৮ |
সঠিক তালিকা:
-
যুগোস্লাভিয়া ৯-০ জাইর (১৯৭৪)
-
হাঙ্গেরি ৯-০ দক্ষিণ কোরিয়া (১৯৫৪)
-
জার্মানি ৮-০ সৌদি আরব (২০০২)
-
উরুগুয়ে ৮-০ বলিভিয়া (১৯৫০)
-
পর্তুগাল ৭-০ উত্তর কোরিয়া (২০১০)
নকআউট পর্বের সবচেয়ে বড় জয়
নকআউট পর্বে (নকআউট মানে এক ম্যাচে বিদায়) বড় ব্যবধানের জয় বিরল। কিন্তু কিছু আছে:
| র্যাঙ্ক | বছর | বিজয়ী | ফলাফল | পরাজিত | ব্যবধান | পর্ব |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ১৯৩৮ | সুইডেন | ৮-০ | কিউবা | ৮ | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ২ | ১৯৩০ | উরুগুয়ে | ৬-১ | যুগোস্লাভিয়া | ৫ | সেমিফাইনাল |
| ৩ | ১৯৫৮ | ফ্রান্স | ৭-২ | প্যারাগুয়ে | ৫ | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ৪ | ১৯৯৮ | নেদারল্যান্ডস | ৫-০ | দক্ষিণ কোরিয়া | ৫ | গ্রুপ? আসলে কোয়ার্টার নয় – গ্রুপ পর্ব |
| ৫ | ২০১০ | জার্মানি | ৪-০ | আর্জেন্টিনা (বড় ব্যবধান ৪) | ৪ | কোয়ার্টার ফাইনাল |
| ৬ | ২০১৪ | জার্মানি | ৭-১ | ব্রাজিল | ৬ | সেমিফাইনাল (সবচেয়ে বড় সেমিফাইনাল জয়) |
৫.১ জার্মানি ৭-১ ব্রাজিল (২০১৪) – সেমিফাইনালের বধ
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৮ জুলাই ২০১৪ |
| স্থান | এস্তাদিও মিনেইরাঁ, বেলো হরিজোন্টে, ব্রাজিল |
| ফলাফল | জার্মানি ৭-১ ব্রাজিল |
| পর্ব | সেমিফাইনাল |
গল্প:
ব্রাজিল তাদের মাটিতে সেমিফাইনাল খেলছে। নেইমার ইনজুরিতে নেই, থিয়াগো সিলভা নিষিদ্ধ। তবুও সবাই ব্রাজিলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। ম্যাচের ১১ মিনিটে জার্মানি এগিয়ে যায় (থমাস মুলার)। তারপর ২৩-২৯ মিনিটের মধ্যে ৪ গোল (ক্রোস ২ গোল, ক্লোস ১ গোল, খেদিরা ১ গোল)। প্রথম হাফ শেষে ৫-০। দ্বিতীয় হাফে ৬ ও ৭ গোল করে জার্মানি। ব্রাজিলের হয়ে অস্কার একটি গোল শোধ করেন (শেষ মিনিটে)। “মিনেইরাসো” নামে পরিচিত এই ম্যাচ ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক রাত।
৬. ফাইনালের সবচেয়ে বড় ব্যবধান
বিশ্বকাপ ফাইনাল সাধারণত টানটান হয়। কিন্তু কিছু ফাইনাল একপেশে হয়েছে:
| ব্যবধান | বছর | বিজয়ী | ফলাফল | রানার-আপ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ৩ গোল | ১৯৯৮ | ফ্রান্স | ৩-০ | ব্রাজিল | জিদানের দুই হেড + পেটির গোল |
| ৩ গোল | ২০০২ | ব্রাজিল | ২-০ (২ গোল ব্যবধান) আসলে ২ গোল – ৩ গোলের ব্যবধান কখনো হয়নি? ১৯৩০ উরুগুয়ে ৪-২ (২ গোল ব্যবধান), ১৯৩৪ ইতালি ২-১ (১ গোল), ১৯৩৮ ইতালি ৪-২ (২ গোল), ১৯৫৪ জার্মানি ৩-২ (১ গোল) – ৩ গোলের ব্যবধানে জয় মাত্র একটি: ১৯৯৮ ফ্রান্স ৩-০ ব্রাজিল |
আরেকটি ৩ গোলের ব্যবধানের জয় আছে: ১৯৭০ ব্রাজিল ৪-১ ইতালি (৩ গোল ব্যবধান) – হ্যাঁ, ৪-১ ব্যবধান মানে ৩ গোলের ব্যবধান। ১৯৫৮ ব্রাজিল ৫-২ সুইডেন (৩ গোল ব্যবধান) – ৩ গোলের ব্যবধানে জয় বেশ কয়েকটি।
সবচেয়ে বড় ব্যবধানের ফাইনাল: ব্রাজিল ৪-১ ইতালি (১৯৭০) ও ব্রাজিল ৫-২ সুইডেন (১৯৫৮) – উভয়ই ৩ গোল ব্যবধানে।
৭. বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের আসর
কোন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছে?
| বছর | আয়োজক | মোট ম্যাচ | মোট গোল | গোল প্রতি ম্যাচের গড় |
|---|---|---|---|---|
| ১৯৫৪ | সুইজারল্যান্ড | ২৬ | ১৪০ | ৫.৩৮ (সর্বোচ্চ) |
| ১৯৩০ | উরুগুয়ে | ১৮ | ৭০ | ৩.৮৯ |
| ১৯৩৮ | ফ্রান্স | ১৮ | ৮৪ | ৪.৬৭ |
| ১৯৫৮ | সুইডেন | ৩৫ | ১২৬ | ৩.৬০ |
| ২০১৪ | ব্রাজিল | ৬৪ | ১৭১ | ২.৬৭ |
| ২০২২ | কাতার | ৬৪ | ১৭২ | ২.৬৯ |
১৯৫৪ বিশ্বকাপে গোলের গড় ৫.৩৮ – এটি চিরদিনের রেকর্ড। কারণ সেবার গ্রুপ পর্বের ফরম্যাট ভিন্ন ছিল (৪ গ্রুপে ৪ দল নয়, বরং ২ ম্যাচ মাত্র) এবং দলগুলো দুর্বল প্রতিরক্ষা নিয়ে খেলত।
৮. কিছু মজার ও অদ্ভুত রেকর্ড
৮.১ দ্রুততম গোলের রেকর্ড
-
হাকান শুকুর (তুরস্ক) – ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১১ সেকেন্ডে গোল করেন (তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ)।
৮.২ এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল শিকার একজন গোলকিপার
-
১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলকিপার হং দোক ইয়ং – হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৯ গোল খেয়েছেন।
৮.৩ সবচেয়ে বড় জয়ের ব্যবধানে হারের পর চ্যাম্পিয়ন হওয়া
-
১৯৫৪ সালের পশ্চিম জার্মানি গ্রুপ পর্বে হাঙ্গেরির কাছে ৮-৩ হেরেছিল, তারপর ফাইনালে হাঙ্গেরিকেই ৩-২ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এটি একমাত্র উদাহরণ।
৮.৪ কোনো গোল না খেয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
-
১৯৯৮ ফ্রান্স, ২০০৬ ইতালি, ২০১০ স্পেন – প্রত্যেকে নকআউট পর্বে কোনো গোল খায়নি? আসলে ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে গোল খেয়েছে।
৮.৫ সর্বোচ্চ গোলের ব্যবধানে জয়ের পর চ্যাম্পিয়ন
-
১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি? না। ২০০২ ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে ৪-০ জিতেছিল – আরো বড়? আসলে ১৯৫৪ হাঙ্গেরি ৯-০ জিতেও ফাইনাল হেরেছিল।
উপসংহার (Conclusion)
বিশ্বকাপের বড় স্কোরলাইনগুলো ফুটবলের রোমাঞ্চ ও অনির্দেশ্যতার প্রমাণ। একদিন একটি দল ৯-০ জেতে, পরের সপ্তাহে একই দল বিদায় নেয়। গোলের বন্যা মানে উত্তেজনা, মানে ইতিহাস।
হাঙ্গেরির ৯-০, যুগোস্লাভিয়ার ৯-০, জার্মানির ৮-০, পর্তুগালের ৭-০ – এই ম্যাচগুলো আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। তবে শুধু বড় জয় নয়, বড় হারের গল্পও ফুটবলকে বাস্তবিক করে তোলে।
আগামী বিশ্বকাপে কে কোন বড় জয় পাবে? কে হবে পরবর্তী সালেনকো? কে হবে পরবর্তী জার্মানি (যে ব্রাজিলকে ৭-১ হারাবে)? অপেক্ষা করতে হবে।
আরো পড়ুন
- পার্ট-টাইম ফ্রিল্যান্সিং করে Income বাড়ানোর উপায়
- গ্রাফিক ডিজাইনে মাসে ১ লাখ টাকা Income করার কৌশল
- সেলফ-পাবলিশড ই-বুক বিক্রি করে আয় Income
- TikTok ফটো এডিটিং টিপস সেরা স্টাইল
- TikTok এর গোপন কৌশল নতুন ভিডিও শেয়ারিং
- YouTube Channel Monetize কিভাবে করবেন – সম্পূর্ণ সূচনা গাইড (2025 আপডেট)
(FAQ)
১. বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় কোনটি?
যুগোস্লাভিয়ার ৯-০ জয় জাইরের বিপক্ষে (১৯৭৪) ও হাঙ্গেরির ৯-০ জয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে (১৯৫৪) – যৌথভাবে সর্বোচ্চ (৯ গোল ব্যবধান)।
২. এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছে কতটি?
১২ গোল – অস্ট্রিয়া ৭-৫ সুইজারল্যান্ড (১৯৫৪)।
৩. এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন কে?
ওলেগ সালেনকো (রাশিয়া) – ১৯৯৪ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ৫ গোল।
৪. ফাইনালের সবচেয়ে বড় ব্যবধান কোনটি?
ব্রাজিল ৪-১ ইতালি (১৯৭০) ও ব্রাজিল ৫-২ সুইডেন (১৯৫৮) – ৩ গোলের ব্যবধান।
৫. বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের আসর কোনটি?
১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড – গড়ে ৫.৩৮ গোল প্রতি ম্যাচে।
৬. সবচেয়ে বড় জয়ের পর সেই দল কি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে?
১৯৫৪ হাঙ্গেরি ৯-০ জিতেও ফাইনাল হেরেছিল। অন্য বড় জয়ীরা (যুগোস্লাভিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল) কেউ চ্যাম্পিয়ন হয়নি।
৭. সবচেয়ে বড় হারের শিকার কোন দল?
জাইর (বর্তমান ডিআর কঙ্গো) – ১৯৭৪ সালে ৯-০ হেরেছিল। এল সালভাদর ১৯৮২ সালে ১০-১ হেরেছিল।
৮. সবচেয়ে বড় হারের পরও কি কোন দল বিশ্বকাপ জিতেছে?
না। তবে ১৯৫৪ সালের পশ্চিম জার্মানি গ্রুপ পর্বে ৮-৩ হেরে ফাইনালে ওই দলকেই হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল (কিন্তু ওই প্রতিযোগিতায় ফাইনালের আগের হার নিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল)।
তথ্যসারণি (At a Glance)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সবচেয়ে বড় জয়ের ব্যবধান | ৯ গোল (যুগোস্লাভিয়া ৯-০ জাইর, হাঙ্গেরি ৯-০ দক্ষিণ কোরিয়া) |
| সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ | ১২ গোল (অস্ট্রিয়া ৭-৫ সুইজারল্যান্ড, ১৯৫৪) |
| এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল (খেলোয়াড়) | ৫ গোল (ওলেগ সালেনকো, ১৯৯৪) |
| ফাইনালের সবচেয়ে বড় ব্যবধান | ৩ গোল (ব্রাজিল ৪-১ ইতালি, ব্রাজিল ৫-২ সুইডেন) |
| সর্বোচ্চ গোলের গড় (আসর) | ৫.৩৮ (১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড) |
| দ্রুততম গোল | ১১ সেকেন্ড (হাকান শুকুর, ২০০২) |
| সবচেয়ে বড় হারের পর চ্যাম্পিয়ন | পশ্চিম জার্মানি (১৯৫৪ – গ্রুপে ৮-৩ হেরে ফাইনালে ৩-২ জয়) |

