Site icon এসো ইনকাম করি

FIFA বিশ্বকাপের সেরা ১০ ফাইনাল: ইতিহাসের সেরা মুহূর্ত, গোল, ড্রামা ও কিংবদন্তিরা – র্যাঙ্কিং সহ

FIFA world cup best finals, world cup greatest finals ranked, 1966 world cup final, 2022 world cup final, Maradona 1986 final, Zidane headbutt 2006, Geoff

FIFA বিশ্বকাপের সেরা ১০ ফাইনাল: ইতিহাসের সেরা মুহূর্ত, গোল, ড্রামা ও কিংবদন্তিরা – র্যাঙ্কিং সহ

FIFA বিশ্বকাপের ইতিহাসে কিছু ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা। ১৯৩০ থেকে ২০২২ – কোন ফাইনাল ছিল সেরা? ম্যারাডোনার অশ্রু, জিদানের হেডবাট, মেসির স্বপ্নপূরণ – র্যাঙ্কিংসহ পড়ুন সেরা ১০ ফাইনালের বিস্তারিত গল্প। বাংলা ও ইংরেজি মিক্স ভাষায় সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।

📖 ভূমিকা (Introduction)

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দেখা একক ক্রীড়া ইভেন্ট। বিলিয়ন বিলিয়ন চোখ একসঙ্গে মেলে ধরে একটি ম্যাচের দিকে। ৯০ মিনিট (বা তার বেশি) – যা কিছু হয়, তা ইতিহাসে লেখা থাকে চিরকালের জন্য।

কিছু ফাইনাল আছে যেগুলো শুধু ম্যাচ নয় – সেগুলো এপিক। সেখানে আছে টানা টান লড়াই, আছে বিতর্ক, আছে অশ্রু, আছে স্বপ্নপূরণ। আবার কিছু ফাইনাল আছে যেগুলো ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনায় ভরপুর – শেষ মিনিটের গোল, পেনাল্টি শুটআউটের নাটক।

এই আর্টিকেলে আমরা ফুটবল ইতিহাসের সেরা ১০ ফাইনাল নিয়ে আলোচনা করব। র্যাঙ্কিং করেছি উত্তেজনা, গুণমান, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও অবিস্মরণীয় মুহূর্তের ভিত্তিতে। কোন ফাইনাল কোথায় আছে? চলুন দেখা যাক।

📋 র্যাঙ্কিংয়ের মানদণ্ড (Criteria)

আমরা যেভাবে ফাইনালগুলো র্যাঙ্ক করেছি:

মানদণ্ড ওজন (%)
ম্যাচের উত্তেজনা (টানাটানি লড়াই) ৩০%
গোল ও অ্যাকশনের পরিমাণ ২৫%
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ২০%
বিতর্ক ও নাটকীয় মুহূর্ত ১৫%
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মান ১০%

১০. ১৯৫৪ – পশ্চিম জার্মানি vs হাঙ্গেরি (বের্নের অলৌকিক ঘটনা)

The Miracle of Bern

তথ্য বিবরণ
তারিখ ৪ জুলাই ১৯৫৪
স্থান ভাঙ্কডর্ফ স্টেডিয়াম, বের্ন, সুইজারল্যান্ড
দর্শক ৬২,০০০
ফলাফল পশ্চিম জার্মানি ৩-২ হাঙ্গেরি
ফাইনালের সেরা ফ্রিৎস ভাল্টার (পশ্চিম জার্মানি)

গল্প:

এই ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি। হাঙ্গেরি দলটিকে বলা হতো “ম্যাজিক মাগয়ার্স” – তারা ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছিল। গ্রুপ পর্বে তারা পশ্চিম জার্মানিকে ৮-৩ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল।

ফাইনালে মাত্র ৮ মিনিটেই হাঙ্গেরি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। সবাই ভেবেছিল হাঙ্গেরি সহজেই জিতবে। কিন্তু পশ্চিম জার্মানি দারুণ কামব্যাক করে। ১৮ মিনিটে ২-২ করে ফেলে। ৮৪ মিনিটে হেলমুট রান গোল করে জার্মানিকে ৩-২ এগিয়ে দেন। এই স্কোরলাইন আর বদলায়নি।

হাঙ্গেরির ফরোয়ার্ড ফেরেঙ্ক পুশকাশ শেষ মিনিটে গোল করলেও রেফারি অফসাইড দেন – বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পশ্চিম জার্মানি ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জেতে। এই জয় জার্মান জাতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জার্মানি বিশ্ব দরবারে ফিরে আসে।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
দারুণ কামব্যাক + বড় অঘটন + ঐতিহাসিক গুরুত্ব।

৯. ২০১৪ – জার্মানি vs আর্জেন্টিনা 

Mario Götze’s Moment of Magic

তথ্য বিবরণ
তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৪
স্থান এস্তাদিও মারাকানা, রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল
দর্শক ৭৪,৭৩৮
ফলাফল জার্মানি ১-০ আর্জেন্টিনা (অতিরিক্ত সময়ে)
ফাইনালের সেরা মারিও গোতজে (জার্মানি) – বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল

গল্প:

২০১৪ সালের ফাইনাল ছিল ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস। দুর্দান্ত দুই দল – একদিকে জার্মানির মেশিনের মতো ফুটবল, অন্যদিকে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিট ০-০ ছিল। আর্জেন্টিনার গনসালো ইগুয়াইন ও লিওনেল মেসি দুজনেই গোল মিস করেন।

১০৯ মিনিটে আন্দ্রে শুর্লে বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রস দেন, মারিও গোতজে বুকের বদলে নিয়ন্ত্রণ করে ভলিতে গোল করেন। এটি ছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর গোলগুলোর একটি

মেসির স্বপ্ন ভেঙে যায়। তিনি ফাইনাল শেষে ফিফার ক্যামেরার সামনে ট্রফির দিকে তাকিয়ে থাকেন – সেই ছবি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
অবিশ্বাস্য গোল + টানটান লড়াই + মেসির স্বপ্নভঙ্গের নাটক।

৮. ১৯৯৮ – ফ্রান্স vs ব্রাজিল

Zidane’s Head-erection

তথ্য বিবরণ
তারিখ ১২ জুলাই ১৯৯৮
স্থান স্তাদ দ্য ফ্রান্স, সেন্ট-ডেনিস, ফ্রান্স
দর্শক ৮০,০০০
ফলাফল ফ্রান্স ৩-০ ব্রাজিল
ফাইনালের সেরা জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)

গল্প:

ব্রাজিল এসেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। রোনালদো (আর৯) তখন বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার। কিন্তু ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে রোনালদো খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। তিনি খেলেন, কিন্তু তার পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ।

অন্যদিকে ফ্রান্সের অ্যালজেরীয় বংশোদ্ভূত তারকা জিনেদিন জিদান – যিনি লাল কার্ড দেখে দুই ম্যাচ মিস করেছিলেন – ফাইনালে ফিরে এলেন জ্বলে উঠতে। তিনি দুইটি কর্নার থেকে দুটি হেডে গোল করেন। ফ্রান্স ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিজেদের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ জেতে।

রহস্যটি: রোনালদোর সিটিজার (খিঁচুনি) নিয়ে আজও নানা জল্পনা আছে। নাইকি (তার স্পনসর) তাকে খেলাতে বাধ্য করেছিল বলে অনেকে মনে করেন।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
জিদানের ব্রহ্মাণ্ড পারফরম্যান্স + রহস্য + স্বাগতিকদের জয়।

৭. ১৯৯০ – পশ্চিম জার্মানি vs আর্জেন্টিনা 

The Ugly Final that Had Beauty at Heart

তথ্য বিবরণ
তারিখ ৮ জুলাই ১৯৯০
স্থান স্তাদিও অলিম্পিকো, রোম, ইতালি
দর্শক ৭৩,৬০৩
ফলাফল পশ্চিম জার্মানি ১-০ আর্জেন্টিনা
ফাইনালের সেরা আন্দ্রেয়াস ব্রেমে (পশ্চিম জার্মানি)

গল্প:

এই ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে নোংরা ফাইনাল নামে পরিচিত। আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়রা দুইজন লাল কার্ড দেখে – পেদ্রো মোনজোন ও গুস্তাভো দেসোত্তি। পশ্চিম জার্মানি পায় একটি পেনাল্টি – ৮৫ মিনিটে আন্দ্রেয়াস ব্রেমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন।

ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরে। পুরো ম্যাচে ফাউলের বন্যা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পশ্চিম জার্মানি জেতে – এটাই তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ।

ম্যারাডোনা তখন অশ্রু ফেলছেন। তিনি পরে বলেছেন – “ওই পেনাল্টি দেওয়া উচিত ছিল না।”

কেন এটি সেরা ১০-তে?
বিতর্ক + লাল কার্ড + ম্যারাডোনার বিদায়ের নাটক।

৬. ১৯৫০ – উরুগুয়ে vs ব্রাজিল 

The Maracanã Silence

তথ্য বিবরণ
তারিখ ১৬ জুলাই ১৯৫০
স্থান এস্তাদিও মারাকানা, রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল
দর্শক ১৯৯,৮৫৪ (বিশ্ব রেকর্ড!)
ফলাফল উরুগুয়ে ২-১ ব্রাজিল
ফাইনালের সেরা আলসাইদেস গিগিয়া (উরুগুয়ে)

গল্প:

প্রযুক্তিগতভাবে এটি ফাইনাল ছিল না – ছিল ডিসাইডিং ম্যাচ। ব্রাজিলের শুধু ড্র দরকার ছিল। ২ লাখ দর্শক মারাকানায় ভিড় করেছিল – ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ জয় দেখার জন্য।

ব্রাজিল এগিয়ে যায় ৪৭ মিনিটে। উরুগুয়ে ৬৬ মিনিটে সমতা আনে। ৭৯ মিনিটে আলসাইদেস গিগিয়া গোল করে উরুগুয়েকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পুরো মারাকানা স্তব্ধ হয়ে যায় – এটি Maracanazo (মারাকানার দুর্দিন) নামে ইতিহাসে যায়।

ব্রাজিলের জাতীয় ট্রাজেডি। পরে ফিফা সভাপতি জুলে রিমে পরে উরুগুয়ের অধিনায়ক হোসে নাসাজ্জির হাতে ট্রফি তুলে দেন – যখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা কাঁদছিলেন।

কেন এটি সেরা ১০-তে?
দু লাখ দর্শকের সামনে সবচেয়ে বড় অঘটন + ঐতিহাসিক গুরুত্ব।

৫. ২০০৬ – ইতালি vs ফ্রান্স 

The Headbutt Heard Round the World

তথ্য বিবরণ
তারিখ ৯ জুলাই ২০০৬
স্থান অলিম্পিয়া স্টেডিয়ন, বার্লিন, জার্মানি
দর্শক ৬৯,০০০
ফলাফল ইতালি ১-১ ফ্রান্স (অতিরিক্ত সময়); পেনাল্টিতে ইতালি ৫-৩ জয়ী
লাল কার্ড জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স) – হেডবাটের জন্য

গল্প:

এটি ছিল জিনেদিন জিদানের শেষ পেশাদার ম্যাচ। তিনি ৭ মিনিটে পানেনকা পেনাল্টি (লবড পেনাল্টি) করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। ইতালির মাতেরাজ্জি ১৯ মিনিটে সমতা আনেন।

তারপর ১১০ মিনিটে – যা ঘটল, তা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত: মাতেরাজ্জি জিদানকে কিছু বলে (বলা হয় তিনি জিদানের বোনকে গালি দেন)। জিদান মাথা দিয়ে মাতেরাজ্জির বুকে ধাক্কা দেন। লাল কার্ড। ফুটবল বিশ্ব অবাক।

পেনাল্টি শুটআউটে ইতালি জেতে। ডেভিড ত্রেজেগে (জিদানের ক্লাব সতীর্থ) পেনাল্টি মিস করেন। জিদান ট্রফির পাশ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে লকার রুমে চলে যান।

কেন এটি সেরা ৫-তে?
সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত + কিংবদন্তির বিদায় + পেনাল্টি নাটক।

৪. ১৯৮৬ – আর্জেন্টিনা vs পশ্চিম জার্মানি 

Maradona’s Crown

তথ্য বিবরণ
তারিখ ২৯ জুন ১৯৮৬
স্থান এস্তাদিও অলিম্পিকো ইউনিভার্সিতারিও, মেক্সিকো সিটি
দর্শক ১১৪,৬০০
ফলাফল আর্জেন্টিনা ৩-২ পশ্চিম জার্মানি
তারকা দিয়েগো ম্যারাডোনা

গল্প:

১৯৮৬ পুরো টুর্নামেন্টই ছিল ম্যারাডোনার। কোয়ার্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি করেছিলেন “হ্যান্ড অফ গড” ও “সেঞ্চুরি গোল”। ফাইনালে জার্মানি ভালো লড়াই করে।

আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তারপর জার্মানি ৭৪ ও ৮০ মিনিটে গোল করে ২-২ করে ফেলে। কিন্তু ৮৩ মিনিটে ম্যারাডোনা জর্জ বুরুচাগাকে অসাধারণ একটি পাস দেন – বুরুচাগা গোল করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেন।

ম্যারাডোনা ট্রফি তুলে ধরার পর ড্রেসিংরুমে চিৎকার করতে করতে বলেন – “Argentina! Argentina!”

কেন এটি সেরা ৪-তে?
ম্যারাডোনা + শেষ দিকে উলটপুরান + একক খেলোয়াড়ের টুর্নামেন্টের উপযুক্ত সমাপ্তি।

৩. ১৯৫৪ থেকে লাফ দিয়ে – আসলে ৩ নম্বর আসবে ২০২২ (কিন্তু নিচে বরাদ্দ করা হয়েছে)

৩. ২০২২ – আর্জেন্টিনা vs ফ্রান্স (সবচেয়ে বড় ফাইনাল নাটক)

The Greatest Final Ever? (Many say YES)

তথ্য বিবরণ
তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২২
স্থান লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম, কাতার
দর্শক ৮৮,৯৬৬
ফলাফল ৩-৩ (অতিরিক্ত সময়); পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনা ৪-২ জয়ী
তারকা লিওনেল মেসি (২ গোল) ও কিলিয়ান এমবাপ্পে (হ্যাটট্রিক)

গল্প:

এটি সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফাইনাল। মেসি ও এমবাপ্পে – দুই প্রজন্মের দুই সেরা একসঙ্গে লড়ে।

পেনাল্টি শুটআউট। আর্জেন্টিনা ৪-২ জেতে। মেসি কাঁদেন – তিনি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ পান।

কেন এটি শীর্ষ ৩-তে?
সর্বোচ্চ গোলের ফাইনাল + দুই সুপারস্টার শো + পেনাল্টি নাটক + মেসির স্বপ্নপূরণ।

২. ১৯৭০ – ব্রাজিল vs ইতালি

The Beautiful Game’s Perfect Ending

তথ্য বিবরণ
তারিখ ২১ জুন ১৯৭০
স্থান এস্তাদিও আস্তেকা, মেক্সিকো সিটি
দর্শক ১০৭,৪১২
ফলাফল ব্রাজিল ৪-১ ইতালি
তারকা পেলে (১ গোল, ২ অ্যাসিস্ট), ইয়েরজিনহো, কার্লোস আলবার্তো

গল্প:

১৯৬৬ সালে ব্রাজিল গ্রুপ থেকে বাদ পড়েছিল। পেলে অভিষেক করেছিলেন সবে। ১৯৭০ সালের ব্রাজিল দল ফুটবল ইতিহাসের সেরা দলগুলোর একটি।

ফাইনালে ইতালি এগিয়ে যায়। তারপর ব্রাজিল ঝড় তোলে। পেলে গোল করেন, ইয়েরজিনহো গোল করেন (টানা ৬ ম্যাচে গোল – বিশ্বকাপ রেকর্ড), পাউলো সেজার গোল করেন।

সবচেয়ে আইকনিক মুহূর্ত: কার্লোস আলবার্তোর গোল – পেলে বল নিয়ে দৌড়ান, প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দেন, ডানদিকে কার্লোস আলবার্তোকে পাস দেন। কার্লোস আলবার্তো জোরালো শটে জালে জড়ান। ফুটবলের নন্দনতত্ত্বের উৎকর্ষ।

ব্রাজিল তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে জুলে রিমে ট্রফি চিরদিনের জন্য পায়।

কেন এটি নং ২?
সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল + পেলের শেষ বিশ্বকাপ + নিখুঁত দলগত প্রদর্শনী।

১. ১৯৯৮ নয় – ২০০৫ নয় – বরং আসল নং ১ হলো ১৯৯৮ নাকি ২০০৫? আসল নং ১ হচ্ছে ১৯৬৬ – তবে আরেকটি আছে… সবাই একমত:

১. ১৯৬৬ – ইংল্যান্ড vs পশ্চিম জার্মানি 

“They think it’s all over… It is now!”

তথ্য বিবরণ
তারিখ ৩০ জুলাই ১৯৬৬
স্থান ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম, লন্ডন, ইংল্যান্ড
দর্শক ৯৮,০০০
ফলাফল ইংল্যান্ড ৪-২ পশ্চিম জার্মানি (অতিরিক্ত সময়ে)
তারকা জিওফ হার্স্ট (হ্যাটট্রিক)

গল্প:

একমাত্র ফাইনাল যেখানে কেউ হ্যাটট্রিক করেছে – জিওফ হার্স্ট। একমাত্র ফাইনাল যার গোল নিয়ে অর্ধশতাব্দী ধরে বিতর্ক চলছে।

খেলা ২-২ থাকে। ১০১ মিনিটে ইংল্যান্ডের আক্রমণ, বল জার্মানির ক্রসবার থেকে ফিরে আসে। রেফারি গোল দেন – নাকি দেননি? তিনি সাইডলাইনে সহকারী রেফারিকে জিজ্ঞেস করেন। সহকারী রেফারি তুফান বাহরামভ (সোভিয়েত ইউনিয়ন) মাথা নাড়ান। গোল দেওয়া হয়। জার্মানি আজও বলে – বল ক্রসবার লাইন অতিক্রম করেনি (৩D রিপ্লে পরে দেখা যায় – হয়নি!)।

১২০ মিনিটে হার্স্ট তৃতীয় গোল করেন – যেই গোল করার সময় বিবিসি কমেন্ট্রেটর কেনেথ ওলস্টেনহোম বলেন – “They think it’s all over… It is now!” – এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত কমেন্টরী লাইন।

কেন এটি নং ১?
বিতর্ক + হ্যাটট্রিক + স্বাগতিক ইংল্যান্ডের প্রথম (ও একমাত্র) বিশ্বকাপ + আইকনিক কমেন্টরি + অতিরিক্ত সময়ের নাটক।

সেরা ১০ ফাইনাল

র্যাঙ্ক বছর বিজয়ী রানার-আপ ফলাফল স্মরণীয় কারণ
১০ ১৯৫৪ পশ্চিম জার্মানি হাঙ্গেরি ৩-২ মিরাকল অফ বের্ন
২০১৪ জার্মানি আর্জেন্টিনা ১-০ (অ.স.) গোতজের বুকের নিয়ন্ত্রণে গোল
১৯৯৮ ফ্রান্স ব্রাজিল ৩-০ জিদানের দুই হেড + রোনালদোর রহস্য
১৯৯০ পশ্চিম জার্মানি আর্জেন্টিনা ১-০ নোংরা ফাইনাল + ম্যারাডোনার অশ্রু
১৯৫০ উরুগুয়ে ব্রাজিল ২-১ মারাকানার নীরবতা (২ লাখ দর্শক)
২০০৬ ইতালি ফ্রান্স ১-১ (অ.স.), ৫-৩ পেনাল্টি জিদানের হেডবাট
১৯৮৬ আর্জেন্টিনা পশ্চিম জার্মানি ৩-২ ম্যারাডোনার মুকুট পরা
২০২২ আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ৩-৩ (অ.স.), ৪-২ পেনাল্টি মেসি-এমবাপ্পে শো
১৯৭০ ব্রাজিল ইতালি ৪-১ সুন্দর ফুটবলের ক্লাইম্যাক্স
১৯৬৬ ইংল্যান্ড পশ্চিম জার্মানি ৪-২ (অ.স.) হ্যাটট্রিক + বিতর্কিত গোল + বিখ্যাত কমেন্টরি

✅ উপসংহার (Conclusion)

বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই ইতিহাস। সেখানে সাধারণ ম্যাচ হয় না – হয় মহাকাব্য। কখনো বিতর্কিত গোল (১৯৬৬), কখনো অঘটন (১৯৫০, ১৯৫৪), কখনো দুই প্রজন্মের লড়াই (২০২২), কখনো একক খেলোয়াড়ের যাদু (১৯৮৬)।

প্রতিটি ফাইনাল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন

 (FAQ)

১. বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল কোনটি?

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ ও ভোটে ২০২২ আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনালকে সেরা মনে করেন – ৬ গোল, হ্যাটট্রিক, পেনাল্টি, শেষ মিনিটের নাটক।

২. সবচেয়ে বিতর্কিত ফাইনাল কোনটি?

১৯৬৬ ইংল্যান্ড-পশ্চিম জার্মানি – হার্স্টের তৃতীয় গোল ক্রসবার অতিক্রম করেছিল কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক।

৩. কোন ফাইনালে সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছে?

১৯৫৮ ফাইনাল (ব্রাজিল ৫-২ সুইডেন) ও ২০২২ ফাইনাল (৩-৩, ৬ গোল) যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

৪. কোন ফাইনালে সবচেয়ে বেশি দর্শক ছিল?

১৯৫০ উরুগুয়ে-ব্রাজিল (মারাকানা স্টেডিয়াম) – প্রায় ২,০০,০০০ দর্শক।

৫. কোন খেলোয়াড় ফাইনালে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন?

জিওফ হার্স্ট (১৯৬৬) – ৩ গোল (হ্যাটট্রিক)। পরে কিলিয়ান এমবাপ্পে (২০২২) – ৩ গোল করেছেন। আর কেউ পারেননি।

(Tags)

text
FIFA world cup best finals, world cup greatest finals ranked, 1966 world cup final, 2022 world cup final, Maradona 1986 final, Zidane headbutt 2006, Geoff Hurst hat-trick, Messi vs Mbappe 2022, Brazil 1970 beautiful football, Miracle of Bern 1954
Exit mobile version